দেশের বাজারে গত মাসের প্রথম ১৪ দিনে স্বর্ণের দাম বারবার বেড়েছে, যা মোট ছয়বার মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর ফলে স্বর্ণের সর্বোচ্চ নতুন দামও রেকর্ড হয়েছে। একদিনের মধ্যে আবারো স্বর্ণের দামে অবিশ্বাস্যভাবে অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, এবার ভরিতে ২ হাজার ৬১৩ টাকা যোগ করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। এটি এখন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চ মূল্য। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম ঘোষণা করা হয়, যা বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের মূল্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন দামে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়াবে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭৭ হাজার ১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫১ টাকা। আবারো জানানো হয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির সময় সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে জিনিসের ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির হারতে পার্থক্য থাকতে পারে। এর আগে, ১৩ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেই সময় ভরিতে ৪ হাজার ৬১৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা, যা ছিল দেশের সর্বোচ্চ দাম। অন্যান্য ক্যারেটে, ২১ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা। এই দাম কার্যকর হয়েছিল ১৪ অক্টোবর से।
Month: October 2025
-

ভারত থেকে জাল টাকা প্রবেশের খবরের সতর্কতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি ব্যাপক খবর হলো, ভারতের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এই খবরের ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে একথা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ধরনের খবরের ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং জনগণকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করে, জাল টাকা তৈরি, বহন এবং লেনদেনে কোনো ধরনের অপরাধের শামিল হলে এটি দেশের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই জাল টাকার প্রচলন রোধে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা জাল নোটের উৎস, এর বহন ও ব্যবহার বন্ধে সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানানো হয়।
জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো চারটি মূল পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, নোট গ্রহণের সময় এর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন জলছাপ, অসমতল ছাপা, নিরাপত্তা সূতা, রঙ পরিবর্তনশীল কালি ও ক্ষুদ্র লেখা ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত। দ্বিতীয়ত, বড় অঙ্কের লেনদেনে অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়। এবং চতুর্থত, সন্দেহজনক কোনো নোট পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পাশের থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক ‘আসল নোট চিনুন, নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করুন’ এই আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, আসল নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য www.bb.org.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যাবে। প্রতিটি ব্যাংক শাখায় আসল নোটের শনাক্তকরণের জন্য এক্স-ব্যানার ও পোস্টারও প্রদর্শিত রয়েছে।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী সাংবাদিক তার ফেসবুক আইডিতে এই ধরনের একটি পোস্ট দেন। সেটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত গতিতে বিষয়টির ওপর নজরদারি শুরু করে দেয়। তারা জাল টাকা ও জালিয়াতির অপতৎপরতা রুখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।
-

সোনার দাম আরও বৃদ্ধি পেল, ভরি ছাড়াল ২ লাফ ১৭ হাজার টাকা
দেশের বাজারে আবারো সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
১৯ অক্টোবর রোববার বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১০৫০ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই নতুন দাম আগামী ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বাড়ার কারণে সোনার দাম সামঞ্জস্য করা হয়েছে।
নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫৩ টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি সোনার ভরির দাম ধার্য হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪ টাকা।
অবশ্যই, সোনার দাম বৃদ্ধির মাঝে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখনও ৬ হাজার ২০৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হবে ৩ হাজার ৮০২ টাকায়।
অন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাবও লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ও সরকারি কার্যক্রমের অচলাবস্থা জনিত কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকছেন নিরাপদ সম্পদে। এরই ফলস্বরূপ, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম অশ্বারোহী ৪ হাজার ২৪০ ডলার আউন্সপ্রতি অতিক্রম করেছে।
-

অক্টোবরের ১৮ দিনে প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা
অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনে বাংলাদেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই পরিমাণ অঞ্চলের মুদ্রায় পরিণত করলে তা হয় প্রায় ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২১.৭৫ টাকার মানে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর সূত্রে রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৮ দিনের প্রবাসী আয় গত বছর একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। গত বছর অক্টোবরের এই সময়ে ছিল ১৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে, সেপ্টেম্বরে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের তুলনায় কিছুটা কম এসেছে। গত সেপ্টেম্বরের ১৮ দিনে প্রবাসী আয় ছিল ১৬১ কোটি ১৫ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, চলতি বছর ১ জুলাই থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাস ১৮ দিনের সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো মোট রেমিট্যান্স এলো ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। একই সময়ে গত বছর এই পরিমাণ ছিল ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত বছর তুলনায় এ বছর এই তিন মাসে প্রবাসীর আয় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
সাধারণত, এই সময়ে প্রবাসী আয়ের ধারা ইতিবাচক থাকায় দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রবাসীদের এই ব্যাপক অর্থপ্রাপ্তি দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
-

কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি
দেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে দেশের রপ্তানি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুসারে, এই দুর্ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা বারো হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই তথ্য আজ (২০ অক্টোবর, সোমবার) এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু লাভজনক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, দেশের অর্থনীতি ও সরকারের জন্যও বড়ো ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের খ্যাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ক্রেতাদের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। মোহাম্মদ হাতেম এও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতির প্রকৃতি ও পরিমাণ নিরূপণ জরুরি, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়। এই অগ্নিকাণ্ড কোনও দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতার পরিচায়ক। সংগঠনের নেতারা প্রশ্ন করেন—এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কি পর্যাপ্ত অটোমেটিক ফায়ার ডিটেকশন ও প্রোটেকশন সিস্টেম ছিল? আগুনের সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ফায়ার সার্ভিস বা নিজস্ব ফায়ারফাইটিং টিম কোথায় ছিল? কেন বাইরে থেকে আসতে এত সময় লাগলো? তারা আরও অভিযোগ করেন এক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস, ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—এই তিন পক্ষই নীরব মানে কার্যকর নিরাপত্তার ব্যাপারে দায়িত্ব এড়ানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগুনে পুড়ে গেছে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষি পণ্য, ফলমূল, ওষুধজাত কাঁচামালসহ নানা রপ্তানি পণ্য। এর ফলে অনেক ক্রেতা তাদের অর্ডার বাতিল করেছে এবং বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে ছয় দফা বিশেষ দাবি জানানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত বিমা পরিশোধ, বীমা অক্ষম পণ্য জন্য সরকারি তহবিল, কার্গো হ্যান্ডলিং আধুনিক ও নিরাপদ করার ব্যবস্থা, পণ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, আধুনিক স্ক্যানার ও মনিটরিং প্রযুক্তি স্থাপন, ডিজিটালাইজেশন ও ফায়ার প্রোটেকশন ব্যবস্থা উন্নয়ন। রপ্তানিমুখী সংগঠনের নেতারা সরকারের জন্য একাধিক জরুরি নির্দেশনা দেন—সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করতে, যাতে দুর্ঘটনার কারণ অবিলম্বে জানা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
-

৫ দফা দাবিতে জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষনা
বাংলাদেশে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত ও সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল (২০ অক্টোবর, সোমবার), রাজধানীতে, ২৫ অক্টোবর (শনিবার) সব বিভাগীয় শহরে এবং ২৭ অক্টোবর (সোমবার) সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হবে। আজ (১৯ অক্টোবর, রোববার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ৮টি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ও অন্যান্য সমমনা দলের নেতারা দ্রুতই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তারা উল্লেখ করেন, দেশের জনগণের দাবি কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জনগণের দাবির বাস্তবায়নের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে দ্রুতই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারির পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে একদম সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি ন্যায্য ও জবাবদিহিতামূলক ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।
আন্দোলনের পেছনে ঐতিহাসিক পটভূমির ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সফল গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকার পতনের মাধ্যমে দেশ শান্তিপূর্ণ পথে ফিরে আসে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বিনাশের পরে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং সংবিধানের কিছু বিধান অকার্যকর হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে জনগণের ঐকমত্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়, যার স্বচ্ছ ও বৈধতার উৎস সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭ এ নিহিত। সেই সঙ্গেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া জরুরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বর্তমান সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারণ করেছে, তবে তার সফলতা নিশ্চিত করতে হয় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। অতীতে দেখা গেছে ভোটে কারচুপি, কালো টাকা, ভোট কেন্দ্র দখল ও পেশিশক্তি প্রয়োগের কারণে ভোটপ্রক্রিয়া অপ্রতুল ও অবিচারপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। তাই, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য ইচ্ছুক সব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনরা একমত পোষণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোট পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়ঃ
1) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের আয়োজন।
2) ভবিষ্যত নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।
3) সকলের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একসঙ্গর্ষ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন।
4) ফ্যাসিস্ট সরকার বা তার দোসরদের দমন-নিপীড়ন-জুলুম ও দুর্নীতির বিচার দ্রুত সম্পন্ন।
5) স্বৈরাচারীদের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবিগুলো মানা না হয়, তবে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তারা সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডক্টর আমহদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামের ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জাগপা’র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাইমসহ আরও অনেকে।
-

নাহিদ ইসলাম: পিআর আন্দোলন ছিল কৌশলগত প্রতারণা, জামায়াত সংস্কার চায়নি
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর আন্দোলন ছিল এক কৌশলগত রাজনৈতিক প্রতারণা। এই আন্দোলন ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতে এবং সংলাপের মূল আলোচনাগুলো থেকে জনমতকে সরিয়ে দিতে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের প্রশ্নগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা, যাতে আলোচনা সেদিক থেকে বাঁক নেয় না। তিনি রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ উল্লেখ করেন, ঝুকি সৃষ্টির জন্য শুরু হয়েছিল এই ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ আন্দোলন, যা মূলত জামায়াতে ইসলামীর পরিকল্পিত কৌশল ছিল। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য ছিল ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্তি ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেওয়া, যাতে জাতীয় সংলাপের মূল বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, ভোটের ভিত্তিতে উচ্চতর সংসদীয় ইউনিট বা সেকেন্ড হাউস প্রতিষ্ঠার দাবির পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই সংস্কার ঘিরে ঐক্যমত্য তৈরির মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল জাতীয় ভিত্তির জন্য আমরা কাজ করতে চেয়েছিলাম।
তবে, জামায়াত ও তার সহযোগীরা এই সংস্কার আন্দোলনকে ছিনতাই করে নেয় এবং এটিকে একটি প্রযুক্তিগত পিআর ইস্যুতে রূপান্তর করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। তাদের লক্ষ্য কখনোই সংস্কার প্রবলভাবে সমর্থন করা নয়, বরং কৌশলে প্রপাগান্ডা ও অন্যায় অপব্যবহার।
নাহিদ জানান, জামায়াতে ইসলামি কখনোই সংস্কার বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেয়নি, সেভাবে কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব রাখেনি অথবা সাংবিধানিক ধারাগুলোর প্রতি আন্তরিক ছিল না। তারা কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি।
তিনি বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনে তাদের অপ্রত্যাশিত সংস্কার সমর্থন ছিল বিশ্বাসের সুযোগ না, বরং একটি কৌশলগত অনুপ্রবেশ। এতে তারা সংস্কারে রঙ ধরে রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত চালানোর চেষ্টা করে। আজ বাংলাদেশের মানুষ এই প্রতারণা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছে, চোখে দেখছে ভিন্ন দৃষ্টিতে। তারা সত্যের পথে উদ্দীপ্ত হয়ে আর কখনো ধোঁকা খাবেন না। আল্লাহর রহমত, এই দেশের সার্বভৌম জনগণ আর কখনো নেক্কার শক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না। তারা বিশ্বাস করে, সত্য ও ন্যায়ের জয় হোক, আর এই দেশের জনগণ নিরাপদ থাকুক।
-

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে: এ্যানি
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে না। এ সময় তিনি সরকারকে দ্রুত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি স্বাভাবিকভাবে মানার আহ্বান জানান।
আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহীদ মিনারে এক মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এ্যানি আরও বলেন, শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি পূরণে বিএনপি সব সময় শিক্ষকদের পাশে থাকবে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের আন্দোলনকে সরকার অবজ্ঞা করতে পারে না, কারণ এটা জাতির অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এবং এই দাবি দায়িত্বশীলতা দেখার সময় এসেছে।
শিক্ষকদের অনশন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি জাতির জন্য লজ্জাজনক। সরকারকে অবশ্যই তাদের তিন দফা দাবি মেনে নিতে হবে। এ জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, যদি তাদের সরকার আসে, তাহলে সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ করা হবে। তিনি জানান, শিক্ষকদের নয় দিন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির তিন দফা দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের শ্রেণীকক্ষে ফিরতে সতর্ক করেছেন।
আজও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে, যেখানে তারা সরকারের বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর আগে রোববার শিক্ষকরা ভুখা মিছিল করেন, যা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষক নেতােরা আমরণ অনশন ও সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দেন। এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। শিক্ষকের হুঁশিয়ারিপ্রমাণ—তাদের তিন দফা দাবি মেনে এবং প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
-

রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে দেশের উন্নয়নও পিছিয়ে যাচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতা ও বিভেদ কারণে দেশের উন্নয়নের বড় ধরনের সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, বড় ধরনের একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য বিশাল একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রাজনীতির মহাজোটের বিভক্তির কারণে সেই সুযোগগুলো আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে অনৈক্যের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশকে এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন রাজনীতিতে সৌন্দর্য, সততা এবং স্বচ্ছতা। যদি রাজনীতিতে এসব উপাদান না থাকে, তাহলে তা আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। সত্যিকার অর্থে সুন্দর রাজনীতি হলো যেখানে নেতা-নেত্রীরা স্বপ্ন দেখেন দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিস্বার্থের জন্য সম্পদ সংকটের কারণেই এই চিত্র ভিন্ন।
ক্ষমতালোভী রাজনীতির কারণে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত ও হতাশ, বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সত্যিকারের রাজনীতি তখনই সুন্দর ও শক্তিশালী হবে, যখন এতে জনগণের স্বার্থ উঠে আসবে। আর এটি সম্ভব তখনই যখন রাজনীতির প্রতিটি পদক্ষেপ স্বচ্ছ, সততা ও জনগণের জন্য হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের সভাপতি প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আলম, মোশাররফ হোসেন পুস্তি, মো. মফিজুর রহমান প্রমুখ।
-

সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলায় জুলাই যোদ্ধারা জড়িত নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সম্প্রতি সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঘিরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সত্যিকার অর্থে অর্থে জুলাই যোদ্ধারা জড়িত থাকতে পারেন না। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদরা অপ্রকাশ্যভাবে প্রবেশ করে এই ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি জনোৎসাহী ও সম্মানের চোখে দেখে ঐ নিরীহ জুলাই যোদ্ধাদের, তাদের ক্ষতি বা অবমাননা এড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দলের ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল Sj১৮ গত ছাত্র গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, যা জাতির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস। এই অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনকে সম্মানিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা কোনভাবেই বিতর্কিত না হন—সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে বিএনপি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপিকে এই অভ্যুত্থানের বিপরীতে দাঁড় করানোর জন্য যারা উঠেপড়ে লেগে রয়েছে, তারা সফল হবে না। এ বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে বিএনপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে তিনি স্বাগত বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, দেশের কিছু ঘটনাকে একটি সূত্রে গেঁথে অপব্যাখ্যা করার অপচেষ্টা চলমান, এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, বিভ্রান্তি ছড়ানো ও বিভ্রান্তিকর অপব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকতে।
