বিএনপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সফলতা কেমন হবে এই নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের এ স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মানুষের অন্তরে এখনও বেগম খালেদা জিয়া রয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রের মা হিসেবে খ্যাত, মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। আজ তাঁকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাঁর জন্য সাধারণ জনগণের এক অম্লান ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছেন। যারা যেতে পারেননি তারা গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন। এত বড় একটি জনসমাগমের ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ভবিষ্যতে বর্ণনা বা পরিসংখ্যান দেওয়া হতে পারে, কিন্তু এই আকাশচুম্বী সাড়া সত্যি অবর্ণনীয়।’
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘বিশ্বাস করা হয় যে, একজন সাধারণ গৃহিণীও সারা বিশ্বের গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেদের জয়গান করতে পারেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে করতে নিজের জীবন, পরিবার সব কিছু উৎসর্গ করেছেন।’
তিনি যোগ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্য দেশের প্রতি তার ভালবাসা, ভক্তি, এবং দেশপ্রেমের স্বভাব চিরঞ্জীব। তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন, কিন্তু তিনি অর্জন করেছেন যে উচ্চতায়, যা পৃথিবীর অন্য কারো নয়।’
সালাহউদ্দিন ভবিষ্যতের লক্ষ্য করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের צעচেষ্টা থাকবে; যে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও বৈষম্যহীন গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্যই আমাদের এই পরিশ্রম। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী নয়, গণতন্ত্রের জন্য এক অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক। সবাই তাকে সেই মর্যাদার সামনে দাঁড় করিয়েছে।’
মনের গভীর থেকে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শঙ্কা প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আজকের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, তা পূরণ করতে পারবো কি না, সেটা মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আকাশের মতো বিশাল। সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সবাইকে একত্রিত রেখে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়— এই নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সামর্থ্য ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে সবাইকে একত্রিত করে এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ দেখা হবে কতটুকু আলোকিত বা সফল হতে পারে।’
বিএনপির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বেগম জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে চান। কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য এই শোককে টুল হিসেবে ব্যবহার করার মতো আমরা সংকীর্ণ নই। তার শোককে জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজে লাগাতে চাই। যেহেতু তিনি এখন আর আমাদের মাঝে নেই, তাই মনোনয়ন বা প্রতীক বাছাইয়ে প্রার্থীর পরিবর্তন হবে। নির্বাচনে যেখানে ভোটদানের আগে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেখানে তার প্রভাব পড়বে না।
নির্বাচন পেছানোর কোনও আইনি সুযোগও নেই, কারণ মনোনয়ন বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর যদি সেটি হতো, তাহলে আইনী জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হতে পারত। কিন্তু এখন সেরকম পরিস্থিতি নেই, কারণ তিনি মনোনয়নের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে মারা গেছেন। সুতরাং, তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।
মায়ের শোকের কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোবল ভেঙে পড়েছেন কি না—এ প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে, এর বিকল্প কিছু নয়।’
Leave a Reply