থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশটির সাংবিধানিক আদালত সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তার এই পদচ্যুতির পেছনে মূল কারণ হলো একটি ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশ, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফোনে তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং কম্বোডিয়ার সেনার প্রাণহানির জন্য তাদের প্রতি গালি দেন। এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যে সময় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। পরে এই ফোনকলের বিষ্ময়কর রেকর্ড ভাইরাল হলে গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, পেতোংতার্ন গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের আপোস করছেন বলে। তিনি তখন ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য। এই সব ঘটনা শেষে, ১৫ জুনের ওই ফোনকলের ভিত্তিতে তিনি অংশবিশেষ বলেন, “যে কোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন, আমি দেখব।” এরপর নির্মম সত্যটি সামনে আসে, দেশটির আদালত ১ জুলাই তার প্রধানমন্ত্রীপদ স্থগিত করে। যদিও তিনি মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন। এভাবে ২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্নের এই অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যে দেশের নেতৃত্বে ধীর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ জরুরি।
Month: September 2025
-

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার পেছনে মূল কারণ ছিল বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা, যা মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জের ধরে সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে, যেখানে দেখা যায় দুই দলের কর্মীরা নিজেদের দলীয় পতাকার ডাণ্ডা দিয়ে একে অপরকে মারধর করছেন। এই সংঘর্ষে বেশ কিছু নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনো কোনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কংগ্রেস এতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন দরভাঙায় এক ব্যক্তি ভোটার অধিকারের ‘যাত্রা’ চলাকালীন কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় তরজা করে। এই ঘটনা সরাসরি ভিডিওতে ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। এর জেরে বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে ও কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।
দরভাঙা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এক্স-এ দারভাঙা পুলিশ লিখেছে, ‘সিমরি থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
বিহারেও এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে। পাটনা শহরে শুক্রবার বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। সেই সময় কংগ্রেস সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং মারপিট শুরু হয়। পুলিশ বিশাল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি সমঝোতা করার চেষ্টা করে, তবে শহরের অবস্থা এখনও উত্তপ্ত।
অপর দিকে, কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের অফিসের সামনে শুক্রবার এক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখানে বিজেপির কিছু সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তারা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে মুখোশে থাকা কয়েকজন ভবনের বাইরে ভাঙচুর করে। তাদের হাতে নাচে থাকা রাহুল গান্ধীর ছবি ও ব্যানার দেখতে পাওয়া গেছে। এ ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। অভিযোগ দায়ের হয়েছে এন্টালি থানায়।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতিতে যারা দেউলিয়া, তাদের এই ধরনের কাজ করার সাহস হয় না। একমাত্র বিজেপির নেতা-নেত্রীরা নিজেদের চুরি ও দুর্নীতির রঙ ঢাকতে এইসব অপকর্ম করে। তারা আমাদের দলের ওপর রাগ প্রকাশ করছে, যখন পুরো দেশ জুড়ে তারা নানা দুর্নীতির অভিযোগে ধরা পড়ছে। এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় সরকারের মদদ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমার ভুল করেছেন, আমরা এর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
অপর দিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দেন, ‘মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে বিজেপিকে দেবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই দেব।’
স্বরաստ্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করে লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি অতি নিচে নেমে এসেছে। একজন গরিব মায়ের সন্তান ১১ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাকে অপমানের এই ভাষা মানা যায় না। এটি লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রের প্রতি কলঙ্ক।’
বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেছেন, ‘এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের উচিত ক্ষমা চাওয়া।’
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এ ঘটনাকে অবজ্ঞা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের অশ্লীল মন্তব্য অবশ্যই নিন্দনীয়। আমি এর কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
-

ইসরায়েলের গাজা অভিযান ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার
গাজা উপত্যকা এখন এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, কারণ দখলদার ইসরায়েল গাজা সিটিকে সম্পূর্ণভাবে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শহরটিতে এর আগে কোনও বিরতি ছাড়াই গৃহীত সামরিক কার্যক্রম এখন তীব্রতর হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা সেখানে ব্যাপক প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতেও ত্রাণ সহায়তার জন্য কোনও বিরতি দেওয়া হবে না। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, গাজায় ঘরে ঘরে যুদ্ধের ধাক্কা চলমান, আর জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক্সে তার এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। গাজা সিটিতে এখন শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান এবং হামলার প্রথম পর্যায়। আমরা শক্তির সঙ্গে উপকণ্ঠে দখল ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল যে, কৌশলগত বিরতিটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, “আজ শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে শহরটি পুরোপুরি একটি ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্র।” প্রথমে ২৪ ঘণ্টার জন্য সাময়িক বিরতি দিয়ে ইসরায়েল গাজায় হামলা বন্ধ রেখেছিল, তবে সেটি পরবর্তীতে বাতিল করে দেয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সময়ে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আহ্বানে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সাময়িক বিরতি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত শহরে এখন ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালসহ সর্বত্র যুদ্ধের থাবা। আগস্টের শুরুর দিক থেকে শুরু করে ইসরায়েল গাজায় বরাবরই বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, আর শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংক অবস্থান নিয়েছে। এসব হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনি সাধারণ জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে।।
প্রতিরোধের জন্য শহরটিতে প্রতিদিনই দ্রুত নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, তারা টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশি সংখ্যক মানুষ, যার সংখ্যাটা এখন ২২৪ জন।
অথচ, এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও নিরীহ মানুষজনের জীবন বাঁচানোর জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চললেও অনেকের চোখে আজও শান্তির দেখা মেলেনি। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫ জন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জন।
আরও আরও মৃত্যুর খবর আসছে, বিশেষ করে অনাহার ও অপুষ্টির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষুধাজনিত কারণে নিহতের মোট সংখ্যা ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধের ফলে মানবিক সহায়তা নেয়ার জন্য গাজায় গিয়ে জীবন দিয়ে যেতে হয়েছে ২৩ জন ফিলিস্তিনিকে। আপাতত, ২৭ মে থেকে এই পর্যন্ত যাদের সাহায্য পেতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ২০৩ জন এবং আহত হয়েছেন মোট ১৬ হাজার ২২৮ জন। এই পরিস্থিতিতে এখনও প্রচুর মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) চলতি বছরের ২৭ মে থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে, এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এই কেন্দ্রগুলোর কাছে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। সূত্র: আল জাজিরা।
-

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: ভারত আমাদের হত্যা করছে!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো ভারতের শুল্ক নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের শুল্ক নীতি আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেন তারা আমাদের হত্যা করছে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমানে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের জটিলতা কত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে এই মন্তব্য করেছেন যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক বিষয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। খবর এএনডিটিভির।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্কট জেনিংস রেডিও শোতে বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তারা আমাদের বিপদে ফেলেছে। চীন যতই শুল্ক আরোপ করুক, ভারতের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক নেওয়ার কারণে তারা আমাদেরকে “हত্যা” করছে—অর্থাৎ আমাদেরকে হত্যা করছে। ব্রাজিলের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প দাবী করেছেন, শুল্কের বিষয়টি তিনি একেবারে ভালো মতো বুঝতে পারেন। তিনি বলেন, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে শুল্ক আরও কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন ভারতই দ্রুত শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের ক্ষতি করেছে।
গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতের শুল্ক সবচেয়ে বেশি—৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক। ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপকে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, ভারতের এত বেশি শুল্ক আরোপের কারণ হলো, আমরা যদি শুল্ক না করতাম, তখন তারা আমাদের এখনকার মতো প্রস্তাব দিত না। তাই শুল্ক অপরিহার্য, যাতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাকি। তিনি আরও বলেছেন, আমাদের কঠোর অবস্থানে থাকাটাই একমাত্র সমাধান।
এর আগে, ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এখনো একপাক্ষিক। তিনি এটাকে ‘একপাক্ষিক বিপর্যয়’ ও বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের হিসেবে, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিলেও, এই প্রস্তাব দেরিতে এসেছে এবং এটা ইতিবাচক নয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ককে незакон বলে রায় দিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই রায়ผิดজ্ঞানে দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা জানে, চূড়ান্তভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে থাকবো।
উল্লেখ্য, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শুল্ক দিয়ে থাকে, যেখানে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে কেনা তেলের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’।
-

ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এসব দাবি করেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা বলছেন, তাদের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এখন আবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছে এ সমস্ত রোহিঙ্গারা, যারা মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আশ্রয় খুঁজতে পালিয়ে এসেছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই নীতির কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তারা একাধিক সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই ঘটনা ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করেছে।
এপ্রেমে, ৯ মে তার সাথে শেষ বার কথা বলেন নুরুল আমিন, তাঁর ভাই খাইরুলের সাথে। ফোনালাপটা সংক্ষিপ্ত হলেও তা ছিল ভয়ংকর। জানাতে পারেন, ভারতের সরকারের দ্বারা তাদের খুমছে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের পরিবার ও স্বজনরা কী দুর্দশার মধ্যে আছেন, তা কল্পনাও করতে পারছেন না তিনি। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য এর থেকে বড় দুঃখ আর কিছু হতে পারে না। জান্তার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী লড়াই করছে, ফলে এই পরিস্থিতিতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা অনেকটাই দূর্বল।
দিল্লিতে বসবাসকারী ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমাদের বাবা-মা ও স্বজনরা কীভাবে কষ্টে আছেন, সেটা আমি ভাবতে পারছি না।” বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে মিয়ানমারে। অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছেন বৌদ্ধরাই ও অন্যান্য প্রতিরোধ সংঘঠনের কাছে, যারা জান্তার বাহিনী বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
ভিডিও কলে সাক্ষাৎকারে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ।” তিনি আরও জানান, অন্য ছয়জনের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। শরণার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আনা হয় এক বিমানে, যেখানে তাদের দ্বারা লাইফ জ্যাকেট পরানো হয়। এরপর নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা বলছে, ঐ যুদ্ধজাহাজে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলো, খেতে পাওয়া যেতো ভাত, ডাল আর পনির। তবে সেই সময় অনেককে মারধর ও অপমান করা হয়।
সৈয়দ নূর জানান, “আমার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয় আর কেঁদে চিৎকার করতে হয়েছিল। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন অবৈধভাবে ভারতে এসেছি?” এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান ছিলেন, যাঁরা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন তারা ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের পেহেলগামের হামলার জন্য জড়িত বলে অপপ্রচার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব রোহিঙ্গারা মূলত শহর থেকে পালিয়ে আসছে।
৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট ছিল, বলা হয়েছিল তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন— তারা আসলে মিয়ানমারে ছিল। এর পর, ৯ মে ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং এখান থেকে স্বজনদের খবর দেন। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের জন্য খাদ্য ও আশ্রয় সরবরাহ করে। তবে ভারতে থাকা পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, ভারতে এই ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সৌজন্যে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে রোহিঙ্গাদের। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের মিশনে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন স্পষ্ট উত্তর পায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটি তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে আনুমানিক ২৩,৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর রেজিস্ট্রেড থাকলেও, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা সেখানে ৪০ হাজারের কাছাকাছি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের ফলে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখের বেশি।
বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় থাকা ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানায় ডেকে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের দাবি করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর, তাদের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যানডাম নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে লেখাও ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’।
সৈয়দ নূর বলছেন, “বাসে উঠার পরই আমাদের হাত প্লাস্টিকের হাতকড়া দিয়ে বাঁধা হয়, আর মুখ মেকাপের কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে, আমাদের এক যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়। সেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলাম, খেতে পেতাম ভাত, ডাল ও পনির। তবে চালাকচুরি, মারধর ও অপমানের সাক্ষীও হতে হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। অনেককে মারধর করা হয়েছে, চড় মারা হয়েছে।”
ফয়াজুল্লাহ বলে, তিনি হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখাতে সক্ষম। তিনি জানিয়েছেন, তার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়, চা খাইয়ে দেয়া হয়, আর জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে কেন এসো?” এর মধ্যে ১৫ জন মত খ্রিস্টান রোহিঙ্গা, তাঁদের জিজ্ঞেস করা হয়, কেন ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তর করেছেন। এমনকি, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের হামলার সঙ্গে জড়িত বলে বিবৃতি দেওয়া হয়। তবে এসবের কোনো সম্পর্ক স্বীকার করেননি বা প্রমাণ দেখাননি রোহিঙ্গারা।
পরবর্তীতে ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানো হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও, তারা জানে না, আসলে তারা মিয়ানমারে ছিলেন। পরের দিন, স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। ভারতে থাকা পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
জনস্বার্থে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ ও নিপীড়নে বেড়িয়ে, প্রাণ বাঁচাতে।
-

খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে বিদায়ী সংবর্ধনা
খুলনা জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বদলি হওয়ার কারণে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের আয়বIBUTES, এনামুল হক, এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (રાજস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও কৌশিক দে, আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা মোঃ এরশাদ আলী, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পোপলু, এহতেশামুল হক শাওন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আব্দুর রাজ্জাক রানা এবং মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আহমদ মুসা রঞ্জু, ক্লাবের সদস্য কাজী শামীম আহমেদ, এস এম ইয়াসীন আরাফাত রুমী, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ কামরুল হোসেন মনি, অভিজিৎ পালসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
শুরুর দিকের অধিবেশনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে ক্লাবের পক্ষ থেকে তার জন্য সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এ অভিনন্দন ও সংবর্ধনা আড়ম্বরপূর্ণ ও গভীর শ্রদ্ধার ছিল উপচে পড়া।
-

সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশি ফিরতে পারল
সাতক্ষীরা সীমান্তে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্যালঞ্চে আটক নারী ও শিশু সহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবি ফিরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টায়, যখন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর রাত সোয়া ১০টায় তাদেরকে বিজিবি নিরাপত্তার মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করে। জানা গেছে, এ সব নাগরিকরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ উদ্যোগে ভারতের বিএসএফ হাকিমপুর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এরপর দুই দিন ধরে তারা সেখানে ছিল। শেষ পর্যন্ত, বৃহস্পতিবার রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মোঃ সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল্লাহ গাজী (৩৮), ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি এলাকার নাজমা বিবি (৩৩), তার মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মিনার (১৩), নওয়াবেঁকীর পূর্ব বিড়ালক্ষীর মোছা. মাফুজা খাতুন (৩৪), তানিয়া সুলতানা (১০), মাফুজ রহমান (২), খুলনার বাটিয়াঘাটা এলাকার মৃত জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৪), তার মেয়ে হাসিনা খাতুন (১০), serta পিরোজপুরের খানাকুনিয়া গ্রামের রুহুল আমিন (৪০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫) ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭)।
বিজিবি জানায়, অবৈধভাবে ভারতের প্রবেশের দায়ে মঙ্গলবার রাতেই হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিএসএফ। পরে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত দেওয়া হয়। এই সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন সাতক্ষীরার তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবুল কাশেম। তিনি জানান, প্রত্যেককে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আব্দুল্লাহ গাজী জানান যে, প্রায় ১৬ মাস আগে তিনি বৈকারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং কলকাতার নিউটাউন-রাজারহাট এলাকার মোলাপাড়ায় দিনমজুরের কাজ করতেন। সম্প্রতি, ভারতের পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালানোর পর তারা ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বেচ্ছায় বিএসএফ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করে, যেখানে দুই দিন আটকে রাখার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক নিশ্চিত করেছেন, তাদের সোমবার রাতে বিজিবি হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে ১৪ জনকে তাদের স্বজনদের কাছে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর একজনের পরিবারের লোক এলে শুক্রবার তারও ফিরিয়ে দেওয়া হবে। -

জামায়াত সরকার গঠন করলে ব্যবসায়ীরা থাকবেন সবচেয়ে নিরাপদে ব্যবসা করার সুযোগ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে তার ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির উপর। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচিত সরকারগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সেই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুব্যবস্থাপনার পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজে চালানো যেতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদে নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে পারলেই দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
-

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হলো: শফিকুল আলম তুহিন
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন আজ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন গোপন বৈঠক ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পাঁয়তারা করে আসছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তুহিন উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ভিতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পনা করে চলছে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনোই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারকে সমর্থন দেয়নি। তাদের ষড়যন্ত্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে রুখে দিতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়াদ্দার জলি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে.এম হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানমঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আজাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কে.এম বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আকতার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হাসনাত আবির, সৌমেন সাহা ও অন্যান্য।
-

রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ, ইট তৈরির পট বানিয়ে ব্যবসা চলমান
খুলনার আঠারোবেঁকী নদীর তীরে অবস্থিত রূপসার নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ায় সরকারি রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে ইট তৈরির জন্য পট (মাটি দিয়ে ইটের ছাই বা বিন্যাস) তৈরি করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নেহালপুর থেকে পুরান হাট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তাটি কেটে সেখানে ইটের পট বানিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এমএনএস ব্রিকসের মালিক। এই ঘটনায় এলাকার সচেতন মহল জোর দিচ্ছেন সরকারি রাস্তা দ্রুত পুনরুদ্ধারে।
নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব বিশ্বাস বলেছেন, জনস্বার্থে এ রাস্তা অবিলম্বে দখল মুক্ত করে পুনর্দখল জরুরি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, মোঃ সুজন নামে একজন বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানো বন্ধ না হলে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন। হাবিবুর রহমান বলেন, এ রাস্তা দখলমুক্ত না করলে খুব শিগগিরই পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাস্তাটির গুরুত্ব আরেকটু ব্যাখ্যা করে সাধন দে বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যদি কোনো মহৎ কাজ, যেমন সৎকারের জন্য মৃতদেহ শ্মশানে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন এই রাস্তা দিয়ে যেতে হতো। কিন্তু দখল ও ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত পট বানানোর কারণে রাস্তা ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নেহালপুরের রাকিব শেখ জানান, এ রাস্তা ঐতিহ্যবাহী একটি পুরোনো রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই রাস্তা দখল করে ইটের পট বানানোর মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সিএনবি ব্রিকসের মালিক মিঠু। এর আগেও একইভাবে অন্য ব্রিকসের মালিক সাত্তার এ ধরনের অব্যাহত কার্যকলাপ চালিয়ে গেছেন।
মেসার্স এমএনএস ব্রিকসের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, কোম্পানির মালিক মিঠু সাহেব পাঁচ বছরের জন্য ইটভাটা লিজ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি রাস্তা নিয়ে কোনও অজুহাত নেই। সরকার চাইলে রাস্তা সহজেই উদ্ধার করতে পারে।
নৈহাটীর সার্ভেয়ার মোঃ খবিরুদ্দিন বলেন, এটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে অনেক গ্রামবাসী নদীর খেয়োঘাট পার হয়ে শহরে আসতেন। পূর্বে তিনি এই সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের জন্য মেপে দিয়েছিলেন, তবে বর্তমানে কাউকে কিছু করার অনুমতি দেননি। উপজেলা প্রশাসনের নায়েবও রাস্তাটির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছেন, তবে কার্যকর কোনও উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি।
খুলনা জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও নৈহাটী কালিবাড়ি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির বিল্লাহ বলেন, জনসাধারণের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা কেটে ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই বছর ধরে এমএনএস ব্রিকস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে এই রাস্তা পুনরুদ্ধার জরুরি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সিবিআই ব্রিকসের সাবেক মালিক আঃসাত্তার সাহেব বছরের পর বছর এ রাস্তা দখল করে রেখেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর চাপের পরও তিনি নিষ্পত্তি করেননি। গত দুই বছর আগে, সিবিআই ব্রিকসের মালিক মোঃ মিঠু কোম্পানিকে পাঁচ বছরের জন্য ইট-ভাটা লিজ দিয়ে একইভাবে রাস্তা দখল করেন। এর কোনও সমাধান হয়নি।
উপজেলা প্রশাসনের নায়েব বর্তমানে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছেন, তবে তিনি এ ব্যাপারে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, যদি দ্রুত দখলমুক্ত না করা হয়, তাহলে কঠর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা আক্তার রিক্তা বলেন, দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
