Month: October 2025

  • উৎসব মানুষের মনকে মিলনের অনুভূতিতে উদ্বুদ্ধ করে

    উৎসব মানুষের মনকে মিলনের অনুভূতিতে উদ্বুদ্ধ করে

    মধ্যযুগের কাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দুর্গাপূজা কখনো কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও পালন হয়ে আসছে। এই পূজা মানুষের অন্তরকে মিলিয়ে দেয়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। পাশাপাশি এটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মূল রীতিনীতি বজায় রেখেছে, যা ধর্মীয় বিভেদের জন্য এক অনন্য আমেজ সৃষ্টি করে। ধর্মীয় উৎসব কোনও ধর্মবিশ্বাসের গণ্ডি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে আবদ্ধ থাকেনা, বরং সব সম্প্রদায় ও মানুষকে এক করে সমাজে উদযাপনের রঙে রাঙ্গিয়ে তোলে। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের হৃদয়ে সৌহার্দ্য, প্রেম ও সহিষ্ণুতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া, যা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি স্থাপন করে। দুর্গা পূজার এই আনন্দপূর্ণ সময়টিকে অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার জন্য সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে, যেন অপশক্তির অত্যাচার কোনওভাবেই এই উল্লাসের পথে বাধা না সৃষ্টি করতে পারে। বুধবার সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনা শহরে বিভিন্ন পবিত্র মন্দিরে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সোনাডাঙ্গা শ্রী শ্রী শিববাড়ি কালি মন্দির, পৈপাড়া সর্বজনীন মন্দির, বানরগাতি বটতলা মন্দির, কুন্ডুপাড়া মন্দির, বয়রা শ্মশানঘাট ও বয়রা পূজাখোলা মন্দিরে পূজা দর্শন, মিষ্টি ও ফুল দিয়ে মন্দির সমূহকে সাজানো হয়। এই সময় মন্দির পরিদর্শন করেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাংসদ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাথে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। মন্দির পরিদর্শনকালে নানা বয়সের সমাজের মানুষ অংশ নেন, যারা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকেন। এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সারসহ অসংখ্য ব্যক্তি এই আনন্দ ও ভক্তিসভায় উপস্থিত ছিলেন। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষ আরও বেশি করে একে অপরের কাছাকাছি আসতে পারে, সমাজের সুস্থিতি ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় হয়।

  • আমরা একসঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই

    আমরা একসঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তিনি উল্লেখ করেন, এই বাংলার মাটিতে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে বাস করে এসেছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে অক্লান্তভাবে জীবনযাপন করেছেন, আর আমরাও তাদের মতো করে এই দেশের শান্তিপূর্ণ ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে চাই।

    বুধবার শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা বলেন। এ সময় তিনি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্তরিক মতবিনিময় করেন এবং তাদের সক্ৰিয় অংশগ্রহণ ও সংস্কৃতির সাথে একাত্মতা কামনা করেন।

    মনা আরও বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্প্রীতির প্রকৃত পরিচয়। এখানে কোনো বিভাজনের স্থান নেই। আমরা সবাই মিলে এই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি করতে পারি। এ জন্য প্রয়োজন ঐক্য, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্মান। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আমরা একসাথে থাকি, তাহলে আমাদের দেশ হবে সত্যিকারের শান্তি ও সম্প্রীতির আদর্শ স্থান। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক সজিব তালুকদার, মেশকাত আলী, হাবিবুর রহমান, কাজী শান্টু, মোহাম্মদ লিটন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গোলাম কিবরিয়া, রায়হান বিন কামাল, এজাজ আহমেদ, রবিউল ইসলাম, বাবুসহ ওয়ার্ড ও থানার নেতৃবৃন্দ।

  • অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহবান রকিবুল ইসলাম বকুলের

    অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহবান রকিবুল ইসলাম বকুলের

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, দুর্গাপূজার মূল বার্তা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ। অশুভ শক্তির প্রভাবে আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হলে সবদিক থেকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই অভিন্ন ও একসঙ্গে আছি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের হিন্দু ভাইদের পাশে থাকবো। গত বুধবার শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আজ আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করছি। বিভিন্ন মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে ৫ আগস্টের পর শুরু হওয়া নতুন ধরনের খুলনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একত্রিত থাকা আবশ্যক।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনবারের নির্বাচনেও জনগণ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। রাতের নির্বাচন, ডামি প্রার্থী, ও একতরফা আসন বণ্টনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও বিপ্লবের মাধ্যমে সেই অস্বচ্ছ দিন শেষ হয়েছে। এখন বাকি শুধু অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা, যা জনগণ বহু দিন ধরে চাচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন তারই প্রতিফলন। তিনি বলেছেন, এটি জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার এক আন্দোলন, যেখানে মানুষ যে প্রার্থী চাইবেন, তাকে ভোট দেবে। এই নির্বাচনে সফলতা অর্জনের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যারা নির্বাচন বানচাল করতে চাইবে, তাদের প্রতি নজর রাখতে হবে।

    স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বকুল আশ্বাস দিয়ে বলেন, পূজার পরে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সাব-মার্শিবল পাম্প স্থাপন করা হবে। কৃষকদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকার থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এক গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় গেলে বড় বড় সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত হবে। তিনি উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান ও বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অশুভ শক্তি আমাদের স্বপ্ন ভাঙতে পারবে না। পাশাপাশি, তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমী উত্সবে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানায়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু, হিন্দু ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যনন্দ দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লাবুর রহমান কুদ্দুস, অন্যান্য নেতা নেত্রীবৃন্দ, এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পরে রকিবুল ইসলাম বকুল নগরীর বড় বয়রা সনাতন ধর্ম সভা দাসপাড়া, বৈকালী পালপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির, খালিশপুর ও রায়েরমহল হরি মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

  • খুলনার রোটারী স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও শোভাযাত্রা

    খুলনার রোটারী স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও শোভাযাত্রা

    খুলনার রোটারী স্কুলের ৫০ বছর পূর্তির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী একটি বর্ণাঢ্য ও আনন্দমুখর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এই মহাঙ্গাল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল ৯টায় স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

    শোভাযাত্রাটি খালিশপুর গাবতলা থেকে শুরু হয়ে পৌরসভা মোড় হয়ে পুনরায় রোটারী স্কুল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মূল উদ্বোধন করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, তিনি বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন।

    অতঃপর, নানা আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয় যেখানে কেক কাটা, ‘আলোকিত হোক আগামীর স্বপ্ন’ শীর্ষক আলোচনা পর্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা এবং নাচ-গান অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং নিজের ব্যাচের বছর চিৎকার করে জানান। বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই উপস্থিত সকলের আনন্দে মাতোয়ারা থাকে এই দিনে।

    ২০০০ সালের এসএসসি ব্যাচের ছাত্র সালেহীন আহমেদ রোমেল বলেন, এত দিন পর প্রিয় বন্ধুদের একসঙ্গে দেখে তিনি খুবই আনন্দিত। তিনি বলেন, বর্তমানে নিজের জীবনে খুব ব্যস্ত থাকলেও আজকের এই মিলনমেলাটি তার জন্য বিশেষ memories হয়ে থাকবে। তিনি লন্ডনে ব্যবসা করছেন, কিন্তু এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য অপেক্ষা করে এসেছেন। তিনি আরো বলেন, এই বন্ধুত্বের বন্ধন যেন চিরসবুজ।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও (৩ অক্টোবর, শুক্রবার) নানা আয়োজন ও আনন্দময় পরিবেশে চলবে উৎসবের ধারা। পুরো সপ্তাহসপ্তাহজুড়ে এই সুবর্ণজয়ন্তীর বিভিন্ন দিকের আয়োজন ও আনন্দের পালা চলবে সারাদিন থেকে রাত পর্যন্ত।

  • খুলনায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে উদযাপিত

    খুলনায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে উদযাপিত

    খুলনায় শারদীয় দুর্গোৎসব অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রিজাউল হক পিপিএম বলেছেন, এই মহান ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি সচেতন করে বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায় তাদের বিশ্বাস ও উৎসাহের সঙ্গে এই উৎসব পালন করছে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা ও মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে সবাই নিরাপদে থাকেন এবং উৎসবের সৌন্দর্য ফুটে উঠে। আশা করা হচ্ছে, এই দুর্গোৎসব একে অন্যের প্রতি সম্প্রীতি ও হৃদ্যতা বজায় রেখে সফলভাবে শেষ হবে।

    গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ট্রানজিড এলাকা চুকনগর শ্রী শ্রী মাতৃমঙ্গলা সার্বজনীন মন্দির তীর্থ কমপ্লেক্সের দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রিজাউল হক। তিনি সেখানে তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুজা উদযাপন পর্ষদের সভাপতি ব্যবসায়ী জয়দেব আর্ঢ্য। মূল বক্তব্য শোনান ডুমুরিয়া থানা ওসি মোঃ মাসুদ রানা সহ অন্যান্য invités।

    এছাড়াও, বিভিন্ন মণ্ডপ ও পূজা সভা পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন খুলনার পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যাবসায়ী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা। বিশেষ করে, কুমিরা সার্বজনীন দুর্গাপূজা ও পাটকেলঘাটার কালি মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

    খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, পিপিএম, কুমিরা ও পাটকেলঘাটা এলাকায় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পুজারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সজাগ।’ এই উদ্যোগ ও উপস্থিতি পূজারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আর নিরাপত্তার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

  • ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জনকে ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জনকে ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে, যেখানে ২০০ জনকে চাকুরিচ্যুত করা হয় এবং আরও ৪৯৭১ জনকে ওএসডি (অফ সার্ভিস ডিউটি) করা হয়েছে। ওএসডি হওয়া কর্মীরা এখনো বেতন-ভাতা পেয়েছেন, তবে তারা এখন কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অন্দরমহলে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ مصادر জানিয়েছে, ২০১৭ সালে প্রভাবশালী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মূলত, বদলি নিয়োগের সময় বিজ্ঞাপন বা লিখিত পরীক্ষা না Workplace নির্মিত হয়নি। অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীই ওই অঞ্চল থেকে আসা।

    একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, “এস আলম গ্রুপের সময় কিছু অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের সার্বিক প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। তাই এখন সবাইকে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও হাইকোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে, ২৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে জানানো হলেও মাত্র ৪১৪ জনই অংশ নিয়েছেন। পরবর্তীতে, যারা অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের দ্রুত ওএসডি করা হয়। পাশাপাশি, পরীক্ষার আয়োজনে বিভ্রান্তি ও বিরোধিতা ছড়ানোর কারণেও ২০০ কর্মীকে চাকুরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    ওএসডি হওয়া কর্মীদের অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত তাদের জন্য নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ অমান্য করে আলাদা পরীক্ষা চালায়, যা বেআইনি বলে তারা মনে করছেন। তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ‘‘এটি দেশের প্রথম পরীক্ষা যেখানে ছাঁটাইয়ের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত, পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়, কিন্তু কর্মীদের মান যাচাইয়ের জন্য এই ধরনের পরীক্ষা প্রথমবারের মতো।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়োগ ও কর্মী যাচাই তাদের এখতিয়ারের মধ্যে। তবে এ কাজগুলো অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালা অনুসারে হতে হবে।’’

    ২০১৭ সালে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছে। এর ফলে ব্যাংকটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল আনয়ন করে এস আলমের প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেয়।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হল নতুন দাম

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হল নতুন দাম

    দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও নতুন রেকর্ড মূল্য সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়। এই মূল্য বৃদ্ধি মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মূলত, স্থানীয় বাজারে তেজাবী এর দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন, ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর আগে, এই মূল্যটাই ছিল দেশের সর্বোচ্চ সোনার দাম। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর, এই দাম কিছুটা কমিয়ে আনা হয়। আবার, আজ নতুন করে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলো।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখনো সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে, এর নতুন দাম নির্ধারিত হলো ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অপরদিকে, ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম বেড়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকায় পৌঁছায়। সনাতন পদ্ধতির গোল্ডের দামও সংশোধন করে এক ভরি ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর, দেশের বাজারে সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য কমানো হয় ১ হাজার ৮৯০ টাকা, ফলে নতুন দাম হয় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা। অন্য ক্যাটাগরিতে, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম কমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৮ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের দাম কমে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৪ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫ টাকা। এই দামগুলো সোমবার পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

    তবে, সোনা যেমন দাম বাড়ছে, তেমনি রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা। আরও অন্যান্য ক্যাটাগরির রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি এখনই নির্দিষ্ট পরিমাণের কথা জানাননি। আজ, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, কি পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে? এর জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেছিলেন, যারা টাকা পাচার করে তারা এসব করতে বেশ বুদ্ধি খাটায়। এই অর্থ ঘরে তোলার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, বিভিন্ন লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলমান, যার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কিছু অর্থ আসার সম্ভবনা রয়েছে। বাকির জন্য আমরা প্রস্তুত।

    তিনি আরও বলেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া কোনো সরকারের পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি বলেছি, টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে। যদি না দেয়, তাহলে法律ীয় প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১১ থেকে ১২টি লিগ্যাল প্রক্রিয়ায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকি সম্পত্তি বা অর্থের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে, যেখানে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রেও নজর রাখা হচ্ছে।

    নতুন সরকার কি এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, তারা বাধ্য থাকবেন কারণ, যদি এই প্রক্রিয়াগুলো চালু না থাকে, তাহলে অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে না। অর্থ ওঠাতে হলে এসব নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ না করলে অর্থ ফেরত আনা যাবে না।

    অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো কিছু পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ এবং রিভিউ করবে এবং কতটুকু অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব, তা জানা যাবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সম্পদ বিভিন্ন দেশের অ্যাকাউন্টে被冻结 রয়েছে, যেখানে পাচারকারীদের টাকা আছে এবং বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। কাজের উপর কিছুটা সময় লাগবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, উপদেষ্টাদের এলাকায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়। তিনি পরিষ্কার করেন, এই প্রকল্পগুলো অনেক আগেই শুরু হয়েছে।

    অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, দেশে কিছু পরিবারের মধ্যে পুষ্টিহীনতা এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। ব্রডকাস্ট রিপোর্টে বলা হয়, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবারেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কিছুটা উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও মাতাদের মধ্যে পুষ্টির অভাব। আমাদের চেষ্টা চলছে, খাদ্যসুবিধা যেমন ভিজিএফ এবং স্পেশাল ট্রাঙ্কের মাধ্যমে উপকারিতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও, তাদের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্য দেয়া হচ্ছে।

    তিনি বললেন, আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা আরও উন্নত প্রয়োজন, কারণ এখন মূলত চালের উপর নির্ভরতা বেশি। অন্য খাদ্যশস্যের অ্যাক্সেস কম থাকায় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, যেখানে ডিম অন্যতম প্রয়োজনীয় আমিষ। অনেক মানুষই এই পণ্য ক্রয় করতে পারছে না। আমাদের লক্ষ্য হলো, সবস্তরের মানুষের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করা।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরো ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    ইসলামী ব্যাংকে আরো ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চাকরির শর্ত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একযোগে আরও ২০০ কর্মীকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অব্যাহত করেছেন। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে মোট ৪০০ জন কর্মী তাদের চাকরি হারালেন।

    এই প্রসঙ্গে এক বাংলাদেশ ব্যাংকার বলছেন, এই ধরণের উদ্যোগ বিরল ও নজিরবিহীন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি দক্ষতা যাচাই ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪১৪ জন কর্মী, এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অপতৎপরতা থাকলেও বাকি ৫০ জনকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছেন, চাকরি বাতিলের জন্য কেবল অযোগ্যতা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, সহকর্মীদের বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিছু কর্মী।

    অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং তাদের দক্ষতা যাচাই এবং কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা।

    অপরদিকে, জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাওয়ার পর থেকে হাজারো কর্মী সরাসরি বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ পান। অধিকাংশ নিয়োগ ঢাকার চট্টগ্রাম অঞ্চলের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে হয়েছে, ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মীই ওই অঞ্চলের।

  • চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের কাছাকাছি হবে

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে, ২০২৬ সালে অর্থবছরের শেষে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশের অধিক হতে পারে। তবে চলমান ধীরগতির বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, যা ব্যবসাপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি দেশের পোশাক রপ্তানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক বিরোধ আর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

    এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেছে এই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতির মানোন্নয়নের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব এখনও বাংলাদেশে দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিংখাতের দুর্বলতা গভীর থাকাটা স্বাভাবিক। অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়েছে, যেমন ট্রেড নীতিতে অনিশ্চিয়তা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থিতিস্থাপকতার অভাব। তাই সক্রিয় ও বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি; এগুলো টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এডিবি আরও বলেছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত তথ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলার ব্যর্থতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ২০২৪ অর্থবছরে এটি ৯.৭৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ১০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে, ২০২৫ সালে জিডিপির সামান্য উদ্বৃত্তের আশা করা হচ্ছে, যার প্রবৃদ্ধি হবে ০.০৩ শতাংশ, যা ২০২৪ অর্থবছরের ১.৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় বেশ ইতিবাচক। এটি উন্নতি পাচ্ছে মূলত নানা ধরনের বাণিজ্য সুবিধা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে।