Month: October 2025

  • ক্রিকেটে নতুন ‘টেস্ট টুয়েন্টি’ ফরম্যাট শুরু হচ্ছে

    ক্রিকেটে নতুন ‘টেস্ট টুয়েন্টি’ ফরম্যাট শুরু হচ্ছে

    ক্রিকেট বিশ্বে আসছে এক নতুন যুগ, যার নাম হলো ‘টেস্ট টুয়েন্টি’—একটি অভিনব ক্রিকেট ফরম্যাট যা পারস্পরিক সংযুক্ত করবে টেস্টের গভীরতা ও টি–টোয়েন্টির গতি ও উত্তেজনা। এই ধারণাটির মূল প্রেরণা এসেছে ভারতের প্রখ্যাত ক্রীড়া উদ্যোক্তা গৌরব বাহিরওয়ানি থেকে, যিনি ‘দ্য ওয়ান ওয়ান সিক্স নেটওয়ার্ক’-এর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট।

    নতুন এই বৈচিত্র্যপূর্ণ ফরম্যাটে প্রতিটি দল দুই ইনিংস খেলবে, যেখানে প্রতিটি ইনিংস হবে ২০ ওভার, অর্থাৎ এক দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ শেষ হবে। এতে থাকবে টেস্টের মতো ফলাফল—জয়, পরাজয় বা ড্র—অর্থাৎ এটি হবে একদম নতুন এক ধরনের ক্রিকেট অনুষ্ঠান। লাল বলের গভীরতা ও ছোট ফরম্যাটের গতি একে অন্যের সঙ্গে মিশে গেছে, যা ক্রিকেটের নতুন এক স্বাদ এনে দিচ্ছে। এছাড়া, ডিজিটাল যুগের হিট দর্শকদের জন্যই এটি তৈরি, যা ক্রিকেটের ‘চতুর্থ ফরম্যাট’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।

    বিশেষ করে, এই ফরম্যাটে জটিল পরিকল্পনা, ধৈর্য্য ও টেকনিকের মূল্য আরও বাড়বে। ম্যাচটি চারটি ২০ ওভারের সেশনে বিভক্ত হবে, যেখানে সেশনের মাঝে বিরতিতে কৌশল সাজানোর সময় থাকবে। আয়োজকরা বলছেন, ‘টি–টোয়েন্টির সময়সীমায় টেস্টের ভাবনা’—এই ভাবনায় ব্যাটার এবং বোলার উভয়ের জন্যই আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকবে, যেখানে দলীয় পরিকল্পনা এবং ধৈর্য্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এই নতুন ফরম্যাটের পিছনে রয়েছে ক্রিকেটের দ-moiার বিশ্বপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব—এবি ডি ভিলিয়ার্স, স্যার ক্লাইভ লয়েড, ম্যাথিউ হেইডেন ও হরভজন সিং। ডি ভিলিয়ার্স মন্তব্য করেছেন, এটি একটি ‘উদ্দেশ্যপূর্ণ উদ্ভাবন’ যা তরুণ প্রজন্মকে নতুন স্বপ্নের পথে দৌড়ানোর সুযোগ করে দেবে। লয়েড মনে করেন, ক্রিকেট সবসময় পরিবর্তিত হলেও এই আধুনিক ফরম্যাট ক্রিকেটের শিল্প ও ছন্দে নতুন প্রাণ যোগ করবে। হেইডেন বলছেন, এটি দুটি যুগের সংযোগ যেখানে তরুণ দর্শকরা ক্লাসিক ক্রিকেটের স্বাদ পাবেন, তবে একই সঙ্গে আধুনিক উত্তেজনাও একই সঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন। হরভজন সিং বলেন, এটি ক্রিকেটের নতুন হৃদস্পন্দন, যা ঐতিহ্যকে এডিয়ে বর্তমানের তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করে।

    বর্তমানে এই ফরম্যাটটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের সাবেক সিইও মাইকেল ফোর্ডহ্যাম, যিনি এখন ‘টেস্ট টুয়েন্টি’র চিফ অপারেটিং অফিসার। এই নতুন ফরম্যাট শুধু খেলায় নয়, বরং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ক্রিকেটারদের জন্য একটি জোনিয়র টেস্ট টুয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা হবে, যা মোট ৫০টিরও বেশি দেশে অনুষ্ঠিত হবে। এই মাধ্যমে উঠে আসবে আগামী দিনের পেশাদার ক্রিকেটাররা।

    বাহিরওয়ানির লক্ষ্য, যোগ্যতা ও প্রতিভার ভিত্তিতে একটি সিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে লিঙ্গ বা অঞ্চল বিবেচনা না করে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা সুযোগ পাবেন। তথ্য বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উপযুক্ত খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করা হবে।

    ‘টেস্ট টুয়েন্টি’র প্রথম মৌসুম শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে়, যেখানে অংশ নেবে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি—তিনটি ভারতীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক দল। দলগুলো হবে দুবাই, লন্ডন ও অজানা একটি শহরে (ঠিক কোথা হতে পারে তা এখনও ঘোষণা হয়নি)। প্রতিটি দলে থাকবেন ১৬ জন ক্রিকেটার—৮ জন ভারতীয় ও ৮ জন আন্তর্জাতিক। এই মৌসুমে মোট ৯৬ জন ক্রিকেটার নিলামের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে, পাশাপাশি রয়েছে ২০৪ জন ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ প্লেয়ার, যাদের দলে নেওয়া সম্ভব হবে মৌসুমের মধ্যভাগে।

    সর্বশেষ বলা যায়, লাল বলের ঐশ্বর্য ও ছোট ফরম্যাটের রোমাঞ্চকর পরিবেশ একত্রিত করে ‘টেস্ট টুয়েন্টি’ ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এটি শুধুই একটি নতুন ফরম্যাট নয়, বরং ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন যা পুরনো সম্মান রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথ প্রস্তুত করছে।

  • অতীতে রানখরা, তারপর বিজয়ী বাংলাদেশ

    অতীতে রানখরা, তারপর বিজয়ী বাংলাদেশ

    মিরপুরের উইকেট অনেক বছর থেকেই ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। এ কারণেই বেশিরভাগ সময় আঙুল ধরা হয় ইতিহাসের অন্যতম মানসম্পন্ন কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার দিকে। তবে দীর্ঘ দিন পর এই দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয় এবং টনি হেমিংকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু হেমিংও নতুন উইকেটে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেননি। প্রথমবারের জন্য মিরপুরের নতুন উইকেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হন। ক্রমান্বয়ে স্পিনাররা বড় টার্ন দিয়ে দারুণ সুবিধা গ্রহণ করে, যা সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের মিরাজ ও সোহান। তবে বিপরীতে ক্যারিবীয় স্পিনারদের সফলভাবে সামলে নিজের উইকেট আগলে রাখলেন তাওহিদ হৃদয়। তার দুর্দান্ত ফিফটি বাংলাদেশের মোট রান দুইশ ছুঁয়ে দেওয়ার মূল কারণ।

    শুরুতেই দুই ওপেনার আউট হওয়ার ফলে দলের উপর চাপ তৈরি হয়, তবে নাজমুল শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ের দৃঢ় অংশগ্রহণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। হৃদয়ের ফিফটির পর অপ্রতিরোধ্য ৪৬ রানের ইনিংস খেলে অভিষেককারী মাহিদুল ইসলাম অঙ্কণ দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। ৪৯.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০৭ রান, যা বাজেটের মধ্যে ছিল।

    করিবীয়দের বিপক্ষের সিরিজের মাধ্যমে দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। তিনি একাদশের প্রথম দিকেই ছিলেন, সাইফ হাসানের সঙ্গে ওপেনিং করেন। তবে প্রথম ওভারে ৮ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে বল করার সময় সাইফকে আউট করেন শেফার্ড; তিনি ৬ বলে ৩ রান করেন।

    সাইফের বিদায়ের পর পরই সৌম্যও ফিরে যান, চার হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত ৬ বলে ৪ রান করেই সাজঘরে যান। এরপর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নাজমুল শান্ত ও হৃদয় ক্রিজে আসেন। দুজন হয়তো কঠিন সময়ে অস্থির ছিলেন, তবে ধীরস্থির খেলে রান করে যান। শান্ত-হৃদয় জুটি গড়ে তিনের মধ্যে পরিস্থিতি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।

    শান্ত ৩২ রানে ফিরলেও হৃদয় লড়াই চালিয়ে যান। এরপর অঙ্কণের সঙ্গে গড়ে দেন ৩৬ রানের জুটি। ৮৭ বলে হার মানেন তাঁর ফিফটি। তবে ফিফটি পাওয়ার পর তিনি ক্যাচ তুলে দেন হোপের হাতে।

    পরবর্তী সময়ে অঙ্কণ দলের হাল না হারিয়ে ১৭ রান করে ফিরে যান, তার পরে ক্যামিও হিসেবে রিশাদ হোসেন ১২ বলে ২৬ রান করে দলের জন্য অবদান রাখেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২০৭ রানে অলআউট হয় ৪৯.৪ ওভারে, এবং এই সংগ্রহের জন্য তাদের অবদান ছিল তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের। এভাবে তারা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

  • রিশাদের ঘূর্ণিতে ৭৪ রানে জিতল বাংলাদেশ

    রিশাদের ঘূর্ণিতে ৭৪ রানে জিতল বাংলাদেশ

    সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এর পর খুব বেশি অনুশীলনের সুযোগ না পেয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা দ্রুতই ফিরে যান আন্তর্জাতিক মাঠে। দিন তিনেকের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ, এবং সেই চাপে তারা সফল হয়েছেন মিরপুরের মাঠে। এই ম্যাচে বাংলাদেশের দুর্দান্ত বলেঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগাররা, ফলে ৭৪ রানের বড় জয়ে সিরিজে ১-০ betekent। 

    মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ, তবে শুরুটা খারাপ হয়নি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তাওহিদ হৃদয়, ৫১ রান। এরপর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৪৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই দোটানা সৃষ্টি করতে পারেননি। উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় তারা ৪৯ ওভার ৪ বলের মধ্যে সব উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করে।

    জবাব শুরু হয় বাংলাদেশি ওপেনারদের উড়ন্ত ব্যাটিং দিয়ে। তবে প্রথম ইনিংসের শুরুতেই বোঝা যায় তারা বেশ সাবধান। প্রথম ১০ ওভারে শুধুই সংগ্রহ, কিন্তু ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজেরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাওহিদ হৃদয় ৩১ বলে ৫১ রান করে দলের অবদান রাখেন। এরপর অঙ্কন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭৬ বলের মধ্যে ৪৬ রান আনেন।

    অপর দিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শুরু হয় ভালোই। উদ্বোধনী জুটিতে ৫১ রান যোগ হলেও বাংলাদেশের বলার মানসিক চাপ থেকে উতরাতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। রিশাদ হোসেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মেন্স দেখিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন, এটি তার ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা বোলিং। প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে পঞ্চম উইকেটের জন্য তিনি ৫ উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসে তাদের ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ ছিল অফ স্পিনের সঙ্গে রিশাদের দুর্দান্ত স্লো বল।

    বিশেষ করে, ৩৯তম ওভারে জেডন সিলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ করেন তিনি। তার এই দারুণ পারফর্মেন্সের ফলে ম্যাচের টাইটেল হয় তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এর আগে ব্যাটসম্যানরা শুরুতেই ধাক্কার মুখে পড়লেও, বাংলাদেশি স্পিনাররা তাদের ধৈর্য্য ধারণ করে মূলত এভাবেই জয় নিশ্চিত করে।

    অন্তিম সময়ে, রিশাদের লেগ ব্রেক পরের ওভারে জাদুকরী শটে ৬ উইকেট অর্জন করে বাংলাদেশ। এই পারফরমেন্স তাকে ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি ব্যাটাররা শুরুতেই কিছু ঝামেলা বাঁধলেও শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কারণে তাদের সংগ্রহ দুইশোর কাছাকাছি পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকভাবে, এই জয়ে বাংলাদেশ এখন সিরিজে ১-০ এগিয়ে রয়েছে।

  • মেসির হ্যাটট্রিকের জোয়ারে উড়ল মিয়ামি, প্লে-অফে উন্নীত ন্যাশভিলকে হারিয়ে

    মেসির হ্যাটট্রিকের জোয়ারে উড়ল মিয়ামি, প্লে-অফে উন্নীত ন্যাশভিলকে হারিয়ে

    ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি এক বছর পর আবার সফলভাবে হ্যাটট্রিক করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি মিয়ামির জার্সিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মার্কিন মেজর সকার লিগের (এমএলএস) এবারের মৌসুমের শেষ ম্যাচে মেসি তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভক্তদের মন জয় করলেন। এই ম্যাচে তিনি একটি হ্যাটট্রিক করার সঙ্গে অন্য একটি অ্যাসিস্টও করেন, যার ফলে মায়ামি ৫-২ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে। এই ফলের মাধ্যমে তারা এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে তৃতীয় স্থান অধিকার করে প্লে-অফে উঠেছে।

    মেসি এর আগে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন, আর আজ (১৯ অক্টোবর) তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মায়ামির জার্সিতে এই অসাধারণ কীর্তি দেখিয়েছেন, যা তার পেশাদার ক্যারিয়ারে ৬০তম হ্যাটট্রিক। এছাড়াও, ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এই মৌসুমে তিনি মোট ২৯ গোল দিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। 그의 পিছনে রয়েছেন ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ ও লস অ্যাঞ্জেলসের ডেনিস বুয়াঙ্গা, যারা ২৪ গোল করেছেন।

    বাংলাদেশ সময়ের ভোরে শুরু হওয়া এই ম্যাচে, প্রথম গোলের জন্য ৩৪ মিনিটে এগিয়ে যান মেসি। প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সের মাঝখানে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। এর আগেই ৪৩ মিনিটে সেরিজের গোলের মাধ্যমে ন্যাশভিল ফিরে আসে। তারপর ৬২ মিনিটে তারা আবার লিড নেয়, যেখানে গোল করেন জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ। তবে এর একটু পরে, ৭৯ মিনিটে, পেনাল্টি পায় মায়ামি। সেখানে ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক করে গোল করেন মেসি, ফলে স্কোর হয় ২-২।

    তার পর আরও পাঁচ মিনিট পরে, বালতাসার রদ্রিগেজের শট থেকে গোল করে আবার লিড নেয় মায়ামি। এরপর ৮১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন তিনি, আরও একবার সতীর্থের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়ার পর নিচু শটে গোল করেন। ৪-২ গোলে এগিয়ে থাকার পর, যোগ করা সময়ের প্রথমে তাঁর সতীর্থ তেলাস্কো সেগোভিয়ার গোলের মাধ্যমে জয়টি নিশ্চিত করে। শেষ পর্যন্ত ৫-২ ব্যবধানে জয় লাভ করে মায়ামি, যা তাদের শীর্ষ তিনের স্থান নিশ্চিত করে।

    এমএলএস মৌসুমে, মেসি এখন পর্যন্ত ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিসসহ মোট ৪৮ পয়েন্টে অবদান রেখেছেন, যা লিগের এক মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার সামনে রয়েছেন কার্লোস ভেলা (৩৪ গোল-অ্যাসিস্ট, ২০১৯) এবং অন্য কয়েকজন খেলোয়াড়। মৌসুমের শেষে, এই সব পারফর্মেন্সের জন্য মেসি তার লিগের ইতিহাসে নিজের নাম উচ্চারণ করে রাখলেন।

    বর্তমানে, ৩৪ ম্যাচে ১৯ জয়, ৮ ড্র ও ৭ হার নিয়ে মোট ৬৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে মায়ামি ইস্টার্ন কনফারেন্সে তিন নম্বর অবস্থানে রয়েছে। একই পয়েন্টে থাকা অন্য দলগুলো হলো নিজেদের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি সিনসিনাটি এবং শীর্ষে থাকা ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। ভবিষ্যত প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে মায়ামি আবার ন্যাশভিলের সঙ্গেই মোকাবিলা করবে, যেখানে তাঁরা নতুন করে নিজেদের শক্তির ঝলক দেখাতে প্রস্তুত।

  • মেসির হ্যাটট্রিক ও গোল্ডেন বুট জয়ে ইতিহাস সৃষ্টি

    মেসির হ্যাটট্রিক ও গোল্ডেন বুট জয়ে ইতিহাস সৃষ্টি

    বিষয়টি একরকম নিশ্চিতই ছিল, বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। অবশেষে ঘোষণা এলো, চলতি মরসুমে Major League Soccer (এমএলএস) এর সেরা গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছেন লিওনেল মেসি। এই পুরস্কার পাওয়া নিয়ে তিনি ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন। ইন্টার মায়ামির প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। মৌসুমের সাধারণ সময়ে ২৯ গোল করে সীমান্ত পেরিয়েছেন মেসি, পাশাপাশি তাঁর সতীর্থদের দিয়ে যোগ করেছেন আরও ১৯ গোল। মোট ৪৮ গোলের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলারের অবদান অবিসংবাদী। মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমেই এই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখালেন মেসি।

    মায়ামি ন্যাশভিলের বিপক্ষে ৫-২ গোলের জয় দিয়ে মৌসুম শেষ করেছে, যা তাদের প্লে-অফের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। এই জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি, যা তাকে আরও একধাপ কাছাকাছি নিয়ে গেছে গোল্ডেন বুট জেতার স্বপ্নে। ন্যাশভিলের জন্য অবশ্য সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন স্যাম সারিজ ও ডেনিস বুয়াঙ্গা, যারা সমান ২৪ গোল করেছেন। এর মানে মেসি এই প্রতিযোগিতায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুট জিতে গেছেন।

    এছাড়াও, এই দিন মেসি একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এমএলএসের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ৫০ গোলের রেকর্ড তার দখলে গেছে। ৫০ গোলের مাইলফলক স্পর্শ করতে তিনি মাত্র ৫৩ ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে আগের রেকর্ড ছিল সাবেক তারকা স্ট্রাইকার ইব্রাহিমোভিচের, যিনি এই রেকর্ডটি ৫৪ ম্যাচে করেছিলেন।

    অন্যদিকে, মেসি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দিয়ে ইতিহাস রচনা করেছেন। তিনি দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে এমএলএসের গোল্ডেন বুট জিতলেন। ২০২১ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির হয়ে লা আলবিসেলেস্তেদের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কারটি অর্জন করেছিলেন ভ্যালেন্টিন ট্যাটি। এখন, মেসি সেই দৌড়ে তার আধিপত্য দেখালেন, নিজের নামের পাশে আরও এক বড় রেকর্ড যুক্ত করে।

  • ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন, অঙ্গচুরি অভিযোগ

    ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন, অঙ্গচুরি অভিযোগ

    ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই মৃতদেহগুলোতে স্পষ্টভাবে নির্যাতনের দাগ রয়েছে, এমনকি অঙ্গচুরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা যাচ্ছে। গাজার সরকারি হাসপাতাল ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মৃতদেহে পদ্ধতিগত নির্যাতনের চিহ্ন, মাঠে গুলি করে হত্যা এবং গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার দাগ পাওয়া গেছে। এই মৃতদেহগুলো তিন দফায় ফেরত দেয়া হয়েছে—সোমবার ৪৫টি, বুধবার আবার ৪৫টি এবং বৃহস্পতিবার ৩০টি।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ এক্সে পোস্টে লিখেছেন, মৃতদেহগুলো যেন পশুর মতো বাঁধা ছিল। চোখ বাঁধা অবস্থায় এবং দগ্ধ হওয়া দাগসহ শরীরের নানা চিহ্ন দেখা গেছে, যা ঘটনার ভয়াবহতা ও অপরাধের প্রকৃতি প্রকাশ করে। তিনি জানিয়েছেন, এই মৃতদেহগুলো স্বাভাবিকভাবে মারা যায়নি; হাত-পা বাঁধার পর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এগুলোকে কবরস্থান বা পুকুরে দাফন না করে, ইসরাইলি বাহিনী মাসের পর মাস তাদের রেফ্রিজারেটরেই রেখে দিয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া গ্রাফিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, পচে যাওয়া মৃতদেহে দড়ি দিয়ে বাঁধা, চোখে কাপড় পড়ানো বৈধ চিত্র। অনেক দেহে শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা মৃতদেহগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

    ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, ফেরত দেয়া মৃতদেহের অনেকের গলায় দড়ির দাগ, হাত-পায়ে প্লাস্টিকের বাঁধন, চোখ বাঁধা, গুলির ক্ষত ও পিষে ফেলার চিহ্ন দেখা গেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করে, ইসরাইলি সামরিক ও সরকারি ভাষায় ফিলিস্তিনিদের অমানবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের নির্মূলযোগ্য জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এর ফলে মাঠে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বন্দিদের সুরক্ষা হারিয়ে নির্যাতন, গুম এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো আচরণ চালানো হচ্ছে।

    গাজার সরকারি গণমাধ্যমের প্রধান ইসমাইল আল-থাওবতা বলেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে অনেক মৃতদেহের বড় অংশ অনুপস্থিত। তিফিন নামে এক ব্যক্তি বলছেন, আমরা অর্ধেক দেহ, মাথাবিহীন, হাত-পাবিহীন, চোখবিহীন এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গবিহীন দেহ পেয়েছি। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসরাইল অঙ্গচুরি করছে। এই মৃতদেহগুলো গত শুক্রবার যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ফেরত দেয়া হয়েছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার হামাস ২০ জন জীবনযোদ্ধা ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ছাড়িয়েছে। এই পর্যায়ে, হামাস ২৮ জন মৃত ইসরাইলি বন্দির দেহ ফেরত দিয়েছে, আরও দেহ শনাক্ত ও উদ্ধার শেষে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরাইল ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে, যার সংখ্যা আসছে ঘোষণা অনুযায়ী মোট ৪০০ জনের বেশি হবে।

    সূত্র: অনলাইন মিডল ইস্ট আই।

  • পাকিস্তানে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাতুল মাওয়া

    পাকিস্তানে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাতুল মাওয়া

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাডেট জান্নাতুল মাওয়া পাকিস্তান সামরিক একাডেমি (পিএমএ) থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড্যান্টের বিদেশি ক্যাডেট পদক লাভ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের জন্য তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সেই পদক প্রদান করেন, যিনি এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। শনিবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এ তথ্য জানায়।

    পিএমএর পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেন ১৫২তম লং কোর্স, ৭১তম সমন্বিত কোর্স, ২৬তম লেডি ক্যাডেট কোর্স ও ৩৭তম প্রযুক্তিগত স্নাতক কোর্সের বিভিন্ন ক্যাডেট। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন ইরাক, ফিলিস্তিন, কাতার, মালি, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া সহ বেশ কিছু দেশের প্রশিক্ষণার্থী।

    কর্মকর্তাদের মতে, লেডি ক্যাডেট জান্নাতুল মাওয়া এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার এক প্রতীক। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সামরিক মানবসম্পদ হিসেবে আরও প্রশংসা অর্জন করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • পাক সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি: সামান্য উসকানিতেও ত্বরিত কঠোর জবাব দেবে পাকিস্তান

    পাক সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি: সামান্য উসকানিতেও ত্বরিত কঠোর জবাব দেবে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আবারও সরাসরি পারমাণবিক হুমকি দিয়ে সতর্ক করেছেন প্রতিবেশী দেশ ভারতকে। আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এমন দৃঢ় মন্তব্য করেছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর), পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি (পিএমএ) কাকুলে একটি পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেয়ার সময় তিনি এই বক্তব্য দেন। সেখানে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক শক্তি, প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা নিয়ে তিনি নানা জোরালো কথাবার্তা উচ্চারণ করেন, বিশেষ করে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন।

    আসিম মুনির বলেন, “পারমাণবিক পরিবেশে যুদ্ধের কোনও স্থান নেই, তবে যদি কেউ সামান্য উসকানিও দেয়, পাকিস্তান দ্বিধাহীন ও চূড়ান্ত জবাব দেবে।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন এক প্রতিক্রিয়া দেখাবে যা শত্রুর কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    তিনি এও উল্লেখ করেন, যদি আবার কোনও সংঘাত শুরু হয়, তবে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া শুধু কঠোরই থাকবে না, বরং তা শত্রুর বিশ্বাসকে ভেঙে দিতে পারে।

    ভারতের প্রতি কঠোর ভাষায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেন, “পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো আগ্রাসী মনোভাব না থাকলেও, প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রায়শই ভারতের সাথে যোগাযোগের দুরত্ব কমে আসায়, আমাদের অস্ত্রের প্রভাব তাদের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

    এখানে তিনি ভারতের সামরিক কৌশল ও নীতিকে ‘কৌশলগত অন্ধত্ব’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া, বলেন, শত্রু যদি উচ্চাকাঙ্ক্ষায় পরিচালিত হয় তাহলে পাকিস্তান আবারও বিজয়ী হবে।

    হুঁশিয়ারির পাশাপাশি তিনি মে মাসে চালানো সামরিক অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’-এর উল্লেখ করেন, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ।

    অতিরিক্ত, দাবি করেন পাকিস্তানের বাহিনী বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, এস-৪০০ সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং বহুমাত্রিক যুদ্ধের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    নিজের বক্তব্যে তিনি শুধু ভারতকেই নয়, আফগানিস্তান বিষয়ে ও কঠোর ভাষায় কথা বলেন। পাকিস্তান সেনাপ্রধান বলেন, দেশটির ভেতর থেকে পরিচালিত ‘প্রক্সি বাহিনী’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তালেবান সরকারকে সাবধান করে দেন। তিনি বললেন, পাকিস্তানে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রম একেবারেই বরদাশত করা হবে না।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া তাদের ভাবনায়ও বাধা দেয়ার মতো হবে। এর ফলস্বরূপ, তাদের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।

    সূত্র: জিও নিউজ

  • ইয়েমেন উপকূলে এলপিজি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    ইয়েমেন উপকূলে এলপিজি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    ইয়েমেনের উপকূলে এডেন উপসাগরে একটি এলপিজি বহনকারী ট্যাংকারে লাগানো হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি। হামলার পর ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, জাহাজটি ভয়াবহ আগুনের শিকার হয়েছে। তবে, এই হামলার সঙ্গে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানানো হয়েছে। হুথির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, খবর টাইমস অব ইসরায়েল এবং আল জাজিরার।

    শনিবার, ১৮ অক্টোবর, এডেন উপসাগরে এই জাহাজে হামলার ঘটনাটি ঘটে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি জরুরি অবস্থায় ছিল এবং ক্রুরা সক্রিয়ভাবে এর থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২০২৩ সাল থেকে গাজায় মানবাধিকার ও গণহত্যার প্রতিবাদে হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর উপর হামলা চালিয়ে আসছে। তবে, ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মাঝে যুদ্ধবিরতির পর থেকে হুথিরা কোনো নতুন হামলার দাবি করেনি।

    যদিও সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সাধারণত তাদের হামলার কয়েক ঘণ্টা বা দিনেক পরে দায়িত্ব স্বীকার করে থাকে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স কেন্দ্র এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, এই ঘটনার স্থান এডেন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তারা বলেছে, একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে আগুন ধরে যায়। ঘটনার এখনও তদন্ত চলমান।

    সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, এই জাহাজটি ক্যামেরুনের পতাকাযুক্ত, এটি ওমানের সোহার থেকে জিবুতি যাওয়ার পথে ছিল। ইয়েমেনের আহওয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অবস্থানরত এই ট্র্যাকারটি জরুরি বার্তা পাঠানোর পর নাবিকরা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে, এবং এখন উদ্ধার অভিযান চলছে।

  • কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

    কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

    দীর্ঘদিন ধরে চলছিল উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলো পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। কাতার ও তুরস্কের যৌথ মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা দোহায় একান্ত বৈঠক করে এবং_tlsay_{vt} একজন আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রোববার (১০ অক্টোবর) ভোরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে নতুন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়।

    গতকাল শনিবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কাতার কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে দোহার শুল্কমোড়ের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছান এবং সেখানে এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা-কর্তারা দ্রুতই এই সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর জন্য আলাপচারিতা চালান। আলোচনা শেষে দুই পক্ষই একে অন্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবার সিদ্ধান্ত নেন। কাতার জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আবারও বিভিন্ন সময় এই বিষয় নিয়ে ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    পাকিস্তান খোদ দুই বছর ধরে আফগান সীমান্তে স্বাভাবিকের বাইরে উত্তেজনা চলাচ্ছে। তালেবান ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নেয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতি রূপ নেয় সরাসরি সংঘর্ষের দিকে। সীমান্তে নিয়মিত গোলাগুলি, বিমান হামলা এবং সামরিক সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ আহত ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    আলোচনায় আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব, আর পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী—তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) অন্তর্ভুক্ত—তাদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কাবুল সেই সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। সীমান্তের প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম পাকিস্তানকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এসব হামলা বন্ধের জন্য পাকিস্তান বেশ কয়েকবার কাবুলকে সতর্ক করে এসেছে।

    অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তান বিমান হামলা চালালে বেশ কিছু নাগরিক নিহত হন। এর পাল্টা করিয়ে সেদিক থেকে আফগান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

    শুরুর দিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান মোট ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান আবারও আফগান সীমান্তে বিমান হামলা চালায়। যদিও তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করেন, বাস্তবে দেখা যায় পাকিস্তান নতুন করে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    অভিযুক্ত দেশগুলো বলছে, তারা কোনোরকম সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর আশ্রয় বা মদদ দিচ্ছে না, বরং পাকিস্তানই বারবার আফগান সীমান্তে আমাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। শুক্রবার আরও উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। আফগানিস্তান সংলগ্ন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে তালেবান জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে সাতজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর পাকিস্তান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সীমান্তে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়। পরিস্থিতি এখন আরও চরমে। সূত্র: রয়টার্স।