Month: September 2025

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই এক ডাকা এলোপাতাড়ি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলা ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশটির রাজধানী সানা densely ধ্বংসের বর্বরতা চালায়।

    ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সানার এক অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে, যেখানে বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইয়েমেনের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, যেমন আল-জুমহুরিয়া, জানিয়েছে, আহমেদ আল-রাহাউইসহ ওই হামলায় আরও কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা নিহত হয়েছেন।

    অপর একটি সংবাদমাধ্যম এডেন আল-ঘাদ জানায়, নিহতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা রয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলির হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সম্প্রতি হুতিদের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর পরিচালিত হামলার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকেও লক্ষ করে আলাদাভাবে আঘাত হানা হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়, যদিও হামলার স্থানটি আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। তবে, হামলার প্রকৃত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি।

    ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পরে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর ফলে তখনকার প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসু হাদি সৌদি আরবের শরণার্থী হয়ে যান এবং হুতিদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব কোয়ালিশন ইয়েমেনে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালালেও, হুতিদের প্রতিরোধে তারা সক্ষম হয়নি। এখনো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে সানাকে ধরে রেখেছে।

    প্রধানমন্ত্রী রাহাভি হুতিদের প্রতিষ্ঠিত সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজা অত্র বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে হুতিরা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই, গতকাল ইসরায়েলি হামলায় এই রাষ্ট্রের নেতা প্রাণ হারালেন, যা গোটা অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি আদালত। সম্প্রতি একটি ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর তা জনসম্মুখে আসে, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করেন। এই ফোনকলে তার সেনা বাহিনীর সমালোচনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ১৫ জুনের ফোনকলটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি তিক্ততর হয়ে উঠে। এই ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হলে দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই পরিস্থিতিতে দেশটির সেনাবাহিনী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয় পেতোংতার্নকে। তিনি তখন দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রতি অবমূল্যায়ন, দেশের স্বার্থের সাথে আপোষের অভিযোগ উঠেছে। গত ১ জুলাই আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি বর্তমানে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে মোট পাঁচজন থাই প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পেছনে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও সূত্রে দেখা যায়, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকার ডন্ডা দিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুরো ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস।

    ঘটনার সূচনায়, অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটের প্রচার চলাকালে দরভাঙ্গায় এক কংগ্রেস কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করেন, যা ধরা পড়ে ভিডিওতে। এর ঠিক পরে বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

    দরভাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, মামলার নথি ঢুকানো হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

    বিহারেও এই ঘটনা নিয়ে উত্তজনা দেখা দিয়েছে। পাটনায় বিজেপি আজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। অন্যদিকে, কংগ্রেস কর্মীরাও মঞ্চে উঠে প্রতিরোধ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, এখনও পুরো এলাকা উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।

    আবার, কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের সদরদপ্তর বিধান ভবনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। সেখানে অভিযোগ ওঠে, কিছু বিজেপি সমর্থক কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। নেতৃস্থানীয় বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার ছেড়ে দেওয়া হয়।

    এমনকি, রাহুল গান্ধীর ছবিসহ বিভিন্ন ব্যানারও সেখানে দেখা গেছে। এ ঘটনার পক্ষে প্রদেশ কংগ্রেস নিন্দা জানিয়েছে এবং এন্টালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়া না হলে এ ধরনের কাজ কেউ করে না। দেশের স্বার্থে কংগ্রেস চেষ্টা করছে; কিন্তু বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে আকাশে ভাসছে। তারা এই ধরনের কাজ করছে যখন দপ্তর ফাকা ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে ডেম্যান্ড করছি, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেন, ঘটনাগুলির মদদ দিচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা। তিনি বলেন, “নীতীশ কুমার ভুল করেছেন, আমাদের জবাব দিতে হবে।”

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, “মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি সন্তান নেবে। আমরা অবশ্যই এর জবাব দেব।”

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচে নেমে গেছে। একজন গরিব মায়ের ছেলে ১১ বছর ধরে দেশ চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানা যায় না। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ভাষা লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক।”

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, “এ ধরনের অশালীন আক্রমণ চরম অগ্রহণযোগ্য। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে অবমাননা করা অনুচিত। আমি এর কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

  • গাজা সিটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত, নিহতের সংখ্যা এখন ৬৩,০০০ ছাড়ালো

    গাজা সিটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত, নিহতের সংখ্যা এখন ৬৩,০০০ ছাড়ালো

    গাজা উপত্যকার বড় শহর গাজা সিটিকে দখলদার ইসরায়েল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সেখানে এই মুহূর্তে প্রাথমিক হামলা চালাতে শুরু করেছে। সাথে সাথে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে গাজা সিটিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য আর কোনো বিরতিও দেওয়া হবে না। আইডিএফের মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক টুইটে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা গাজা সিটিতে প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছি। উপকণ্ঠে শক্তিশালী আক্রমণে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আছি।’ এর আগে, গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলি সেনারা বলেছে, ‘আজকের (শুক্রবার) সকাল ১০টার পর থেকে গাজা সিটিতে আর কোনো শান্তির্ত্ব আলোচনা চলবে না। এখন থেকে গাজা সিটি একেবারেই এক ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’ এই ঘোষণার পর, গত মাসে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসরায়েল স্বল্প সময়ের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৌশলগত বিরতি দেয়। জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাদের অনুরোধে তারা এই বিরতিকে কিছুটা সময়ের জন্য স্থগিত করে। তবে আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজায় বিভিন্ন স্থানে বোমা বর্ষণ ও হামলা চালাতে শুরু করে, শহরটির উপকণ্ঠে ট্যাংক অবস্থান নেয়। এর ফলে, প্রতিদিনই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবারের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামলায় আরও কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৪৪ জন। এখন পর্যন্ত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের মধ্যে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫ জনে। নিহতের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা হাসপাতালে অনাহর, অপুষ্টি ও যুদ্ধের কারণে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে, অক্টোবরে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে ১২১ জনই শিশু। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সাহায্য চাইতে এসে ২৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। মোট সহায়তা চাওয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ২,০২৩ জন নিহত ও ১৬,২২৮ জন আহত হয়েছেন। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২৭ মে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই আলাদা কিছু ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রাণহানি হয়। সূত্র: আল জাজিরা।

  • ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদনে জানা গেছে, কমপক্ষে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তারা বলেছেন, দিল্লি থেকে তাদের আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে করে সাগরের মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয়। এইসব নিপীড়িতরা এখন আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, কারণ তারা জানে না আবার কবে তারা স্বজনদের সাথে মিলিত হতে পারবে বা কোন পরিস্থিতির মুখে পড়বে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের এই অবহেলা রোহিঙ্গাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছে।

    নুরুল আমিন নামে একজন রোহিঙ্গা বলছেন, গত ৯ মে তিনি বর্তমানের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি জানতে পেরেছেন তার পরিবারের চারজনসহ তাকে ভারতের সরকার ফেরত পাঠিয়েছে। তারা বহু বছর ধরে প্রাণভয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, যেখানে বর্তমানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনী জোরালো লড়াই চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ এক অজানা অপূর্ণতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসরত ২৪ বছর বয়সী আমিন মনে করেন, “আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কী দুঃখ-কষ্টে আছেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।” বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদেরকে দিল্লি থেকে বিমানে করে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে শেষে আন্দামান সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা সাঁতরে তীরের কাছে ফিরে আসে। এখন তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, কারণ এরই মধ্যে তারা অত্যাচার, নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার।

    জন নামে একজন রোহিঙ্গা জানান, “আমাদের হাত পেঁচানো, চোখ ও মুখ ঢেকে জাহাজে তুলে নেওয়া হয়, তারপর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।” তিনি ও তার সাম্প্রতিক ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নুরুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “মানুষকে কোনওভাবেই এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেয়া যায়? মানবতা কোথায়?

  • খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিদায়ী সংবর্ধনা

    খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিদায়ী সংবর্ধনা

    খুলনা জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার বদলির কারণে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে একটি বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের আয়ব্যবস্থা নেন ক্লাবের সদস্যরা। অনুষ্ঠিত হয় এক আয়োজক অনুষ্ঠান, যেখানে সদস্যরা বিভিন্ন বক্তব্য ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে এই বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন, ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও কৌশিক দে, পাশাপাশি অন্য সদস্যরা, যেমন মোঃ এরশাদ আলী, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পপুলু, ইহতেশামুল হক শাওন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আব্দুর রাজ্জাক রানা, ও মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।

    অতিরিক্ত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সদস্যবৃন্দ যেমন আহমদ মুসা রঞ্জু, কাজী শামীম আহমেদ, এস এম ইয়াসীন আরাফাত রুমী, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ কামরুল হোসেন মনি, ও অন্যান্য সাংবাদিক ও সদস্যরা।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়, এবং শেষে তাকে ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই সংবর্ধনা হয়ে উঠেছিল তার পরিষেবার জন্য ধন্যবাদ জানানো এবং দোয়া করেছিলেন সবাই তার সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতার জন্য।

  • সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল বিএসফ

    সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল বিএসফ

    সাতক্ষীরা সীমান্তে এক গুরুত্বপূর্ণ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক বাংলাদেশের ১৫ নাগরিককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন বিএসএফ। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে বাংলাদেশের সীমান্তের তলুইগাছা এলাকায় জিরো লাইনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবি তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করে। এই ঘটনাটির সূচনা হয় বৈধ পথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের জন্য আটক হওয়ার পর, তারা স্বেচ্ছায় ভারতের বিএসএফের ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন।

    অটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুদের পাশাপাশি পুরুষরা রয়েছেন, যারা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ও পরিচয় রয়েছে — মোঃ সেকেন্দার হোসেন (৩৩), মোঃ আব্দুলাহ গাজী (৩৮), ঝর্ণা খাতুন (৩৮), মোছাঃ নাজমা বিবি (৩৩), মাহেরা আক্তার (৬), নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মিনা (১৩), মাফুজা খাতুন (৩৪), তানিয়া সুলতানা (১০), মাফুজ রহমান (২), মর্জিনা বেগম (৪৪), হাসিনা খাতুন (১০), রুহুল আমিন (৪০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫) এবং মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭)।

    বিজিবির সঙ্গে নিশ্চিত হওয়া যায়, মঙ্গলবার রাত থেকে এই ১৫ জন সীমান্তের হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে আটক হয়। এরপরই তাদের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা সর্ম্পকে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ করে ভারতীয় সেনাদের কাছে। বিভিন্ন স্থান থেকে তারা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছিলেন, তবে ভারতীয় পুলিশ পুলিশের ব্যাপক ধড়পাকড়ের কারণে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

    অফিসিয়ালসূত্র বলছেন, এই প্রত্যর্পণে তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, ও তাদের উপস্থিতিতে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হয়। রাতের আনুষ্ঠানিকতার পর আটকদের কয়েকজনের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, বাকিদেরও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হক জানান, এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন যে, আটক ১৫ জনকে বৃহস্পতিবার রাতে বিজিবির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই সম্পন্নের পর ১৪ জনকে পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়া হয়েছে, বাকি একজনের পরিবারের লোক আসলে তাকে আইনের হাতে থাকবে।

  • জামায়াতের সরকার গঠন হলে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবেন

    জামায়াতের সরকার গঠন হলে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবেন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, একটি দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে সেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির উপর। এজন্য একটি নির্বাচিত সরকার এর নানা দিকের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ব্যবসায়ী এবং বণিজ্য পরিবেশ মানোন্নয়ন করা, যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে এবং স্বাধীনভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। কিন্তু আমাদের দেশে তার বিপরীত দৃশ্যপট দেখা যায়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লাভের লোভে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারি করে জিনিসপত্রের কৃত্রيم সংকট সৃষ্টি করছে, যার কারণে দাম বাড়ছে। তবে সৎ ও নৈতিক মানুষ এ ধরনের কাজ করতে পারে না। জামায়াতে ইসলাম চায়, এইদেশের নৈতিকতাসম্পন্ন উজ্জ্বল ব্যক্তিরা ব্যবসায় উদ্যোক্তা হোক। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ব্যবসায়ীদের উপর চলে অবিরাম চাঁদাবাজি, কখনও কখনও চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীদের নিপীড়ন, তাদের পাথরের আঘাতে হত্যা এমন ঘটনাগুলো চরম বর্বরতা ও জাহেলিয়াতকেও হার মানায়। আমরা এ ধরনের বর্বর সমাজ চাই না। ভবিষ্যতে আল্লাহর রহমত ও আপনাদের ভালোবাসায় জামায়াত যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে ব্যবসায়ীরা পূর্ণ নিরাপদে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন। আর চাঁদাবাজি, অপপ্রচার, অরাজকতা আর অব্যাহত হিংস্রতাকে আর মোকাবেলা করতে হবে না। তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে একত্রিত হয়ে এই দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ফুলতলা বাজারের গামছা চান্দিনায় ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ শাহজাহান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারি সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা সদস্য মাস্টার শেখ সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও জন প্রতিনিধি। এর পাশাপাশি, ডুমুরিয়া উপজেলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার শুক্রবার দিনব্যাপী জনসংযোগ এবং ভোটার সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। হাসানপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুল মাঠে এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফিরোজ আহম্মেদ গাজী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন হেদায়েত হালদার। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কার্যপরিষদ সদস্য এড. আবু ইউসুফ মোঃ নামে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

  • তুহিনের ভাষ্যে: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয়

    তুহিনের ভাষ্যে: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয়

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিগুলি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গোপন বৈঠক এবং ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার মাধ্যমে তারা দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সব শক্তি সবসময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত ও ভিন্ন পথে পরিচালিত করার পাঁয়তারা করে আসছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তুহিন আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রটি আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভেতর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার নীলনকশা করছে। তিনি বলেন, এই স্বতন্ত্রশক্তি কখনো গণতন্ত্র বা মানুষের অধিকারকে সমর্থন করেনি। তাদের ষড়যন্ত্র জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়াদ্দার জলি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর থানার বিএনপি সভাপতি কে.এম হুমায়ুন কবির, মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আজাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কেএম বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আক্তার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হাসনাত আবির, সৌমেন সাহা ও আরও অনেকে।

  • রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল ও ইট তৈরির ব্যবসা প্রত্যাহার দাবি

    রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল ও ইট তৈরির ব্যবসা প্রত্যাহার দাবি

    খুলনার আঠারোবেঁকী নদীর তীরে রূপসার নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা দীর্ঘ সময় ধরে দখল করছে মেঝুরির বেশ কয়েকটি ইটভাটা, যার ফলে এলাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেসার্স এমএনএস ব্রিক্সস নামের একটি ইটভাটার মালিক এই রাস্তার অধিকাংশ অংশ কেটে নিজের ইটের পট (মাটি দিয়ে তৈরি ইটের ব্যবসা) তৈরির জন্য ব্যবহার করছে। এতে ঐতিহ্যবাহী এই রাস্তা দুঃখজনকভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। এলাকাবাসীর দাবি, এইরাস্তার অবিলম্বে দখল মুক্ত করে সাধারণ জনগণের চলাচলের জন্য পুনর্স্থাপন করা জরুরি। বৃহত্তর জনস্বার্থে কাজ না হলেই কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন ক্ষোভে প্রতিবাদকারীরা।

    নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তা দিয়ে রামনগর, কচুয়া এবং অন্যান্য গ্রাম থেকে নেহালপুর খেয়াঘাটে আসা যায়। সেই বছরের পর বছর ধরে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি অবৈধ দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ চলাচলে খুবই দুর্ভোগে পড়েছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই পুরাতন রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এমএনএস ব্রিক্সসের মালিকের স্বার্থে জবরদখল করা হয়েছে। মনোযোগ না দিলে ভবিষ্যতেও সমস্যা লাগামছাড়া থাকবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

    অভিযুক্ত এমএনএস ব্রিক্সসের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, পাঁচ বছরের জন্য ইটভাটা পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে তাদের। তিনি বলেন, সরকারি রাস্তা দখলে রাখার বিষয়টি নতুন নয়, তবে সরকার চাইলে আবার রাস্তা মুক্ত করে দিতে পারবে। অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে জানানো হয়েছে, এই রাস্তা জেলা পরিষদের বলে, এবং এটি বিভিন্ন গ্রামের মানুষের নিয়মিত চলাচলের জন্য ব্যবহৃত। ভাষ্যকাররা বলছেন, রাস্তার দখল ও অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত কাজ চালিয়ে যাওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা আক্তার রিক্তা বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, এই সরকারি রাস্তাটি অবিলম্বে উদ্ধার না হলে তাদের মানববন্ধন ও কঠোর আন্দোলন আসন্ন।