Month: October 2025

  • ইসরায়েল ৭১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, নিহত ৩৮ ফিলিস্তিনি

    ইসরায়েল ৭১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, নিহত ৩৮ ফিলিস্তিনি

    বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি মাসের শুরুতে কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনারা মোট ৭১ বার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। এর ফলে কমপক্ষে ৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৪৩ জন আহত হয়েছেন, এখবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফা সীমান্ত ক্রসিং ‘পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ থাকবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে যথেষ্ট প্রচেষ্টা না করে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য তুচ্ছ অজুহাত দেখানো হচ্ছে।

    তবুও, হামাস ইতিমধ্যেই আরও দুই জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে। তারা বলছে, নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি চুক্তি ব্যর্থ করে দিতে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও, রাফা ক্রসিং এখনও বন্ধ রয়েছে। এটি গাজা শহর থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মিশর সীমান্তে অবস্থিত, মাত্র ৩০০ মিটারের পথে গঠিত এই চেকপোস্টটি মূলত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ত্রাণ পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতের খবর অনুযায়ী, হামাস জানিয়েছে, রাফা ক্রসিং বন্ধ থাকার কারণে মৃতদেহ উদ্ধার ও স্থানান্তরে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হবে। গাজায় বন্দি ও মৃতদেহ ফেরত দেওয়াও এই যুদ্ধবিরতির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, রাফা ক্রসিং আবার খুললে সব মৃতদেহের পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে গাজায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৮ হাজার ১১৬ জন নিহত এবং ১ লক্ষ ৭০ হাজার ২০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করা হয়েছে।

  • বিশ্ববিখ্যাত চীনা নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী চেন নিং আর নেই

    বিশ্ববিখ্যাত চীনা নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী চেন নিং আর নেই

    বিশ্ববিখ্যাত চীনা পদার্থবিজ্ঞানী ও নোবেলজয়ী চেন নিং ইয়াং মৃত্যুতে শোকের ছায়ের পড়ে গেছে। তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। এই খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। শনিবার (১৮ অক্টোবর) চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি এক প্রতিবেদনে এই দুঃখজনক খবর শেয়ার করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেইজিংয়ের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক চেন নিং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে পরলোকগমন করেছেন। ঐতিহাসিক এই পদার্থবিজ্ঞানীর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    চেন নিং ইয়াং ও তার সহকর্মী লি সাং-দাও ১৯৫৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার পান। তারা যৌথভাবে প্রাইটি ল বা সমতার নিয়ম নিয়ে গবেষণা করেন, যা আধুনিক মৌলিক কণার গঠন ও তাদের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

    অভিজ্ঞ এই বিজ্ঞানী ১৯২২ সালে চীনের আনহুই প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড়, এবং তার বাবা ছিলেন ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বেড়ে উঠেন। ১৯৪২ সালে ন্যাশনাল সাউথওয়েস্ট অ্যাসোসিয়েটেড ইউনিভার্সিটি কুনমিং থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন, পরে ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    কৈশোরে নোবেল পাওয়ার স্বপ্ন দেখে ৩৫ বছর বয়সে তিনি সেই স্বপ্নে সফল হন। নোবেল কমিটি তার অসাধারণ গবেষণা ও মৌলিক কণাসমূহের জন্য তাকে স্বীকৃতি দেয়।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফেরমির তত্ত্বাবধানে গবেষণা চালান। কর্মজীবনে ইয়াং বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন, তবে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেকানিক্স এবং সিমেট্রি প্রিন্সিপলস নিয়ে।

    নোবেলজয়ীর মর্যাদায় তিনি ১৯৫৭ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন স্মারক পুরস্কার এবং ১৯৫৮ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তার অসামান্য গবেষণা ও জীবনকর্ম বিশ্ব বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • ইসরায়েলের গাজায় বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রকাশ

    ইসরায়েলের গাজায় বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রকাশ

    গাজার দক্ষিণে ভয়াবহ বিমান হামলার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করে ইসরায়েল। যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সাথে সাথে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে, যার ফলে মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে গাজার খান ইউনিস, নুসাইরাত, রাফাহ ও আল-জাওয়াইদা এলাকার ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব হামলায় অনেক মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আল-আওদা হাসপাতালের সূত্র জানায়, আল-জাওয়াইদা শহরে হামলার সময় এক ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের আল-কাসেম ব্রিগেডের একজন কমান্ডারসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। একই দিনে গাজার মধ্যাঞ্চলে একाबिकোয়াসা এলাকায় অন্য এক হামলায় একটি মিডিয়া প্রোডাকশন কোম্পানির ভ্যান ও সম্প্রচার সরঞ্জাম ধ্বংস হয়। এই ঘটনায় কোম্পানির একজন সম্প্রচার প্রকৌশলী এবং তার শিশুপুত্র নিহত হন। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো এ হামনাকে গভীরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান হামাসের ওপর হামলার জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বলেন, হামাসকে এর চরম মূল্য দিতে হবে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য তাদের দোষ দেয়া ঠিক নয়, বরং ইসরায়েলই প্রথম হামলা চালিয়েছে। সূত্রের খবর, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী ও সংঘর্ষের পর পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে। তবে গাজায় ত্রাণবাহী সব ট্রাকের চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার পূর্বনির্ধারিত ইসরায়েল সফর একদিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গাজায় বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে চলতে চাই। হামাস কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল, তবে আমরা তা নিয়ন্ত্রণে রাখব বলে বিশ্বাস করছি।

  • হংকংয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে বিমান সাগরে, 2 নিহত

    হংকংয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে বিমান সাগরে, 2 নিহত

    হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি টহল গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে সেটি সাগরে ডুবে যায়। ঘটনায় গাড়িতে থাকা দুই গ্রাউন্ড স্টাফ নিহত হন, তবে বিমানে থাকা চার ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষণে জানা গেছে, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ইকে-৯৭৮৮ নম্বরের কার্গো বিমান স্থানীয় সময় ভোর ৩:৫০ মিনিটে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে টহল গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। দেখা যায়, উড়োজাহাজটি মাঝখান থেকে ভেঙে যায়, এর একাংশ পানিতে ডুবে আছে এবং বড় বড় ফাটল দেখা গেছে।

    ঘটনার মুহূর্তের কিছুক্ষণ পরে, বিমানে থাকা চারজন ক্রু জরুরি দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, কার্গো উড়োজাহাজের জন্য সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং রানওয়েতে দিকনির্দেশক চিহ্নও ছিল।

    বিমানবন্দর অপারেশনস এর নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ইয়াও জানান, টহল গাড়িটি রানওয়ের নিরাপত্তা সীমানার বাইরে একটি সড়কে চলাচল করছিল, তবে সেটি রানওয়ে থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছিল। তিনি আরও বলেন, উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং গাড়িসহ সাগরে ডুবে গেছে। তিনি দাবি করেন, গাড়িটিকে রানওয়েতে রাখা হয়নি।

    হংকংয়ের পরিবহন দপ্তর নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সমবেদনা জানিয়েছে।

    এমিরেটসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, উড়োজাহাজটি হংকংয়ে পৌঁছানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রু সদস্যরা সুস্থ আছেন এবং বিমানে কোনো পণ্য ছিল না। তারা জানিয়েছে, বোয়িং ৭৪৭-৪৮১ মডেলের এই কার্গো বিমানটি তুরস্কের অ্যাক্ট এয়ারলাইনস থেকে ভাড়া নেওয়া, এবং তারাই এটি পরিচালনা করছিল।

    হংকং এয়ার অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অথরিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সমুদ্র থেকে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের জন্য কাজ করছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার কারণে আজ দিনভর রানওয়ে বন্ধ থাকবে। তবে অন্য দুটি রানওয়ে সচল রয়েছে।

    সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনাটি হংকংয়ের কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। ১৯৯৮ সালে কাই টাক থেকে চেক ল্যাপকক-এ স্থানান্তরিত হওয়ার পর এটি అక్కడ ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। সংখ্যাগরিষ্ঠ ঘটনাগুলোর মধ্যে এই দুর্ঘটনাও অন্যতম।

  • ৭ মিনিটের মধ্যে ল্যুভর থেকে চুরি হলো ৮ মূল্যবান রত্ন

    ৭ মিনিটের মধ্যে ল্যুভর থেকে চুরি হলো ৮ মূল্যবান রত্ন

    রোববার সকালে অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই ল্যুভর জাদুঘরের দরজা খুলে দেখানো হয়। তবে এই দিনে ঘটে যায় এক বিস্ময়কর চুরির ঘটনা, যা মাত্র সাত মিনিটে পুরোপুরি ঘটিয়ে ফেলেছেন চোরেরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা কার্যক্রম সম্পন্ন করে চলে যায়, যা ছিল এক বিশিষ্ট সাহসী ডাকাতি।

    সকালে ঢোকার আধা ঘণ্টা পরে, দুই চোর নির্মিত ভবনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত বারান্দায় ওঠে। তারা ব্যবহার করে ট্রাকের ওপর বসানো বৈদ্যুতিক মই। সাধারণত এ ধরণের মই আসবাবপত্র তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই পথচারীদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তারা এরপর দ্বিতীয় তলায় গিয়ে একটি জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। সাথে সাথে জারির নিরাপত্তা অ্যালার্ম বাজে।

    অপরপ্রান্তে থাকা ঝলমলে গ্যালারিতে ঢোকার পরে চোরেরা বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসের ওপর নজর দেয়। সেখানে রাখা ছিল রাজকীয় গয়না, মুকুট ও মূল্যবান হীরার সংগ্রহ, যা কাচের তাকের অন্তরালে সাজানো ছিল।

    চোরেরা দ্রুত আড়ালে থাকা দুটি কাচের তাক ভেঙে ফেলে, যার ফলে আবার অ্যালার্ম বাজে। এ সময় তারা আটটি ঐশ্বরিক দ্রব্য নেয়, যার মধ্যে ছিল রাজকীয় নীলা নেকলেস, পান্না নেকলেস ও কানের দুল। তাদের মধ্যে আরো ছিল নেপোলিয়নের শাসনামলের ফ্রান্সের তৃতীয় নেপোলিয়নের স্ত্রীর ব্যবহৃত এক মুকুট।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চুরির ঘটনা বেশ পরিকল্পিত ছিল এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত। সরকারি সূত্র জানায়, ৬০ জনের একটি দল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রাস্তায় ছিল চোর দলের অন্য কিছু সদস্য স্কুটার নিয়ে অপেক্ষায়, তারা চুরির সময়টিতে হঠাৎ নেমে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এই পুরো ঘটনাটি মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    ফ্রান্সের এই সাহসী চুরি কার্যকলাপকে দেশবাসী এবং জাদুঘর কর্তৃপক্ষ দারুণ চাপে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অধ্যায় ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। প্যারিসের মেয়র এরিয়েল ওয়েইল বলেছেন, আজকের ঘটনাটি যেন সিনেমার দৃশ্য না, বরং দিনের আলোয় বাস্তবে ঘটল এমন ঘটনা যা কল্পনাকেও হার মানায়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই চুরি শুধু আর্থিক স্বার্থ নয়, এটি ফ্রান্সের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের লোপ।

    চুরি হওয়া রত্নগুলোর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় নেপোলিয়নের রাণী ইউজেনি’র টিয়ারা, যেখানে ছিল ২১২টি মুক্তা, প্রায় ২০০০ হীরক ও ৯৯২টি রোজ-কাট হীরা। এছাড়াও ছিল রাণী ইউজেনির বেল্ট বা কোমরবন্ধনী, যাতে ছিল ২৪৩৮টি হীরা ও ১৯৬টি রোজ-কাট হীরা। জাদুঘরে সংরক্ষিত অন্য এক বিশেষ অলংকার ছিল, ১৮৫৫ সালের রেলিকুইয়ারি ব্রোচ, যা ইউজেনির স্মৃতিচিহ্ন।

    আরও ছিল ১৯শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে লুই বোনাপার্টের স্ত্রী রানি হরটেন্স ও রানি মেরি অ্যামেলির ব্যবহৃত কানের দুল। নির্মিত হয়েছিল ১৮১০ সালে, যেখানে ছিল ৩২টি পান্না ও ১১৩৮টি হীরা। এই গয়নার সেটটি নেপোলিয়ন তার জীবনভর তৈরি করেছিলেন, এর মধ্যে ছিল ওপাল দিয়ে তৈরি এক সেটও। চোরেরা সেই সেটের অংশ হিসেবে পান্না ও হীরার জোড়া কানের দুল নিয়েছে।

    এটি ছিল ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে daring ও সাহসী চুরির ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন হলফ করে, এই ধরনের ঘটনা পুরো দেশকে লজ্জান।

  • ৩১ দফা: বাংলাদেশে মুক্তির রূপরেখা এবং উন্নয়নের পথপ্রদর্শক

    ৩১ দফা: বাংলাদেশে মুক্তির রূপরেখা এবং উন্নয়নের পথপ্রদর্শক

    বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল গণতন্ত্র ও সমাজের উন্নয়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক দিশা সূচিত হয়েছে। তার নির্দেশে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ৩১ দফা প্রস্তাবগুলি জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচার ও বিতরণ করা হচ্ছে। এই দফাগুলি কেবল একটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির supply-রূপরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই আন্দোলন।

    গত রোববার সকাল ১১টায় নগরীর গোলকমনি পার্কে এই ৩১ দফা ভিত্তিক লিফলেট বিতরণের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, এই ৩১ দফা দেশের ইতিহাসে একটি আরেকটি স্বাতন্ত্র্যবিষয়ক উদ্যোগ, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি আরও জানান, এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিভাজন ক্রমশ কমবে এবং সবাই একসাথে কাজ করবে দেশের উন্নয়নের জন্য।

    উদ্বোধন শেষে খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পিকসার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলা, ফেরিঘাট ও সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে এই লিফলেট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সারসহ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশবিধির উন্নত ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সকল সংগঠন ও জনগণ। এই ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

  • খুলনায় বিশ্ব ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত

    খুলনায় বিশ্ব ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) খুলনায় সবার জন্য মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস এবং জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উদযাপন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম ছিল সকালবেলা খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ ফিরোজ শাহ।

    প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, আমাদের প্রতিদিনই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শুরু হয়। পরিসংখ্যান কী, সেটা আমরা সবাই কমবেশি বুঝি, কারণ এটি সংখ্যায় রূপান্তরিত হয়। আধুনিক যুগে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, পরিকল্পনা গ্রহণ ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এই ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগামী হয়ে কার্যক্রম বাড়িয়ে চলেছে। পরিকল্পনা তৈরি করার মূল উপকরণই হচ্ছে সঠিক ও সুবিন্যস্ত তথ্য, যা হচ্ছে পরিসংখ্যানের মাধ্যমে। যত বেশি কার্যকরভাবে পরিসংখ্যানের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে, আমরা ততই উন্নত হবো।

    তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে না জানা থাকলে নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার্বিক সুবিধা প্রদান কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বে এখন পরিসংখ্যানের মাধ্যমে গবেষণা ও বিভিন্ন পরিকল্পনা খুবই দ্রুত চালানো যায়। আধুনিক সফটওয়্যার ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যাপক দ্রুততা পেয়েছে। যে দেশ যত বেশি পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ, সে দেশে তত বেশি উন্নয়ন দেখা যায়।

    অনুষ্ঠানে functioneren ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, যিনি সভাপতিত্ব করেছেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মোঃ খাইরুল আলম। স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্মপরিচালক মোঃ আব্দুল খালেক। এ ছাড়া, দিবসটি উপলক্ষে একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আইয়ুব হোসেন।

    অতঃপর, দিবসের অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের চত্বরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। এটি শহরজুড়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে অবশেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যারা এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসের গুরুত্ব অনুধাবন করেন।

  • খুলনায় নিমকোর আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে টাইফয়েড টিকাদান কর্মশালা

    খুলনায় নিমকোর আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে টাইফয়েড টিকাদান কর্মশালা

    খুলনায় জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (নিমকো)-এর উদ্যোগে গতকাল সোমবার (২০ অক্টোবর) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫ বিষয়ক এক বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন। এই কর্মশালায় খুলনায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী মূল বক্তৃতায় সভাপতিত্ব করেন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান।

    বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, দেশের প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েডের কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দিয়ে সুরক্ষা দেয়ার জন্য একটি বৃহৎ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনকে সফল করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। গণমাধ্যম এই প্রচার ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ সাধারণ মানুষ সংবাদকে গুরুত্বের সাথে বিশ্বাস করে। তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের মধ্যে ভ্যাকসিনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা দরকার। একই সঙ্গে, টিকাদান প্রক্রিয়ায় কোনও অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা মিডিয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ন। এই ক্যাম্পেইনটি একদিকে যেমন শিশুদের জন্য নিরাপদ জীবন সমাজ গঠনে সহায়তা করবে, অন্যদিকে সুস্থ জাতি গঠনের পথ প্রশস্ত করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মহাপরিচালক বলেন, গণমাধ্যম তাদের দায়িত্বশীল লেখনী ও প্রচার মাধ্যমে অন্ধবিশ্বাস দূর করতে পারে এবং জনমনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে পারে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ হুসাইন শওকত বলেন, বাংলাদেশের ইপিআই কর্মসূচি বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। চলমান এই টাইফয়েড ক্যাম্পেইনও সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মিথ্যা তথ্য বা গুজব প্রতিরোধে মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের মোকাবেলায় সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে উল্লেখ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান, স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান ও ইউনিসেফের খুলনা চিফ মোঃ কাউসার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন নিমকোর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পারভীন সুলতানা রাব্বী এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইউপিআই কনসালট্যান্ট ডা. তাপস কুমার হালদার। এ ছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর, প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলমসহ আরও অনেকে।

    এ কর্মশালায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং মোট ৬০ জন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে আজকের শিশুর সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • সাত দফা দাবিতে নগরীতে শিক্ষকদের মানবিক প্রতিবাদ ও সমাবেশ

    সাত দফা দাবিতে নগরীতে শিক্ষকদের মানবিক প্রতিবাদ ও সমাবেশ

    বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে চলমান শিক্ষক আন্দোলনের অংশ হিসেবে, তারা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সমর্থন ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে। আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যা থেকে একটি মিছিলসহকারে শিক্ষকরা সরাসরি খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা, তাদের মধ্যে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, যারা শিক্ষক আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও দাবিগুলো সমর্থন করেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পনের বছর ধরে চলা স্বৈরশাসন, বৈষম্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অমানবিকতা মোকাবিলার জন্য দেশের ছাত্র-শিক্ষক সমাজ এখন সত্যিকারের পরিবর্তন চায়। তারা এই পরিবর্তনের জন্য নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও আদর্শের ভিত্তিতে নতুন সংস্কার দরকার বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

  • পিরোজপুরে চা দোকানিকে হত্যা: দুর্বৃত্তদের হামলা মোতাবেক তদন্ত

    পিরোজপুরে চা দোকানিকে হত্যা: দুর্বৃত্তদের হামলা মোতাবেক তদন্ত

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আলম হাওলাদার (৭০) নামে এক চা দোকানিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতের দিকে ঘটে যখন আলম হাওলাদার তার চায়ের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে উদ্ধারকার্য চালিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোকে।

    ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রাতেই তিনজনকে আটক করেছে এবং ঘটনাস্থলের তদন্ত শুরু করেছে। মঠবাড়িয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হচ্ছে দোকানে বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়া। আনুমানিক ধারণা, মাদকাসক্ত কিছু দুর্বৃত্ত এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।

    আলম হাওলাদার উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বড় শৌলা গ্রামের মৃত হাকিম হাওলাদারের ছেলে। তার ছোট ছেলে সাবেকি সরোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘‘পাওনা টাকা চাওয়ার জন্য বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন তার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে আহত করে।’’ সরোয়ার আরও বলেন, ‘‘বাবার হত্যার বিচার চাই।’’

    মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ বলছে, এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক ক্ষোভের পাশাপাশি পারিবারিক বিবাদের বিষয়ও থাকতে পারে।