Month: December 2025

  • কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ডিজাইনের ৫০০ টাকার নোট বাজারে আনছে। এই নতুন নোট প্রথমে মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে, এরপর আলাদা আলাদা ব্যাংক অফিসের মাধ্যমে সাধারণের হাতে পৌঁছাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নতুন এই ৫০০ টাকার নোটের ডিজাইনে রয়েছে অনেক অভিজাত ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নোটের সামনের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ফুটে উঠেছে, মাঝখানে পাতা ও কলির সঙ্গে জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। অন্যদিকে, নোটের পেছনে দেখা যাবে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রতিচ্ছবি। এই নোটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে জলছাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যার নিচে ইলেকট্রো টাইপে লেখা ‘৫০০’ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম। পুরো নোটে সবুজ রঙের আধিক্য দেখা যাবে, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্যের একটি অংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শিরোনামের নতুন সিরিজের অংশ হিসেবে এ নোট প্রথমবারের জন্য ইস্যু করা হচ্ছে। এই সিরিজের অন্যান্য নোটের মধ্যে রয়েছে ১০০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোট, যার কিছু আল্টিমেট এখনও বাজারে এসেছে। এবার আসছে ৫০০ টাকার নোটটিও।

    নতুন নোটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে দশটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো, রঙ পরিবর্তনশীল কালি। নোটটি নাড়ালে ডান পাশে থাকা ‘৫০০’ লেখা সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। এছাড়াও, লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সুতা ব্যবহৃত হয়েছে, যা আলোতে দেখা যায় ‘৫০০ টাকা’ লেখা।

    এছাড়াও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নোটের ডান কোণে পাঁচটি উঁচু বৃত্ত যুক্ত করা হয়েছে। শহীদ মিনার, মূল্যমানসহ কিছু অংশ স্পর্শে উঁচু মনে হবে। বিশেষ নিরাপত্তার জন্য, গোপনে ‘৫০০’ লেখা ছাপা হয়েছে যা নির্দিষ্ট কোণে দেখলে স্পষ্ট বোধগম্য হয়। নোটের কার্নিশে লাল, নীল ও সবুজ তন্তু যোগ করা হয়েছে, যা বিশেষ আলোর আলো পড়লে দৃশ্যমান হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু হলেও বর্তমানে চলমান পুরনো কাগজের নোট ও কয়েনের চালু ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ কিছু নমুনা (অবিনিময়যোগ্য) ৫০০ টাকার নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। এগুলো টাকা জাদুঘরে, মিরপুরে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

  • প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমাতে ও প্রবাহ বৃদ্ধি করতে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রবাসীরা বিদেশে থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের সার্বিক খরচের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তারা প্রবাসীদের মাধ্যমে যেসব রেমিট্যান্স পাঠানো হয়, সেই সব লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও যোগায়।

    প্রবাসীরা বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্যান্য মাধ্যমে যে রেমিট্যান্স পাঠান, সেসব সব লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত আগামী দিনে দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশের রেমিট্যান্সের খরচের বিষয়টি মনিটর করে এবং ইতিমধ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জন্য এই খরচ কিছুটা বেড়ে গেছে। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জ আরোপ করে থাকায় এই খরচ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ নিয়ন্ত্রণ করা ও কমিয়ে আনা।

    আশা করা হয়, এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে ব্যাংকগুলো কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে রেমিট্যান্সের খরচ কমানো সম্ভব হয়। বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো কোনও ফি আদায় না করলেও, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বিভিন্ন হারে বিনিময় হার নির্ধারণ করছে। এই পরিমাণ ও হার সমানতালে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    সংক্ষেপে, এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসীদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, যেখানে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং রেমিট্যান্সের পর্যাপ্ত প্রবাহ নিশ্চিত হবে।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো

    অস্থির হয়ে পড়া পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানি অনুমতি (আইপি) ইস্যু করা হবে, যেখানে প্রত্যেক আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজের অনুমোদন দেওয়া হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যেসব আমদাতা পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছেন, তারা কেবল পুনরায় আবেদন করতে পারবে। একজন আমদানিকারক একবারের জন্যই এই সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ কার্যক্রম until নতুন নির্দেশনা আসে, ততক্ষণ অব্যাহত থাকবে। মাসখানেক আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের মূল্য ভয়াবহভাবে বাড়তে শুরু করে। মাত্র কয়েকদিনে এটি ৪০ টাকা বেড়ে গিয়ে কেজিতে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দাঁড়ায়। তবে সরকার আমদানি অনুমতি দেওয়ার পর দাম কিছুটা কমে আসে, ধীরেধীরে তা ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নামতে শুরু করে। গত সপ্তাহে সরকার জানায়, দেশে পর্যাপ্ত পণ্যমজুত রয়েছে এবং নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে। সেই সঙ্গে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আপাতত আবার আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও মজুতদার ব্যবসায়ীরা সুবিধা নেয়ার সুযোগ নিচ্ছেন, ফলে আবার দাম বাড়ছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে থেকে অন্তত ১০ টাকা বেশি। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, এই দামে এখনও গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। যদিও বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ আসছে, যার কেজি দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি বন্ধ হবে – এ খবর শুনে দাম বেড়েছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এর আগে, ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম যদি না কমে, তা হলে আবার আমদানি অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা বাজারের দৃষ্টি রাখছি। দেশে প্রচুর পেঁয়াজের মজুত আছে। শিগগিরই নতুন পেঁয়াজ উঠবে। তবে, যদি এই সময়ের মধ্যে দাম না কমে, তাহলে আমদানি অনুমতি নেওয়া হবে।” এছাড়া, তিনি জানান, সরকারের কাছে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৮০০টির বেশি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন রয়েছে। এর ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলে দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাবে, তবে দাম দ্রুত কমে যাবে না, যাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সরকারের পর্যবেক্ষণ চলছে।

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াল ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াল ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও, নভেম্বর মাসে আবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশ। এর আগে অক্টোবরের হিসাবে এটি ছিল ৮.১৭ শতাংশ এবং গত বছরের नवंबर মাসে এই হার ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির এক বিশদ চিত্র প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৮ শতাংশ। এই দুই মাসে ধারাবাহিকভাবে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সংকট চলে আসছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০.০৩ শতাংশ।

    বিবিএস জানায়, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৪ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হার থেকে কম। এর মানে, কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

    মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার মানে এই নয় যে, জিনিসপত্রের দাম হার মানে বা কমে গেছে। বরং এর অর্থ হলো অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাসে দাম কিছুটা কমে বা ধাক্কা খেয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অর্থনীতির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের নীতিমালা, যার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি, এনবিআর তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়, যাতে বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানি ঠিক থাকে এবং সরবরাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪টি বেড়েছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪টি বেড়েছে

    দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলমান এই বছর মার্চ শেষের তুলনায় জুন শেষের হিসাবের মধ্যে দেখা গেছে ৫ হাজার ৯৭৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যোগ হয়েছে। এরপর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট সংযোজিত হয়েছে। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও জমার মোট পরিমাণ কমে গেছে। রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা যায়, জুন শেষে ব্যাংকিং সেক্টরে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর শেষের দিকে এটি বেড়ে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে, ব্যাংকে জমার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। জুনের শেষে জমার মোট পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা September এ পৌঁছেছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। এর ফলে, তিন মাসে মোট জমার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধি দেখলে বোঝা যায়, এই সময়ে কোটিপতি হিসেবে বিবেচিত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে। জুন প্রান্তিকে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি, যেখানে সেপ্টেম্বর শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি। প্রথমদিকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। এই সময়ে, মোট কোটিপতি অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, তিন মাসে এই জমার পরিমাণ কমেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি হিসাব মানে শুধু ব্যক্তিরাই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তির পাশাপাশি অনেক বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও এই ধরনের বড় আমানত রাখে। এখানকার একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে একই ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের। এছাড়াও, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকাভুক্তির অংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনের প্রথম সময়, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর পর্যায়ক্রমে এটা বেড়ে ১৯৭৫ সালে ৪৭ জন, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়। পরবর্তীতে, ২০০১ সালে সংখ্যাটি বেড়ে হয় ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি, এবং ২০০৮ সালে এটি ছাড়াল ১৯ হাজার ১৬৩টি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২০ সালে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩,৮৯০টি, ২০২১ সালে তা বেড়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে এগিয়ে হয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

  • নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বললেন মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বললেন মির্জা ফখরুল

    বিএনপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা প্রকাশ্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একান্তে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা ও ভাষণ যা আজ জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের জন্য আশার আলো জর্জরিত করেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে একসাথে কাজ করতে চায় এবং জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা ও নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, এই তফসিলের ঘোষণা মোটামুটি আমাদের সন্তুষ্টি দিয়েছে। কিছু শব্দের এদিক-সেদিক হতে পারে, তবে এটি বড় বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে ২০২৬ সালে নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হবে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরাট উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা। এর সুষ্ঠু আয়োজন ও সফল বাস্তবক্ষে কেন্দ্রীয় দায়িত্ব রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ऊपर।

    মির্জা ফখরুল বিশ্বস্তভাবে প্রত্যাশা করেন, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী সক্রিয়ভাবে এই নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরিতে হাত লাগাবে। এর আগে, তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৫ বছরে দেশে নির্বাচনের নামে নানা প্রহসন ঘটেছে, গণতন্ত্রের অপহরণ হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি পেতে এখন একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন করতে সক্ষম হবো।

    তিনি বলেন, প্রায় নয় মাসের আলোচনার মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছে। বেশির ভাগ বিষয়ে তারা একমত হলেও কিছু বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে, যা গণভোটের মাধ্যমে সমাধান হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন একজন দিগন্তের সূচনা ঘটবে।

  • জামায়াত তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানাল

    জামায়াত তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানাল

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এম.এম নাসির উদ্দিনের প্রকাশিত নির্বাচন তফসিলের খবরের পর দলটির পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আসে। সহকারী secretary এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেক দিন ধরে যে অনিশ্চয়তা ছিল, আজকের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সেই বিভ্রান্তি দূর হলো। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সত্যিই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও একসুপার মার্কেটে লেভেল প্লেয়ার ফিল্ড নিশ্চিত করতে তারা ওয়চড্রোন রয়েছে। জামায়াতের এই নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরণের উদ্যোগগুলো নির্বাচনকে অতীতের মতো বিতর্কিত করার পরিবর্তে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য জামায়াত পুরোপুরি প্রস্তুত এবং নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কার্যনির্বাহী সদস্য মোবারক হোসাইন এবং মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন।

  • তফসিলকে স্বাগত বললেও ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় এনসিপির

    তফসিলকে স্বাগত বললেও ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় এনসিপির

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার প্রতি স্বাগত জানিয়ে করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে একই সঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এবং অন্তর্বতী সরকারের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে, দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণা করতে আন্তরিকতা দেখিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন, এ জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে, তারা নিরপেক্ষ ও সুসংহতভাবে দায়িত্ব পালন করবে এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন অনেক ক্ষেত্রে সদিচ্ছার মাধ্যমে কাজ করেছে, কিন্তু তাদের ওপর আমাদের আস্থা দ্বিধার মধ্যে রয়েছে। কারণ, তাদের গঠন প্রক্রিয়ায় কিছু ভুল ছিল এবং কিছু দল তাদের নিয়োগ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, তারা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করবে তারা দলীয় নয় এবং দেশের জনগণের পক্ষে। এনসিপি মনে করে, আসন্ন নির্বাচনের মধ্যে লন্ডন ডিলের ছায়া রয়েছে। তারা বলেছে, যদি এই নির্বাচন দেশের সব দল ও জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতো, তবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হতো। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আমরা ভোটে অংশগ্রহণ করব। তবে প্রত্যাশা করি, ভোট কেন্দ্রগুলো যেন জনগণের এবং অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। যেসব অশুভ শক্তি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ে যুক্ত ব্যক্তি ভোট কেন্দ্র দখল করতে চাইবেন, তারা যেন তা না পারে। তবে আইনের শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে আঠাত্মকভাবে পরিচালনা করার জন্য আমাদের মনে হয়, বর্তমান কমিশনের পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে তিনজনের ওপর হামলা হয়েছে, ঢাকায় এনসিপির কাজের জন্য একজন সাংবাদিক মারধর করা হয়; বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখা যাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন জন্য পেশিশক্তি, টাকার প্রভাব এবং গডফাদার সংস্কৃতি নতুন করে সুরক্ষা চাই। ভবিষ্যতে বিএনপির সংস্কারপন্থী অংশের জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই সরকার যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে না পারে, তবে সেইসব ব্যক্তি ওোপদেশ নিয়ে গিয়েছিলেন যারা এই সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল, তারা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এখন সেই ভয় দূর হয়েছে বলে তিনি আশাবাদী, उनसे আশা করেন তারা ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াবে।

  • অভিনব সিদ্ধান্ত: আসিফ মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন

    অভিনব সিদ্ধান্ত: আসিফ মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ (শুক্রবার) সকালেই তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

    গতকাল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য তার তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর আগের দিন, তিনি ও তার সহকারী উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে পদত্যাগ করেন। উপদেষ্টা পদ ছাড়ার পর নানা গুঞ্জন শুরু হয়— হয়তো তাঁরা কোনো বড় রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হবেন, বা বিএনপি জোটের প্রার্থী হতে পারেন। তবে অবশেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি বড় কোনো দলে নয়, নিজস্ব স্বতন্ত্রভাবে ভোটের মাঠে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ফেসবুকে একটি ভিডিও করে আসিফ জানান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমাদের দেশের নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনের সময় এসেছে। এ জন্য তাঁর ভাষায়—“বিভাজনের রাজনীতি নয়, জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই লড়াই। নতুন সামাজিক, রাজনৈতিক ও জিওপলিটিক্যাল বন্দোবস্তের বাস্তবায়ন জরুরি।”

    তিনি আরও বলেন, এই সংগ্রাম সহজ নয়, তবে তিনি প্রেরণা পেয়েছেন দেশের বিপথগামী গণমানুষের আত্মত্যাগ থেকে— মতিউর রহমান, তারামন বিবি, নূর হোসেন, ফেলানী, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে। এই প্রেরণায় তিনি তাঁর লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

    আসিফ বলেন, তিনি ঢাকায় ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, নিউ মার্কেট ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ভোটারদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাঁর কাছে বড় রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা, প্রচুর অর্থ বা ক্যাম্পেইন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সংগঠন নেই। একমাত্র বিভিন্ন সমর্থকদের সহযোগিতা ও আস্থা তার জন্য মূল্যবান।

    তিনি আরও বললেন, তিনি শুধু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হননি, তার পাশাপাশি গণভোটের জন্যও আবেদন করেছেন। দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানিয়ে মানুষকে দেশের বদলে যাওয়া স্বপ্নের অংশ হয়ে উঠার অনুরোধ করেছেন।

    এ বিষয়ে, এখনই স্পষ্ট নয় যে, মাহফুজ আলম কি নির্বাচনে অংশ নেবেন বা কোন দলের হয়ে করবেন, কারণ এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • মির্জা ফখরুলের ঘোষণা: খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

    মির্জা ফখরুলের ঘোষণা: খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

    নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার প্রাক্কালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বার্তা দিলেন, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আজকের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সব কর্মী ও নেতাকর্মী এখানেই উপস্থিত আছেন, আর এই মুহূর্তে আমাদের আদর্শ নেতা খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। এই ঘোষণা প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি বিকেলবাস্তবতার সাথে একসাথে দেশবাসীর প্রত্যাশার কথাও বোঝায়।

    বৃহস্পতিবার সকালে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মশালায় দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, যখন আমাদের নেতা দেশে ফিরবেন এবং বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখন পুরো দেশ যেন কেঁপে উঠে। এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সেই দিনটি আমাদের স্বপ্নের দিন, যখন আমরা বাংলাদেশের চেহারা পুরোপুরি বদলে দিতে সক্ষম হব।

    তিনি আরো বলেন, আমরা উন্নতির পথে এগোতে চাই, প্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের নেতার দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত করতে আমাদের অঙ্গীকারের সাথে এগিয়ে যেতে হবে।

    মির্জা ফখরুল যোগ করেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন হলো নির্বাচনে জয় লাভ। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে যথাযথ পথে নিয়ে যেতে পারব। অনেক বাধা-প্রতিবন্ধকতা সামনে আসবে, নানা প্রচারণা চলবে। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সংকল্প, বিএনপি কখনো পরাজিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

    তিনি এও বলেন, ১৯৭১ সাল আমাদের অস্তিত্বের অংশ। অত্যন্ত জোরে উচ্ছসিত করে বলেন, আজকের প্রজন্মের কেউ যদি বলে ১৯৭১ সালের প্রজন্ম নিকৃষ্ট, তবে এটা কতটুকু দুঃসাহসের কথা! তারা যেন এমন দুঃসাহস দেখাতে না—এ বিষয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ার করেন।

    আরো বলেন, আজ কিছু শক্তিশালী দৃষ্টি ঝুলে আছে, অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যেন একটা কালো থাবা বেরিয়ে আসছে। অন্যদিকে, নতুন ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবনা রয়েছে। ধর্মের অপব্যবহার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি চলছে; এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে আমাদের।

    মির্জা ফখرুল জনগণের মনোভাব বুঝতে ও তার প্রতি সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বলেন, এই আলোচনা শুধু শোনা বা নোট করার জন্য নয়, তা জনসমক্ষে তুলে ধরাতে হবে। জনগণকে জানাতে হবে, বিএনপি পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট করতে হবে।

    এছাড়া, বিএনপি মহাসচিব বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন ও দোয়া চান।

    অতীতের কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা ও একটি পরিকল্পনা নিশ্চিত করে এই আলোচনা যেহেতু চলছিল, বিকালে দেশের গণমানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দেশের নেতা তারেক রহমান।