Month: September 2025

  • নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে

    নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিনি একটি সমতা নির্ভর এবং মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করা, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকস পাহারার মধ্যে নয়, বরং সবাই স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, কোনো নাগরিকের ধর্ম, পরিচয় বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না।

    ৬ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালবেলা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা-সভার আয়োজন করেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ি, তবে জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ হবো। কিন্তু আমরা তা চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান হবে। এখানে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হবে না, সবাই মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করবে।’

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো—সকল ধর্ম, সকল বিশ্বাসকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা। ধর্মের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের মর্যাদা সমান।

    বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ চাই, তাহলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ গত ১৫ সেপ্টেম্বর, সোমবার তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা তাঁকে আসন্ন দুর্গোত্সবের জন্য পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানালে, তিনি সেটি গ্রহণ করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান।

    সাক্ষাত্কালে ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে সবসময়ই থাকে, কিন্তু সবসময় সেটা হয়ে ওঠে না। পূজার সময়টায় অন্তত বছরব্যাপী একবার দেখা হয়, এই মুহূর্তটা আমার জন্য বড়ই প্রাপ্তি।’

    তিনি পূজা প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি বলেন, ‘সরকার সব ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে পালনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’ এদিকে, হিন্দু ধর্মীয় নেতারা জানিয়েছেন যে, গত বছরের তুলনায় এবার আরও আশি হাজারের বেশি নতুন পূজামণ্ডপ নির্মিত হচ্ছে, যা পূজার প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করেছে।

  • এনবিআরে ১৮২ কর্মকর্তার দপ্তর বদল, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

    এনবিআরে ১৮২ কর্মকর্তার দপ্তর বদল, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর আওতায় ১৮২ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার দফতর পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া, এক যুগ্ম কর কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং একটি কর পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

    নবম্যাবার, এনবিআর-এর দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) তানভীর আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই ১৮২ কর্মকর্তা বদলির তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই বদলি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অপরদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও এনবিআর থেকে আলাদা পৃথক আদেশে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এক চিঠির মাধ্যমে জানা গেছে যে, কর অঞ্চল-১৬ এ কর্মরত যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তার চাকরির সময় সম্পন্ন হওয়ায় এবং জনস্বার্থে অবসর গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার সেই অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইনের ২০১৮ এর ৪৫ ধারার অধীন থেকে তাকে অবসর দিয়েছে এবং এর দ্বারা তাকে প্রাপ্য সমস্ত সুবিধা প্রদান করা হবে।

    অন্যদিকে, গাজীপুরের কর পরিদর্শক কাজী নূরে সোহেলাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়েছে যে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩ (গ) অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাকে 귀প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে গাজীপুর কর কমিশনের কার্যালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বিধির অনুসারে খোরাকি ভাতা পাবেন। এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।

  • বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা

    বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা

    বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সাদুল্যাপুর বটতলা গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলে নির্মমভাবে খুন হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে যখন তাদের রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির ভিতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    নিহতরা হলেন প্রবাসী ইদ্রিস আলীর স্ত্রী রানী বেগম (৪০) এবং তার ছেলে ইমরান হোসেন (১৮)। ইমরান বর্তমানে নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

    পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র বলছে, সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে তাদের কুপিয়ে হত্যা করে। সকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানালা দিয়ে মরদেহ দেখে আতঙ্কित হয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃতদেহ দুটির মধ্যে বারান্দায় রানী বেগমের রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়, এবং অন্য কক্ষে ছিল ইমরানের লাশ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    প্রতাক্ষ্য স্বজনরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সময় দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে একটি মোটরসাইকেল, কিছু নগদ টাকা এবং প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন, পুলিশী তদন্ত চলছে।

  • তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের রেকর্ড, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব

    তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের রেকর্ড, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ক্রমেই এক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যে পরিস্থিতি ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার একেবারে শীর্ষে থাকতে থাকা বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যার ফলাফল শুধুমাত্র পরিবেশের ক্ষতি নয়, বরং দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করছে। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে তাপের প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধান উপদেষ্ঠার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার মিস ইফফাত মাহমুদ ও স্বাস্থ্যের Field Expert ওয়ামেকের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ডা. আ. রাজা।

    গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অনুভূত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জনজীবনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দশকের সবচেয়ে গরম বছর ছিল, যেখানে পয়েন্টে পয়েন্টে তাপমাত্রা আগের তুলনায় ব্যাপক বৃ্দ্ধি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ১৯৮০ থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৪ ডিগ্রি, যা দেশের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বৃক্ষনিধন এবং কংক্রিটের অর্ধেক বাড়তি ব্যবহার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে শহরগুলো আজ ভয়াবহ তাপপ্রবাহের শিকার। এর ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হচ্ছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শীতের তুলনায় গরমে আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় এসব রোগের ঝুঁকি ২২.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গরমের সময় তাপজনিত ক্লান্তি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের প্রকোপও বেড়ে যাচ্ছে। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপে এসব ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হয়। নারী ও ৫ বছরের নিচের শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

    মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের হার শীতের চেয়ে বেশি। গরমের কারণে বিষণ্ণতা ২৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, উদ্বেগের হার বাড়ে ৩৭.১ শতাংশ।

    অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্ষতি হচ্ছে মারাত্মকভাবে। ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে দেশের কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের। এর আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১.৩৩ থেকে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, যা দেশের মোট জিডিপির শতকরা ০.৩ থেকে ০.৪ ভাগের সমান। বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষতি ৪.৯ শতকরা হারে বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপির বড় অংশে পৌঁছে যাবে।

    বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই যেতে পারে যদি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। প্রতিবেদনটি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
    ১. জাতীয় প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করা,
    ২. স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত ও গরমের জন্য বিশেষ জরুরি ব্যবস্থা,
    ৩. গরম মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও সহনশীল আবাসন ব্যবস্থা ব্যবহার,
    ৪. আবহাওয়া তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতা সিস্টেম চালু,
    ৫. জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য ও অর্থায়ন সংগ্রহ।

    বিশ্বব্যাপী এই তাপপ্রবাহ এখন শুধু দেশের ব্যাপার নয়, বরং এটি এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি সংকট। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। নগর পরিকল্পনা, সবুজায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিমালা আরও গুরুত্ব দিতে হবে ত্বরণে। রাজনীতিবীদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি একযোগে কাজ করে তাহলে এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

  • পাবনায় প্রধান শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক; নানা অভিযোগ উঠল

    পাবনায় প্রধান শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক; নানা অভিযোগ উঠল

    পাবনা সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সুপ্রিম ভারতীয় নাগরিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন জালিয়াতা করে শ্বশুরের নামে সরকারি জমি লিজ নেওয়ার এবং সেটি নিজের নামে দখলের।

    অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের দমদমের সূর্যসেন পল্লির নির্মল কুমারের ছেলে। তবে তার বসবাস পাবনা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার ভারতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ০০০০/০০৮০২/৭৬৩৯৭ এবং আধার কার্ডের নম্বর ৪০৫০২২৩৪৩৩৫১।

    জানা গেছে, সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশ সরকারের চাকরির নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন, অন্যদিকে তিনি ভারতের নাগরিক। এছাড়া তিনি ভারতে জমি কিনেছেন, ফ্ল্যাট বাড়ি করেছেন। তার স্ত্রী ও বড় ছেলে এখনো ভারতেই থাকে। ছোট ছেলে, যিনি বাক প্রতিবন্ধী, ভাতা পান, সেই ভাড়াটিও থাকেন পাবনাতে। মাঝে মাঝে তিনি ও তার পরিবার ভারতে যান দীর্ঘ সময়ের জন্য।

    অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে, শ্বশুর দীপক কুমার রায়ের নামে সরকারি জমি জালিয়াতি করে 자신의 নামে নেয়ার চেষ্টা।

    শ্বশুরের শ্যালক সুমন কুমার রায় বলেন, ‘আমার বাবা শহরের মুরগি পট্টিতে সরকারি জমি লিজ নিয়েছিলেন। বাবা মারা গেলে সেই জমি আমার মায়ের নামে লিজ দেয়া হয়। তারও পরে, মা মারা যাওয়ার পরে, আমি ছাড়া অন্য কেউ জানতে না পেরে, আমার বোনকেই উত্তরসূরি হিসেবে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে বলা হয়। এখন আমার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানা চেষ্টা চালাচ্ছে।’

    অভিযুক্ত সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এই সব অভিযোগ মিথ্যা, এগুলো কাগজপত্র বানানো। আমার স্ত্রীর ও সন্তানের সঙ্গে ভারতে গেছে। আমার সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই। আমি প্রমাণ হিসেবে সব ডকুমেন্টস দেখাতে পারবো।’

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানিয়েছেন, তাদের কাছে অভিযোগ ও প্রমাণ এসেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছেন, শিগগিরই রিপোর্ট হাতে পেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্টরা।

  • বিশ্বশিল্পীর প্রতিবাদ: ইসরায়েলকে বর্জনের ঘোষণা

    বিশ্বশিল্পীর প্রতিবাদ: ইসরায়েলকে বর্জনের ঘোষণা

    দক্ষিণ জেরুজালেমে চলমান ফিলিস্তিনের ওপর সেনাস্পন্দনের কারণে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে শিল্পীরা এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন। ‘ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে, বাংলাদেশের মতো বিশাল সংখ্যক ১২ শতাধিক চলচ্চিত্র তারকা, নির্মাতা ও কলাকুশলী ইসরায়েলি কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক উৎসবের সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা দ্রুত প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, এখন থেকে তারা ইসরায়েলি নির্মিত বা প্রযোজিত কোনো চলচ্চিত্রে অংশ নেবেন না। পাশাপাশি, ইসরায়েলি কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন তারা। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন অস্কার, বাফটা, এমি, পাম দ’অরসহ নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম স্বনামধন্য পরিচালক ইয়র্গোস ল্যান্থিমোস, আভা ডুভার্নে, অ্যাডাম ম্যাককে, বুটস রিলে, এমা সেলিগম্যান, যশুয়া ওপেনহাইমার, মাইক লেইসহ তরুণ ও অভিজ্ঞ নির্মাতারা এ তালিকায় রয়েছেন।

    অভিনেতাদের মধ্যে আছেন এমা স্টোন, অলিভিয়া কোলম্যান, আয়ো এডিবেরি, লিলি গ্ল্যাডস্টোন, মার্ক রাফেলো, রিজ আহমেদ, সিনথিয়া নিক্সন, টিল্ডা সুইনটন, জেভিয়ের বার্ডেম, জো অ্যালউইন, জশ ও’কনরসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, ইসরায়েলি প্রযোজনা বা পরিবেশক সংস্থাগুলি কখনোওই ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার সমর্থন করেনি। বরং, অধিকাংশই নৃশংসতা চালাচ্ছে বা সহায়তা করছে। ফলে, তারা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক রাখবেন না।

    এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ, জেরুজালেম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, হাইফা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ডোকাভিভ, তেলআবিব ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও টিএলভি ফেস্টের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি উৎসবে তারা উপস্থিত থাকছেন না এবং তাদের কাজের প্রদর্শনও দেখা যাবে না।

    বিবৃতির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে, ইহুদি সম্প্রদায়ের মার্কিন অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার বলেন, ‘গাজায় গত দু’বছর ধরে চলমান সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। একজন ইহুদি মার্কিন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, এই গণহত্যা বন্ধে আমাদের সক্রিয়ভাবে ভূমিকা নিতে হবে। যখন রাজনীতি ব্যর্থ হয়, তখন শিল্পীদেরই এগিয়ে আসা উচিত।’

    সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো যখন এই নিরীহ মানুষের ওপর অন্ধ সমর্থন দিচ্ছে, তখন শিল্পীরা অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন না। মানুষের অধিকারের জন্য দাঁড়ানো এখন দারুণ জরুরি।

  • চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত অভিনেত্রী কারিশমা

    চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত অভিনেত্রী কারিশমা

    ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিশমা শর্মা এক মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শুটিংয়ে যেতে যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পাবেন। ঘটনার পুরো বিবরণ ও তার বর্তমান অবস্থা তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

    অভিনেত্রী তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গতকাল বুধবার আমি চার্চগেটের উদ্দেশ্যে শুটিংয়ে যাচ্ছিলাম। এই জন্য আমি শাড়ি পরে ট্রেনে চড়েছিলাম। ট্রেনে উঠার সময় পড়ে গিয়েছিলাম। এরপর লক্ষ্য করি, আমার কিছু বন্ধুত, যারা ট্রেনে উঠতে পারেনি, তাদের দেখে আমি দ্রুত ট্রেনের গতি বাড়ার জন্য ভয় পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমি উল্টো হয়ে পড়ি, যার ফলে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাই।’ এই ঘটনার ফলে তিনি পিঠে আঘাত পান এবং মাথা ফুলে যায়।

    অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি এমআরআই করিয়েছেন। একদিন তিনি ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে ছিলেন, যাতে মাথার চোটের Severity বোঝা যায়। তিনি তার অনুরাগীদের কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চেয়েছেন। বলছেন, ‘গতকাল থেকে আমি খুব যন্ত্রণায় আছি, কিন্তু আমার শক্ত থাকার চেষ্টা করছি। আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।’

    কারিশমা আরও জানান, তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘রাগিনী এমএমএস’, ‘উজরা চমন’, ‘হাম’ এবং ‘প্যায়ার কা পঞ্চনামা’। তার অসুস্থতার খবর পেয়ে তার ভক্তরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • ফরিদা পারভীনের অবস্থা খুবই খারাপ, স্বামী জানালেন দোয়া অনুরোধ

    ফরিদা পারভীনের অবস্থা খুবই খারাপ, স্বামী জানালেন দোয়া অনুরোধ

    জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যাচ্ছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী, বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, “ফরিদা পারভীনের অবস্থা খুবই সংকটজনক। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন, বেশি কিছু বলার নেই। শুধুই সবাই দোয়া করুন।”

    এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টে তার পুত্র ইমাম জাফর নোমানী জানিয়েছিলেন, “সকলকে জানাতে চাই যে, গত বুধবার বিকালে থেকে ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর অবনতি হয়। তখন থেকেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বৃহস্পতিবার তার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তার রক্তচাপ নেই।

    তিনি আরো লিখেছিলেন, “বর্তমানে ডাক্তাররা কঠোর চিকিৎসা দিয়ে কৃত্রিমভাবে তার রক্তচাপ ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং মেশিনের মাধ্যমে তার ফুসফুস চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই পরিস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির কোনও আশাই নেই। তবে, হাসপাতালের পরামর্শে আমরা কিছু সময়ে আরো ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে এই লাইফ সাপোর্ট চালিয়ে যাচ্ছি।”

    ফরিদা পারভীন কয়েক বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। গত ৫ জুলাই তার শারীরিক পরিস্থিতি আবার গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২২ জুলাই তিনি বাড়িতে ফেরেন।

    প্রায় দুই মাসের মধ্যে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে সেখানে আইসিইউতেই ছিলেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

    ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে তার সংগীত জীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালন সংগীতের তালিম নেন।

    সংগীতাঙ্গনে তার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান তিনি। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা তার ঝুলিতে রয়েছে। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে তিনি ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

  • সালমান খানের পর দিশার বাড়িতে হামলা: অজান্তে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ

    সালমান খানের পর দিশার বাড়িতে হামলা: অজান্তে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ

    বলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকার বাড়িতে গুলির ঘটনা ভারতের পরিস্থিতিকে আবারো উত্তেজিত করে তুলেছে। এই নতুন ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সালমান খানের বাড়ির পর এবার গুলি ছোড়া হয়েছে অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়ির কাছে। গতকাল ভোর ৩টার দিকে বরেলীর ওই এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুজন মোটরবাইকে করে এসে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। এরপরও কেউ হতাহত হয়নি, তবে এই ঘটনা চারদিকে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিয়েছে।

    আটকের জন্য সন্দেহভাজনদের খোঁজ করছে পুলিশ। অপরাধীদের দাবি, এই হামলার কারণ হলো ‘হিন্দু ধর্মকে অপমান করার খেসারত’। তবে তারা বলছে, মূল লক্ষ্য হয়েছিল দিশা নন, বরং তার বোন খুশবু পাটানি। গোল্ডি ব্রার ও লরেন্স বিষ্ণোই নামের এই গ্যাং জানিয়েছে, খুশবু পাটানি আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ ও অনিরুদ্ধ আচার্যকে অপমান করেছেন, যার জন্য এই হামলা হয়েছে।

    দিশা পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা কঠোর করে তোলা হয়েছে এবং বাইরে পাহারাদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, খুশবু পাটানি সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। অনিরুদ্ধ আচার্য এক সাক্ষাৎকারে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের ওপর মন্তব্য করেছিলেন, যা খুশবু ন্যAMESPACE করছে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘নপুংসক’। তিনি বলেছেন, ‘যারা এই ধরনের জীবনধারাকে অনুপ্রেরণা দেন, তারা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’

    পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই হামলার পেছনে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের সংমিশ্রণ রয়েছে। এই ঘটনার শীঘ্র সমাধান না হলে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।

  • বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    বিশিষ্ট ও শ্রোতাপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আজ शनिवार (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার শেষে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিলাহি রাজিউন)। তার অকাল চলে যাওয়ার খবর পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের জন্য গভীর শোকের নামান্তর। তিনি রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকা শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। শিল্পী হিসেবে তার এই অসাধারণ পথের মাঝে তিনি চার সন্তানের মা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও অনুরাগীদের হৃদয়ে স্থান করে রেখে গেছেন।

    তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে ইমাম জাফর নোমানী। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আম্মা (ফরিদা পারভীন) আজ (শনিবার) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় আবির্ভূত জীবন থেকে চির বিদায় নিলেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তার সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।’

    অভিনেত্রী ও গায়িকা ফরিদা পারভীন বহু বছর ধরে কিডনি জটিলতা নিয়ে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবনতি হওয়ায় তাকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হতো। ২ সেপ্টেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য নেওয়া হয়। তবে ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে খারাপ হতে থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে রাখা হয় এবং তার পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

    উপযুক্ত চিকিৎসার মাঝে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হলে তিনি লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তরিত হন। মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের লোকসংগীতের অমল ধারা ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার এই অমূল্য অবদান ও শিল্পসাধনা দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্য সৃষ্টি করেছে, যা অলোকপ্রকাশের মতো গভীর শোকের।