Month: September 2025

  • তিন দশকের লুটের বিচার চান নেপালের তরুণরা, নতুন সংবিধান চান তারা

    তিন দশকের লুটের বিচার চান নেপালের তরুণরা, নতুন সংবিধান চান তারা

    নেপালে সহিংস বিক্ষোভের কারণে সরকারের পতনের পর তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ বিশ্লেষণ করছে দেশের ভবিষ্যৎ ও মুক্তির পথ। জেনারেশন জি নামে পরিচিত এই তরুণেরা সরাসরি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নির্বাহী নেতৃত্বের পরিবর্তন, এবং গত তিন দশক ধরে চলে আসা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লুটের তদন্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকারকে সরিয়ে দিয়ে তরুণ আন্দোলনকারীরা ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা শাসনব্যবস্থার সূচনালগ্নে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানান, সেই সঙ্গে উল্লেখ করেন, গত তিন দশকের অবৈধ সম্পদ লুটের তদন্ত ও অবাধ অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব ব্যক্তি এই আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হবে। তারা আরও বলেছেন, বেকারত্ব দূর করা, অভিবাসনের হার কমানো, এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ কার্যক্রম চালানো হবে।

    বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এই আন্দোলন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা দলের নয়, বরং পুরো দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রজন্মের জন্য। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন জরুরি, তবে সঠিক পরিবর্তনের জন্য নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ছাড়া কোনও উপায় নেই।” তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী এই প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে ও দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

    তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়া, কারণ এটি জনগণের আস্থা হারিয়েছেন; জনগণের, বিশেষজ্ঞ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন; নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন; এবং সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। জোর দেওয়া হয়েছে, গত তিন দশক ধরে লুট হওয়া সম্পদের তদন্ত এবং অবৈধ আর্থিক সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক সংস্কার দাবি করেছেন তারা।

    এদিকে বুধবার ভোর থেকে সেনাবাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে মোতায়েন হয়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে নানান নির্দেশনা জারি করে। এর আগের দিন সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে তা জ্বলিয়ে দেয়। সেনাবাহিনী রাতারাতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ও বিভিন্ন শহরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছু গোষ্ঠী বর্তমান পরিস্থিতির সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে এবং সরকারি সম্পত্তি বিনাশ করছে।

    পূর্বে গত সোমবার ‘জেনারেশন জি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব নিতে গিয়েও আন্দোলনকারীরা সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন। এর ফলেই প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন এবং বিক্ষোভ শান্ত করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

  • ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত ৩৫, আহত ১৩১

    ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত ৩৫, আহত ১৩১

    ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আল-জাওফ প্রদেশে চালানো ইসরায়েলি বিমানহামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩১ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার এ হামলা চালানো হয় বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। এর এক দিন আগে, কাতার রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ভারতীয় হামলা চালায় ইসরায়েল।

    আলজাজিরার খবর অনুযায়ী, ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সানার আল-তাহরির এলাকায় একটি আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের সরকারি কমপাউন্ডের উপর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি দাবি করে, এই হামলায় সানার দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি মেডিকেল সেন্টার এবং আল-হাজমের সরকারি কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

    হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা প্রতিহত করতে তারা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করেছেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কিছু ইসরায়েলি বিমান প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তিনি আরো যোগ করেন, কিছু ইসরায়েলি বিমান তাদের অস্ত্র ব্যবহার করার আগেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল নিক্ষেপ করে জায়নবাদী আগ্রাসনের মোকাবিলা করেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সানা ও আল-জাওফে হুথি গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল হুথিদের সামরিক শিবির, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার।

    প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, রামন বিমানবন্দরে হুথিদের ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে এই আঘাত চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যারা আমাদের আক্রমণ করবে, তাদের খুঁজে বের করে জবাব দেওয়া হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থি রাজনীতির একজন স্বনামধন্য নেতা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চার্লি কার্ককে এক যুবক প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। এটি ঘটেছে বুধবার উটা ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে, যখন তিনি একটি ভাষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ ওই যুবক তার দিকে গুলিবর্ষণ করে, ঘটনাস্থলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক ছোট তাঁবুর নিচে বসে আছেন চার্লি। হঠাৎই গুলির বিকট শব্দ হয় এবং তিনি চেয়ার থেকে ছিটকে পড়েন। ঘটনাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে উপস্থিত দর্শকদের এক বড় অংশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের সময় চার্লির গলায় গুলি লেগেছে। বিবিসির রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    অথচ এখনো দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পরে উটার সিনেটর মাইক লি টুইট করে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। সবাই অনুরোধ, চার্লি কার্ক এবং সেখানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের জন্য দয়া করে প্রার্থনা করুন।” এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    চার্লির মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লিখেছেন, “কিংবদন্তি চার্লি কার্ক আর নেই। তিনি একজন বিশিষ্ট তরুণ নেতা ছিলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুবকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। তাঁর অবদান ও অনুভূতি কোনদিন ভুলবার নয়।” তিনি আরো লিখেছেন, “আমার বউ মেলানিয়া এবং আমি তার স্ত্রী এরিকা ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। চার্লি, তোমাকে আমরা ভালোবাসি।”

    চার্লি কার্ক একজন ডানপন্থী নেতাকর্মী এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় এক ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত। একজন স্পষ্ট ভাষার বক্তা হিসেবে তিনি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন। মূলত, মার্কিন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতেন তিনি। তার ‘Prove Me Wrong’ শোটি আমেরিকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে যে কেউ তার সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে পারেন। তার বিভিন্ন বিতর্কের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

  • ইসরায়েল ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে

    ইসরায়েল ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে

    গত ৭২ ঘণ্টায় ইসরায়েল বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ছয়টি দেশে হামলা চালিয়েছে। সবার আগে, মঙ্গলবার দোহার বিমান হামলায় দেশটি এক নজির গড়ে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল দোহায় শান্তিপূর্ণ বৈঠকরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে, যেখানে গাজার অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হায়ার ও তার ডিরেক্টর, তিন দেহরক্ষী এবং কাতারীয় নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। তবে শীর্ষ নেতাদের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের বর্তমান উগ্রবাদী সরকারের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা সীমান্তের বাইরে আরও বিস্তৃত এলাকা লক্ষ্য করে। এই ৭২ ঘণ্টায় কাতারকে ছাড়াও আরো পাঁচটি দেশকে নিশানা করে হামলা করা হয়েছে, কোন এক বছরে এটি সপ্তম দেশ।

    গাজায় চলমান যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যেখানে ৫৪০ জনের ও বেশি আহত হয়েছেন। সোমবারের হামলায় ৬৭ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ত্রাণ সহায়তা নিতে গিয়ে মারা যান বা আহত হন। মঙ্গলবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যেখানে ৮৩ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। গাজার বিভিন্ন ভবন ধ্বংস ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে অসংখ্য মানুষ আশ্রয় হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। চলমান এই হামলায় এখন পর্যন্ত আট মাসের মধ্যে প্রায় ৬৪,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে অনেকেই উপোস থাকার কারণে মারা গেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকছে।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, লেবাননে সোমবার হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা একটায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের পূর্বাঞ্চলে বেকা ও হারমেল জেলায় হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলোর উপর আঘাত করেছে। যদিও এই বিষয়ক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং হিজবুল্লাহ এর কোন মন্তব্য করেনি। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে, তবে তারা প্রতিদিন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে এবং সীমান্তের পাঁচটি পোস্ট দখল করে রেখেছে। মঙ্গলবার বিপরীতভাবে, বৈরুতের দক্ষিণে বারজা গ্রামে ইসরায়েল ড্রোন হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সদস্য আহত হন।

    সিরিয়ায়ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার গভীর রাতে হোমসের বিমান ঘাঁটি ও লাতাকিয়ার কাছে একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানা যায়। হামলার পর তাড়াহুড়ো করে জরুরি উদ্ধারকর্ম ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। হতাহত না হলেও, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। জানাতে গেলে, ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে সিরিয়ায় বহু হামলা চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে দখল করা গোলান মালভূমি থেকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, শুধুমাত্র এ বছর ইসরায়েল সিরিয়ায় প্রায় ১০০ বার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বিমান হামলা ৮৬ বার ও স্থল হামলা ১১ বার। এসব হামলায় অন্তত ১৩৫টি স্থাপনাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে এবং ৬১ জন নিহত হয়েছেন।

    একই সময়ে, তিউনিসিয়ার উপকূলে গাজা ত্রাণবহর লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। সোমবার রাতে তিউনিসিয়ার সিদি বোউ সাইদে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ প্রধান জাহাজ ফ্যামিলি বোটে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা হয়, যার ফলে জাহাজে আগুন লাগে। তবে আশার কথা, এই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যাত্রীরা সবাই নিরাপদে থাকেন। এই বহরের বেশ কয়েকটি জাহাজের মধ্যে এটি অন্যতম বলে জানা যায়। এর আগে ২০১০ সাল থেকেই এই ধরনের তস্য বহর বিভিন্ন সময় গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক জলসীমায় এগুলো আটক বা আক্রমণ করে।

    অবশেষে, প্রথমবারের মতো ইসরায়েল কাতারে আঘাত হেনেছে। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে সংঘটিত এই হামলায় দোহায় ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। ইসরায়েল পরে দাবি করে, তারা ওয়েস্ট বে লাগুন এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে বিদেশি দূতাবাস, স্কুল ও বিভিন্ন আবাসিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে হামাসের নেতারা কাতারে অবস্থান করছেন, যেখানে বিএইর সেন্টকম নামে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা হামলার স্থান থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে।

    একই সময়ে, বুধবার ইসরায়েল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে ইসরায়েল দাবি করছে। এতে সানার বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে মে মাসে এই বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছিল। ২৮ আগস্টের হামলায় হুতি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও নিহত হন। এসব হামলা ও সংকটের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় অস্থিরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

  • নেপালে বিক্ষোভের কারণে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি ক্ষতি

    নেপালে বিক্ষোভের কারণে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি ক্ষতি

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুইদিনের ব্যাপক গণবিক্ষোভে নেপালজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, এই বিক্ষোভে কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি মূল্যের সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন ভবন ধবংসের পাশাপাশি ঐতিহাসিক দলিলপত্র ও নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম খবরহাব।

    সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সিংহ দরবার, পার্লামেন্ট ভবন ও সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

    নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বলছে, ‘এই স্থাপনাগুলোর বেশিরভাগই সংস্কারের অযোগ্য। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো মেরামত করা সম্ভব হলেও এগুলো পুনর্নির্মাণ করতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন রুপি খরচ হবে। এই হিসেব মাত্র ভবনগুলোর জন্য নির্ধারিত, অন্য আনুষঙ্গিক খরচগুলোও এতে যোগ হয়েছে।’

    নেপালে বিক্ষোভকারীরা শুধু রাজধানী কাঠমান্ডুতে নয়, বিভিন্ন প্রদেশেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। তারা বিধানসভা ভবন, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, কারাগার, পুলিশ স্টেশন, জমির ও রাজস্ব অফিস এবং বিভিন্ন পৌর ওয়ার্ডের সরকারি ভবন পুড়িয়ে দিয়েছেন।

    নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে। তবে পোখারা, ইতাহারি, জনকপুর, ধানগড়ি ও বিরাটনগরসহ অন্যান্য বড় শহরেও সরকারি অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

    তাছাড়া, মঙ্গলবারের গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানই নয়, ব্যক্তিগত সম্পদকেও লক্ষ্যবস্তু করে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা, পর্যটন প্রতিষ্ঠান, গাড়ির শোরুম, গণমাধ্যমের অফিসেও আগুন দিয়েছেন।

    গণবিক্ষোভের সময় পুলিশ গুলি চালানোর পর সোমবার ১৯ জন নিহত হয়। এরপর থেকে আন্দোলন আরও সহিংস হয়ে উঠেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে আগুন দিতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৪ জন, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

    সরকারি অবকাঠামোতে ভাঙচুরের কারণে সরকারি কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ভবন পুড়ে যাওয়ায় এখন অন্যত্র কাজ চালাতে হচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন রুপি বলে জানিয়েছেন সরকার, তবে এটি আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে নিশ্চিত করে নেপালের নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। বরাবরের মতো, এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও দুর্বল করছে।

  • সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কলেজ শিক্ষক প্রাণ হারালেন

    সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কলেজ শিক্ষক প্রাণ হারালেন

    সাতক্ষীরায় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী ও কলেজ শিক্ষক সূর্যকান্ত রায় মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে শহরের ইটাগাছা এলাকায়, ভারতের ভিসা অফিসের সামনে। নিহত সূর্যকান্ত রায় আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের পারশেমারী গ্রামের মৃত অমূল্য রায়ের ছেলে। তিনি দেবহাটার সখিপুর হাজী কেয়ামউদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি সূত্রে তিনি সাতক্ষীরা শহরের রথখোলা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, বেলা আড়াইটার দিকে কলেজ শিক্ষক সূর্যকান্ত রায় ইটাগাছা এলাকার ভারতীয় ভিসা অফিসের সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হক।

  • মোংলা বন্দরে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ, চ্যানেলে সহস্রাধিক নৌযান আটকালো ঝড়ের মতো প্রতিবাদ

    মোংলা বন্দরে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ, চ্যানেলে সহস্রাধিক নৌযান আটকালো ঝড়ের মতো প্রতিবাদ

    মোংলা-রামপালসহ বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসনের পুনঃনির্বাচনের দাবিতে গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যাপক হরতাল ও অবরোধের কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক স্থবিরতা। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি আসন অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বাগেরহাটের সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতৃবৃন্দ হরতাল ও চলমান অবরোধের ঘোষণা দেন।

    সংগঠনের সূত্র জানায়, এই ৪৮ ঘণ্টার হরতালে মোংলা বন্দর, ইপিজেড, ইকোনমিক জোনসহ মোট প্রায় ৫৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। বন্দরের বহিঃনোঙর, হারবাড়িয়া, ভ্যাসক্রিকি ও জেটি এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও বোঝাই চললেও নৌচলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জাহাজ নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারেনি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে পণ্য পাঠানোর জন্য শত শত লাইটার, কার্গো ও বোট নদীতে আটকা পড়ে রয়েছে।

    অবরোধের কারণে নদী পারাপার ও নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া মোংলা-খুলনা মহাসড়কেও অবরোধ চালানো হয়েছে। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্দশা বেড়েছে। স্কুলে যায়নি শিক্ষার্থীরাও এবং নিম্ন আয়ের মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পণ্যবাহী ট্রাক ও লড়ি দিনভর অপেক্ষা করছে পণ্য খালাসের জন্য, কিন্তু যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছপালা ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড, দ্বিগরাজ, মোংলা কলেজ মোড়, হাসপাতাল ঘাট, শেরাবুনিয়া, কানাইন্নগর, কুমারখালী ও নদী পারাপার ঘাটসহ প্রায় ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা। নদীতেও নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় গার্মেন্টস কর্মী ও শিক্ষার্থীরা কর্মস্থল ও স্কুলে যেতে পারেননি।

    অবরোধের কারণে গামেন্টস, সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকা অবস্থা। ব্যবসায়ীরা দোকানে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন।

    বাগেরহাটের সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম বলেন, “৩০ জুলাই মোংলা-রামপালসহ বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন অপসারণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছি। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় মানুষ ক্ষুব্ধ। নির্বাচন কমিশনের এই ষড়যন্ত্রের কারণে মোংলা বন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে উঠবে, এ বিষয়ে তারা প্রস্তুত। পাশাপাশি এই আন্দোলন অব্যাহত থাকলে এবং যদি কোনও অশান্তি সৃষ্টি হয়, তবে তার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে নির্বাচন কমিশনের ওপর থাকবে।”

  • উচ্চশিক্ষার জন্য ৪৭ লাখ টাকার বৃত্তি পাচ্ছে ১৩০ মেধাবী শিক্ষার্থী

    উচ্চশিক্ষার জন্য ৪৭ লাখ টাকার বৃত্তি পাচ্ছে ১৩০ মেধাবী শিক্ষার্থী

    বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’ এই অর্থবছরে খুলনা জেলায় ৫৬টি শাখার মাধ্যমে এক লাখ ১৮ হাজার ২২৩ জনের মধ্যে ৮৪০ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি, ১৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য মোট ৪৭ লাখ টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এই তথ্য জানানো হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়।

    সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) আশা প্রতিষ্ঠান শিগগিরই এক লাখ ২০ হাজার লোকের জন্য এক হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করবে। এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম আশা।

    এছাড়াও, সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লাখ পরিবার আশা সংস্থার সুবিধা গ্রহণ করছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন কাজ চালানো হয়, যেমন— কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষার সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র, স্যানিটেশন কার্যক্রম ও ফিজিওথেরাপি সেবা। এছাড়াও, আশা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশা-ম্যাটসেগরি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালু রয়েছে, যা লেখাপড়ায় উন্নতি সাধনে সহায়তা করে।

    প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে খুলনা জেলায় ২৪টি শাখার মাধ্যমে ৩৬০টি শিক্ষা কেন্দ্র চালু হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ১১ হাজার ১৭৫ জন শিশুকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, জেলায় একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার ও একটি স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকে কার্যক্রম চলমান। গত অর্থবছরে খুলনা জেলায় অসংখ্য সামাজিক কাজের জন্য ৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে।

    তদ্ব্যতীত, যেকোনো জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আশার ডিভিশনাল ম্যানেজার আব্দুলাহ আল-হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আনোয়ার সাদাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক। সভা পরিচালনা করেন আশার এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ সাহেদ আলী।

  • কেএমপি’র আট থানায় ওসি বদলি একসাথে

    কেএমপি’র আট থানায় ওসি বদলি একসাথে

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদের রদবদল হয়েছে। এই পরিবর্তন বৃহস্পতিবার কেএমপি কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার স্বাক্ষরিত আদেশ মাধ্যমে কার্যকর হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে এ রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুতই তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

    এ রদবদলে সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলামকে খুলনা সদর থানায়, খুলনা সদর থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুমকে লবণচরা থানায়, হরিণটানা থানার ওসি শেখ খায়রুল বাশারকে আড়ংঘাটা থানায়, লবণচরা থানার ওসি মোঃ তোহিদুজ্জামানকে হরিণটানা থানায়, আড়ংঘাটা থানার ওসি মোঃ তুহিনুজ্জামানকে খানজাহান আলী থানায়, খানজাহান আলী থানার ওসি কবির হোসেনকে সোনাডাঙ্গা থানায়, দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলীকে খালিশপুর থানায় এবং খালিশপুর থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলামকে দৌলতপুর থানায় বদলী করা হয়েছে।

    কেএমপি সূত্র জানিয়েছে, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে নিয়মিত রদবদলের অংশ হিসেবে এই পদায়ন কার্যকর করা হয়েছে।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার খোন্দকার হোসেন আহম্মদ (মিডিয়া) বলেন, এই রদবদল নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খুব শিগগিরই তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

  • সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

    সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

    দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে যথার্থ সুশাসন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য আপনাকে অবশ্যই সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কারের উপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সুসংহত ও স্থিতিশীল হয়।

    বুধবার ভোরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের লেকচার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক একটি সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন, যেখানে মূল বক্তা হিসেবে তিনি অংশ নেন। সেখানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রকাশ করে বলেন, প্রাথমিকভাবে সংস্কারের জন্য চিন্তাধারায় দৃঢ়তা প্রয়োজন, সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে স্পষ্টভাবে এবং তার পরে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণে সমন্বয়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং মূল উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোন কোন স্বার্থের অগ্রাধিকার দেয়া হবে, সেটিও অবশ্যই সুস্পষ্ট হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অতি জরুরি। বিনিয়োগের গতি বাড়াতে হবে এবং সংস্কারকে সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নেওয়া আবশ্যক। সংস্কার এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব না, বরং এটি একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। এসব উদ্দেশ্যে সংস্কার জোটকে শক্তিশালী করতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

    আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও গতিশীল করতে হলে সুশাসন এবং নীতিগত সংস্কারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমে গবেষণামুখী শিক্ষা চালিয়ে যেতে এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নিয়োজিত রয়েছে।

    সভাপতিত্ব করেন ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের প্রধান ড. কাজী হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজবিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসাইন, এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক ও প্রভাষক আইরিন আজহার ঊর্মি। এ সময় ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্টও প্রদান করা হয়।

    উপস্থিত ছিলেন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা, যারা এই সেমিনারে অংশ নেন। এর আগে, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপাচার্য তাঁকে স্বাগত জানিয়ে একটি মনোগ্রামসহ বিশেষ ক্রেস্ট উপহার দেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।