Month: September 2025

  • পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে ডাক, না মানালে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

    পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে ডাক, না মানালে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

    শুক্রবার নগরীর নিউমার্কেট চত্বরে এক সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পঞ্চম দফা নির্বাচনে পিআর (প্রতিনিধি ভোটিং) সিস্টেমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পিআর সিস্টেমের মাধ্যমে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, কালো টাকা বা পেশি শক্তির ব্যবহার চলবে না। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন দেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    শায়খে চরমোনাই স্পষ্ট করে বলেছেন, আমাদের দাবি যদি মেনে নেন, তবে পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাব। সরকারের কাছে এই Holtপদ্ধতি চালুর জন্য অনুরোধ জানাব। না মানা হলে জনগণের গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের রায় আদায় করব। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন জোটের স্বার্থ দেখানো হলেও বাস্তবে ভোটের পরিবর্তন হয়; কারো জন্মগত বা স্থায়ী ভোট নেই। ভোটাররা সবসময় দেখবে কার আনজর নিরাপত্তা, শান্তি, সম্পদ ও জানমালের নিরাপত্তা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিশাল ভোটের শক্তি রাখে। তবে ভোট কৃষকের, শ্রমিকের, সাধারণ মানুষের অধিকার। তাই ভোট কারা পাবে, তা নির্ভর করবে কার কাছে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রয়েছে। একজন ভোটার তার জান, মাল, ইজ্জত ও পরিবারের নিরাপত্তা দেখিয়ে ভোট দিবে—অন্য কিছু নয়। ডিজিটাল যুগে এনালগ সিস্টেমের অবস্থা শেষ, এখন প্রযুক্তির যুগ। মাননীয় আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ধরে নানা জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে মানুষের মন থেকে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

    মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন চাঁদাবাজি, গুণ্ডামি ও ধর্ষকদের কখনোই ভোট দেবে না। তারা জানে, কোন জ্ঞানী বা সচেতন ভোটার নিজের জীবন বা সম্মান বিপন্ন করতে চান না। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অসাধু শক্তি ভোটারদের বিভ্রান্ত করে আর যারা অন্যায়-অবিচার করছে, তারা অপরাধের জাঁতাকলে আটকে আছে। অথচ সবাই জানে, এখন জুলুম-অত্যাচার আর অস্ত্রের ব্যবহার কমে গেছে। মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন চায়।

    তিনি মন্তব্য করেন, খোলনায় এক সময় গুণ্ডা-খুনির আধিক্য থাকলেও এখন অশান্তি কমে গেছে। গুণ্ডামি ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। মানুষ অস্ত্র প্রতিপত্তি ছাড়াই জীবন চালিয়ে যেতে পারছে। এখন আসন্ন নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, যেখানে জনস্বার্থে ভোট দেবে সাধারণ মানুষ। দেশের টাকা চুরি, লুটপাট বা মাদক ব্যবসাও বন্ধ হবে। কোনো অন্যায় বা অবিচার চলবে না। যুবসমাজ নিরাপদে থাকবে, মাদক নির্মূল হবে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার বন্ধ হবে। শতভাগ সৎচেষ্টা চালানো হবে। মা-বোনদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় নিরলস পরিশ্রম হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের প্রকৃত ভোটাররা তাদের জীবন-মাল, সম্মান ও নিরাপত্তা দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

    শায়খে চরমোনাই আরও বলেন, নানা ধরণের ধোকাবাজি ও চক্রান্ত রয়েছে। যারা নৌকা মার্কায় নির্বাচন করে, তারা নিজে এই মার্কার কার্যকর করতে পারে না। লাঙ্গল বা ধানের শীষের মাধ্যমে যারা নির্বাচন করে, তারা নিজেদের কাজে লাগাতে পারে না। অথচ হাতপাখা মার্কা সব শ্রেণির ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়, কারণ যারা ভোট দেয় তারা এটা সহজে চালাতে পারে। এই মার্কায় ভোট দিলে দেশের জন্য শান্তি ও উন্নয়ন আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, সব মার্কা শেষ, এখন হলো হাতপাখা—শান্তির প্রতীক। মাননীয় গণতন্ত্রের এই পথে সবাই একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

    অতীতের রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আশা করেন, এই আন্দোলন দেশের সত্যিকার পরিবর্তন আনবে। খুলনা মহানগরীর সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও নগর সেক্রেটারি মুফতী ইমরান হোসাইনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন আরও অনেক নেতৃবৃন্দ, যেমন মুজিবুর রহমান শামীম, আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, এড. জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, মাওঃ শরীফ সাইদুর রহমান, হাফেজ শহিদুল ইসলাম, শেখ হাসান ওবায়দুল করিম, মাওঃ আবু সাঈদ, আবু গালিব, শোয়াইব আহমেদ, মুফতি আরিফ বিলাহ, মাওঃ দীন ইসলাম, মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, মাওঃ ইলিয়াস হোসেন, মাওঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির।

  • মারধরের মামলায় হিন্দু ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্ত কারাগারে

    মারধরের মামলায় হিন্দু ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্ত কারাগারে

    খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সমীর কুমার সাহা মারধরের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্তকে আদালত জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয় এবং তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার বিস্তারিত জানানো হয়েছে, ১৬ আগস্ট শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ী মোড়ের শ্রীশ্রী কালী মন্দিরের প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আলোচনা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। এ অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্তসহ প্রায় ২০-৩০ জন ব্যক্তি অনুষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়, যাতে সমীর কুমার সাহার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার সময়, সমীর কুমার সাহা রক্ষা করতে গেলে তার পাশে থাকা মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় সাহাও মারধরের শিকার হন।

    ঘটনার দিনই আহত সমীর কুমার সাহা সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ২২, ১৬-০৮-২৫)। মামলায় সত্যানন্দ দত্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকে পুলিশ সত্যানন্দ দত্তকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলেও, বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন নাকচ করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

  • অস্ত্রসহ হরিঢালী ইউপি চেয়ারম্যান রাজু গ্রেফতার, কারাগারে পাঠানো

    অস্ত্রসহ হরিঢালী ইউপি চেয়ারম্যান রাজু গ্রেফতার, কারাগারে পাঠানো

    পাইকগাছা উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু (৪৫) সম্প্রতি নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও একটি বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছেন। ইসলামপুরের এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ থাকলেও, পুলিশের নজরদারির অভ্যন্তরে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে।

  • বাংলাদেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্ত ঐতিহ্য

    বাংলাদেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্ত ঐতিহ্য

    খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী, বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগর লবি বলেছেন, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষজন যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এই দেশের আবহমান কাল ধরে হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-প্রথা ও উৎসব পালন করে আসছে। সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আগামী দুর্গা পূজা শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির জন্য। পাশাপাশি, আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিটি মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু অপশক্তি যেন কোনভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে নির্বাচনকে ব্যাহত করতে না পারে। সবাইকে এ বিষয়ের বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন ব্যক্তি-স্বার্থ নেই; আমি শুধুমাত্র ফুলতলা-ডুমুরিয়া এলাকার মানুষের সেবেছে এসেছি। যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই এলাকার জন্য একটি দর্শনীয় মসজিদ ও একটি সুন্দর মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেবো। এই বিষয়গুলো আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র আয়োজনে সরকারি মহিলা কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্গা পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের ফুলতলা উপজেলা আহ্বায়ক অনুপম মিত্র। উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, জেলা বিএনপি নেতা ইমরান ওয়াহিদ, মহানগর বিএনপি’র সদস্য আশরাফুল আলম নান্নু, সহ-সভাপতি এসএ রহমান বাবুল, এম বদরুল আলম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ইকবাল হোসেনসহ অনেকে। ভাষণ দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গৌতম কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মনির হাসান টিটো, অভিকোজুজ্জামান মোল্যা নান্না, এনামুল হোসেন পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও প্রফুল­ কুমার চক্রবর্তী। পরে তিনি রাত সাড়ে ৮টায় ফুলতলা বাজার গামছা চান্ডিনায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

  • আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার

    বিএনপি কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। একটি দল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘুষি মারছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বিপৎসংকেত। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ রক্তের বিনিময়ে সংগ্রাম করে নতুন সরকারের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছে এবং একটি নতুন দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, দশমী দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি নির্ধারণে পুরোহিত ও পঞ্জিকার মতামতই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। অন্য কারো হস্তক্ষেপ এখানে গ্রহণযোগ্য নয়, যেমন ঈদ-উৎসবের নামাজ চাঁদ দেখেই নির্ধারিত হয়। তিনি দুর্দান্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শেষ আবেগে তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য নজির স্থাপনের আহ্বান জানান।

    এছাড়া, শুক্রবার বিকেল ৪টায় দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী এ কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। হেলাল উল্লেখ করেন, বিএনপির সঙ্গে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দেয় না- এই ধারণা ভুল। বিএনপি হবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র। আগামী নির্বাচনে গাজীরহাটের মানুষই এই ধারণাকে প্রমাণ করে দেবে।

    এরপর তিনি স্থানীয় নানা সমস্যা, বিশেষ করে পানের জল ও পানীয় জলের সংকটের বিষয়েও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি রামপ্রসাদ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খাঁন জুলফিকার আলী জুলু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল ও দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. সাইফুর রহমান মিন্টু। সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা বিল্লাল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি বাবু সুবোধ কুমার বিশ্বাস, ছাত্র-যুব মতুয়া মহাসংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ সিকদার প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মুকিত মীর ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা গাজী।

  • প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অপ্রতুলতা: অর্থ উপদেষ্টা

    প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অপ্রতুলতা: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনেক আলোচনা হয় কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ খুব কম। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনার জন্য আমাদের বেশ কষ্টে পড়তে হয়। এতে আমাদের সময় ও শক্তি অমূল্যভাবে ক্ষয় হয়।

    আজ সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া জলবায়ু সংকটের সমাধান কঠিন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগও কম নয়। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাঁচটি পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, প্রতিষ্ঠান, অর্থের উৎস এবং সাধারণ জনগণ।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাহসীকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে থাকেন। স্থানীয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে তারা বিপদ থেকে রক্ষা পায়। এতে বলা যায়, ফায়ার সার্ভিস বা অন্যান্য সরকারি সংস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকলে যথেষ্ট হবে না। আগুন লাগলে আগেই মানুষ নিজে এগিয়ে আসে। এখন সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের আত্মনির্ভরতা আরও আরও বাড়াতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষ তৈরি মানসিক ও অর্থনৈতিক দুর্যোগও অনেক। এর জন্য বছরে প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, মার্কিন সুদের ঋণে ডুবে থাকা আইএমএফের সঙ্গে আগামী দিনে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক আলোচনাও করতে চান।

    সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ের ওপর বেশি করে রিপোর্টিং করতে হবে। আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। জাপানের ছাত্ররা কীভাবে ঝুঁকি বোঝে এবং মোকাবিলা করে, সেটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। আমাদেরও শিশুদের ছোটবেলা থেকে জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

    প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এ শতাব্দীর সবচেয়ে বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ, এ ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি জানান, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রচেষ্টায় আমরা আছি। এই জন্য সব সময় আমাদের ক্ষতির গল্পগুলো উঠে আসা দরকার, যাতে আরও বেশি করে সহযোগিতা পাওয়া যায়।

    অন্যএকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু, পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু সহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সিলেটের উদাহরণ তুলনা করে তিনি বলেন, সবকিছুতেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এসব বিষয়গুলো বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে পারলে অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার তাগিদ আরও বৃদ্ধি পাবে।

    প্রশিক্ষণে মোট ৬০ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন, যারা বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এসেছেন।

  • স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছালো

    স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছালো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারও স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) তাদের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১,২৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দামে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের এক ভরি মূল্য এখন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে। এর আগে, গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর), ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস, যা ছিল তখনকার সর্বোচ্চ দাম। এই পরিস্থিতি দেশের স্বর্ণবাজারে দামের নাটকীয় বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়।

  • স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনে বৃদ্ধি: বাংলাদেশে নতুন সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছাল স্বর্ণ

    স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনে বৃদ্ধি: বাংলাদেশে নতুন সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছাল স্বর্ণ

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনের মতো আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে,ভরিতে ৩ হাজার ১৩৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। bunun ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

    নতুন দামে অনুযায়ী, দেশের বাজারে ১১.৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকা।

    উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক মূল্যবিধানে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিল বাজুস। তখন তারা ভরিতে ১ হাজার ২৬০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মান হিসেবে রেকর্ড হয়। অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও ছিল বেশি: ২১ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।

    এর আগে, সোমবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই দিন বাজুস ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭১৮ টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা তখন পর্যন্ত দেশের স্বর্ণমূল্যের সবোর্স্বোচ্চ মান ছিল।

    এটি নিয়ে চলতি বছর মোট ৫২ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পরিবর্তন হয়েছে, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৬ বার এবং কমানো হয়েছে মাত্র ১৬ বার।

    অপরদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়। আরও রয়েছে ২১ ক্যারেটের ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৭২৬ টাক।

  • খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি ছাড়াতে পারে আঙুলের ঠ্যাঁকনি

    খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি ছাড়াতে পারে আঙুলের ঠ্যাঁকনি

    অতিরিক্ত নতুন হিসাবের পরিপ্রেক্ষিতে খেলা পাচ্ছে দেশজুড়ে ব্যাংকিং খাতের বড় একটি চিত্র। সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা ছুঁতে পারে। দেশীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেখাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে, কারণ আঙুলের ঠ্যাঁকনি থেকে বেরিয়ে আসছে প্রকৃত চিত্র। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে অথবা কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে ঋণের পরিমাণ বেশি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা ১৫ বছর পর গত অর্থবছরের শুরুতে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। গত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এক তরফা রিপোর্টে দেখা গেছে, এই ঋণের পরিমাণ এক লাফে ১ লাখ ১০ হাজার ৯৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এই ঋণ প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হচ্ছে। নিয়মে পরিবর্তন ও মনোভাবের পার্থক্য এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ‘গত এক দশকে প্রাইভেট সেক্টর অনেক কলুষিত হয়েছে। নিজেদের অঙ্গীকারের অনীহায় ব্যাংক খাতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিছু খেলাপি ঋণ আদালতের নির্দেশে আনক্লাসিফায়েড দেখানো হলেও এখন সব ঋণই ক্লাসিফায়েড হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফরেনসিক অডিটে দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, তাই এগুলো ডিফল্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’ সর্বশেষ তথ্য দেখায়, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ মাত্র ছয় মাসে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং জুনের শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের কারণে ঋণ বিতরণে দুর্নীতি এবং অসাধু কর্মকাণ্ডই দায়ী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা অন্য প্রভাবের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে অনিয়মটি ব্যাপক হারে বেড়েছে। ঋণের আসল পরিমাণের দ্বিগুণ বা তিনগুণ ঋণ দেখানো হয়, যার কারণে পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়।’ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ব্যাংক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চেষ্টার ঢাকনাটি আরও দৃঢ় করার দাবি উঠছে পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সুদৃঢ় তদন্ত

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সুদৃঢ় তদন্ত

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে ব্যাপক কারসাজির অভিযোগে বিশেষভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

    বুধবার অনুষ্ঠিত ৯৭২তম কমিশন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। সভার শেষে একটি বিশদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির জন্য চার ব্যক্তির পাশাপাশি এক কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়েছে।

    নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে মো: রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই দুর্নীতির দায়ে তাদের উপর ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত শেয়ার লেনদেনের সময়কালেই এই জরিমানা আরোপ করা হয়।

    অপরদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা ও পদচ্যুতি সহ পাঁচ বছরের জন্য পুঁজিবাজার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, এ কোম্পানির অন্য একজন শেয়ার কারসাজির জন্য শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘটেছে।

    এছাড়া, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকায়, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ফরচুন সুজের শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িত মোঃ আবুল খাইয়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।