Month: September 2025

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশ, খাদ্যের খরচ সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশ, খাদ্যের খরচ সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ

    তিন বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি মোটেও উন্নতি হয়নি, বরং তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ, যা সরকারী হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) সম্প্রতি এক গবেষণায় এই চিত্র উদঘাটন করেছে। ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস এ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক এই গবেষণা ফলাফল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান গবেষণা রিপোর্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, আর ২০২৫ সালে এসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনো সময় গরিব হয়ে পড়তে পারে। এই গবেষণা মে মাসে দেশের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।

    গবেষণা বলছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তিনটি প্রধান সংকট রয়েছে, যেগুলোর প্রভাব পড়ছে সমাজে। এগুলো হলো: কোভিড মহামারীর प्रभाव (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। পিপিআরসির আরও তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আগস্টের আগে মানুষের মধ্যে ঘুষের প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। ওই সময়ের কাছাকাছি সময়ে দাঁড়িয়ে, এখনো অনেক সেবা পূর্বের তুলনায় দুর্বল হলেও কিছুটা কমে এসেছে। বিশেষ করে সরকারি অফিসে, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার হার কমেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, শহরের পরিবারগুলোর আয় কমছে, কিন্তু খরচ বেড়েছে। শহরের এক পরিবারের গড় মাসিক আয় এখন ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে শহরের পরিবারের গড় আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামের পরিবারগুলোর আয় কিছুটা বেড়েছে, এখন গড় আয় ২৯,০২০৫ টাকা, তবে খরচ ২৭,১৬২ টাকা। ২০২২ সালেও গ্রামের পরিবারের গড় আয় ছিল ২৬,১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে জাতীয়ভাবে দেখা যায়, একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, খরচ ৩২,৬১৫ টাকা, সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই।

    খাবার খরচের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের মোট মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয় খাবার খাতে। একজন পরিবার মাসে গড়ে ১০,৬১৪ টাকা খাবার কেনায় ব্যবহার করে। এছাড়া, প্রতি মাসে শিক্ষা খাতে ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা এবং আবাসন খাতে ১,৮২৩ টাকা করে খরচ হয়।

    হোসেন জিলুর রহমান বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় বৃহৎ অর্থনীতির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। অর্থনীতির পরিকল্পনায় জনমুখী ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধি নয়, সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্য কমানো এবং নাগরিক কল্যাণও অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বোঝা, নারীবান্ধব পরিবারগুলোর অবস্থা, ঋণের চাপ, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও স্যানিটেশন সমস্যাসমূহ। বিশেষ করে, স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে এখনও প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ ন non-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে, যা জাতিসংঘের নির্ধারিত এসডিজি অর্জনকে বাধা দিচ্ছে।

    কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করে হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে কর্মসংস্থানের ব্যাপক প্রয়োজন। বেকারত্বের হার বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফলপ্রসূ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এই বিষয়গুলো আমাদের জরুরি প্রস্তুতির জন্য নির্দেশ করে দেয়, যে দিয়ে আমরা দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবো।

  • এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর কঠোর ও কালো আইন

    এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর কঠোর ও কালো আইন

    নার্বিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, ন্যূনতম কর আইনটি একটি কালো আইন হিসেবে বিবেচিত। তিনি এই মন্তব্য করেন রাজধানীর গুলশানে এক সংলাপে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এ সংলাপের শিরোনাম ছিল ‘করপোরেট কর ও ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআরের জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’।

    চেয়ারম্যান বলেন, বেশ কিছু সময় ধরে ন্যূনতম করের বিষয়টি নিয়ে আলাপ চলে আসছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি একটি অস্বাভাবিক আইন, কারণ করের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মুনাফা। কিন্তু এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা খুবই সমস্যাজনক। তিনি আরও বলেন, আমাদের যখন একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সিস্টেমে পৌঁছানোর কথা, তখনই এই ধরনের আইন সংশোধনের প্রয়োজন। এবার আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজে চলার পরিবেশ তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ ব্যবসা সহজ না হলে দেশের কর আদানে বাধা সৃষ্টি হবে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ।

    চেয়ারম্যান বলেন, করছাড় ও করহারে অতিরিক্ত গিয়ে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে বলে মনে হয় না। কারণ, দেশের বড় বড় করদাতাদের কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলছেন, দেশের বিভিন্ন কর প্রণীতিতে অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত করছাড়ের কারণে করের মূল অনুপাত কমে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের জন্য মোটর চালাতে থাকা ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

    আইনের অপ্রতুল কার্যকারিতা ও করসংক্রান্ত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে করছাড়ের ধারাবাহিক প্রথা চালু থাকায় করের মূল হার বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাপক করছাড় দেওয়ার ফলে দেশের রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য ঝুঁকি স্বরূপ।

    চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তানের কর-জিডিপি অনুপাত যেখানে ১২.২ শতাংশ, আমাদের দেশের এ বছর তা হয়েছে মাত্র ৬.৬ শতাংশ, যা অনেক কম। এই পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন রাজস্ব সংগ্রহ অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের উপরে ঋণের বোঝা কমানোর জন্য ও দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প চালানোর জন্য করতালিকা বাড়ানো জরুরি।

    বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআর অটোমেটেড সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে, ভ্যাট ও কর রিটার্ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং অডিটের মানোন্নয়ন হবে। বর্তমানে অডিটের জন্য মানুয়াল পদ্ধতি চালু থাকলেও এটি বন্ধ করা হয়েছে, আর অডিট ঝুঁকি ভিত্তিক বা автомат করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে এককালীন অডিটের ঝামেলা কমে।

    করদাতাদের জন্য আরও সুবিধা আনতে তারা রিফান্ড অটোমেটেড করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে কর প্রদান সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

    একটি সিপিডির সমীক্ষায় দেখা যায়, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী বর্তমান কর হারকে ন্যায্য নয় মনে করেন এবং এটি তাঁদের ব্যবসার উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। অংশগ্রহণকারীরা জানান, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাব, দুর্নীতিও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা।

    অতিরিক্ত জটিলতা ও অস্পষ্ট ভ্যাট নীতিমালা, প্রশিক্ষণের অনুপুষ্টি ও করের শ্রেণিবিন্যাসের জটিলতা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সমস্যা। ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শীঘ্রই বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শীঘ্রই বিজ্ঞাপন আসছে

    তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যে নগদটি ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, কারণ ডাক বিভাগের পক্ষে এখন এটি চালানো সম্ভব নয়। সরকার মনে করছে, নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানির আনতে হবে যাতে এটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন করে গড়ে তুলে নগদকে এমএফএস খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সক্ষম প্রতিযোগী হিসাবে দাঁড় করানো সম্ভব হবে। এই বিষয়ে সরকার শীঘ্রই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে

    সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির (ইনভেস্টমেন্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটি) পঞ্চম সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত বিনিয়োগের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া, স্থানীয় অর্থায়ন ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

    বিডা পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত প্রস্তাবের মধ্যে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ জন্য প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তরের হার প্রায় ১৮ শতাংশ, যা বিশ্বজুড়ে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

    বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর বিষয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। সরকারের সময়কালে বন্দরে গতি ফিরিয়ে আনতে এর আগে দুই মাসে এক হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও বিশেষ দূত নিলাম কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ দেন।

    আসন্ন মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার কাজ চলমান রয়েছে এবং পণ্য হস্তান্তর প্রক্রিয়াও অব্যাহত। এ ছাড়া, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিকের বিভিন্ন পরিষেবাগুলোকে একত্রিত করে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

    আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর সফট লঞ্চ এবং শেষের দিকে পুরোপুরি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দিনের শেষে বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১।৩৩ বিলিয়ন ডলারে, যা বেশিরভাগ সময়ের চেয়ে বেশি। একই সাথে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা বা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

  • খুশি বিএনপি ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণায়

    খুশি বিএনপি ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণায়

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নবীন রোডম্যাপ ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপি দলের নেতারা একযোগে খুশি প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমের কাছে তারা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইসির নতুন নির্দেশনা ও প্রস্তুতি দেখে তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। এতে আমি খুবই আশাবাদী হতে পেরেছি যে নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূল বিষয় হলো, আমরা খুবই খুশি, আমরা খুবই আনন্দিত।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলে যে, এই রোডম্যাপ কি সাধারণ মানুষ ও দেশের জন্য সুসংবাদ, তিনি বলেছিলেন, ‘অবশ্যই।’ এছাড়াও, বিএনপি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা পুরো জাতির জন্য একটি সুসংবাদ। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হতে পারবে। সবাই অপেক্ষা করছে—একটি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন হোক এবং এর মাধ্যমে একটি ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সরকার গঠন হয়। সেই সরকার বা সংসদ জনগণের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে এবং জবাবদিহিতা থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমাদের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার হবে এবং দক্ষতা উন্নয়ন হবে।’ অন্যদিকে, বিএনপির আন্তর্জাতিকস্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের ঘোষণা জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘উপযুক্ত সময়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। এখন রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, সেটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা।’

  • উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    দেশে উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদী রাজনীতি আনার পরিকল্পনা চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম, যার লেখা বইটির শিরোনাম ‘রক্তাক্ত JULAI’। বইটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।

    মির্জা ফখরুল জানান, দেশের অন্দরে একটি ষড়যন্ত্র অনুসন্ধান করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে নিয়ে আসা এবং এর বদলে উগ্রবাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা। এই পদক্ষেপটি দেশের জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সব মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, উদারপন্থী গণতন্ত্রকে রক্ষা করে মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন হবে নিশ্চিত, এবং সময় অনুযায়ী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে কোন সন্দেহের স্থান নেই।’ মির্জা ফখরুল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নির্বাচন বাতিল বা বিলম্বিত হলে দেশের ক্ষতি অনিবার্য হয়ে যাবে এবং ফ্যাসিবাদী শাসন আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে আবারো এই ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও নজরুল।

    মির্জা ফখরুল পরিশেষে বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারব। তার আশাবাদ, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা আরো শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক হয়ে উঠবে।

  • তাহেরের মূল্যবান মন্তব্য: রোডম্যাপের চক্রান্ত স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে বাধা

    তাহেরের মূল্যবান মন্তব্য: রোডম্যাপের চক্রান্ত স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে বাধা

    নির্বাচনের জন্য ঘোষিত রোডম্যাপকে একজন দুর্বার বাজে নীল নকশা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এটি জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। এই মন্তব্য তিনি আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে করেন।

    ডা. তাহের বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রতি জামায়াতের কোনো বিরোধ নেই। তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে সম্পন্ন করার জন্য। তবে এর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করতে হবে, যেমন জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দেওয়া এবং এর ভিত্তিতেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব। কিন্তু, সেটি না করে, নির্বাচনের জন্য ঘোষণা করা নকশাটি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ভন্ডুল করার পরিকল্পনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবো জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। এছাড়া, আগের ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতির মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপের ঘোষণা সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি বড় অপরাধ। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

    তাহের উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায়। যদি আগামী নির্বাচন হয় স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য, তাহলে দেশের চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তিগুলো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম প্রমুখ।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা অব্যাহত: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনী রোডম্যাপে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা অব্যাহত: সালাহউদ্দিন আহমদ

    দু-একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপে অস্পষ্টতা সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যদি কোন অস্বচ্ছতা বা সংশয় উপস্থাপিত হয়, তবে সেটা আমাদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব। আমাদের কোনও অবস্থায় ঐক্য বিনষ্ট হবে না, বরং আলোচনা মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও দ্বৈতভাব দূর করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, আমরা চেষ্টাচরিত্রা করছি যেন কোনো গুমের ঘটনা না ঘটে। তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বলছি, জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ দিলে, তাদের গুমের মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে আমরা যা দরকার সেটা করব। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাচ্ছি যেখানে গুমের শিকার হয়ে কাউকে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।

    শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়াদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমি ভাগ্যবান যে আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি। আমার কিছু সহকর্মীর ভাগ্য হয় না, যারা এখনো নির্যাতনের শিকার।

    অপরাধের জন্য বিগত সরকারের কোনো অনুশোচনা নেই বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, তাদের কারণে মানুষ তাদের অপরাধ স্বীকার করতে পারছে না। বরং জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া হয়েছে। এরপরও কি মানুষ তাদের রাজনীতিতে গ্রহণ করবে? কেউ ক্ষমা করেনি এবং তারা ক্ষমা চায়নি।

    তিনি আবারো জানান, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপে অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। যদি কিছু সংশয় থাকে, তাহলে আলোচনায় বসা উচিত। ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা বন্ধ করে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    আলোচনায় অংশ নেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী, যা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে গুমের শিকার কয়েকজনকে ফিরে পেয়েছি। অন্যদের ফিরে পাওয়ার আশাও ছিল, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তিনি বললেন, সরকার আসার সময় বহু আশা ছিল যে তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনবে বা তাদের খোঁজ দিয়ে সমস্যার সমাধান করবে। এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য দেয়নি।

    গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হয়েছিলেন। ঐ সময় আরও চারজনের সাথে একই সময় গুম হয়েছিলেন। তিনি জানান, ফিরিয়ে আনার পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো সয়ে বেড়াচ্ছেন, কারণ মামলা থেকে অব্যাহতি চান। তিনি আরও জানান, তার তিন বন্ধু এখনও গুমের শিকার, যার সাক্ষী তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, যারা তাকে গুম করেছিল, তারা এখনো চাকরি করছে।

    বিএনপির আন্দোলনের সময় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর গুম হন শ্রমিকদল নেতা মো. ফজলুর রহমান কাজল। পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবার চায়ের দোকান থেকে তুলে নেওয়া হয়। তিন মাসের মধ্যে তাকে কারাগারে দেখতে পারেননি। পরে খবর পাওয়া যায়, তাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখেন, তার বাবা মারা গেছেন, তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে কিছু খাইনি, কারাগার অভ্যন্তরে নির্যাতন চলছিল।’ সজল কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অভিযোগ করেন, তার বাবাকে ধরপাকড়ের সময় থেকে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বর্তমানে তার পরিবারের এই ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি সততা ও সাহসের প্রতীক।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না, তাহলে দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়বে। তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তাহের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিল তারা দেশের সংস্কার করবেন এবং দেশের মানুষও সংস্কার চান। তবে এই সংস্কার প্রসঙ্গে কিছু দল বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট (অস্বীকৃতি প্রকাশ) করছে, যা বোঝায় তারা সংস্কার চায় না। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে কি তারা সংস্কার চান না? তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্র চলছে যেন সংস্কার প্রক্রিয়া সফল না হয়। আমাদের মানতে হবে, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে গ্রহণ করেছি, একইভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তাহের আরও বলেন, রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন কিভাবে হবে তা স্পষ্ট করতে হবে। তিনি পিআর (প্রিজাইস) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতে ফিরে যেতে চাই না। যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ বিপর্যয়ে পড়বে। তাহের বলেন, যারা পিআর পদ্ধতিতে ভোট দিতে চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের জন্য যা কল্যাণকর, তা আসলে গ্রহণ করা হবে। তবে মতানৈক্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলবো, পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে নির্বাচন রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। তাহের যোগ করেন, নির্বাচনের মাস নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না; তবে সংস্কার শেষ না করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা চাই, আপনারা ঘোষিত তারিখেই নির্বাচন হোক। তবে আগে নির্বাচনের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলোর বিষয় সমাধান করতে হবে।