অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা, নিঃশব্দ কাঁন্না ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ঢাকা পড়ে যায় মানিক মিয়া এভিনিউ। সেই জনসমুদ্রে খুলনার সাধারণ মানুষও একসূত্রে আবদ্ধ হয়ে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে খুলনা মহানগর ও জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ রাজধানীতে ছুটে যান। প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায় জানাতে পেরে তারা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন এবং মনে করছেন তারা এই ইতিহাসের সাক্ষী। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোর থেকেই খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্রেন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অনেকেই রাত কাটিয়ে সকালে পৌঁছান রাজধানীতে। দীর্ঘ পথ, কষ্ট və ভিড় অনেককেই থামাতে পারেনি। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। মূল জানাজার আগে আগে দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের ঢল নামায় তা বিলম্বিত হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানাজার ভিড়ে সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ঢাকা পড়ে যায়। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির শত শত নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ লোক দলীয় পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কেউ ফুঁপিয়ে কাঁদছেন, কেউ নীরবে হাত তুলে দোয়া করছেন। কারো চোখে শূন্যতা, কারো চোখে হারানোর গভীর বেদনা। জানাজায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন। খুলনা থেকে আসা ঢলের এই অংশ হাজির করে প্রমাণ করে, এই নেত্রী শুধু দলের নেত্রী নন, তিনি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। এই জনসমাগম দেশের কাছে অসাম্প্রদায়িক ভালোবাসার এক প্রকার গভীর বার্তা। কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া যে গণভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তারই প্রতিচ্ছবি এই বিশাল জনসমুদ্র। খুলনার মানুষ যে ভালোবাসা অনুভব করেছিল, যে প্রেম ও সমর্থন সংগৃহীত হয়েছিল, তা আজ অশ্রুকর মরুচিহ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। এই জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। জানাজার স্থানেই খুলনার একজন প্রবীণ নেতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আর কখনো দেখব না খালেদা জিয়াকে—এটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনিই আমাদের সাহস, আমাদের লড়াই।’ উল্লেখ্য, তিন বার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে খুলনা ও সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার সকাল থেকেই খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ের জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেগঘন অংশগ্রহণ খুলনাবাসীর গভীর সম্পর্কের প্রমাণ, যা দীর্ঘকালীন স্মৃতিতে রয়ে যাবে। খুলনা বিএনপির কার্যালয়ে বুধবার শোক বইতে শত শত মানুষ স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি, মহানগর বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন বিএনপি অফিসে কোরআনখানি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা ও ব্যাজ ধারণ করে নেতাকর্মীরা গভীর শ্রদ্ধা জানান।
Month: January 2026
-

সারাদেশে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা ও শোক প্রকাশ
সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও ত্রিবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিভিন্ন অঞ্চলে এ জানাজার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খালেদা জিয়ার রুহের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, যাতে তার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়।
কুষ্টিয়া: ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বাদ জোহর খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা নাহিদুল ইসলাম। এ জানাজায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক।
ঝিনাইদহ: শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রথম দিন থেকেই জেলা বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। দলীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা হয়েছে এবং কোরআন তিলাওয়াত চলছে। এই কর্মসূচি ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছেন জেলা বিএনপির কর্মকর্তারা।
বগুড়া: শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিকেলে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন, কিছু মানুষ কাঁদো কাঁদো হয়ে জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর মুসল্লিরা দোয়া ও মোনাজাত করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
সিলেট: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জানাজায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন।
রাঙ্গামাটি: জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায়কৃত জানাজায় রাঙ্গামাটির মানুষও উপস্থিত হন। জানাযার সম্প্রচার এলইডি টিভির মাধ্যমে দেখানো হয় সরাসরি।
রংপুর: বুধবার বাদ জোহর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গায়েবানা জানাজা হয়। ইমামতিতে ছিলেন মাহফুজ হাফেজ মোঃ হামিদুল ইসলাম। এতে প্রবীণ নেতারা ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ অন্যরা অংশ নিয়ে দোয়া করেন।
রাজবাড়ী: খানখানাপুর সুরাজ মোহিনী ইনস্টিটিউট মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সবস্তরের মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পঞ্চগড়: বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুলে বাদ জোহর গায়েবানা জানাজা হয়, যেখানে সব স্তরের মানুষ অংশ নেয়। জানাজার পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া হয়।
রাজশাহী: বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে জানাজা সম্পন্ন হয়। নগরীর টিকাপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে সবাই তার জন্য দোয়া করেন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোহরের নামাজের পরে কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হয়। সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোক পালিত হচ্ছে।
বরিশাল: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নগরের ৩০টি ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে সাত দিনের দোয়া-প্রার্থনা ও শোক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকল অফিসে কালো পতাকা উত্তোলন ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
-

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে, শীতের কঠোরতা বাড়ছে
মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়েছে। হাড়কাঁপানো এই শীত পরিবেশে জেলার সাধারণ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, আর সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায়, দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষগুলো।
আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তুলনায় এটি অত্যন্ত কম, এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। গত দুই দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যার ফলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগের দিন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর), সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গায়ও শীতের তীব্রতা স্পষ্ট দেখা গেছে। সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঐ দিনও আকাশে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে ছিল, ফলে শহর ও গ্রামে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
জেলাজুড়ে ভোরে কুয়াশা আর হিমশীতল বাতাসের কারণে রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইর হতে চাননি। তবে, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি বড় ধরণের দুর্ভোগের কারণ। তারা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে জীবিকার জন্য কাজের খাতায় ঢুকছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়, চায়ের দোকান ও বাজার এলাকায় খড়কুটো, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের।
চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে থাকলেও, এই অবস্থা আগামী দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শীতের এই প্রকোপ আরও কিছু সময় এভাবেই থাকবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
-

সোনার দামে রেকর্ড পরিমানে বৃদ্ধির হালচাল
দেশের বাজারে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সবচেয়ে মূল্যবান মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা, যার ফলে এই দামের সর্বমোট value এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এই নতুন দাম দেশের বাজারে আগে কখনো দেখা যায়নি। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রোববার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
শনিবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরে, কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আগে গত ২৪ ডিসেম্বর সবচেয়ে মূল্যবান মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৪ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪২ টাকা এবং ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছিল।
আশাকর্মে, এই সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধির ফলে, ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম একবারে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এই চার দিনের মধ্যে দাম আরও বৃদ্ধি পেয়ে, সোনার বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, যা আগে থেকে ১ হাজার ৫১৭ টাকা বেড়ে গেছে। ১৮ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি ১ হাজার ২৮৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনা প্রতি ভরি ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর, প্রথমে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দাম পৌঁছায় ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায়। একই দিন, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৭ টাকায় পৌঁছায়। ১৮ ক্যারেটের সোনা ৩ হাজার ৪৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ টাকায় বিক্রি হয়, আর সনাতন পদ্ধতির সোনা ২ হাজার ৯১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকায় বিক্রি হয়। এই দাম কার্যকর হয় এবং আজ শনিবার পর্যন্ত এই দামে সোনা বাজারে বিক্রি হয়েছে।
-

পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আর নেই
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শামশাদ আখতার। তিনি দুই দফা তত্ত¡াবধায়ক সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। শনিবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭১ বছর বয়সে তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের মুদ্রানীতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং পুঁজিবাজারের মূল ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, এরপর ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর ত্যাগের প্রশংসা করে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সততা, পেশাদারিত্ব এবং জনসেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চলে গেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি পাকিস্তানের এক বিশিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন ইএসক্যাপ) নির্বাহী সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেছেন। হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া এবং করাচি ও ইসলামাবাদে শিক্ষাজীবন заверш করা শামশাদ আখতার পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স এবং যুক্তরাজ্যের পেইসলি কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। জানানো হয়েছে, তার মৃত্যুতে দেশের স্টক মার্কেট ও অর্থনীতি গভীর শোকাহত।
-

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে
চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটা সুসংবাদ। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার এ প্রবাহের ফলে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা না হয়। রোববার, তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এ ক্রয়ে ডলারের বিপরীতে এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মাসে, ডিসেম্বরের প্রথম থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। এখন পর্যন্ত চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট ডলার কিনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৫৬০ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এই মাসে ১ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর এ সময় প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছরজুড়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। এই সময়ের মধ্যে, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে, দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার। এর মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডির প্রতিরোধ, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নতির কারণে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সুস্থির রাখতে সাহায্য করছে। সর্বশেষ, নভেম্বর মাসে, প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের জন্য মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। এই সব তথ্য দিয়ে বোঝা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী ও স্থিতিশীল থাকায় অর্থনীতিতে স্বস্তির পরিবেশ বজায় রয়েছে।
-

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেল
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত মুনাফার হার আবারও হ্রাস পেয়েছে। নতুন নির্দেশনায় জানা গেছে, এবার সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, এবং সর্বনিম্ন হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগে গত জুলাই মাসে ও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা অপ্রতিহতভাবে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশনায় উপরন্তু বলা হয়েছে, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হবে। কম বিনিয়োগে (৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা কম) মুনাফার হার বেশি থাকছে, আর বেশি বিনিয়োগে হার কমে আসছে।
প্রথমত, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে, পাঁচ বছরের মেয়াদে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগের জন্য পূর্বে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার পূর্বের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল, এখন সেটি কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হ্রাস চলেছে। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার পূর্বে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল, এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়েছে। আর, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীর জন্য পূর্বের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নির্ধারিত।
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের পাঁচ বছরের মেয়াদেও মুনাফার হার কমেছে। এ ক্ষেত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার আগে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকত, এখন তা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আরও, বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার পূর্বে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল, তা এখন ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার কমে গেছে। এই সঞ্চয়পত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার এখন ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার পূর্বের ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য তারা চলমান মেয়াদের হিসাবেই এই হার কার্যকর থাকবে। আবার, পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে, সেই তারিখের হারই প্রযোজ্য হবে, এবং ছয় মাস পরে যথাযথভাবে নতুন হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
-

টানা দফা বাড়ানোর পরে সোনার দাম কমলো
বাংলাদেশের বাজারে বেশ কয়েক দফা মূল্য বৃদ্ধির পর অবশেষে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা মূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা সোনার নতুন দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নতুন মূল্য অনুযায়ী ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে বাজুস এই তথ্যের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ থেকে জানা যায় যে, নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। পরিস্থিতির বিবেচনায়, এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুসারে, ২২ ক্যারেটের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোনা বিক্রয়মূল্য থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ডিজাইন, মান ও বিভিন্ন উপাদানের প্রভাব অনুযায়ী মজুরির দর কম বেশি হতে পারে।
এর আগে, অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর বাজুস সোনার দাম আরও এক দফা সমন্বয় করে। ওইদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয় ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একদিনে সবোর্চ্চ দামের রেকর্ড। সেই সময়ে অন্য ক্যাটেগরিতে দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।
বর্তমানে, চলতি বছরসহ মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার, কমেছে ২৮ বার। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ বার বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।
তবে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
চলতি বছর পর্যন্ত রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে এবং ৩ বার কমেছে। গত বছর এই দাম সমন্বয় হয়েছিল ৩ বার।
-

শেখ হাসিনা কখনই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি পাবেন না
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই নির্মম প্রকোপের দায় থেকে শেখ হাসিনা কখনোই মুক্তি পাবেন না। বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ‘ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রয়ারি থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশের সকল মানুষ দেখছেন— তিনি হাঁটতে পারছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে বের হেতেন অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী চার বছর গৃহবন্দি অবস্থায় থাকাকালীনই তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা না পেলেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। অবশেষে এই নেত্রীকে মৃত্যুর কাছে হার মেনে নিতে হয়। এই মৃত্যুের জন্যই শেখ হাসিনা দায়ী, কারণ তিনি কখনোই এই দায় থেকে মুক্তি পাবেন না।’
নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জনগণের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বে ইমার্জিং টাইগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।’
বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়ার জন্ম, পারিবারিক জীবন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিবাহ, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর সংকটময় সময়ে তার রাজনৈতিক নেতৃত্বদান, পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সরকারের পরিচালনাসহ বিভিন্ন দিক বিশদে তুলে ধরেন।
-

মায়ের ত্যাগ, উদারতা ও দেশের জন্য শক্তি খুঁজে পাই: তারেক রহমান
দেশবাসীর গভীর মমত্ববোধে আপ্লুত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভরপুর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। তবে এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষজনের অপরিসীম উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বের দুঃখ কিছুটা প্রশমিত করেছে।’ তারেক রহমান আরও যোগ করেন, ‘অগণিত নেতা-কর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশের মানুষজনের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগপ্রবণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা, এবং এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা আমাকে আবারো ভাবিয়ে তুলেছে—তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না, তিনি বহু দিক থেকে পুরো জাতির মা।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা আমার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন, এর জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যারা এই শোকসন্তপ্ত সময়ে সমবেদনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিও আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয়ে গভীর ছোঁয়া দিয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় ভরপুর হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা কাটিয়ে বাংলাদেশ যেন পুরো পরিবারের মতো হয়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘অব্যাহতভাবে মানুষের সেবা করে বৃথা যায়নি আমার মায়ের অর্জন। আজ আমি সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার অবিচলভাবে আপনা হাতে তুলে নেব। আমার মা যে পথচলা শেষ করেছেন, সেখানে আমি সেই পথ এগিয়ে নিয়ে যাব। তাদের জন্য, যারা ভালোবাসা ও বিশ্বাস দিয়ে তাকে জীবনশক্তি ও প্রেরণা দিয়েছেন। আল্লাহ যেন আমার মা’য়ের রুহকে শান্তি দেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার দৃষ্টান্ত আমাদের দেখিয়ে গেছেন, এখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেম খুঁজে পাই।’
