Month: September 2025

  • সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন ও গণতন্ত্রের সবকাে রীতি

    সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন ও গণতন্ত্রের সবকাে রীতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা এই নির্বাচন জিতেছেন, তাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটি এক প্রকার গণতান্ত্রিক রীতি, যেখানে সবাইকে অভিনন্দন জানানো উচিত। নির্বাচনের সময়ে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে, তবে এত দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় এগুলো স্বাভাবিক বলেই তিনি মন্তব্য করেন।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটসে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রশিবির সরাসরি ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রতি তিনি শুভকামনা জানান। তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটকে তিনি অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

    ডাকসু ও চতুর্থ ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এখানকার বিজয়ীদের কেউ কেউ পরবর্তীতে বড় বড় রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন, আবার অনেকেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং এর মধ্যে এক ধরনের ‘পোস্টমর্টেম’ বা পর্যালোচনা করার মত পরিস্থিতি দেখা যায়।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বড় রাজনৈতিক দলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছাড়া ডাকসুর নির্বাচিত নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে খুব একটা এগোতে পারেননি। তাই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বৃহৎ দলের রাজনীতির সংযোগ রাখা জরুরি। তিনি মনে করেন, ছাত্র রাজনীতি এখনো সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমাদের দেশের অনেক পরিবর্তনই এসেছে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে, এবং ছাত্র সংসদ ও ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

  • আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল, তা পূরণ করব: আবিদুল

    আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল, তা পূরণ করব: আবিদুল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনে নিজের ইশতেহারে যা ছিল, তা পূরণ করার জন্য তিনি সচেষ্ট থাকবেন। তাঁর পথচলা এখানেই শেষ হয়নি; নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে, ছাত্ররাজনীতির নতুন সূচনা তিনি করবেন নিজের হাতে। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে তিনি এসব কথা জানান। গতকাল মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েমের কাছে হেরে যায় আবিদুল ইসলাম। নির্বাচনের রাতে তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে ফলাফলকে কারচুপি ও নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।

    উল্লেখ্য, ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবিরের প্রার্থীরা জিতেছে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রজোটের প্যানেলে। ভিপি পদে ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন শিবিরের প্রার্থী মোঃ আবু সাদিক কায়েম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

    বুধবার দুপুরের পরে আবিদুল ইসলাম এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার জীবনে এতদূর এসে আমি ভাবিনি। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান। আমি সদুত্তর দিতে পারিনি। আমি আসলে কখনোই জানতাম না, নিজেকে কোথায় দেখতে হবে বা কোথায় দেখা উচিত। একের পর এক আন্দোলন-সংগ্রাম এসেছে, নিজেকে রাজপথে সরাসরি নিয়েছি। সেই পথ আজ আমাকে এতদূর এনেছে। এটা ওরই কাজ। এই নির্বাচনে আমার দিন শুরু হয়েছে মিডিয়ার অপপ্রচার দিয়ে। দুপুর থেকে আমি বিভিন্ন জায়গায় ভোটে নানা সমস্যা খুঁজে পেয়েছি এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি এখনও প্রত্যাশা করি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও যথাযথ সিদ্ধান্ত আসবে।

    আবিদ আরও লিখেছেন, ‘আমরা সবাই মানুষ, পরিপূর্ণ নয়। আমি জানি, আমি আপনাদের জন্য পুরোপুরি কাজ করতে পারিনি। সত্যি বলতে, জীবন আমার সেই সুযোগটুকুও দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভাই-বোনের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, যারা ভোট দিতে এসেছেন। মাত্র ২০ দিনের ক্যাম্পেইনে আমি চেষ্টা করেছি, সব ছাত্রের কাছাকাছি যেতে। অনেকটুকু পৌঁছেছি, কিন্তু সবাইকে স্পর্শ করতে পারিনি। তবে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, এটি আরও দীর্ঘ।’

    নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তুলে ধরে আবিদ বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে যা কিছু ছিল, তা বাস্তবায়নে আমি প্রার্থনাসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির নতুন সূচনাটা আমাদের হাতেই হবে। আমরা রাজপথের পাহারা দেব, নিজেদের সম্পূর্ণ দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। ইনশাআল্লাহ, আপনি পরবর্তী ডাকসুতে এর সফলতা দেখবেন। আবিদ কখনোই আপনাদের থেকে আলাদা হবে না।’

    তিনি পোস্টটি শেষ করেন মহান মার্কিন মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উক্তি দিয়ে—‘আমরা অচিরেই ক্ষণস্থায়ী নিরাশা গ্রহণ করতে পারি, তবে অপার আশাকে কখনো হারানো উচিত নয়।’

  • ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জীবনের ভবিষ্যৎ পথে প্রভাব ফেলবে: সাবেক ভিপি মান্না

    ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জীবনের ভবিষ্যৎ পথে প্রভাব ফেলবে: সাবেক ভিপি মান্না

    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ছাত্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, এই প্রজন্ম এখন দুর্বৃত্তায়িত ও চাঁদাবাজি রাজনীতি প্রতিরোধ করে পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরছে। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সংস্কার বাস্তবায়নের পথরেখা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।

    মাহমুদুর রহমান মান্না সতর্ক করে বলেন, রাজনীতি যদি শুধুমাত্র মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরিণত হয়, তবে তা টেকসই হবে না। তবে তিনি আশ্বাস দেন, এখনো রাজনৈতিক দলগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে কারণ মানুষ পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে।

    ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের মতো দলগুলো এখন খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও তাদের মাথা তুলে দাঁড়ানো দেখে সবার চোখ কপাল চড়ে গেছে। ৩০-৪০ বছর আগে এসব দল যেন মাথা তুলতে কোনো শক্তি পেত না, কিন্তু এখন তারা বড় দলগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টি দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক পথ নির্দেশনা দিয়ে বলছে, বর্তমানে যা বলা হচ্ছে, তার সবটাই সঠিক নয়।

    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডাকসু নির্বাচন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ এখনও প্রশ্ন করে, ভোট হয় কি না। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ডাকসু নির্বাচন সুন্দরভাবে হয়েছে, যা অনেকের জন্য অবিশ্বাস্য ছিল। ছাত্রসমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা সাহস দেখিয়েছে, যা আগের প্রজন্মের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

    সাবেক এই ভিপি বলেন, আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়ানোর সাহস পেতেন না, কিন্তু এখন তারাও সামনে আসছেন, এটিই পরিবর্তনের সূক্ষ্ম নিদর্শন। এখন আর বড় জনসভা ব্যস্ত নয়, বরং সাইবার মাধ্যমে প্রচারণা চলছে এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা-চিন্তা দিয়ে রাজনীতি গড়ে উঠছে। এই তরুণেরা প্রাচীন সংস্কৃতি বা সালাম-প্রটোকলকে উপেক্ষা করে প্রত্যাখ্যান করছে। তারা বুঝতে পারছে, রাজনীতি অর্থাৎ আন্তরিকতা, সংগ্রাম আর অঙ্গীকার; তা লুটপাট বা ক্ষমতার শর্টকাট পথ নয়।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা ভিন্ন উদাহরণ স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধাবাদী হয়ে পড়লেও ছাত্ররা ভিন্ন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও সংস্কারের জন্য ঐক্য জরুরি, আর এই লক্ষ্যে দৃঢ়তা দরকার। সংকট নিরসনে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য, যা সব পক্ষকেই মানতেই হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি হালকা বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি সংগ্রাম। তাই সবাইকে সৎ এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি গড়ে তোলা দরকার। তাহলেই একটি উন্নত এবং অর্থবহ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

    আলোচনা সভায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডাকসু নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করা হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যদি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ডাকসু ফলের মতো ফল হয়, তবুও বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, এসব নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির সফলতা বা ব্যর্থতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। ব্যাপারটি অনেকটাই অলীক আর ভাবায় বেশি কিছু নয়, কারণ দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৬০ লাখ হলেও ভোট সংখ্যা কেবল ৩২ হাজার।

    আলোচনা সভায় জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, স্বৈরশাসনের মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়িত শাসন ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে, যেখানে গুম-খুন, আয়না ঘর ও লুটতন্ত্রের বৃদ্ধি ঘটেছে। এ থেকেই উত্তরণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও আইনি সংস্কার নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা উপেক্ষা করে সরকারের কিছু রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের পক্ষে সুবিধা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে।

    রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও দিদারুল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা, যেমন গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির আবু ইউসুফ সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, ও অন্যান্য নেতারা।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সরকারের সফলতা অমীমাংসিত থাকবে

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সরকারের সফলতা অমীমাংসিত থাকবে

    সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এক প্রকার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘যদি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হয়, তবে সরকারের অর্জন বা সফলতা নিয়ে কিছুই বলতে পারবে না।’

    বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সবাই আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের বিষয়ে একমত। কোনও দলেরই দ্বিমত নেই। তবে বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্তির পথে এগিয়ে গেলে এখনো গণতন্ত্রে প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়েও আমরা কার্যত একমত হতে পারিনি। আশা করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।’

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম চলছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের ব্যর্থতার দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারলে, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও অর্জন বা সাফল্য থাকবে না।’

    বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা রাখে। তিনি তুলে ধরেন, অন্য কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে সংশোধনী আদালত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, শতাধিক সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও সব দল হয়তো একমত হতে পারবে না, তবে দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাই একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ঢাকাসূ নির্বাচনে হেরেও প্রশংসিত ছাত্রদল নেতা হামিম

    ঢাকাসূ নির্বাচনে হেরেও প্রশংসিত ছাত্রদল নেতা হামিম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় লাভ করেননি ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তবে এর পরও তিনি ছাত্রলীগের রায়কে সম্মান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন ফল ঘোষণার পর, ফেসবুকে তিনি একটি পোস্ট করেন où যেখানে তিনি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন।

    হামিম বলেছেন, ভোটের দিন প্রাথমিকভাবে উৎসবের আবহ ছিল, কিন্তু কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়গুলো নজরে এসেছে, বিশেষ করে গণনার সময় মেশিনে ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি ঘটেছে। এরপর তিনি বলেন, ছাত্ররা যদি মনে করেন, এই ভোট ফলাফলই তাদের রায়, তবে তিনি সেই ফলাফলকে সম্মান করবেন। তিনি ছাত্রদের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানান।

    তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় ছাত্রদের ভালোবাসায় ঋণী। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবো, থাকবো তাদের জন্য। এ বক্তব্যের জন্য শিক্ষার্থী সমাজের বড় একটা অংশ থেকে তার প্রশংসা শুরু হয়। বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী ও রাজনীতিক ক্যাম্পের নেতারাও তার এই সাহসী ও শান্তিপূর্ণ মনোভাবের প্রশংসা করেন।

    শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি বলেন, এই আচরণই একজন উত্তম নেতা হিসেবে তাঁর পরিচয়। সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে এই প্রত্যাশা ছিল, ভাই। একদিন নিশ্চয়ই আপনি বড় নেতা হবেন।’ মিলন হাসান স্বাধীন যোগ করেছেন, ‘তাহলে সবার জন্য সহনশীলতা ও ধৈর্য্যই হলো একজন নেতার গুণাবলী।’

    মোহাম্মদ মিলন বলেন, ‘আজিজুল বারী ভাইয়ের ভাতিজা হিসেবে এটাই স্বাভাবিক, তিনি খানদানি রাজনীতির প্রতিচ্ছবি।’

    এই পোস্টের পর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সাহসিকতা ও মনোভাবের প্রশংসা করে মন্তব্য করেন। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এটাই আসল একজন নেতা করার আচরণ।’ এ poster-এ প্রায় ১১ হাজার রিঅ্যাকশন আসে। অন্যদিকে, সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের নেতা’, যা এখনো প্রায় ৬ হাজার মানুষের পছন্দ পেয়েছে। এইভাবে নানা ধরনের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন প্রতিটি মহলে ছাত্রদল নেতা হামিম।

  • কক্সবাজারে ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনামূলক সংঘর্ষ, ইউএনওসহ ২০ আহত

    কক্সবাজারে ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনামূলক সংঘর্ষ, ইউএনওসহ ২০ আহত

    কক্সবাজারে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের আগে দর্শকদের মধ্যে কিছু অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় দর্শকদের একটি অংশ গেট ভেঙে স্টেডিয়ামের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ঘটনাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের কঠোর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, তখনই গ্যালারিতে ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়ার খবর পাওয়া যায়। এতে সদরের ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিনসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীকালাশ্রয় নেয়। শেষ পর্যন্ত, এই ভ্রাম্যমাণ অশান্তির কারণে গোল্ডকাপের ফাইনাল ম্যাচটি আর মাঠে গড়ায়নি বরং তা স্থগিত করতে হয়। এই ঘটনার ফলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় এবং পুরো এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

  • পুলিশের সাবেক ডিআইজি নাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    পুলিশের সাবেক ডিআইজি নাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    পুলিশের সাবেক ডিআইজি ও মেহেরপুরের সাবেক পুলিশ সুপার এ কে এম নাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই গ্রেপ্তার ঘটিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে, যা শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত্রে তার নিজ বাসভবন থেকে সম্পন্ন হয়। ট্রাইব্যাউনের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ডিবির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই অনুসারে, গোয়েন্দাদের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নাহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মরহুম ছমির উদ্দিনের বড় ছেলে এবং জামায়াত নেতা তারেক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আসামি। এই ঘটনার গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • সন্ধ্যা ৭টায় জাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবার সম্ভাবনা

    সন্ধ্যা ৭টায় জাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবার সম্ভাবনা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় এই ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান। তিনি এই তথ্য জানান শার্শিকভাবে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে।

    এর আগে, প্রক্টর ও জাকসু নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, আজ দুপুর আড়াইটার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এ ধরনের নির্বাচনের আয়োজন হচ্ছে, তাই আমাদের অভিজ্ঞতা কিছুটা কম। তবে সবাই সমন্বয় করে কাজ করছে এবং দ্রুত ফলাফল ঘোষণা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অপরদিকে, জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, দুপুরের মধ্যে ফলাফল জানা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

    অতীতে, গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, আজই (শুক্রবার) রাতের মধ্যেই ফলাফলের ঘোষণা করতে চাচ্ছেন তারা। এর লক্ষ্য হচ্ছে, দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করে ছাত্রদের মাঝে ফলাফল তুলে ধরা। সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।

  • চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকছে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে

    চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকছে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে

    বিচারক কর্তৃপক্ষে অনিয়ম ও সংশ্লিষ্ট ফ্যাসিস্টের দোসর অভিযোগי তদন্তের জন্য বেশ কিছু বিচারপতি এখনো প্রয়োজনীয় নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে চার জন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের নেতৃস্থানীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের একজন গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, মোট ১২ জন বিচারপতির বিরুদ্ধে বিচারের জন্য তদন্ত চলছে, যাদের মধ্যে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পদত্যাগ পত্র জমা দেন বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর আবাৎকা এই পদত্যাগ স্বীকৃতি পেতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন।

    অভিযোগের আশপাশে থাকা বিভিন্ন ঘটনায় বিভিন্ন সময় আন্দোলন-প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের পর, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞানীরা ও আইনজীবীরা বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট চত্বরের দিকে আন্দোলন চালিয়ে যান। তারা সেই সময় বিচারপতিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বিচারপতিদের অপসারণের দাবিতে ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে কর্মসূচির আহ্বান জানান।

    বিচারপতিদের এই আন্দোলনের মধ্যে, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎও অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার পর, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, যিনি বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আছেন, বলেন, বিচারপতিদের পদত্যাগ বা অপসারণের বিষয় জাতির রাষ্ট্রপতির আওতায়। তিনি জানান, ১৬ অক্টোবর, হাইকোর্টের কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিন, কিছু বিচারপতি সেই কাজে অংশগ্রহণ করবেন না।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবরের পর, বিচারপতিদের অপসারণের বিষয়টি পুনরায় জড়িত হয়। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পুনরুজ্জীবন এবং কর্তৃত্বের মাধ্যমে, তদন্ত শুরু হয় ও অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসাবে, ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু বিচারপতির ক্ষতিপূরণ বা পদত্যাগের নির্দেশনা আসে।

    নতুন নিয়োগ সম্পর্কে, ২০২২ সালে বিভিন্ন বিচারপতিকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন এখন অবসর নিয়েছেন। পাশাপাশি, কিছু বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তের ফলশ্রুতিতে তাঁদের অপসারণের নির্দেশ আসছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে, বিচারপতি খিজির হায়াত ও খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে অপসারণের কাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া, সর্বশেষ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানও পদত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এখন বাকি চার বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বিচারপতি আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র

    রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বিচারপতি আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র

    বিচারপতি আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের এক নিউজ আপডেটে এ তথ্য জানানো হয়, যেখানে আরও বলা হয় যে, সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম এ সম্পর্কিত ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে, গত ৩১ আগস্ট তিনি তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।

    অভিযোগের জেরেঅত্মে, অনুসন্ধানের জন্য তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এরপর, ১ জুলাই সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের নির্দেশে, বিচারপতি আখতারুজ্জামান সশরীরে হাজির হয়ে তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন। সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার পর তিনি তার পদত্যাগপত্র প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে জমা দেন। এরই মাধ্যমে, বাদজে সাক্ষ্যপ্রমানের প্রক্রিয়া শেষ করে, তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ, রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আখতারুজ্জামানের বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশনা দেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত বছরের ১৬ অক্টোবর দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের দোসর হিসেবে বিবেচনা করে ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠান। এর মধ্যে বিচারপতি আখতারুজ্জামান অন্যতম। এ ছাড়াও, বিচারপতি নাইমা হায়দার, শেখ হাসান আরিফ, আশীষ রঞ্জন দাস, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, এস এম মনিরুজ্জামান, আতাউর রহমান খান, শাহেদ নূর উদ্দিন, মো: আকতারুজ্জামান, মো. আমিনুল ইসলাম, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, খিজির হায়াত, ও খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে ছুটিতে রাখা হয়।

    তদন্তের মাধ্যমে, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের নেতৃত্বে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এ তদন্তের অংশ হিসেবে, বিচারপতি আখতারুজ্জামানকে তার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে ডাকা হয়।

    গত ২১ আগস্ট, সুপ্রিম কোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, যার মধ্যে একজন হলেন বিচারপতি আখতারুজ্জামান। পরে, ২৬ আগস্ট তার উপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে, শুনানির আগেই, ৩১ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠান।

    সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর, হাইকোর্ট বিভাগের আরও তিন বিচারপতি পদত্যাগ করেন: সালমা মাসুদ চৌধুরী, কাজী রেজা-উল হক, এবং এ কে এম জহিরুল হক। এরা সকলেরই পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেন গত বছরের ১৯ নভেম্বর। পরে, গত ৩০ জানুয়ারি, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনেরও পদত্যাগ কার্যকর হয়।

    প্রসঙ্গত, বিচারপতি মোঃ আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।