Month: January 2026

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৫৩ জন

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আরও ৫৩ জন তাদের আপিলের মাধ্যমে আবার প্রার্থিতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে মোট ৭০টি আপিলের শুনানি হয়, যার মধ্যে ৫৩টি আপিল মঞ্জুর এবং ১৭টি নামঞ্জুর করা হয়। এভাবেই চার দিনে মোট ২০৪ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেছেন।

    এর আগে, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে মোট ৭১টি আপিল শুনানি হয়। এর মধ্যে ৪১টি আপিল মঞ্জুর হয়, ২৫টি না মঞ্জুর এবং চারটি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এর আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) ৫৮টি আপিলের মধ্যে ৪৫টি আপিল মঞ্জুর হয়, বাকি কিছু আবেদন না-মঞ্জুর বা অপেক্ষমাণ রাখা হয়। প্রথম দিনে, শনিবার (১০ জানুয়ারি), ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২টি মঞ্জুর এবং ১৫টি বাতিল হয়। এর মধ্যে একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলই মঞ্জুর হয়।

    খেয়াল করতে হবে, ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে, দেশের ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১,৮৪২ জনের মনোনয়ন বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, আবার ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন করা হয়।

    নির্বাচনের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, আপিলের নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারিত ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। এরপর, নির্বাচন প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সন্ধ্যা shalf;ogany তয়া পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

    আজকের খবর/বিএস

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৫৩ জন

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আরও ৫৩ জন তাদের আপিলের মাধ্যমে আবার প্রার্থিতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে মোট ৭০টি আপিলের শুনানি হয়, যার মধ্যে ৫৩টি আপিল মঞ্জুর এবং ১৭টি নামঞ্জুর করা হয়। এভাবেই চার দিনে মোট ২০৪ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেছেন।

    এর আগে, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে মোট ৭১টি আপিল শুনানি হয়। এর মধ্যে ৪১টি আপিল মঞ্জুর হয়, ২৫টি না মঞ্জুর এবং চারটি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এর আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) ৫৮টি আপিলের মধ্যে ৪৫টি আপিল মঞ্জুর হয়, বাকি কিছু আবেদন না-মঞ্জুর বা অপেক্ষমাণ রাখা হয়। প্রথম দিনে, শনিবার (১০ জানুয়ারি), ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২টি মঞ্জুর এবং ১৫টি বাতিল হয়। এর মধ্যে একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলই মঞ্জুর হয়।

    খেয়াল করতে হবে, ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে, দেশের ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১,৮৪২ জনের মনোনয়ন বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, আবার ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন করা হয়।

    নির্বাচনের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, আপিলের নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারিত ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। এরপর, নির্বাচন প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সন্ধ্যা shalf;ogany তয়া পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

    আজকের খবর/বিএস

  • ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয় যদি না ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করে। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাত অনেকটাই স্থিতিশীল থাকলেও, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো এক্ষণে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতে এখন কিছুটা স্থিতিশীলতা আসলেও, সুদের হার কমানো সহজ নয়। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন।”

    অর্থ উপদেষ্টা অভিযোগ করেন যে, দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কিছু কিছু সুবিধাভোগী ঋণ নিয়ে লুটপাট ও পাচার করেছে, বা সমান্তরালভাবে ব্যাংকের খারাপ দিকগুলো ঢেকে রেখেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এসে এসব অনিয়মের বিষয়াদি বাইরে এনে ব্যাংকখাতের স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন সংস্কার শুরু করেছে।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং সেক্টির বেশির ভাগই এখন স্থিতিশীল। তবে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের সুদের হার কমেনি, কারণ অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল রাখতে হলে এখনই সব কিছু সম্ভব নয়।”

    তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, শুধুমাত্র সুদের হার কমানো সমুদ্রের ঢেউ সারানোর মতো নয়, কারণ বাজারে ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটারি পলিসির পাশাপাশি সাপ্লাই চেন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ইনফ্লেশন শুধুমাত্র মনিটারি পলিসির ফলে হয় না, এটা বহুমুখী বিষয়, যা রাজনৈতিক দিক থেকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

    অর্থ উপদেষ্টা উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যখন আপনি কারওয়ানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন, পরের দিন সবাই আবার সেই জরিমানা দিতে চায় না। তারা চাঁদা তুলে আবার একই কাজ শুরু করে, যা মূল সমস্যা নয়।”

    তিনি 강조 করেন যে, সাধারণ কমিউনিটি, হোলসেলার ট্রেডার ও রিটেইলারদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি এসব খাতের আয় বা মুনাফা কমানোর পক্ষে না থাকলেও, সব অংশীদারদের সহযোগিতা নিয়ে বাজারের স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, “শুধু ফিসক্যাল এবং মনিটারি পলিসি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বা ক্যাব কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন একা সবকিছু সমাধান করতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে।”

    অনুষ্ঠানে সাবেক তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বস্তি এখনও আসেনি। তবে, অর্থনৈতিক শাসন শক্তিশালী করে ও আরও নজরদারি বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে উন্নতি সম্ভব। তিনি বলেন, “সকল অংশীদারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।”

    এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান מজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি আবদুল হাই সরকার।

  • এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম

    এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম

    দেশের বাজারে সোনার মূল্য আবারও বৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। এক দফা মূল্য কমানোর পর, শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ভরিতে ১০৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে সোনার দাম। এই নতুন মূল্যকাল থেকে রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের তাজা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তারই ফলস্বরূপ, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যানের দাম হলো— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, এই দামের সাথে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন, মান ও শৈলী অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সবশেষ ৮ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দামে ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হত ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকায়। এটি কার্যকর হয় ৯ জানুয়ারি থেকে।

    এভাবেই এই বছর দেশের বাজারে সোনার দামের মধ্যে পঞ্চম বার সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে তিন দফা দামে বৃদ্ধি হয়েছে এবং দু’দফা কমেছে।

  • সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত

    সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত

    চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ আকারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে মোট বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়, যা আগে ছিল এর চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এই সংশোধিত এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন، বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ কমে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে মোট ৭২ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে এই খাতে বরাদ্দ হয়েছে যথাক্রমে ১৬৮ হাজার কোটি এবং ৭২ হাজার কোটি টাকা।

    তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতির কারণে মোট চাহিদা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকার, নিয়োগে দেরি ও পুনর্মূল্যায়নের কারণে এই কম চাওয়া হয়েছে।

    খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিকে দেখা গেলে, সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতেও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।

    তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে স্বাস্থ্য খাতে কারণ এটি দুর্বল বাস্তবায়ন ক্ষমতার কারণে বরাদ্দের প্রায় ৭৪ শতাংশ সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপিতে যেখানে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত এডিপিতে তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি। শিক্ষা খাতেও ব্যাপক কাটছাঁট হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।

    পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের আগের বরাদ্দ থাকলেও এখন এই খাতেও প্রায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমেছে। একইভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য প্রথমে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা এখন কমে ৫৪৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়া, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ সরাসরি প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে, এবং কৃষি খাতে কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। তবে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

    মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যেখানে নতুন বরাদ্দ হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পানি সম্পদ ও শিক্ষা বিভাগেরাও বেশ কিছু অর্থ পেয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে উন্নয়নের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোও যুক্ত করা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, এই সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে মোট ১৩৩০টির প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে বেশিরভাগই বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৮৬টি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

  • সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি

    সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি

    দেশের স্বর্ণখাতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো, যখন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন মূল্যপ্রস্তাবে প্রতি ভরির দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, ফলে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা ও কেনাকাটার মানদণ্ডের ওপর প্রভাব পড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশজুড়ে মানসম্পন্ন সোনার দাম এখন ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই আশ্চর্য দামের রেকর্ড পূর্বে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ছিল, যখন সোনার দাম সর্বোচ্চ ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায় উঠে যায়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, এবং নতুন এই দাম ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনের মতে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দাম বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রতি আউন্সের সোনার দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে সোনার বিভিন্ন ক্যারেটের মূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। এখন, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লক্ষ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। একই সঙ্গে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম মেপে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণখাত ও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন সূচিত করছে।

  • মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের

    মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের

    মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। পাশাপাশি, দেশীয় মোবাইল উৎপাদনকারীদের জন্য ব্যবহৃত উপকরণের আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করে এটি ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এনবিআর জানায়, মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের হ্রাসের ফলে শুল্কের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর পাশাপাশি, মোবাইল সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে প্রতিযোগিতায় থাকাটা কঠিন না হয়, সে জন্য উপকরণের আমদানি করতে গিয়ে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, উপকরণ আমদানির ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে।

    এতে করে, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা এবং একই সময়ে, দেশের বাজারে বিক্রিত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মোবাইলের দাম প্রায় দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমে যাবে।

    এসব শুল্ক হ্রাসের ফলে মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে সরকারের আশা। সরকার বলছে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে তারা এই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

  • নির্বাচনের истин অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনের истин অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনো পর্যন্ত নির্বাচন পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো মনে হচ্ছে। তবে আসল চিত্র তখনই বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে। এর আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, সবাই এখন নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন, মনোনয়নের কাজ সম্পন্ন করছেন। তবে নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝতে হলে প্রচারণা শুরু হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

  • জোটের আসন সমঝোতা দু-একদিনের মধ্যে: জামায়াত আমির

    জোটের আসন সমঝোতা দু-একদিনের মধ্যে: জামায়াত আমির

    আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ১১ দলে গঠিত নির্বাচনী জোটের আসন সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরা খন্দকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে এক সভার শেষে তিনি এ কথা জানান।

    নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দলগুলো বেশ কিছু মাস ধরে দফায় দফায় বৈঠক করে আসছে। এই বৈঠকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো কয়েকটি বড় দল রয়েছে, যেখানে তারা আসন সমঝোতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আওয়ামী মুসলিম লীগ এর মতো আরও কিছু দল। এই সব দলগুলো একত্রিত হয়ে মোট ১১টি দলে পরিণত হয়েছে।

    আলোচনার চলাকালীন সময়ই জামায়াত ইতিমধ্যে ২৭৬টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনের জন্য প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা করেছে। দলের এই বিভাজনের কারণে কিছু সমালোচনা হলেও, দলগুলো সবার মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতৈক্য স্থাপনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দু-এক দিনের মধ্যে আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আশা করছে জামায়াত।

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আরও জানিয়েছেন, ওই আসন সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবার সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে।” তিনি আরও যুক্ত করেন যে, দেশের জন্য জনগণের আস্থা অত্যন্ত জরুরি, এবং দেশের মা-বোনেরা আগামী নির্বাচনেও জামায়াতের পক্ষেই ভোট দেবেন বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণের প্রতি আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। আমরা চাই, এই নির্বাচনে কোনও ধরনের অসঙ্গতি ঘটুক না। যদি জনগণ অন্য কোনও দলকেই পছন্দ করে, তবে আমরা তাদের পাশে থাকব। দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দেশের সংস্কার সবার আগে। আমি মনে করি, যদি এই নির্বাচন ফলপ্রসূ না হয়, তবে ভবিষ্যতেও জনগণ their ভোটাধিকার ফিরে পাবেন কিনা, এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।”

    অন্তর্বর্তী সময়ে গণমাধ্যমের এক পক্ষপাতি প্রবণতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “গণমাধ্যম বিভিন্ন সময় এক দলের পক্ষে偏ে গেছে। আমরা চাই, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক। তারা যদি নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে। প্রশাসন বা গণমাধ্যম যেভাবে দায়িত্ব পালন করছে, সেটি জনগণ সবই মনে রাখবে। জনগণকে ভাবার কোনও কারণ নেই।”

  • জামায়াতের নির্বাচন ও প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

    জামায়াতের নির্বাচন ও প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

    জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামীকাল মঙ্গলবার দলটির নির্বাচনী আসনের সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামীকাল বা পরশু দিন এর চূড়ান্ত বিষয়ে জানানো হবে। সব দল একসঙ্গে গণমাধ্যমের সামনে আসবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান জানান, ইইউ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ কী-না, তা জানতে চাওয়া হয়। জামায়াত অভিযোগ থাকলেও এখনই তা প্রকাশ করবে না বলে জানানো হয়েছে, বরং আগে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এর সব বিষয় তুলে ধরা হবে। কোনো সমাধান না হলে, জনগণের কাছে জানানো হবে।

    জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, যদি সরকার গঠন হয়, তাহলে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে—তা তারা নিশ্চিত করে দিয়েছে। তাঁরা আশা করেন, জামায়াতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের শান্তিপূর্ণ ও সভ্য রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক বজায় থাকবে। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যেখানে পারস্পরিক সম্মান আর সমতার ভিত্তিতে আচরণ হবে। তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বজনীন বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চান, কোনো একটি রাষ্ট্রের প্রতি ঝুঁকে না থেকে।

    নারী নিরাপত্তা নিয়েও জামায়াতের গুরুত্ব রয়েছে। শফিকুর রহমান জানান, তারা বিশ্বাস করেন, মা-বোনেরা এবার জামায়াতকে ভোট দেবেন। তাঁদের মধ্যে ইতোমধ্যে এই বার্তা পৌঁছে গেছে। তবে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়া, হিজাব খুলে নেওয়া কিংবা তাড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটে গেছে। তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার, বয়সের ও লিঙ্গের মানুষকে সম্মান দেওয়া রাজনৈতিক দায়িত্ব, কারও অপমান বা অপপ্রচার তার জন্য জায়গা নেই।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, তারা আশাবাদী, আগামী নির্বাচনে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াত এক সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ভোটে পরিবর্তন আসবে, এই প্রত্যাশা রাখছেন তারা। পাশাপাশি বলেন, নির্বাচন চলে গেলে কোনো পক্ষ বা দল হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তবে ট্রাইব্যুনালগুলোও জবাবদিহি ও দায়শীল থাকবে।

    গত ৫৪ বছর রাজনীতি দেখে জনগণ অনেক হতাশ। তাদের মতে, নতুন কিছু দেখতে চায় এখন। এজন্য বিভিন্ন কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক চালিয়ে গেছে। দায়িত্বশীল ও সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সকল দলের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ, ন্যায়বিচার ও নানা পরিবর্তন সাধনে সবাই এগিয়ে আসুক।

    জামায়াত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নে তাদের পাশে থাকুক। তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, কারণ মনে করে, দেশ সাধারণ জনগণের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। তাঁদের বিশ্বাস, দেশের স্বার্থে সবাই যাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’= ভোট দেন, সেটাই জরুরি।

    শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হাতছাড়া হলে জাতিকে তার জন্য মূল্য দিতে হবে।’ তিনি বলেন, দেশের সবার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে জামায়াত একেবারেই আশাবাদী। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত মিডনাইট ইলেকশনে অংশ নেয়নি তারা। এবার এ ধরনের পরিবেশ তৈরি হলে তা ছেড়ে দিতে লজ্জাজনক হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনের জন্য সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, যাতে কেউ যেনো নির্বাচন বিকৃত বা বিলম্বিত করতে না পারে।

    প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারি দলে অনেকেই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করছেন। তবে তারা বলছেন, সেসব পরিবর্তন হবে, অন্যথায় তাদের বদলাতে বাধ্য করা হবে।

    গণমাধ্যমের এক পক্ষের পক্ষে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ দলের প্রধান হিসেবে তারা বলছেন, গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষ হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রোল একেবারে নিরপেক্ষ হওয়া দরকার। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী, সব গণমাধ্যমের উচিত সত্যনিষ্ঠ ও অকপট প্রকাশ করা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কিছু গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণ যথেষ্ট সচেতন। সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে, তাদের মূল্যায়ন করবে। গণমাধ্যমকে পরিষ্কারভাবে সত্যের পক্ষে থাকতে হবে, সাদাকে সাদাক্রান্তেম বলে জেনে নেওয়া উচিত।

    ইইউ এবার বাংলাদেশে কোনো প্রতিনিধিদল পাঠাবে কি না, এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান জানায়, তারা ২০০ প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে, যাতে তারা সব জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন আলোচনায় জামায়াতের সাথে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, শিক্ষাবিদ যুবায়ের আহমেদ, জামায়াতের পররাষ্ট্রউপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য সদস্য।