Month: January 2026

  • ইসি সচিবের ব্যাখ্যা: পোস্টাল ব্যালটে ধানের শিেশের অবস্থান সম্পর্কে

    ইসি সচিবের ব্যাখ্যা: পোস্টাল ব্যালটে ধানের শিেশের অবস্থান সম্পর্কে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ব্যালট পেপার প্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ধারাবাহিকতা বা ক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি বুধবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

    আখতার আহমেদ আরও বলেন, যতটুকু জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রকাশিত গেজেটের অর্ডার অনুযায়ীই ব্যালটগুলো তৈরি করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে যোগ করেন, এই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ধানের শীষ প্রতীকটি intentionally ভাঁজের মধ্যে রাখা হয়েছে, যা সহজে নজরে পড়বে না। তিনি আরও বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো ভুলক্রমে পাঠানো হয়ে থাকে, তবে সেগুলোর সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এদিকে, ব্যালট আবার ছাপা হবে কি না, এ বিষয়টি নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এই ব্যাপারে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের সভায় আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • তিন ধরনের কোর্টকে বিশেষ জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা

    তিন ধরনের কোর্টকে বিশেষ জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা

    সারাদেশের বিভিন্ন আদালত ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সরকার সম্প্রতি তিন ধরনের আদালতকে বিশেষ জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় পারিবারিক আপিল আদালত, শিশু ধর্ষণ ও অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের আশ্রয় নেওয়া ‘বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন ২০০৩’ এর ক্ষমতাবলে, এসব আদালত ও ট্রাইব্যুনালকে জেলা জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি বলা হয়েছে তারা এখন থেকে ‘বিশেষ জেলা জজ আদালত’ নামে পরিচিত হবে। একইসঙ্গে, ফৌজদারী মামলার বিচারেও এগুলিকে দায়রা জজ আদালত হিসেবে দেখা হবে, যা ‘বিশেষ দায়রা জজ আদালত’ হিসেবে পরিচিত হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সারাদেশে বিদ্যমান সব পারিবারিক আপিল আদালত, শিশুর নিরাপত্তা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে সম্পর্কিত আপিল ট্রাইব্যুনাল এই ঘোষণা কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা দুই সংসদীয় আসনে নির্বাচন হবে

    ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা দুই সংসদীয় আসনে নির্বাচন হবে

    গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের দ্বারা জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত থেকে নির্দেশনা দিয়েছে আপিল বিভাগ। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সাথিয়া উপজেলাকে আলাদাভাবে পাবনা-১ আসনের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে; অন্যদিকে, সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে ধরা হবে।

    পাবনা-১ আসনের চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ছাড়াই এই নির্বাচন করতে হবে, যা আগে নির্বাচনী সীমানার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে, নির্বাচন কমিশনের ২০২৪ সালের গেজেটের এই অংশটি অবৈধ ঘোষণা করে আদালত স্থগিত করে, এবং এই রায় কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়।

    বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের গেজেটের এই পরিবর্তন আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ নয়, তাই তা স্থগিত থাকবে।

    এই মামলায় আদালতে ইসির পক্ষ থেকে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতের পক্ষ থেকে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, আর বিএনপির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

    এর আগে, ১৪ জানুয়ারি, হাইকোর্ট পাবনা-১ আসন থেকে চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে গেজেটটি অবৈধ ঘোষণা করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য বৃহস্পতিবার শুনানি ধার্য করা হয়।

    অক্টোবরের ১৩ তারিখে, এ সম্পর্কিত আপিলের উপর শুনানি শেষে, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন ভোটের কার্যক্রম স্থগিত থাকে যতক্ষণ না নতুন নির্দেশনা আসে। এর আগে, ৫ জানুয়ারি, পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ২৪ ডিসেম্বর জারি করা গেজেটও স্থগিত দেয় আপিল বিভাগ।

    অতএব, এই নির্দিষ্ট সীমানাগ্রহণের ফলে, নির্বাচনের ঠিক তারিখে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই আসনগুলোর নির্বাচন যথাসময়ে হবে যখন সব আইনি দিক পরিষ্কার হবে।

  • চার্জশিট গ্রহণে অনীহা প্রকাশে বাদীপক্ষের নারাজি তদন্তে ‘অসন্তোষ’ জানিয়ে

    চার্জশিট গ্রহণে অনীহা প্রকাশে বাদীপক্ষের নারাজি তদন্তে ‘অসন্তোষ’ জানিয়ে

    ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব শরিফ ওসমান হাদির হত্যার মামলায় দাখিল হওয়া চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে বাদীপক্ষ নারাজি দাখিল করেছেন। এ পরিস্থিতিতে আদালত সিদ্ধান্তে অপেক্ষমান থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশীতা ইসলামের আদালতে চার্জশিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ চার্জশিট গ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করলেও, মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন করেন।

    আদালতের সূত্রে জানা গেছে, বাদীপক্ষের নারাজি বিবেচনা করে আদালত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, সিদ্ধান্ত অপেক্ষমান রেখেছেন। এর আগে, চার্জশিটের বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দুদিনের সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। সেই অনুযায়ী, আজকের শুনানিতে চার্জশিটের বিষয়টি আলোচনা হয়।

    মামলার তদন্তে সহায়তার জন্য আদালত তিনজন বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ দেন, যারা হলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।

    শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, তারা চার্জশিটের প্রতিটি দিক সুনির্দিষ্টভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং তদন্তে পর্যাপ্ত আইনগত উপাদান রয়েছে। কিন্তু, বাদীপক্ষ দাবি করেন, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে, যা পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন।

    গত ৬ জানুয়ারি, তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ফয়সাল করিম মাসুদ বা রাহুলসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরের দিন আদালত এই চার্জশিটটি দেখিলাম মর্মে সই করেন এবং বাদীর বক্তব্য শোনার জন্য দিন ধার্য করেন।

    প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শরিফ ওসমান হাদি আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

    শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ১৯ ডিসেম্বর দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিসৌধের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

    ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে মনে করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

  • লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের আবেদন

    লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের আবেদন

    নিরাপত্তার শান্তির জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এই রিটটি করেছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান, যা বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দাখিল করা হয়েছে। এখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, আইজিপি এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

    রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়ে থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে গেছে। সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে পুরস্কার ঘোষণা করেও বেশিরভাগ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি যা খুবই উদ্বেগজনক।

    রিটে আরও বলা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আগামী নির্বাচনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত, ঢাকার ৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগের একটি বলিষ্ঠ প্রমান। অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ রক্তাক্ত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    সরকার কিছু নির্বাচনী প্রার্থীকে গ্যারাজম্যান বা নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা করলেও, সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে, অস্ত্রের উপস্থিতি ও অনিরাপত্তার কারণে নির্বাচনকে রক্তক্ষয়ী করে তুলতে পারে বলে মনে করে রিটের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

    অতএব, এই পরিস্থিতিতে রিটের দাবি উঠেছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সব লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয় এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিরাপদ হয়, ততক্ষণ নির্বাচন স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হোক।

  • মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের দুজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মার্স ট্যানের সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও সরকারের প্রতিশ্রুতি অটুট থাকবে। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে সর্বস্তরের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে ও একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলবে অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, ফলাফল ঘোষণা শেষে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।

    তিনি জানান, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে; একদিনও আগে বা পরে নয়।’ একইসাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোট প্রদান হবে বেশ উৎসবমুখর ও সুন্দর পরিবেশে।

    সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মার্স ট্যান এখন বাংলাদেশে সফর করছেন এবং প্রায় এক ঘণ্টাজনক বৈঠকে তারা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলন, ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং নির্বাচনের পরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, তারা ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, ভবিষ্যতে গঠনমূলক ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন সম্ভব হবে যদি অপরাধীরা তাদের ভুল স্বীকার করে, অনুশোচনা প্রকাশ করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই স্বীকারোক্তি করেনি, বরং বর্বরোচিত অপরাধের জন্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। জনগণ সচেতন হয়ে পড়ছে, এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও চিনতে পারছে।’

    গোড়া থেকে প্রচারিত এটি গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে গোম্বিস বলেন, ‘ভুয়া খবর বিশ্বে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু। এ হুমকি মোকাবেলায় আরও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন।’

    অতিথিরা সরকারের ভূমিকা, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রফেসর ইউনূস জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের আদলে বাংলাদেশে বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভবনা খুবই কম, কারণ এখনও অনেক অপরাধী নিজের ভুল স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘সময় এখনো আসেনি। ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের জন্য প্রয়োজন হয় অপরাধের স্বীকারোক্তি এবং অনুশোचन।’ তিনি উপসংহার তুলে বলেন, ‘অধিকাংশ অপরাধী এখনও সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বসে আছেন, যা দেশের জন্য খুবই দুঃখজনক।’

  • প্রথম ঘণ্টায় ৩৬ আপিল, ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    প্রথম ঘণ্টায় ৩৬ আপিল, ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জোরদারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে প্রথম ঘণ্টায় ৩৬টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, ৫টি নাকচ হয়েছে, একটি আপিল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পেন্ডিং রয়েছে এবং ২টি আপিলের বাদি অনুপস্থিত ছিলেন।

    নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের অডিটোরিয়ামে এই আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথম বিরতিটা দেওয়া হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন বাতিলের কারণ ও আপিলের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।

    বিশেষ করে রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল-সাআদের মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তার জমা দেওয়া ভোটার তালিকা থেকে দৈবচয়নে ১০ জনের মধ্যে একজনকেও যাচাই করা যায়নি। একইভাবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারীর জন্য এই তথ্য প্রযোজ্য, যেখানে তিনি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের যাচাই করতে পারেননি। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের মো. হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠে আসে, যেখানে তার মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে কাজ করে ভোটার তালিকা থেকে অনিশ্চয়তা। তাছাড়া, ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

    অন্যদিকে, কুমিল্লা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের মনোনয়ন বৈধতা প্রশ্নে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে, একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন জানায়, আব্দুল মতিনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে। originally, এটি মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, এই অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত সম্ভব হচ্ছে না। তারা ভবিষ্যতে নতুন সূচি জানানোর বিষয়েও উল্লেখ করেছেন।সংবাদ সম্মেলনের নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক চিহ্নিত ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নয়াপাড়া ক্যাম্পের বিকাশ মোড় এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।

    এপিবিএন এর নয়াপাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ, পরিদর্শক সুশান্ত কুমার সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতের নাম আব্দুর রহিম (৫০)। তিনি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা, হাবিবুর রহমানের ছেলে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহিম একজন চিহ্নিত ডাকাত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

    পরিদর্শক সুশান্ত কুমার সরকার জানিয়েছেন, সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সড়কের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে নয়াপাড়া ক্যাম্পের আশপাশে বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। ভোরের দিকে ফজরের নামাজের জন্য যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বিকাশ মোড়ের এক রক্তাক্ত ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

    প্রাথমিক ধারণা অনুসারে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডাকাত দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারকে দায়ী করা হতে পারে। তবে, এ ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

    নিহত আব্দুর রহিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এপিবিএনের এই কর্মকর্তা।

  • রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬

    রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬

    রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে, যার ফলে গত তিন দিনেই মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়েছেন। মৃত ব্যক্তিরা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) মধ্যরাতে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, ১১ জানুয়ারি রাতে বদরগঞ্জের শ্যামপুরহাট এলাকার জায়গায় ডেকে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেননাত আলির। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ এই ঘটনায় মোখেলো মাদককারবারি জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে, একই ধরণের আরেক ঘটনার ফলে মানিক চন্দ্র নামে একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শ্যামপুরের বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন নিয়মিত চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করেন। মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করেছিলেন, এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা গেছেন। গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রি হচ্ছে, যা আগে থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের নজরে ছিল। এলাকার মাদক ব্যবসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় হাজিরহাট থানার বালারবাজারে স্পিরিট খেয়ে অসুস্থ হন সদর কোতয়ালী থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনिल চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, আশপাশের আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা নিয়ে বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১০ বোতল স্পিরিট। এ ছাড়া বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি হাসান জাহিদ সরকার ও সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।