Month: September 2025

  • খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিদায়ী সংবর্ধনা

    খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিদায়ী সংবর্ধনা

    খুলনা জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার সাম্প্রতিক বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিদায়ী সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি शुक्रवार সন্ধ্যায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়। এতেই সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক, এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা তার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নিজের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন, প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও কৌশিক দে, পাশাপাশি ক্লাবের অন্যান্য সদস্যগণ, যেমন মোঃ এরশাদ আলী, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পপলু, এহতেশামুল হক শাওন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আবদুর রাজ্জাক রানা এবং মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।

    অতিরিক্তভাবে, প্রসঙ্গক্রমে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্যরা—আহমদ মুসা রঞ্জু, কাজী শামীম আহমেদ, এস এম ইয়াসীন আরাফাত রুমী, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ কামরুল হোসেন মনি ও অভিজিৎ পালসহ অন্যান্য সাংবাদিকগণ। অনুষ্ঠানটির শুরুতেই মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ফুলেল শুভকামনা জানানো হয় এবং শেষে ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই সমাবেশের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়, যা তাদের জন্য এক স্মরণীয় ও সুন্দর মুহূর্তে পরিণত হয়।

  • সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত দিলো বিএসএফ

    সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত দিলো বিএসএফ

    সাতক্ষীরার সীমান্তে পতাকা বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আটকের পর তারা স্বেচ্ছায় ভারতীয় বিএসএফ হাকিমপুর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে, যখন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনে এই পতাকা বৈঠক পরিচালিত হয়। এরপর রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবি তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর থানায় সোপার্দ করে। জানা গেছে, তারা সবাই অবৈধভাবে ভারতের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, তবে সাম্প্রতিক ভারতীয় পুলিশের ব্যাপক ধড়পাকড়ের কারণে তারা দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    আটকদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা, যেমন- শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালীর আব্দুর রব সরদারের ছেলে মো: সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মো: আব্দুল্লাহ গাজী (৩৮), যোগেন্দ্রনগরের ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি গোলাখালী এলাকার মো: মিকাইল মোলার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বিবি (৩৩), তার মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), ছেলে নাজমুল হাসান নাইম (১৬), আরও রয়েছে অন্যরা।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকালে তারা স্বেচ্ছায় ভারতের বিএসএফের হাকিমপুর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর দুই দিন ধরে সেখানেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের পরিবার ও স্বজনের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ডিবি সূত্র বলছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সাতক্ষীরার পুলিশ বলছে, ১৪ জনের পরিবারকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর একটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই ব্যক্তিকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

    অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হক বলছেন, আটকদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরে রাতে তাদের স্থিতি বুঝে চারজনের পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

  • জামায়াতের সরকার গঠনে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবেন

    জামায়াতের সরকার গঠনে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবেন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, একজন দেশের উন্নতি এবং অগ্রগতি নির্ভর করে সেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কেমনভাবে চলবে তার উপর। এই কারণে একটি নির্বাচিত সরকার কর্তৃপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি উল্লেখ করেন, যখন ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নিরাপদে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, তখন তারা দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারি করে জিনিসপত্রের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন, যা প্রচুর মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সৎ ও নৈতিক মানসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ এ ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন না। জামায়াতে ইসলাম চায়, দেশসুদ্ধ সৎ, নৈতিক ও বিবেকবান ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু আমাদের দেশে দুর্বৃত্তদের দ্বারা ব্যবসায়ীদের উপরে নিরব চাঁদাবাজি ও চরম হুমকি-ধামকি চালানো হচ্ছে। এক শ্রেণির চাঁদাবাজ ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা করার মতো ন্যংরা ঘটনাও ঘটছে, যা এমনকি আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানায়। আমরা এসব বর্বর ও অসভ্য সমাজের প্রবৃত্তি অবশ্যই মেনে নেব না। যদি আল্লাহর রহমত এবং আপনাদের ভালোবাসায় জামায়াত একটি শোষণহীন, শান্তিপূর্ণ সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে। আর কোনো ব্যবসায়ী চাঁদাবাজের ভয়ে জীবনের নিরাপত্তা হারাবেন না, পালিয়ে বেড়ে আতঙ্কিত হবেন না। তিনি আহ্বান জানান, ব্যবসায়ীরা একত্র হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবেন।

  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো פעילי হয়ে উঠেছে: তুহিন

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো פעילי হয়ে উঠেছে: তুহিন

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলো আবারো সক্রিয় হয়ে উঠছে। তারা বিভিন্ন গোপন বৈঠক এবং ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের শক্তিগুলো সব সময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনের পথ রুখতে চায় এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পাঁয়তারা করে আসছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন। তুহিন বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরাই এ আসন্ন নির্বাচনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীলনকশা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এই শক্তিগুলো কখনোই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারকে সমর্থন করেনি। তাদের ষড়যন্ত্রগুলো জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার জলি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে.এম. হুমায়ুন কবির। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আসাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কে.এম. বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আক্তার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হোসনাত আবির, সৌমেন সাহা প্রমুখ।

  • রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল এবং ইট তৈরির ব্যবসা: এলাকাবাসীর করুণ আকুতি

    রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল এবং ইট তৈরির ব্যবসা: এলাকাবাসীর করুণ আকুতি

    খুলনাসহ রূপসার আঠারোবেঁকী নদীর কোলঘেঁষা নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা দীর্ঘ দিন ধরে জবরদখল ও অবৈধভাবে ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রথমদিকে জনগণ বিনা বাধায় চলাচল করলেও, সম্প্রতি এর দখলদাররা মাটি দিয়ে তৈরি ইটের পট বানিয়ে ব্যবসা চালু করায় সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছ, নেহালপুরের প্রাইভেট কোম্পানি এমএনএস ব্রিক্সের মালিক মিঠু ও তার ব্যবসায়ীরা এই রাস্তা জোড়পূর্বক দখল করেছেন এবং সেখানে ইটভাটা চালু করেন। এর আগে সিবিআই ব্রিক্সের সাবেক মালিক সাত্তারও একইভাবে সরকারি রাস্তা দখলে এনে অবিচল ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মাটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানালেও কোন বাধা দেয়া হয়নি। এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এটি ঐতিহ্যবাহী ও জনঝুঁকিপূর্ণ একটি রাস্তা যা বহু বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল। দুর্ভাগ্যবশত, দখলদাররা রাস্তাটি সরিয়ে না নেওয়ায় সাধারণ জনগণের চলাচল ও প্রাকৃতিক স্বাভাবিক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। এলাকাবাসীর মত, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণের একত্রিত আর্জি, অবিলম্বে এই রাস্তা দখল মুক্ত করে নাগরিক সুবিধার জন্য সচল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারি রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দখল মুক্ত করার জন্য প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সংশ্লিষ্ট সবাই এ দাবি মান্য করে, এই গুরুত্বপূর্ণ জনচলাচলের রাস্তা দ্রুত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মুক্ত করে দেয়ার জন্য প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮%, খাবারে খরচ বেশি

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮%, খাবারে খরচ বেশি

    তিন বছরের ব্যবধানে দেশের দারিদ্র্য হার কোনো উন্নতি না হওয়ার পরিবর্তে বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, অর্থাৎ ২৭ দশমিক ৯৩। গত ২০২২ সালে সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই হার ছিল মাত্র ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘ইকনোমিক ডায়নামিক্স এ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এর ফলাফলের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান এই গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যের হারও এই সময়ে বেড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর অর্থ হলো, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যের পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনও মুহূর্তে গরিব হয়ে যেতে পারে। এই গবেষণা মে মাসে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩,২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, দেশের তিনটি মূল সংকটের প্রভাব এখনো চলমান। এগুলো হলো- কোভিড মহামারির ধাক্কা (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে, গত বছরের আগস্টের আগে যেখানে মানুষদের মধ্যে ৮.৫৪ শতাংশ সেবা নিতে ঘুষ দিয়েছেন, সেখানে এই হার এখন কমে ৩.৬৯ শতাংশে এসেছে। তবে এখনও অনেক সরকারি দপ্তর এবং পুলিশের সঙ্গে মানুষজনের ঘুষ লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।

    শহরের পরিবারগুলোর আয় কমছে, কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে বলে জানান গবেষকরা। শহরের একটি গড় পরিবার মাসিক গড় আয় ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে এই গড় আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারের গড় আয় কিছুটা বাড়লেও খরচও বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় এখন ২৯ হাজার ২০৫ টাকা, যেখানে খরচ হয় ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। ২০২২ সালে এই পরিবারের আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে জাতীয়ভাবে দেখা যায়, এক পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। সঞ্চয়ের কোনও জায়গা নেই বললেই চলে।

    পিপিআরসির গবেষণায় আরও দেখানো হয়েছে, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয় খাদ্য খাতে। একটি পরিবার প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার ৬১৪ টাকা খাবার খরচ করে। এর পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও বাসস্থানেও খরচ হয় যথাক্রমে যথাক্রমে ১৮২২, ১৫৫৬, ১৪৭৮ এবং ১৮৯ টাকা।

    হোসেন জিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সরাসরি সামষ্টিক অর্থনীতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বল became, অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় জনমুখী ভাবনা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু জিডিপি বৃদ্ধির ওপর নির্ভর না করে, আমাদের সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিককল্যাণের দিকে মনোযোগ বাড়ানো দরকার।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের জন্য পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদী রোগের বোঝা দিন দিন বাড়ছে, যা মোকাবেলার জন্য নতুন सामाजिक নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নারী প্রধান পরিবারগুলো সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা স্তরে রয়েছে, এদের জন্য বিশেষ সহায়তা জরুরি। তৃতীয়ত, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা উদ্বেগের কারণ। পঞ্চমত, স্যানিটেশন সংকট সমাধান করা জরুরি, কারণ এখনো প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে, এটি এই লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা।

    অপরদিকে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বেকারত্বের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে বহু যুবক এবং সাধারণ মানুষ। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া ও বক্তৃতার পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের দরকার রয়েছে। আমাদের জরুরি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে এই সমস্যা সমাধানে ব্যাপক ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ।

  • ন্যূনতম কর আইনকে কালো আইনেরূপে দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    ন্যূনতম কর আইনকে কালো আইনেরূপে দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    ন্যূনতম কর আইনকে তিনি একেবারেই কালো আইন বলছেন। এ বিষয়ে সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেন, ন্যূনতম কর নিয়ে অনেক সমালোচনা শুনেছি। সত্যি বলতে, এটি একটি কালো আইন, যার স্বীকৃতি আসতেই হবে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে করের ভিত্তি মূলত মুনাফার ওপর হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মিনিমাম কর নির্ধারণের মাধ্যমে করের হার ঠিক রাখা হচ্ছে, যা নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, অর্থাৎ কর আহরণ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হলে, আমরাও বাস্তবায়ন সহজ করতে পারব। বর্তমানে আমরা ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ, যদি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে করের হার কম করা না হয়, তাহলে রাজস্ব আদায় কঠিন হয়ে পড়বে।

    সংলাপে বক্তারা বলেন, করছাড়ের প্রবণতা বাড়ার কারণে দেশীয় অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুযায়ী কর-জিডিপি অনুপাত অপর্যাপ্ত রয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, আমরা অনেক করছাড় দিচ্ছি, কারণ আমাদের বড় দেশ, বড় কর্মীসংখ্যা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বার্থে এই করছাড় অব্যাহত রয়েছে। তবে এর ফলে করের জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না। তিনি ধারণা দেন, অনেক সময় ট্যাক্স হিল্ড, ট্যাক্স এক্সেম্পশন দেওয়ায় মানুষ এই খাতগুলোতে বেশি মনোযোগ দেয় না। এটা চলতে থাকলে, কর-জিডিপি অনুপাত ভবিষ্যতেও বাড়বে না।

    চলমান ঋণের বোঝা দানা বাঁধছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের জন্য দরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপবে, বলে সতর্ক করেন। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের কর-জিডিপি অনুপাত বহু নিচে নেমে গেছে—গতবছরে ছিল ৭.৪%, এখন মাত্র ৬.৬%। এই হার অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন ও ঋণের সুদ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই দক্ষ ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা সৃষ্টি অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

    এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, তিনি একটি জাতীয় অটোমেটেড কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এতে সবকিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে, ম্যানুয়াল পদ্ধতি যেন আর চালু না থাকে। এতে ভ্যাট ও কর রিটার্ন দ্রুত ও সঠিকভাবে নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি অডিটের মান উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন, যাতে প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হয়। বর্তমানে অডিট ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে অডিটের জন্য নিরপেক্ষতা ও ঝুঁকি ভিত্তিক পদ্ধতি প্রবর্তন করা যায়। এর মাধ্যমে করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

    করদাতাদের জন্য কর বৃদ্ধি ও রিফান্ড প্রসেসের অটোমেটেড ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও তিনি ব্যক্ত করেন। তার মতে, করের আওতা বাড়লে কর হার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব হবে, আর রিফান্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানো জরুরি।

    প্রসঙ্গত, এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮২% ব্যবসায়ী বর্তমানে ব্যবহৃত কর হারকে ‘অন্যায্য’ বলে মনে করেন এবং ব্যবসার উন্নয়নে এটি বাধা সরিষা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা মত দিয়েছেন, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নেই ও দুর্নীতি প্রচলিত সমস্যা। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী নিয়মিত কর দাবিকে কেন্দ্র করে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। আশা করি, এই পরিস্থিতি উন্নত হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শিগগিরই বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শিগগিরই বিজ্ঞাপন আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল অর্থনৈতিক পরিষেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা ও উন্নয়ন বৃদ্ধির জন্য সরকার নগদকে বেসরকারিকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা এই খাতে আরও উন্নত ও কার্যকরী ব্যবস্থা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা এই খাতের কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা নগদকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং বিনিয়োগকারীদের এই উদ্যোগে আনা হবে। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে তিনি এ কথা বলেন। গভর্নর আরও বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিই।’ তিনি আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদ পরিষেবাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, এখন ডাক বিভাগের পক্ষে এটি চালানো তার উপযুক্ত নয়। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যেন তিনি নগদকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন, যাতে এটি মোবাইল অর্থনৈতিক সেবা খাতে একটি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তিনি আশা করেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নগদ আরও শক্তিশালী ও কার্যকরী হয়ে উঠবে, যা দেশের আর্থিক শ্লথতাকে আরও গতিশীল করবে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে দেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে অধিকাংশ প্রস্তাবই বিদেশি বিনিয়োগের, যার পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া দেশীয় বিনিয়োগ এসেছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার, এসেছে নানা চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে সভায় জানানো হয়।

    বিডার পক্ষ থেকে বলা হয়, এই মোট প্রস্তাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ২৩১ মিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রস্তাবের প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এ রূপান্তরের গড় হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

    বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে কন্টেইনার জটের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কন্টেইনারের জন্য বর্তমান সরকারের সময় গতি ফিরিয়ে আনতে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাসে আরো ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার পরিকল্পনা চলছে এবং উদ্বোধন-হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়, যেখানে বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিক এর পরিষেবাগুলিকে একত্রিত করতে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর সফট লঞ্চিং হবে। পুরোপুরি চালু হবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ।

    সভার শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও সক্রিয় হয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার সন্ধ্যার পর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। একইসময়, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হচ্ছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, গত রোববার দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের পদ্ধতিতে হিসাব করে তা ছিল ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ২.০২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর দেশটির রিজার্ভ কিছুটা কমে যায়। তখন গ্রস রিজার্ভ হয়েছিল ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপরদিকে, রেমিট্যান্সবান্ধব প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার ঋণের কারণে, গত জুনের শেষে দেশের রিজার্ভ দিয়ে বাংলাদেশের মোট মূল্য ছিল ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, মার্চ ২০২৩ এর শুরুতে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে, বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুযায়ী জুনে তা ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রিজার্ভের মাইলফলক ২০২১ সালের আগস্টে অর্জিত হয়েছিল, যখন রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধারাবাহিক ভাবে কমে গিয়ে, ২০২৩ সালের জুলাই শেষে রিজার্ভ ছিল প্রায় ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পতনের পর থেকে অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে ডলারের প্রাপ্যতা বাড়তে শুরু করে। এছাড়াও, হুন্ডি মারফত অবৈধ অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।