Month: September 2025

  • ভয় কাটিয়ে জোড়া গোলে মায়ামিকে ফাইনালে তুললেন মেসি

    ভয় কাটিয়ে জোড়া গোলে মায়ামিকে ফাইনালে তুললেন মেসি

    ইনজুরির কারণে এক ম্যাচ বাদ দিয়ে ফের আবার অস্বস্তিতে পড়েছিলেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। এর ফলে তিনি কিছু দিন দল থেকে ছিটকে যান। তবে আজ (বৃহস্পতিবার) লিগস কাপের সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ফিরিয়ে আনেন কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো। যেখানে এক বিতর্কিত পেনাল্টি এবং জোড়া গোলের মাধ্যমে মেসি দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন।

    ভোরে চেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইন্টার মায়ামি ৩-১ গোলে অরল্যান্ডো সিটি ক্লাবকে হারিয়েছে। প্রথমে সফরকারীরা লিড নিতে সক্ষম হলেও, পরে মেসির জোড়া ও তেলাস্কো সেগোভিয়ার এক গোল দিয়ে দলটি জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচে বল দখলে মায়ামির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট, যেখানে তারা ৫৯ শতাংশ পজিশন নিয়েছিল, এবং ১৪টি শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, অরল্যান্ডো করে ১১ শটের মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে।

    ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ সময়ে, মারকো পাসালিচ ১৮ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন, যার ফলে অরল্যান্ডো লিড পেয়েছিল। এই লিড মোটে ৭৭ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তখন, মায়ামির ডিফেন্ডার তাদেও আলেন্দেকে বক্সে ফাউল করেন অরল্যান্ডো গোলরক্ষক ডেভিড ব্রেকালো। যদিও এই ফাউলের জন্য তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। অভিযোগ ছিল যে, আলেন্দেকে জোরপূর্বক টেনে ফেলা হয়েছিল, তবে টিভি রিপ্লেতে সেটি স্পষ্ট হয়নি। বিপর্যয়জনকভাবে, ব্রেকালো মাঠ ছেড়ে যান। এরপর ফাঁকে ফাঁকে গোলের সুযোগ তৈরি করে, মেসি ৮৮ মিনিটে একটি স্পট কিকে গোল করে ম্যাচ সমতায় আনে।

    সাথে, সতীর্থ জর্দি আলবার সহযোগিতায়, বক্সের ভিতরে ঢুকে গোল করেন আলবিলেস্তের এই তারকা। এই গোল কুরুচিপূর্ণভাবে অরল্যান্ডো গোলরক্ষককে পরাস্ত করে। তারপর, যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে, সেগোভিয়া দলের তৃতীয় গোলটি করেন, যেখানে লুই সুয়ারেজের সঙ্গে সুন্দর বোঝাপড়ার ফলে বক্সে ঢুকে গোল করেন।

    এই জয়টি মায়ামিকে কেবল লিগস কাপের ফাইনালেই পৌঁছাতে সাহায্য করেনি, বরং ২০২৬ কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের জন্যও নিশ্চিত করে। আগামী ৩১ আগস্ট, ফাইনালে মেসি-সুয়ারেজের নেতৃত্বাধীন দলের প্রতিপক্ষ হবে এলএ গ্যালাক্সি অথবা সিয়েটল সাউন্ডার্স এফসি।

  • বুলবুলের লক্ষ্য, নতুন সাকিব-তামিম খুঁজে বের করা

    বুলবুলের লক্ষ্য, নতুন সাকিব-তামিম খুঁজে বের করা

    চট্টগ্রামে সম্প্রতি শুরু হয়েছে একটি নতুন আঞ্চলিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, যার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। এই টুর্নামেন্টটি বিসিবির উদ্যোগে দেশের ক্রিকেট কাঠামোতে বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্রিকেটের বিস্তার ঘটাতে একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বক্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ক্রিকেট কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক ক্রিকেট কাঠামো কার্যকর হলে জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটাররা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পাবে, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় পর্যায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

    হাবিবুল বাশার বলেন, আঞ্চলিক ক্রিকেট থাকলে সেখানে নিজস্ব লিগ ও টুর্নামেন্ট হবে। অর্থাৎ, খেলোয়াড়রা নিজেদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে তো সবার জন্য খেলার সুযোগ মেলে না। এই উদ্যোগের ফলে প্রতিভাবান পর অনেকেই নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবে।

    তিনি আরো বলেন, রিজিওনাল ক্রিকেট চালু হলে হিডেন প্রতিভাও সামনে আসবে। তখন তারা টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে — সব ধরনের ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবে।

    অকরাম খান এই টুর্নামেন্টকে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, “আমরা এটার মাধ্যমে একটা নতুন পথের সূচনা করেছি। এটি কোন সিজন নয়, তবে ভবিষ্যতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ১১টি জেলা একসাথে খেলছে, যা আগে কখনো হয়নি। এটা শুধু চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই ভালো খবর।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দেশের আগামীর সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্কুল ক্রিকেটকে উন্নত ও সুসংগঠিত করার পরামর্শ দেন।

    তিনি বলেন, ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ মূলত কেন্দ্রিয়ার মাধ্যমে হয়। কিন্তু যদি আঞ্চলিক ক্রিকেটের সঙ্গে সিঙ্ক করে নেওয়া যায়, তাহলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ক্রিকেটের বিকাশ আরও দ্রুত হবে। বিকেন্দ্রীকরণ শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, প্রত্যেক জেলায় যেন ক্রিকেটের নিজস্ব পরিবেশ গড়ে উঠে, সেটাই লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনের তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ — এ সমস্ত তারকারা এখনো স্কুলে রয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব কীভাবে এই প্রতিভাগুলোকে সঠিক পথে আনা যায়, সেই বিষয়ে কাজ করতে হবে। স্কুল ক্রিকেটকে এবার নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা আছে।’

  • বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে বাগেরহাটে আয়োজিত ব্যাডমิน্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুলের ৭৬ জন যুব খেলোয়াড় অংশ নেন, যারা উত্তেজনা আর উৎসাহের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। অনূর্ধ্ব ১৭ বালিকা বিভাগে সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়, আর বালক বিভাগের শীর্ষে উঠে বৈটপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

    বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আখেরুল আহমেদ কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি ও বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি মোবাইল আসক্তি কমাতে সহায়তা করে। ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি বলেন, যারা খেলাধুলা করে তারা শুধু ভালো ছাত্র নয়, একজন সুস্থ ও সুন্দর নাগরিকরূপে গড়ে ওঠে। এ অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ।

    উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মঈনুল ইসলাম, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালকসহ জেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। এই আয়োজনটি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের মাধ্যমে যুবশক্তিকে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • জেলা প্রশাসকের সাথে অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়ন খুলনা দলের সাক্ষাৎ

    জেলা প্রশাসকের সাথে অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়ন খুলনা দলের সাক্ষাৎ

    জেএফএ কাপের অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় মহিলা ফুটবলে খুলনা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবরে আনন্দের ঢেউ সৃষ্টি হয়। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া খুলনা বিভাগীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের সাথে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় তিনি দলটির সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান, সেই সঙ্গে তাদের বিশাল এই অর্জনে প্রত্যেকের কৃতিত্বের প্রশংসা করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, এই উৎসাহ ও সফলতা খুলনার জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আরও বলেন, খেলা মানুষের মনোভাব ও শরীরকে সতেজ রাখে, সেই জন্য সবাইকেই যত্ন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আলিমুজ্জামান, খুলনা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, কোষাধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম খান কালু, কার্যনির্বাহী সদস্য এম এ জলিল, মনিরুজ্জামান মহসীন ও এজাজ আহমেদ। উল্লেখ্য, খুলনা দল ১৯ আগস্ট মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মাগুরা জেলা দলের ৩-১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খেলোয়াড়রা ছিলেন: লাকি, ইসরাম খান, বিপাশা আক্তার তিশা, জৈতি রায় মুন্নী, আলো খাতুন, রিমা সরকার, দিয়া মন্ডল, তানিশা আক্তার তন্নী, ঐশ্বর্য্য বাছাড়, খাদিজা খাতুন, সুমী খাতুন, সানজিদা Sultana ও দৃষ্টি মন্ডল। এই ঐতিহাসিক জয় তাদের গর্বের লালিত্য করে তুলেছে এবং খুলনার তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য উদ্বুদ্ধ করছে।

  • জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন আসর শুরু ১৪ সেপ্টেম্বর

    জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন আসর শুরু ১৪ সেপ্টেম্বর

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আসরের সূচি। এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীতে প্রথম ম্যাচ দিয়ে, যেখানে খুলনা এবং চট্টগ্রামের দল face করবে একে অপরকে। পুরো টুর্নামেন্টটি চলবে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে। প্রথম দুটি রাউন্ড আয়োজন হবে রাজশাহী ও বগুড়ায়, এরপর বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। মোট ১৩ রাউন্ডের এই লিগে প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মূল ভেন্যুগুলো হলো রাজশাহীর এসকেএস স্টেডিয়াম, বগুড়ার এসসিএস স্টেডিয়াম এবং সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ চার দল নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হবে, যা শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটে। এরপর ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব পাচ্ছে এই আসরটি, কারণ এটি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার এক বিশাল মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউইকে ইসরায়েলের হামলায় হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), দেশটির রাজধানী সানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান এক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রধানমন্ত্রীসহ আরও বহু ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম আল-জুমহুরিয়া জানায়, দখলদার ইসরায়েলি বিমান সানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বোমাবর্ষণ করে, যেখানে বিদ্রোহী সরকারের নেতা আহমেদ আল-রাহাউই নিহত হন। আর অন্য একটি সূত্র, এডেন আল-ঘাদ বলছে, তিনি তাঁর আরও কয়েকজন কর্মীসহ প্রাণ হারিয়েছেন।

    অপরদিকে, ইংরেজি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, হামলার সময় ইসরায়েলি হামাজাসংক্রান্ত বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে—তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্তত ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউইয়ের ওপর আলাদা করে হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা তাদের প্রধান নেতা আবদুল মালেক আল-খুতির ভাষণ শুনতে জড়ো হয়েছিল। সেই সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যদিও হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিপ্লবের মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীরা দখল করে নেয়। এর পর থেকে তারা পরিবর্তিত সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে সানা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সৌদি আরবের নেতৃত্বে একাধিক আরব সার্কেল দেশ ইয়েমেনে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। তবুও হুতিরা নিজেরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই এই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ইসরায়েলি হামলার কারণে এই নেতা নিহত হওয়া রীতিমতো একটি বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে।

    অপর দিকে, ইসরায়েলের গাজা অঞ্চলে ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে চলমান বর্বরতা ও হামলার মধ্যে হুতিরা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকালই ইসরায়েলি হামলায় হুতির প্রধান নেতা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন সাংবিধানিক আদালত। তার বিরুদ্ধে সন্দেহের দোসর ছিলো একটি ফোনলকের রেকর্ড, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে কথোপকথনে ছিলেন। সেই ফোনকলে তার কম্বোডিয়ার সাবেক নেতার কাছে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন ও সেনাবাহিনী নিয়ে মন্তব্যের কারণে তদন্ত শুরু হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশের পরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কিছু মাসের মধ্যেই থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বন্ধ হয়।

    ফোনকালে পেতোংতার্ন বলেন, ‘যা কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি দেখব।’ এই কথাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, কারণ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক বাহিনীর মন্তব্যের মাধ্যমে তার গোপন কথোপকথন প্রকাশ পায়। তখন দেশটিতে সরকারী নিপীড়ন ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগ বাড়িয়ে তোলে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে, তিনি গোপনে দেশের স্বার্থের ক্ষতি করেন।

    অবশেষে, তিনি দেশসেবার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, এইসব কথা দেশের জন্যই বলেছিলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। তার মতে, তিনি দেশের মঙ্গল এবং সৈন্য ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি তখনও সংস্কৃতিমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনীতি বদলে দিচ্ছে, তবে এটি নতুন নয়—২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের নির্দেশে ক্ষমতা হারিয়েছেন।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এই হামলার জন্য দায়ী। সূত্র বলছে, মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জেরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাটির ফুটেজ দেখিয়েছে যে, দুই দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের দলের পতাকার ডান্ডা দিয়ে একে অপরের উপর আঘাত হেনেছেন। এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, তবে এখনো কারওর গ্রেপ্তার হয়নি। কংগ্রেস এই ঘটনাকে কঠোর পরিভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

    প্রথমে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্যের ঘটনা ঘটে যখন ভোটার অধিকার সংরক্ষণ যাত্রা চলছিল। অভিযোগ, দরভাঙ্গার একটি অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের এক নেতা তার পোশাকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার বিহার পাটনায় উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে বিজেপি রাস্তায় নামলে কংগ্রেসও মাঠে নামে। দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পরিস্থিতি অস্থির থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

    অন্যদিকে, বিহারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির ছোবল পড়েছে কলকাতার ওপরও। জাতীয় কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সদরদপ্তরে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। এই সময় বিজেপি সমর্থকরা কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করে ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, রাকেশ সিংসহ কিছু নেতার নেতৃত্বে নেতৃস্থানীয় ভবনের বাইরে ক্ষতিসাধনের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধীর ছবি ও বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতি আজ দেউলিয়ার পথে। কংগ্রেসের চুরি ধরার রাগেই এই হামলা। পরিস্থিতি যে সময়ে এই ঘটনা ঘটলো, তখন দপ্তর ফাঁকা ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ঘটছে। তাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমার ভুল পথে। আমরা জবাব দেবো।’ এরই মধ্যে বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মায়ের অপমানের বদলা বাংলার ছেলেরা নেবে, এবং এর জবাব তারা দেবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচে নেমে গেছে। একজন গরিবের ছেলে ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের উন্নতি করছেন, তা নেহায়েত অন্ধকারের বিষয়। তার উজ্জ্বল প্রতিমূর্তি ও তার প্রয়াত মাকে অপমান করে গণতন্ত্রের উপর কলঙ্ক ডেকে আনা হয়।’

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও এই ঘটনা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘অশালীন আক্রমণ সব সীমা অতিক্রম করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

    বিহার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে অপমান করা অস্বীকার্য এবং অনুচিত। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।’

  • ইসরায়েল গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে

    ইসরায়েল গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে

    গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েল পুরো শহর গাজা সিটিকে আরো একবার যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। আজ শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সেখানে প্রাথমিক আক্রমণ শুরু করেছে। একই সঙ্গে, গাজা শহরে এখন থেকে কোন ত্রাণ ও সহায়তার জন্য বিরতি দেয়া হবে না বলেও তারা জানিয়ে দেয়।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি একে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে আক্রমণ চালানো শুরু করেছি এবং গাজা সিটিতে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। গাজার উপকণ্ঠে এখন সেনা ও ট্যাংকের উপস্থাপনাও দৃঢ়।’

    বলা যায়, এর আগে ইসরায়েল গাজার বিরুদ্ধে কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে গাজায় আর কোন সামরিক বিরতি কার্যকর থাকছে না। এই পরিস্থিতিতে গাজার উপত্যকা সত্যিই একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’

    গত মাসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল প্রথমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছিল, যাতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি গাজায় সাহায্য পাঠাতে পারে। তবে, আগস্টের শুরু থেকে তারা হামলা অব্যাহত রাখে এবং শহরটিকে ধ্বংসের পথে চালায়। শহরের বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়ে গাজার মানুষকে অসহায় করে তুলতে থাকেন তারা।

    এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার আক্রমণে প্রতিদিনই বেড়ে যাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষ আরম্ভের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৩,০০০ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ২৪৪ জন আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    সংখ্যা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের মধ্যে নিহতের মোট সংখ্যা এখন ৬৩,০২৫ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যারা অপুষ্টি ও অসহায়ত্বের কারণে মারা গেছেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনায়, অক্টোবরে এখন অবধি ক্ষুধাযুক্তির কারণে নিহতের সংখ্যা ৩২২ জন। এর মধ্যে ১২১ জনই শিশু।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে, ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সাহায্য পাঠাতে গিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০০,২৩৫ জন। আহত হয়েছেন ১৬,০২২৮ জনের বেশি। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

    গত ২৭ মে গাজার হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে, প্রতিদিনই আহত-নিহত ঘটছে। তাদের চারটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

    সুত্র: আল জাজিরা।

  • ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিতে দ্বীপস্থলে নেওয়ার অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিতে দ্বীপস্থলে নেওয়ার অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন, তাদের দাবি, দিল্লি থেকে আটক করে দ্রুত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। এমন পরিস্থিতির মধ্যে, মিয়ানমারে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে এসব রোহিঙ্গা আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকির’ মধ্যে ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে জানানো হয়, গোপন তদন্তে দেখা গেছে যে, ৯ মে রাতে রোহিঙ্গারা ফোনে জানিয়েছেন, তাদের এক পরিবারকে ভারতীয় সরকার ফেরত পাঠিয়েছে মিয়ানমারে — যেখানে তারা বহু বছর আগে পারিবারিক নিরাপত্তার অভাবে পালিয়ে এসেছিলেন। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই পরিবারগুলো সীমাহীন ঝুঁকির মুখে। জানিয়েছেন, জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দিল্লিতে বসে ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, ‘আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কেমন কষ্টে আছেন, আমি তা কল্পনাও করতে পারছি না।’ বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে খুঁজে পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ আশ্রয় নিয়েছেন বাহটু আর্মির কাছে — যা একটি প্রতিরোধশীল গোষ্ঠী, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে সৈয়দ নূর জানান, ‘আমরা এখানে খুবই অরক্ষিত। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র।’ আশ্রয়স্থলটি কাঠের তৈরি; তিনি আরও বলছেন, তাদের সঙ্গে থাকা আরো ছয়জনের ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে বিবিসি এই ঘটনার বিস্তারিত পুনর্গঠন করেছে। তথ্য অনুযায়ী, তাদের দিল্লি থেকে বিমানে করে বঙ্গোপসাগরে একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছিল। পরে সাঁতরে তারা তীরে উঠতে সক্ষম হয়। বর্তমান পরিস্থিতি খুবই জটিল, কারণ এই দেশের পরিবেশে তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশ থেকে তাদের পালিয়ে আসতে হয়েছে দ্বিগুণ নিপীড়ন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। একজন রোহিঙ্গা, জন, ফোনে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাত বাঁধা ছিল, চোখ-মুখ ঢাকা ছিল, যেন বন্দির মতো। তারপর জাহাজে তোলা হয় এবং সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।’ তিনি আরও জানান, ‘মানুষের প্রতি এভাবে অবমাননা কীভাবে সম্ভব? মানবতা এখনও পৃথিবীতে আছে কি না, আমি জানি না।’ মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এই অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনের কাছে এসব প্রমাণ জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি। ভারতের কাছে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ তারা কোনোভাবেই শরণার্থী স্বীকৃতি না দিয়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৩,৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুসারে, সংখ্যাটি ৪০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পর লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে যান, যেখানে বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় থানায় ডেকে আনা হয়। তাদের বলা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাদের শহরের ইন্দিরলোক আশ্রয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আমিন জানান, সেই সময় তার ভাই ফোন করে জানায় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তিনি আইনি সহায়তা ও ইউএনএইচসিআর কে খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এর পর ৭ মে তারা হিন্দি বিমানবন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পৌঁছে, সেখান থেকে বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। বাসের গায়ে লেখা ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’। সৈয়দ নূর বলেন, ‘বাসে ওঠার সময় আমাদের হাত প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়, আর মুখোশ পরানো হয়। কিছুক্ষণ পরই আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয়। তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন, ভাত, ডাল আর পনির খাওয়ানো হয়েছিল। তবে এ সময় অনেকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়, মারধর ও অপমানের শিকার হয় তারা। সৈয়দ নূর জানাচ্ছেন, ‘আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুকে বারবার চড় মারা হয়, কিছুকে মারধর করা হয়।’ এক ভিডিও কলের মাধ্যমে ফয়াজ উল্লাহ দেখান, তার হাতে আঘাতের দাগ। তিনি জানিয়েছেন, তাকে ঘুষি, চড় মার five, বাঁশ দিয়ে খোঁচা করা হয়েছে। জিজ্ঞেস করা হয়, ‘ভারতে অবৈধভাবে এসো কেন?’ তার মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা, যারা জানিয়েছেন এরকম জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণ জানার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি তাদের খতনা দেওয়া হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্তও করা হয়, যদিও তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক প্রমাণ হয়নি। এরপর ৮ মে সন্ধ্যায় তাদেরকে ছোট ছোট রাবার নৌকায় তুলেপ্রবেশ করানো হয় সমুদ্রে। হাতে লাইফ জ্যাকেট ছিল, বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। তবে বাস্তবে তারা মিয়ানমারে, যেখানে তারা মুক্তির আশায় এসেছে। পরে ৯ মে সকালে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পান। তারা তাদের ফোন ব্যবহার করতে দেয় এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এরপর থেকে বাহটু আর্মি তাদের খাদ্য ও আশ্রয় দিচ্ছে। তবে ভারতে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। জাতিসংঘ বলেছে, ভারত এই রোহিঙ্গাদের ‘আন্দামান সাগরে ফেলে’ তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। গত ১৭ মে, নুরুল আমিনসহ তার এক আত্মীয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠানো হয়, এবং এই নির্বাসন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি। তবে ভারতের এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে আখ্যায়িত করেন। মামলার শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর হবে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাদের শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হয় কি না, বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় কি না। এই ঘটনার পর ভারতের রোহিঙ্গা কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে লুকোচুরি করছেন, আবার কেউ বাসায় থাকছেন না। নুরুল আমিন বলেন, ‘আমার মাথায় শুধু ভয় কাজ করে, ভারত সরকার যে কোনো সময় আমাদেরও সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে। এখন আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না।’ জাতিসংঘের মুখপাত্র অ্যান্ড্রুজ মন্তব্য করেন, ‘রোহিঙ্গারা ভারত থাকতে চায়নি, তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ঙ্কর সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে। তারা সত্যিই প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটছে।’