Month: September 2025

  • প্রায় তিন বছরে দারিদ্র্য ২৮ শতাংশে বাড়লেও খাবারের খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    প্রায় তিন বছরে দারিদ্র্য ২৮ শতাংশে বাড়লেও খাবারের খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি এখন খুবই উদ্বেগজনক মোড় পাওয়া গেছে। তিন বছরের ব্যবধানে দেশের দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ, যা আগের সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) একটি সাম্প্রতিক জরিপে। ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এই ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে গবেষণার বিশদ কারিগরিত্ব তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান। এই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অতি দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এটি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, আর ২০২৫ সালে এসে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর অর্থ, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং এখনো প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার কোনও কারণে দ্রুত গরিব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই গবেষণা মে মাসে ৮,۰৬۷ পরিবারের ৩৩,২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।

  • এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর বাস্তবায়ন কালো আইন

    এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর বাস্তবায়ন কালো আইন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান ন্যূনতম করের আইনকে একে একে কালো আইন বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘করপোরেট কর এবং ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআর এর জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংলাপে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

    তিনি বলেন, ন্যূনতম কর নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এবং এটা নিশ্চিতভাবেই একটা কালো আইন। আমাদের দেশের ব্যবসায়িক স্থিতি বিবেচনায়, করের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মুনাফা। কিন্তু আমরা মিনিমাম করের মাধ্যমে সেটি না করে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করছি। সমস্যা হলো, এই বিধানগুলো যদি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করি, তবে দেশের কর আহরণ কমে যেতে পারে। তাই বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ হয়। এই বছর আমরা ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়েছি, কারণ ব্যবসায়ীদের সুবিধা না দিলে রাজস্ব সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।

    সংলাপে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, করছাড়ের বিষয়ে প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে কর-জিডিপি অনুপাত ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের বড় জনগোষ্ঠী ও বড় কর্মীবাহিনী থাকলেও ব্যাপক করছাড়ের কারণে কর আদায়ের হার সন্তোষজনক নয়।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন সময় করছাড়ের মাধ্যমে কিছু খাতকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কর মুক্ত রাখা হয়, যা প্রকৃত উন্নয়ন ও রাজস্ব উন্নয়নে অন্তরায়। ফলে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির জন্য এই অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।

    অন্যদিকে, তিনি বলেন, ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে, কারণ দেশের প্রাপ্যটা যথাযথ রাজস্ব সংগ্রহ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বোঝা বাড়বে। গত বছরের তুলনায় গতবছর কর-জিডিপি অনুপাত আরও কমে গেছে, যা মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের উন্নয়ন ও ঋণ পরিশোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কর আহরণ আরও জোরদার করতে হবে।

    নতুন আরেক প্রকল্পের কথা বলছিলেন তিনি, যেখানে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআরকে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর ফলে, ভ্যাট রিটার্ন ও কর রিটার্ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে, এবং অডিটের মানও উন্নত হবে। বর্তমানে অডিটের ম্যানুয়াল পদ্ধতিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে একই ব্যক্তি বারবার অডিটের আওতায় না পড়ে। ভবিষ্যতেই অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে অডিট পরিচালনা করা হবে, যা করদাতাদের জন্য সুবিধাজনক।

    কর জাল ও করদাতা অটোমেশন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, করের পরিধি বাড়ানো গেলে কর হার ও ভ্যাট হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়বে। করদাতাদের জন্য রিফান্ডও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

    সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, বর্তমান করহার অযৌক্তিক ও ব্যবসার জন্য বড় বাধা। একই সঙ্গে, প্রায় ৭৯ শতাংশ ব্যবসায়ী কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাবকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কর প্রশাসনে দুর্নীতিও তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ ব্যবসায়ী নিয়মিত কর দাবির জন্য কর কর্মকর্তাদের দায়িত্বে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। বেশিরভাগই অভিযোগ করেন, কোনো ব্যাখ্যা বা পূর্বাভাস ছাড়াই কর আরোপ করা হয়।

    ভ্যাটের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সমস্যা উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারী ৭৩.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, জটিল ভ্যাট আইন ও অস্পষ্ট নীতিমালা তাদের জন্য বড় বাধা। পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাসে জটিলতা, কর কর্মকর্তাদের সীমিত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতায় উঠানামা ও উচ্চ ব্যয় এসব বিষয়েও তারা উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসহ মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানে এই জরিপ চালানো হয়।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করতে সরকার নগদ নামের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে বেসরকারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা এমএফএস খাতে আরও বেশি কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে চাই। এ জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে আমরা নগদকে বেসরকারি করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে আনছি। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘অর্থাৎ, সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।’ গভর্নর জানান, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনস্থ নগদকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে কারণ ডাক বিভাগের এখন এটি পরিচালনার সক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।’ গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুনভাবে নগদকে গড়ে তুলতে পারলে এটি এমএফএস খাতে একজন প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণে বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগের প্রস্তাবনা সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাবনা পৌঁছেছে। এই তথ্যটি আজ (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় জানানো হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত এই বিনিয়োগের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছয়শত ছুরাশি বা ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

    বিডার প্রতিনিধির মতে, এ পর্যন্ত মোট ২৩১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মোট প্রস্তাবনার প্রায় ১৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের স্তরে এই রূপান্তরের হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি।

    এছাড়াও, বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর জন্য নানা উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি কন্টেইনার জটলা পড়ে থাকলেও, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে গত দুই মাসে এক হাজারের বেশি কন্টেইনার নিলামে বিক্রি হয়েছে।onikনা বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নিলাম কার্যক্রম আরও দ্রুত করা হচ্ছে। আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনারের নিলাম কার্যক্রম চলবে ও পণ্য হস্তান্তরের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা বেজা, বেপজা, বিসিকের পরিষেবাগুলোকে একসঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই প্রজেক্টের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়। আগামির মাসের প্রথম সপ্তাহে এর সফট- লঞ্চের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মটি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালানো হয়েছে।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পৌঁছেছে। বুধবার দিনের শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী (বিপিএম৬) রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত রোববার এর পরিমাণ ছিল গ্রস রিজার্ভে ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে ২ মার্কিন ডলার পরিশোধের পর তার রিজার্ভ কমে যায়। এর ফলে গ্রস রিজার্ভ হয় ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী সেই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপর দিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানির আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের অবদান সাধারণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলস্বরূপ, গত জুন শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ পৌঁছেছিল ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার—যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, ২০২৩ সালের মার্চের শুরুতে, রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। সেই সময়, বিপিএম৬ অনুসারে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। এবং, ২০২৩ সালের জুনে এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের মাইলফলক ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন এটি ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপর এটি ধারাবাহিকভাবে কমে যেতে থাকে, এবং ২০২৩ সালের জুলাই শেষে তা ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে, সরকারের বিভিন্ন ধরনের নীতি, অর্থ পাচারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং হুন্ডি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে দেশের প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

  • ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপির খুশি

    ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপির খুশি

    আরেকজন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আোরণের জন্য রোডম্যাপের ঘোষণা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। সালাহউদ্দিন জানান, সময়মতো এই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা ছিল। তারা আশাবাদী, এই রোডম্যাপ অনুসারে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সদৃশ, সংগ্রামী নাগরিকশিক্ষিত ও দায়বদ্ধ সরকার রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে।

  • উদারপন্থার রাজনীতি থেকে উগ্রবাদে পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি, মির্জা ফখরুল বললেন

    উদারপন্থার রাজনীতি থেকে উগ্রবাদে পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি, মির্জা ফখরুল বললেন

    দেশে উদারপন্থী ও মধ্যপন্থী রাজনীতি থেকে উগ্রবাদী ভাবধারার দিকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বর্তমানে দেশে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, যার লক্ষ্য হলো উদারপন্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বদলে দিয়ে উগ্রবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে বলে তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের একে অন্যের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে যাতে উদারপন্থা ও গণতন্ত্রের মানস62ে টিকে থাকা সম্ভব হয়।

    তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকুক, বিভিন্ন চিন্তাভাবনা থাকুক, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা খুবই উদ্বেগজনক। জনগণ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে এবং প্রশ্নে তুলছে—বVoting হয় তো? এমন শঙ্কা ও হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, নির্বাচন হবে অবশ্যই এবং এ সম্পর্কে ঘোষণা সময়মতো দেওয়া হবে। নির্বাচন না হলে বা বন্ধ হলে দেশের জন্য বড় বিপদ সৃষ্টি হবে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে বোঝানো হচ্ছে যেন আবার ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। বিদেশেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তাই দ্রুত ও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি, যার মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে পারব বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।সংবাদ অনুষ্ঠানে তিনি এই সব বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে ভাবনা: তাহেরের অভিযোগ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

    নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে ভাবনা: তাহেরের অভিযোগ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

    আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচনের জন্য ঘোষণা করা রোডম্যাপটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি নয়, বরং এটি একটি ভণ্ডুলের নীল নকশা। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনকে ঘিরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুরাহা প্রয়োজন থাকলেও এটির প্রতি নজর না দিয়ে নির্বাচনের পথে যে নকশা ঘোষণা করা হয়েছে, সেটিই মূলত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অংশ। তাহের বলেন, “আমরা জানি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই। আমরা ১৫ ফেব্রুয়ারির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে হলে জুরি চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেইসঙ্গে, নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা জাল ও অপ্রতিষ্ঠিত। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আমার ধারণা।” তিনি আরও জানান, তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবে জুলাই চার্টার রিফান্ড এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন কার্যকর করার জন্য। তাহের আরো বলেন, “অবস্থা বিবেচনায়, পুরনো সিস্টেম বা নতুন পদ্ধতি—দুটোতেই সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত নয়। এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমাদের জনগণ একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে দেশের দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, ভারতীয় আধিপত্যবাদকারী শক্তি ও চাঁদাবাজ বিরোধী আওয়ামী দল বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যেখানে সত্য, ন্যায় ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হবে।” এ সময় বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মো মাহফুজুর রহমান, জামায়াতে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম প্রমুখ।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে গুজব ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি কোনও সংশয় থাকে, তাহলে আসুন তার সমাধান ও আলোচনা করি। কোনওভাবেই ঐক্য ভাংগার চেষ্টা চলবে না; বরং আলোচনা ও গণতান্ত্রিক পথ দিয়ে এই বিভেদের অবসান ঘটাতে হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ গুমের শিকার না হন তার জন্য আমরা সবাই সংগ্রাম করছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি বলেন, যদি জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে সরকারে বসাতে চায়, তাহলে আমরা গুম, অপহরণ ও অপ্রকাশিত অভিযোগের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের লক্ষ্য এমন এক বাংলাদেশ গড়া যেখানে কোনো নাগরিক গুমের শিকার হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।

    শনিবার, ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আরো বলেন, আমি ভাগ্যবান যে আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, কারণ আমার অনেক সহকর্মী সেই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দোষত্রুটির জন্য তারা কোনও অনুশোচনা করেনি। উল্টো তারা বিচারাধীন আন্দোলনকারীদের অপরাধী বলে প্রচার করছে। এরপরও কি জনগণ তাদের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেবে? মানুষ কি কখনো ক্ষমা করবে? তারা ক্ষমা চায়নি।

    তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা ছড়াচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে এসব সময় দুঃশিস্য দূর করতে হবে। একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিভাজন কাটিয়ে উঠতে হবে। কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট করতে দেয়া যায় না।

    আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তো গুমের শিকার কয়েকজন ফিরে আসলেও, আরও অনেকের খোঁজ এখনো মেলেনি। তারা আশার আলো দেখিয়েছিলেন যে, সরকার গুমেরাদের ফেরত আনবে বা তথ্য দিয়ে বিচার শুরু করবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কিছুই হয়নি।

    গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হওয়া এক ব্যক্তির পরিচয়। তিনি জানায়, আরও চারজনের সঙ্গে তিনি গুমে ছিলেন। দুইজন ফিরে এলেও, তিনজন এখনও আটকে রয়েছেন। ফিরে আসার পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্রের মামলায় সাজা হয়, যা এখনো বহাল। তিনি অজ্ঞাত জেলখানায় থাকায় এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি দাবি করেন, তার গুমের সময়কার সাক্ষী তিনি, কিন্তু পরবর্তীতে গুমকারীরা এখনও সরকারি চাকরিতে বহাল আছেন।

    ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির আন্দোলন চলাকালে, রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবার দোকান ছিল। একদিন পুলিশ তুলে নিয়ে যায়, তারপর বিভিন্ন থানায় মামলা, কারাগার এবং হাসপাতালের মধ্য দিয়ে তার বাবার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর আগে তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে কিছুই খেতে পারেননি, এবং পুলিশ তাঁকে নির্যাতন করেছে।

    সজল কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, বাবাকে তুলে নেওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। বাবার মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে তিনি শেষবারের মতো বাবার সঙ্গে দেখা করেন। তার থাকায় তিনি যান হৃদরোগ হাসপাতালে, যেখানে বাবাকে মৃত অবস্থায় পেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, বাবার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা আমরাও একসময় বুঝতে পারি।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ বড় বিপদে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ বড় বিপদে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত এক আলোচনার সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তাহের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো যে তারা দেশের সংস্কার করবে। জনগণও সেই পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট দেখাচ্ছে। এর মানে কি, তারা সংস্কার চায় না? বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই সংস্কার প্রক্রিয়া বাধা পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মান্যতা দিয়েছি, তাই প্রত্যাশা করি সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। তাহের আরও বলেন, রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে स्पष्टতা দরকার। আমরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে আছি। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা চাই না দেশের ইতিহাসে অন্ধকার সময় ফিরে আসুক। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হলে দেশ মহাখাজখাঁঁর দিকে এগিয়ে যাবে। তাহের বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের দরকার এমন নির্বাচন ব্যবস্থা যা সাধারণের জন্য গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, নির্বাচন তারিখ নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই, তবে সংস্কার শেষ না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত নয়। নির্বাচন যদি বিলম্বিত হয় বা প্রতিবন্ধকতা থাক যায়, তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।