আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, যা বিএনপি দলটি ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়। তিনি বলেছেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণাটি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। এটি দেখিয়ে দেয় কমিশন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের মূল্যবান বার্তা হলো, আমরা খুশি এবং আমাদের মনোভাব খুবই ইতিবাচক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনগণের জন্য এটি একটি সুসংবাদ এবং আমাদের প্রত্যাশা খুব দ্রুত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ এই রোডম্যাপের মাধ্যমে মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কবে নাগাদ নির্বাচন হবে এবং কোন পথে দেশ এগোবে। বিএনপি মহাসচিবের মূল্যবান মন্তব্যের পাশাপাশি দলটির সিনিয়র নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নির্বাচনের এই রোডম্যাপ ঘোষণা দেশের জন্য একান্তই শুভ সংকেত। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবে। সবাই আশা করছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন সরকার গঠন হবে এবং সংসদ প্রতিষ্ঠা পাবে, যা জনগণের জন্য দায়বদ্ধ এবং জবাবদিহির মধ্যে থাকবে। তিনি ভবিষ্যতেও অর্থনীতি দ্রুত সুদৃঢ় হবে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরিত হবে বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এ রোডম্যাপ ঘোষণা দেশের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এর সমর্থন ছিল। এখন সরকারের উচিত, এই রোডম্যাপ অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যাতে জনগণের আশা পূরণ হয়। তাদের এই প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতে একটি নতুন সরকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
Month: September 2025
-

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদ আনার চেষ্টা চলছে
দেশে উদারপন্থী রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের একটি বইয়ের প্রকাশনায় এই মন্তব্য করেন তিনি। বইটির লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম, যা ইতি প্রকাশন প্রকাশ করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মধ্যে আমরা আছি। সেই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য হলো, গণতন্ত্রের মূলধারা—উদারপন্থী ও মধ্যপন্থি রাজনীতি ও গণতন্ত্র—কে সরিয়ে দেয়া এবং এর পরিবর্তে একভিন্ন সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী রাজনীতির সূচনা করা। এই পন্থা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। আমাদেরকের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে উদারপন্থী গণতন্ত্রকে ফিরে আনতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে, তারা সন্দেহ করছে—কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কি হবে নির্বাচনের ব্যাপারে। তিনি বলেন, নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী, এবং যা ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা সময় মতো অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, নির্বাচন না হলে দেশের ক্ষতি মহা, এবং এই দুর্যোগে যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, সেটি আরও সম্ভাবনা বাড়াবে।
মির্জা ফখরুল সোচ্চারভাবে বলছেন, বিভিন্ন দেশ ও মহলে এই ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে পুনরায় মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। তাই, অন্যতম প্রধান দাবি হলো দ্রুত ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব—এমনটাই তার অভিমত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন—নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি সুশাসন, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথে এগিয়ে যাব।
-

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঢালাও পরিকল্পনা ভঙ্গুর: তাহের
নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত রোডম্যাপের ঘোষণা নিয়ে বিষদ মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপ্রয়োজনীয় ভঙ্গুর নকল পরিকল্পনা হতে পারে। আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।
ডা. তাহের উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোন আপত্তি নেই। তারা ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে, একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান জরুরি। এর মধ্যে জুলাই চার্টার আইনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই নির্বাচন পরিচালিত হতে হবে। তবে, এই বিষয়গুলো না করে নির্বাচন কমিশন ডিজাইনের নামে যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তাকে তিনি মনে করেন একটি স্বচ্ছ নির্বাচন সফলতাকে হঠাৎ ভঙ্গুর করে ফেলতে পারে।
তাহের আরও বলেন, আমরা সরকারি ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবো জুলাই চার্টার আইনের প্রতিফলন ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য। এছাড়া, পুরনো ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতির মধ্যে একটা নির্ধারিত হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপের ঘোষণা দণ্ডনীয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রায়ই ভুল পথে পরিচালিত হয় এবং এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনগণ একমঞ্চে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কল্পনা করছে। যদি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে দেশের জনগণ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দুর্নীতি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করবে। এই নির্বাচন থেকে আমরা একটি নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।
এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মো মাহফুজুর রহমান। বক্তব্য দেন জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারি সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমসহ আরও অনেকে।
-

নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে দু-একটি দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট-ақ বলেছেন, যদি কোনও সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে আসুন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করি। কোনোভাবেই ঐক্য ভেঙে যাওয়া উচিত নয়; বরং আলোচনা ও কথোপকথনের মাধ্যমে দইয়ে বিভাজন ও দোদুল্যমানতা দূর করতে হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ভবিষ্যতে কেউ গুম হয় না। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বলতে চাই, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আনার সুযোগ দেয়, তাহলে গুমের মতো নেক্কারজনক ঘটনাগুলো রোধ করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। আমরা একটি বাংলাদেশ গড়তে সংগ্রাম করছি যেখানে কেউ গুমের শিকার হয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।
শুক্রবার ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই সব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আরো বলেন, আমার ভাগ্য ভালো যে, আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি। আমার অনেক সহকর্মীর সেই সৌভাগ্য হয়নি।
অপরাধের জন্য বিগত সরকারের কোনো অনুশোচনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বরং, জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে তারা নানা অপবাদ ও অপরাধের অভিযোগ তোলে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ কি তাদের রাজনীতি পুনরায় স্বাগত জানাবে? তারা ক্ষমা চাইনি এবং এখনও চাইতে নারাজ।
তিনি আবারও উল্লেখ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। যদি কোনো সংশয় থাকে, তাহলে আসুন আলোচনা করি। ঐক্য ভাঙার কোনও সুযোগ নেই; বরং আলোচনার মাধ্যমে সকল বিভ্রন্তি দূর করতে হবে।
আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে গুম হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি ফিরে এসেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন আরও অনেকের ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এখনও কিছুই পারেননি সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনেক আশ্বাস দিয়েছিল—যাদের গুম হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বা অন্তত তাদের তথ্য দিয়ে বিচার শুরু করা হবে। এখনো তারা কিছুই আদায় করেনি।
গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেছেন, তিনি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হন। এরপর তিনি আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, যারা একই সময়ে গুম হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি ও অন্য একজন ফিরে এলেও তিনজন এখনও নিখোঁজ। তার নামে একটি মামলাও করা হয়েছে, যেখানে তার বিচার হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মামলাটি থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন, কারণ তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। তিনি জানিয়েছেন, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এখনো সরকারের চাকরিতে থাকছেন।
আরেক স্মরণীয় ঘটনা হলো, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির আন্দোলনের সময় মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজল আটক হন। পুলিশ হেফাজত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবার চায়ের দোকান ছিল। ২৮ তারিখে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন থানার মাধ্যমে পুলিশ পল্টন ও কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করে। সেখানে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। শোনেন, তার বাবা মারা গেছেন হাসপাতালে, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ব্যবহারের ছিল।
সজল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার বাবাকে ধরা থেকে শুরু করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আটকের পরে তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত হয়নি। এই কষ্ট ও দুর্ব্যবহার তার মনে গভীর আঘাত করেছে।
-

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগোবে: আবদুল্লাহ তাহের
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা উল্লেখ করেন।
তাঁরা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো যে, তারা দেশের সংস্কার চালাবে এবং জনগণও সেই পরিবর্তন চায়। কিন্তু এই সংস্কার প্রসেসে কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট দেখাচ্ছে, যা বোঝায় যে তারা সংস্কার চায় না। এ বিষয়টি অশুভ ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতি দিয়েছি, এবং এই স্বীকৃতি অনুযায়ী সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু, ন্যায্য নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচনী পদ্ধতি স্পষ্ট করতে হবে। তাঁরা পিআর (প্রিপারেটিভ রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষপাতী। তাঁরা বলেন, তারা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতের পথে ফিরে যেতে চান না। যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারাও কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। গড়পরতা সিদ্ধান্ত না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
আবদুল্লাহ তাহের আরও বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের স্বার্থে যা কল্যাণকর, সেটাই নেওয়া হবে। তবে মতের সংঘর্ষ পরিস্থিতি উন্নতি না এনে শুধু সমস্যা বাড়ায়। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান, পিআর পদ্ধতি ভিত্তিক নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের জন্য সময়কাল নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি ছিল না। তবে সংস্কার শেষ না করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা চান, সরকারের ঘোষিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে নির্বাচনের আগে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলোর সমাধান করা জরুরি বলে তিনি জোর দেন।
-

কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা, আইএসপিআর বলছে
রাজধানীর কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সহিংসতার পরিস্থিতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ (৩০ আগস্ট) শনিবার একটি বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টায় কাকরাইলে দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কিছুজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা চালায়, কিন্তু পরিস্থিতি আরো গুরুতর হলে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা চায়। এরপর পুলিশ যখন মারাত্মক আক্রমণের শিকার হয় এবং অনেকেরই আহত হন।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত হয়ে স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানিয়েছিল যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে বারবার অনুরোধ উপেক্ষা করে কিছু নেতাকর্মী মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও অশান্ত করে তোলে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আঘাতের পাশাপাশি রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চলে।
এছাড়াও, এই সহিংসতায় বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও সংলগ্ন এলাকা বজ্রাঘাতের মতো জনচলাচল ব্যাহত হয়, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসুবিধা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধান ও বুঝাবুঝির সব প্রচেষ্টা উপেক্ষা করে বেশ কিছুজনের দ্বারা হামলা চালানো হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না আসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়। এই ঘটনায় প্রায় ৫ জন সেনা সদস্য আহত হন।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, সরকার সব ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই সিদ্ধান্তের পুনর্ব্যক্তি করে জানিয়েছে যে, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে তারা সব সময় কঠোর অবস্থানে থাকবে। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত।
-

নূর খান: এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ এখন পর্যন্ত
গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন এখন পর্যন্ত ১৮০০ এর বেশি অভিযোগ পেয়েছে। এই অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে গুম দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রিপ্রেশন টু রেভলুশন’ শীর্ষক আলোচনায় এই তথ্য জানিয়েছেন গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান।
নূর খান বলেন, এই কমিশনের কাজ তদন্ত করা নয়। ফলে আমরা রিমান্ড বা গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। আমাদের মূল কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান। ভুক্তভোগী, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, যারা এই গুমের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের অনেককেই এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া অনেক চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নূর খান জানিয়েছেন,প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীকে ধরে নিয়ে কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু তথ্য পরিষ্কার হয়েছে। তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের কারা নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক এখনো রয়ে গেছে।
তনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কমিশন তাদের কাজের একের কিছু অংশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে পারবে। তবে, এক হাজার ৮০০ অভিযোগের সামগ্রিক প্রতিবেদন একযোগে দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
-

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য
দক্ষিণ সুদানের জুবা এবং মালাকাল এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট (ব্যানএফএমইউ-10) এর ১৯৯ সদস্য এই মর্যাদাপূর্ণ শান্তিরক্ষা পদক লাভ করেছেন। এর স্বীকৃতিতে গত বুধবার জুবাতে একটি বিশেষ মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের সম্মানে এই মেডেল প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আনমিসের হেডকোয়ার্টারের কর্মকর্তারা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মেডেল প্যারেডে ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং তাদের সাহসিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে এতটুকু পরিবেশে শান্তিরক্ষা কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নীল নদে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও তারা অপারেশন চালাচ্ছে, জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্যসমূহ পরিবহনে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। এছাড়াও নদীতে নিয়মিত টহল, উদ্ধার ও ডাইভিং অপারেশন, রেকি চালানো এবং জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাগুলির নদী পথ নিরাপদ করার জন্য মাঠে কাজ করছে তারা। তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রেসক্লাবকে এই কাজে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। বিশেষ করে, তারা আনমিসের একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, যেখানে দেশের দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটারের নদী পথে বিভিন্ন সম্পদ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা ৭১টি লজিস্টিক অপারেশনের মাধ্যমে এই মিশনের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছে। মোতায়েনের পর থেকে তারা দক্ষিণ সুদানের সরকারের সাথে কাজ করে দেশটির উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে চলেছে।”
অন্যদিকে, উত্তাল ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় গৌরবময় ভূমিকা পালন করছে, দেশের পতাকা উড়িয়ে মহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রশংসিত হয়ে চলেছে।
-

বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মান্যতা দেওয়া হবে না
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এ সবই বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় স্বার্থ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাজনের মাধ্যমে দেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুক্রবার সকালে গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আমাদের জন্য নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি হচ্ছে সেই মাধ্যম যার মাধ্যমে আমরা বিচার এবং সংস্কার সম্পন্ন করতে পারি। নির্বাচন ছাড়া মানুষ অন্ধকারেই থাকবেন, অন্ধকারে থাকাকালীন অন্যায়ের মোকাবিলা করাও কঠিন। তিনি আরও যোগ করেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, তাই সবার উচিত এই বাস্তবতার স্বীকৃতি ও গ্রহণ করা। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং এই মাধ্যমে আমরা যে সংস্কারের পথচলা শুরু করেছি, সেখানে একটি জাতীয় সনদ তৈরি হচ্ছে, যা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেছেন, দ্রুতই দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা ও সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ সুস্থ, স্বাধীন ও নিরপক্ষ হয়। এই পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং তারা আগামী দিনগুলোতে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন তারিকভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা লাপেটের কোনো ঘটনা ঘটলে তা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশেকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার, অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যখন বাংলাদেশ সময়ের চাপে রয়েছে। ২০২৪ সালে জাতীয় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসন পতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, এই শাসনব্যবস্থার একেবারে উচ্ছেদ হয়নি। তিনি বলেন, স্বৈরশাসন আর ফ্যাসিস্ট শাসন কেবল পতনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না, শাসনব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারেনি; বরং এটি ছিল স্বৈরতান্ত্রিক, যেখানে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল এক ব্যক্তির হাতে। এই স্বৈরাচারী কাঠামোতেই একের পর এক শাসন, হত্যা ও জুলুম চালানো হয়েছে। এই কারণে এখন জরুরি সংশোধনী ও কাঠামোগত পরিবর্তন।
সাকি জানান, এখনো দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা গণঅভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগের সত্যতা অস্বীকার করার চেষ্টায় লিপ্ত। তারা গণআন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে বিদেশি ও দেশীয় ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, অর্থের যোগান দিচ্ছে এবং বিভিন্ন অপতৎপরতা সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে মব রাজত্ব কায়েম করতে কিছু গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে। তিনি বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারিত্ব, অন্যদিকে দক্ষিণপন্থি উত্থানের সব ধরনের ষড়যন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার বিরুদ্ধ।
সাকি emphasizing গেছেন, জনগণের মূল চাওয়া একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। তিনি বলেন, অন্যায়ের পাশে দাঁড়াবেন না, কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্রে প্রশ্রয় দেবেন না। আইন ও গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রেখে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে, অন্যথায় নিজেদেরই ফ্যাসিবাদের শিকার হয়ে পড়তে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে এবং অপশক্তি এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে পারবেন না।
অন্তর্বর্তী সময়ে, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনের যৌথ রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে যাত্রা শুরু করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা এবং বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নানা গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার পর, ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিলে গণসংহতি আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
-

জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে
ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ প্রশস্ত করেছে। এই অভ্যুত্থান দেশের ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্তমূলক গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন, যিনি বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিভিন্ন সংস্কার ও পরিবর্তন শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যেকোনো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ তার অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশে আরোপিত মার্কিন শুল্কের বিষয়েও বাংলাদেশের সফলতা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে নির্দেশ করে। এই সমস্ত পরিবর্তন ও উন্নয়ন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
