Month: January 2026

  • বিপিএলের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়বেন বেশ কিছু পাকিস্তানি ক্রিকেটার

    বিপিএলের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়বেন বেশ কিছু পাকিস্তানি ক্রিকেটার

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসর সিলেট পর্ব দিয়ে শুরু হয়েছে। এই পর্বের মধ্যে অনেক বিদেশি ক্রিকেটারই বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারেন। বিশেষ করে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর কারণ, তারা সামনে রয়েছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, তাই জানুয়ারিতে পাকিস্তান জাতীয় দলের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলতে হবে।

    আগামী ৭, ৯ এবং ১১ জানুয়ারি ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ। এই সিরিজের জন্য পাকিস্তান দলের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। এই তালিকায় বর্তমানে বিপিএলে অংশ নেওয়া সাত জন ক্রিকেটার রয়েছেন। অর্থাৎ, তারা ৭ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে পারেন বলা হয়। বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষ হবে ২ জানুয়ারি, এরপর ৫ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামে ম্যাচগুলো শুরু হবে।

    বাংলাদেশের বিপিএলে বিভিন্ন দলে অংশ নেওয়া পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা হলেন: ফাহিম আশরাফ (রংপুর রাইডার্স), খাজা নাফে (রংপুর রাইডার্স), মোহাম্মদ নেওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), মোহাম্মদ সালমান মির্জা (ঢাকা ক্যাপিটালস), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), সাইম আইয়ুব ও উসমান খান (ঢাকা ক্যাপিটালস)। এছাড়া আরও ৮ থেকে ১০ পাকিস্তানি ক্রিকেটার বিভিন্ন দলের স্কোয়াডে আছেন।

    আসন্ন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের জন্য নির্বাচিত ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন খাজা নাফে, যিনি এই মুহূর্তে অনফিল্ডে অভ্যস্ত ও তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এ বছর এখনও পর্যন্ত বিপিএলে মাঠে নামেননি, তবে ২৯ ডিসেম্বর রংপুরের জার্সিতে মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে। তিনি গতবারের বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া, পাকিস্তানের ক্রিকেটে মনোযোগ ফিরিয়ে এনেছেন শাদাব খান। ২৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার দীর্ঘ সময় কাঁধের অপারেশনের কারণে দলের বাইরে ছিলেন, তবে বিগ ব্যাশে খুবই ভালো পারফরম্যান্স করছে।

    তবে, পাকিস্তানের শ্রীলঙ্কা সিরিজের স্কোয়াডে রয়েছেন না শাদেরাব খান ও পেসার হারিস রউফ। পাকিস্তান দল সাজিয়েছে নাসিম শাহ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও সালমান মির্জা দিয়ে। এই সিরিজের পারফরম্যান্স ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান স্কোয়াড ঠিক করা হবে।

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের স্কোয়াডে থাকছে: সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, খাজা নাফে (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নেওয়াজ, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, শাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক) ও উসমান তরিক।

  • মাশরাফির স্মৃতিতে কিংবদন্তি নেত্রীর অবদান স্বীকার

    মাশরাফির স্মৃতিতে কিংবদন্তি নেত্রীর অবদান স্বীকার

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো আজ, কারণ দেশের প্রিয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর খবর মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশের আলোচিত এই নেত্রী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যে অবদান রেখে গেছেন, তা জাতি কেউ ভোলেনি এবং স্মরণ করে থাকবেন।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছড়া বোনা শুরু হয়। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—allই গভীর শোক প্রকাশ করছেন।

    রাষ্ট্রের ক্রীড়াঙ্গণও এই শোকের ছায়া থেকেও বাদ যায়নি। বাংলাদেশের বিপিএল এবং ফেডারেশন কাপের খেলা ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ও স্থগিত করা হয়, কারণ এই নেত্রীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। অনেক ক্রীড়ানায়ক এবং ধন্যবাদীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোচ্চার হয়েছেন।

    বিশেষ করে সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান খেলোয়াড়রা শোক প্রকাশ করেছেন। তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসানসহ অনেক তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের গভীর শোকজ্ঞাপন করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। এই কঠিন সময়ে আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্টের এই মহান নেত্রীর দীর্ঘ লড়াই ও অবদানের কথা জাতি সর্বদা মনে রাখবে। তার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।”

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের মানুষ এক বাক্যে শোক প্রকাশ করেছেন, আর এ শোক স্মৃতি হয়ে থাকবে বাংলার ইতিহাসে। তার জীবন সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অবদান ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সবাই।

  • প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিপিএলের ম্যাচ বাতিল

    প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিপিএলের ম্যাচ বাতিল

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর জানা চিরকালীন শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে। এই শোকের মৌসুমি পরিবেশের মধ্যে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ বিপিএলের দুটি ম্যাচ আজ নির্ধারিত ছিল, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপী শোকের ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তার স্মৃতিকে স্মরণ করে আজকার সিলেট টাইটান্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই ম্যাচগুলো পরবর্তীতে নতুন সূচিতে অনুষ্ঠিত হবে। সব তথ্য ও বিস্তারিত ন্যূনতম সময়ে প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

    খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার রোগী অবস্থা ছিল খুবই জটিল ও সংকটময়। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তার অবস্থা খুবই সংকটময় হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি আর চলছে না। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী সুদূরপ্রসারী এই নেতৃত্ব দেশের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন। আজ তার অনুপস্থিতিতে সবাই শোকজ্ঞাপন করছে, স্মরণ করছে তার অসাধারণ জীবন ও অবদান।

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন ভারতের কূটনীতিক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন ভারতের কূটনীতিক

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পরে একটি জাতীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, চলতি ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারতের এক কূটনীতিকের সাথে গোপন বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ওই কূটনীতিকই তাঁর কাছে এ বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন, তাই এটি গোপন রাখা হয়। রয়টার্সের এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য একথা জানান দলটির এই নেতা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বুধবার এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

    আসন্ন নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ে যখন নয়াদিলি­ নতুন সরকার গঠন করতে রাজি হওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, তখন শফিকুর রহমান বলেন, তিনি চলতি বছর ভারতের একজন কূটনীতিকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আরও জানান, অন্য দেশের কূটনীতিকরা সাধারণত প্রকাশ্যে তাঁদের সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু ভারতীয় ওই কূটনৈতিক তাঁর সাথে বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সকলের উচিত সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একে অপরের প্রতি খোলা মন রাখা। দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য সম্পর্কের উন্নতি খুব জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, কমপক্ষে পাঁচ বছর শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সমস্ত দল একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জরুরি হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কৌশল নেওয়া উচিত, কারণ এটি একটি জাতীয় লক্ষ্য।

    বাংলাদেশ জামায়াতের আমির জানান, তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দল, যার সর্বোচ্চ আসন থাকবে। আর যদি জামায়াত তাদের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তবে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা দলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারতের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

    জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানের ইতিহাস ও সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করলে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি বলেন, কোনো এক দেশের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকতে চান না; সবাইকে সম্মান করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান।

    তাঁর আরও মন্তব্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নিয়েও কোনও সরকার স্বস্তিতে থাকবে না। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নিজের মেয়াদ মাঝপথে তিনি ছেড়ে দেবেন।

    তবে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি আরও জটিল করে তুলতে চান না।

  • জয়শঙ্কর জানতেন তিনি কী করছেন, স্পিকারের ভাষ্য

    জয়শঙ্কর জানতেন তিনি কী করছেন, স্পিকারের ভাষ্য

    ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করতে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের মধ্যে দেখা হয়। এই আকস্মিক সাক্ষাৎ নিয়ে পাকিস্তানের স্পিকার মুখ খুলেছেন।

    জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে সরদার আয়াজ সাদিক বলেন, মে মাসের সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নতুন করে শুরু হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এক কক্ষে পাকিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সাক্ষাৎ ঘটে। তখনই ভারতের প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ঢুকে পড়েন।

    স্পিকার বলেন, কক্ষে ঢুকেই এস জয়শঙ্কর প্রথমে অন্য প্রতিনিধিদের অভিবাদন জানান। এরপর তিনি এগিয়ে এসে করমর্দন করেন। তিনি জানান, তখন তিনি পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হাইকমিশনার এসে তাঁকেও অভিবাদন জানান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখনই জয়শঙ্কর তাকে বলে ফেলেন— ‘এক্সেলেন্সি, আমি আপনাকে চিনি, পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

    সাদিক জানান, এই মুহূর্তে ক্যামেরা থাকায় বোঝা যায়, সাক্ষাৎকে রেকর্ড করে গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য এটি পরিকল্পিত ছিল। তিনি বলেন, ‘তিনি (এস জয়শঙ্কর) সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন যে তিনি কী করছেন এবং এটি মিডিয়ায় প্রচার হবে।’

    ওই সময় কক্ষে উপস্থিত সবাই এই সাক্ষাৎটির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ছিল। স্পিকার মন্তব্য করেন, জয়শঙ্কর একজন চতুর রাজনীতিক হিসেবে এই মুহূর্তের গুরুত্ব ও প্রতীকী দিক ভালোভাবে বুঝেছিলেন।

    এছাড়াও তিনি বলেন, বাংলাদেশ সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ায় তিনি খুব সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জানাজাস্থলে যাওয়ার পথে সাধারণ মানুষের চোখে দেখা প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। তাঁর গাড়িতে পাকিস্তানের পতাকা ছিল, দেখে পথে মানুষ হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়েছে। এমনকি, তিনি শুনেছেন স্থানীয় স্লোগানও।

  • নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

    নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

    যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শহর নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। তিনি একজন বামপন্থি রাজনীতিবিদ হিসেবে মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। শপথের এই অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন, যা শহরটির নতুন এক অধ্যায় শুরু করে।

  • খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

    আজ ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রথমে চাণক্যপুরী এলাকায় অবস্থিত হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সেখানে তিনি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শোকপুস্তিকায় নিজের শোকবার্তা লিখে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, রাজনাথ সিং তার শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের রাজনীতি ও দেশের প্রতিহত আঙিনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই শোক প্রকাশে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা আবারও ফুটে উঠেছে, যেখানে দুই দেশের নেতা একসঙ্গে শোক প্রকাশ করে সম্মান জানান খালেদা জিয়ার অবদানকে।

  • ২০২৫ সালে সাগরপথে স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৯০: প্রতিবেদন

    ২০২৫ সালে সাগরপথে স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৯০: প্রতিবেদন

    ২০২৫ সালে, এক বছরে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে যাওয়ার পথে মোট ৩০৯০ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন। এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক অভিবাসী অধিকার সংগঠন কামিনান্দো ফ্রন্তেয়ার্স; তারা উল্লেখ করেছে, এসব মৃত্যু নিছক দুঃখজনক পরিস্থিতি নয়, বরং এই পথে এখনও মারাত্মক ঝুঁকি বিদ্যমান।

    নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯২ জন নারী ও ৪৩৭ জন শিশু রয়েছে। এই সংখ্যা বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে, যেখানে অধিকাংশই পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকার দেশের নাগরিক। এর বাইরেও পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, ইরাক ও মিসরের নাগরিকরা এই মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।

    সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাকৃতিক এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই পথে মারা বা নিখোঁজ হয়েছেন ৩০৯০ জন। এই সময়ে মৃতের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, এটি একটি মারাত্মক সূচক, যা স্পষ্ট করে দেয় যে, এই সাগরপথ এখনো বিপজ্জনক।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনে পৌঁছানোর জন্য এই পথটিই মূল ও একমাত্র সমর্থনযোগ্য রুট। মৌরিতানিয়ার উপকূল থেকে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানো হয়। এই পথে শতকরা ১২ দিন সময় লাগে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে ভ্রমণ করতে। যদিও বছরজুড়ে এই রুটটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, তবে বিকল্প কোনও পথ না থাকায় অনেকে এই পথ বেছে নেন।

    এ বছরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মৌরিতানিয়া-ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ রুটে মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় কম, যেখানে এই পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৫৪৭। তবে, অভিবাসী অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা কমে যাওয়ার মানে এই নয় যে, এই পথটি নিরাপদ। বিপজ্জনক এই সাগরপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাতায়াত হ্রাস করতে হলে সীমান্তে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বিধিনিষেধ শিথিলের পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন।

    সুত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • বটিয়াঘাটায় নারীর মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন, প্রেমিক গ্রেফতার

    বটিয়াঘাটায় নারীর মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন, প্রেমিক গ্রেফতার

    অপহরণের মামলার সূত্র ধরে বটিয়াঘাটায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন এক নারীর মৃতদেহের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। দীর্ঘ চার দশকের তদন্ত ও ৪০ দিনের কঠোর অভিযানের পর আসল আসামি মোঃ লালন গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা শামিম ফকির (৩০) তার মা সালেহা বেগমের অপহরণের অভিযোগে একই গ্রামের মোঃ লালন গাজীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান। তদন্ত চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, সালেহা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তবে ১৯ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যার পর তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সালেহা বেগম ও আসামি লালন গাজী একত্রে ইন্দুরকানীর চাড়াখালী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন।

    প্রাথমিক তদন্তে আরও নির্দেশ করে, ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ভিকটিম ও আসামি খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার জন্য একত্রে বাসা থেকে বের হন। পরের দিন, অর্থাৎ ২০ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া গ্রামে ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

    পরে, পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিমের সংগৃহীত ছবি ও আলামত দেখানোর পর পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহটি সালেহা বেগমের বলে ত্বরিতভাবে শনাক্ত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পিবিআইয়ের বাক্যবদ্ধ হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

    উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই প্রেমিকার হত্যার প্রধান আসামি লালন গাজী পলাতক থাকেন। পিবিআই’র প্রধান মোঃ মোস্তফা কামাল, এ্যাডিশনাল আইজিপি’র তত্ত্বাবধানে, এবং খুলনা জেলা অফিসের ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। অবশেষে, ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের হালুয়াঘাট বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    আটকের জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি স্বীকার করে যে, ভিকটিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের চাপের কারণে সে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৯ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার পার বটিয়াঘাটা খেয়াঘাট এলাকায়, সহযোগীদের সহায়তায় সালেহা বেগমের হত্যা করে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহটি ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি তার দেখানো অনুযায়ী গজালিয়া গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সালেহা বেগমের ব্যবহৃত মালামাল ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেন। বর্তমানে, আসামিকে পুনরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, এবং এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়াকে তার দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্য আলাদা করে চেনা যায়। স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের অধীনে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও, তিনি সেই পথ পছন্দ করেননি। আসন্ন তালিকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, যখন অন্যরা আপস করতে থাকলে তিনি সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর এই দৃঢ়তা সময়ই প্রমাণ করে, ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর, ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া শপথ নেন। জীবনে কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তিনি হেরেছেন না, বরং আপসের মুখ দেখাননি, যা তাকে একজন ‘আপসহীন’ বলিষ্ঠ নেত্রী হিসেবে পরিচিতি দেয়।

    বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং খুলনা-২ আসনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর পাশাপাশি আরও ছিলেন দলের বিভিন্ন নেতা, কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সমর্থকগণ। তিনি তাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বজনীন শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এই প্রার্থনা ও সমাবেশে অংশ নেন। এসময়ে রাজনৈতিক নেতারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করে তার অবদানকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।