Month: October 2025

  • বিএনপি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

    বিএনপি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

    মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, দেশকে অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সকল ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে নগরীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এড. মনা আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দফা হলো ধর্মীয় স্বাধীনতার মানোন্নয়ন। বাংলাদেশে যেখানে যে ধর্মের উৎসব হোক—মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান—সেগুলোর প্রতি বিএনপি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করে। এর ফলে আসল অর্থে একটি সম্প্রীতির সমাজ গড়ে উঠবে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। যখনই কোনো মন্দিরে হামলা বা অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে, তাকে বিএনপি’র ওপর চাপানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আসলে দেখা গেছে—এসব হামলা আওয়ামী লীগ নিজেরাই চালিয়েছে, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে বিএনপির দূরত্ব সৃষ্টি হয়। যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন, তাদের জন্য তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় আপনাদের ‘সংখ্যালঘু’ বলেছে। কিন্তু বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারમ‍্যান তারেক রহমান কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করেন না। তারা আপনাদের ভাই, প্রতিবেশী, পরিবারবর্গ এবং সন্তান হিসেবে দেখেন। বিএনপি অঙ্গীকার করে, আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য কাজ করবে। অনুষ্ঠানে বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং পূজা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দুর্গোৎসব ও চন্ডীপাঠের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবেদন জানালেন হেলাল

    দুর্গোৎসব ও চন্ডীপাঠের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবেদন জানালেন হেলাল

    বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বাংলার শাশ্বত ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, চন্ডীপাঠের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাচ্ছে। হেলাল সাহেব আহ্বান জানিয়েছেন, পূজার মূল বার্তা হলো শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণ সব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া। গতকাল মঙ্গলবার রূপসা উপজেলায় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা প্রকাশ করেন।

    সভায় বক্তারাসহ উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক বিকাশ মিত্রের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জি এম কামরুজ্জামান টুকু ও এনামুল হক সজল। এ ছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনুও উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা এবং জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সেখ সহ আরও অনেকে অংশ নেন।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গল্লামারী মৎস্য বীজ খামার অধিগ্রহণের দাবি জোরদার, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গল্লামারী মৎস্য বীজ খামার অধিগ্রহণের দাবি জোরদার, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি অধিগ্রহণ না করলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবী পূরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় উন্নয়ন কমিটির নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যায়লের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তাদের এই ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় তারা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন, যেখানে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা ও সুপারিশ কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইমাম উদ্দিন কবিরের নিকট এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

    মানববন্ধনের পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে এসে উন্নয়ন কমিটির মহাসচিব এড. শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজের নেতৃত্বে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এই কর্মসূচিতে খুলনার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মীর্জা মোহাম্মদ আলী রেজা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোঃ হাসানুজ্জামান, উপ-সচিব শাহাদাত খন্দকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন অর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. নূরুন্নবী, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ড. নাজমুস সাদাত ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

    বক্তারা বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বৃহত্তম আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো ও গবেষণার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের পাশাপাশি নানা রকম অন্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যাগুলোর সমাধান এবং উন্নত মানের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তারা আহ্বান জানান।

    নেতৃবৃন্দ গল্লামারী মৎস্য বীজ খামারটি অবিলম্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিগ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছি। গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক, বধ্যভূমি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়িক স্থানগুলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দ্রুত নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত জমি অধিগ্রহণেরও অনুরোধ জানান বক্তারা।

    এছাড়া, যুগোপযোগী মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, নতুন ফ্যাকাল্টি সৃষ্টি এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। কর্মসূচির সমন্বয়ে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের সদয় বিবেচনা জরুরি। গল্লামারী মৎস্য বীজ খামারটি দ্রুত অধিগ্রহণ না হলে কঠোর কর্মসূচি পরবর্তী ধাপে ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নিজাম উর রহমান লালু, এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব এড. শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোঃ মাহফুজুর রহমান, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স, নাগরিক নেতা এড. কুদরত-ই-খুদা এবং আরও many নেতৃবৃন্দ।

  • খুলনায় ঘুমন্ত অবস্থায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় ঘুমন্ত অবস্থায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা ৩নং ওয়ার্ডে তানভীর হাসান শুভ (২৯) নামে এক যুবককে জানালার ফাঁক থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ দুঃখজনক ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, তানভীর হাসান শুভ নিজ বাড়ির নিজ রুমে রাতে কানে হেডফোন লাগিয়ে গেম খেলছিলেন। হঠাৎ রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিবারের লোকজন শব্দ শুনে তার রুমে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, কানের হেডফোনের কারণে একটু ডিসকমফোর্ট হলে হাসান শুভ জাগ্রত হয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু তখনই পরিবারের লোকজন রুমের জানালার পাশে গুলির তিনটি খোসা দেখতে পান।

    আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুলির ক্ষত বলে নিশ্চিত করেন এবং ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। এরপর সকালে কড়া নজরদারির মধ্যে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

    জানা গেছে, তানভীর হাসান শুভ দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক মার্কেটিং কোম্পানির জিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে কিংবা হামলাকারীরা কারা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ: বকুল

    দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ: বকুল

    দুর্গাপূজা শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বজনীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এতে দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, বিএনপি জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করে, ক্ষমতার জন্য নয়। দেশের সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষকে যুক্ত করার জন্য রাজনীতি করে তারা। যারা এই ধর্মীয় উৎসবের নামে বিভিন্ন অপকর্ম করছে, তাদের কড়া হাতে দমন করা হবে, বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
    শনিবার রাতের শারদীয় দুর্গাৎসব উপলক্ষে দৌলতপুরে একটি পুজামন্ডপ পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন বকুল। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলেও মানুষের পাশে থাকবে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যদি জনগণ আমাদের ভোট দেয়, তাহলে আগামী দিনে তিনিেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া হবে। নতুন বাংলাদেশে ‘মাইনরিটি’ শব্দের জন্য কোনো স্থান থাকবেনা। সবাই মানবতার চোখে দেখা হবে—মুসলমান, হিন্দু বা অন্য কেউ—সবাই সমান অধিকার, স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা উপভোগ করবে।
    বকুল সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন, কোনো দলের পুঁজি নয়। আপনাদের নিজেদের অধিকার আছে, সমাজে সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। অতীতে কিছু কুচক্রী মহল সনাতন সম্প্রদায়কে রাজনীতিতে ব্যবহার করে চলে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ নয়, কেবল স্বার্থপর কিছু অসাধু মহল উপকৃত হয়েছে। কিছু এলাকা থেকে সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এসব অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে যদি বিএনপি নেতা ও আশেপাশের কেউ জড়িত থাকেন, তার শাস্তি দ্বিগুণ হবে।
    বকুল আরও জানান, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের শাস্তি দেবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ব্যতীত কোনও সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সুতরাং, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে মার্চ মাসে বাংলাদেশের জনগণ ভোটের উৎসব উদযাপন করবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। একদল ষড়যন্ত্র করে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে চাচ্ছে, সেই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে সবাই সতর্ক থাকুন ও করণীয় গ্রহণ করুন। কোথাও যদি অন্যায় হয়, দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
    ব্যবসায়ী সমাজকেও তিনি নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে উৎসাহ দেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে সদিচ্ছা ও সমতা বজায় রাখতে অনুরোধ জানান। বক্তৃতার শেষে বকুল বলেন, আমরা জনগণের পাশে আছি, আছি এবং থাকব। আমাদের স্বপ্ন—তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক এবং আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেখ সাদী, মুর্শিদ কামাল, ইমাম হোসেন, প্রফেসর মাধব চন্দ্র, সত্যানন্দ দত্ত, শ্রামল কুমার দাশ ও অজয় কুমার দে সহ অনেকে।

  • চূড়ান্ত হলো একীভূত হতে যাওয়া ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের নাম

    চূড়ান্ত হলো একীভূত হতে যাওয়া ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের নাম

    বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নতুন প্রশাসকদের নাম চূড়ান্ত করেছে। এসব ব্যাংকের প্রশাসকদের দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই পরিচালক, যাঁরা ইউনিয়ন ব্যাংকের এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পাভবেন। এছাড়াও ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামি ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকের দায়িত্বে থাকবেন তিনজন নির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার তাদের নাম চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নির্বাচিত প্রশাসকদের মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ শওকত উল আলমকে। অন্যদিকে, মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদার পাচ্ছেন সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের প্রশাসন, আর মোঃ সালাহ উদ্দীন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের। পাশাপাশি, মোহাম্মদ আবুল হাসেম ও মকসুদুল আলমের দায়িত্ব দেয়া হবে ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকের জন্য। বিতর্ক এড়ানোর জন্য আইনী জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সভার পরবর্তী সময়ে আগামী মাসের প্রথম দিকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ব্যাংকগুলোর ঋণের বেশির ভাগই খেলাপি হয়ে থাকায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে, গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় দেশের এই পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে একীভূত করার।

    গত ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক বিশেষ সভায় এই একীভূতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর প্রশাসন কেন্দ্র করে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। এটি দেশীয় ব্যাংক খাতের জন্য একটি বড় স্থিতিশীলতার ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকরিচ্যুত ও ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকরিচ্যুত ও ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি কর্মস্থলের নীতিমালা লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। একই সঙ্গে, ৪,৯৭১ জন কর্মীকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) ঘোষণা করা হয়। ওএসডি হওয়া কর্মীরা এখন বেতন-ভাতা পেয়েছেন, তবে তারা আপাতত কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের দ্বারা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বহু কর্মী সরাসরি সোয়াইভি দিয়ে নিয়োগ লাভ করেন, যেখানে কোনও লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই ছিল পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অঞ্চল থেকে আসা।

    একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, “এস আলম গ্রুপের সময় অযোগ্য লোকজনের নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সবাইকে যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও হাইকোর্টের নির্দেশে ২৬ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তা ডাক পাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশ নেন। যারা উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের সবাইকেই পরের দিন থেকেই ওএসডি করে দেওয়া হয়। এছাড়াও, পরীক্ষার প্রক্রিয়া কেন্দ্রীক বিভ্রান্তি ও প্রকাশ্যে বিরোধিতা চালানোর কারণে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

    ওএসডি হওয়া কর্মীদের অভিযোগ, তারা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা চালানোর আদেশ দেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই আদেশ অমান্য করে আলাদা যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে, যা বেআইনি বলে তারা মনে করছেন। তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “অনুসন্ধানী ছাঁটাইয়ের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়, তবে এই ধরনের যোগ্যতা যাচাই প্রথমবারের মতো।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই নিয়োগ বা কর্মী যাচাইয়ের এখতিয়ার তাদের হলেও, অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালা মেনে সেটি করতে হবে।”

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যার ফলে ব্যাংকটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালে পরিবর্তিত সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল এনে এস আলমের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সবচেয়ে উচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) মূল্য যোগ হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে আজকের দিনে এই মানের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়।

    বাংলাদেশের স্বনামধন্য জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে। বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত পাস করে। পরে এই কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন बिगড় শ্লথভাবে বাড়তে থাকলেও, সেই সময়ে এক ভরি মানের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, যা দেশের বাজারে তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম ছিল। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর দাম কিছুটা কমে আসে, কিন্তু আবার নতুন করে দাম বাড়ানো হয়েছে।

    বর্তমানে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন এক ভরি জন্য ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ২ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।

    ১৮ ক্যারেটের সোনার দামে এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা, যা আগের থেকে ১ হাজার ৯৭১ টাকা বেশি। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির বা পুরোনো সংজ্ঞায় এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা, যেখানে আগের দাম ছিল অনেক কম।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোনার দামে ফের পতন দেখা গেছে। ওই দিন সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ১ হাজার ৮৯০ টাকা কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা হয়। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের দাম কমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৮ টাকা হয়। ১৮ ক্যারেটের জন্য এই দাম ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৪ টাকা।

    তবে, সার্বিকভাবে সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের বাইরে থেকে পাচার হওয়া টাকা মোটের উপর একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে তিনি এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাননি।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, টাকা পাচারকারীরা অনেক বুদ্ধি করে এই অর্থ আনার পরিকল্পনা করে থাকেন, ফলে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এখন কিছু অগ্রগতি হয়েছে, অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশার কথা হলো, হয়তো ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কিছু অর্থ দেশে ফেরত আসতে পারে। বাকি অর্থের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া কোনো সরকারই এড়িয়ে যেতে পারবে না। তাকে উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেভাবে বলছেন—টাকা দিয়ে দিন সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে, যদি এই ব্যবস্থা না মানে, তাহলে তার লিগ্যাল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ইতিমধ্যে এই লিগ্যাল প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ১১ থেকে ১২টি বড় অংকের অর্থ ফেরত আনা নিয়ে সরকার হাই অগ্রাধিকার দিয়েছে। আর যেসব অ্যান্টি-আনফ্রডেস্ট কেসের মধ্যে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    নতুন সরকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, সরকার অবশ্যই এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে কারণ এতে অর্থ ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রসেস চালু রাখা বাধ্যতামূলক। যদি এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে, তাহলে অর্থ ফেরত আসবে না। তাই এই পদ্ধতিগুলো চালু রাখতে হবে—এটাই আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন।

    পরিমাণ কত টাকা ফেরত আসবে, এই বিষয়েও প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, এটা আমি বলতে পারছি না; এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেই জিজ্ঞাসা করতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে পাচার হওয়া অর্থের বিস্তারিত পরিমাণ ও ধরনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কমপ্রেসিভ রিপোর্ট দেবে। ইতিমধ্যে দেশের বাইরে কিছু অর্থ অ্যাসেটের ফ্রিজ করা হয়েছে, যেখানে ওদের বিভিন্ন দেশীয় ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ওদের পাসপোর্টের তথ্যও রয়েছে। বাকিটা কাজ শেষ হলে, আশা করা যায় দ্রুত সময়ে আরও অর্থ ফেরত আসতে পারে।

    অপরদিকে, উপদেষ্টা এলাকায় বেশি বরাদ্দের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, এসব প্রজেক্ট অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে, নতুন কিছু নয়।

    এছাড়া, বাংলাদেশ স্ট্যাটISTICS বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানানো হয়। এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত নিউট্রিশনের ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে। এই সমস্যা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা খাদ্য ঘাটতি রয়েছে, যেখানে আমাদের খাদ্য সামর্থ্য কম। এর জন্য আমিষের প্রয়োজন রয়েছে, যেমন ডিম। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে সাধারণ মানুষ তা ক্রয় করতে পারে এবং অসচেতনতা কমে। খামার কাজে ন্যূনতম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

  • এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস: এই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস: এই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশের আশেপাশে থাকবে, তবে পরবর্তী অর্থবছর মাধ্যমে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাবে। তাদের განცხადებით, এই প্রবৃদ্ধির ধীর গতি মূলত চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর কারণে হয়েছে। পাশাপাশি, বারবার বন্যা, শিল্প শ্রমিকদের বিরোধ এবং উচ্চ মহামারীজনিত মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দেশীয় চাহিদা কমে যাওয়ার ফলেও এই প্রভাব পড়েছে।

    এডিবির নতুন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও), যা গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে, এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতা বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সুন্দরভাবে উন্নত হতে পারে।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের মূল বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনো দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিং খাতে কিছু দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে। উচ্চমানের অর্থনৈতিক সম্পাদনাকে অর্জন করতে হলে এইসব চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কঠোর মনোভাব নেয়া অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ সালের অর্থবছরের জন্য কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি বহাল থাকছে, যেমন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি, যা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করবে।

    এডিবি আরও জানিয়েছে, বাজারে প্রতিযোগিতা কম, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, সরবরাহ শৃঙ্খলার অসুবিধা এবং মুদ্রার দুর্বলতার কারণে ২০২৪ অর্থবছরে যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, তা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে, চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা ২০২৪ অর্থবছরের জিডিপির ১.৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় সামান্য বেশি। এই পরিস্থিতি মূলত শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সংকুচিত বাণিজ্য ঘাটতির ওপর নির্ভরশীল।