Month: September 2025

  • সুন্দরবনে ডিমের চর থেকে নিখোঁজ হাফেজ কিশোরের মরদেহ ৩০ ঘণ্টা পরে উদ্ধার

    সুন্দরবনে ডিমের চর থেকে নিখোঁজ হাফেজ কিশোরের মরদেহ ৩০ ঘণ্টা পরে উদ্ধার

    নিখোঁজের প্রায় ৩০ ঘন্টা পরে সুন্দরবনের ডিমের চর থেকে পর্যটক কিশোর হাফেজ মাহিত আব্দুল্লাহর (১৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার বিকেল ৩টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ডিমের চর দক্ষিণ পাশে অবস্থিত নদীতে মাছ ধরার জেলেরা মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে উদ্ধারকর্মীরা, সহ কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সদস্যরা, দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং মরদেহটি উদ্ধার করেন। বন বিভাগের নিশ্চিত করেছেন যে নিহত মাহিত আব্দুল্লাহর মরদেহ এখনও তাদের হেফাজতেই রয়েছে।

    এর আগে শনিবার সকালে, সাড়ে ১০টার দিকে নদীতে নেমে সাঁতার কাটার সময় আব্দুল্লাহ ঘূর্ণি স্রোতের কবলে পড়ে যান। সেসময় তিনি নিখোঁজ হন এবং এরপর থেকে তার খোঁজ চলতে থাকে। ধান্দা দিয়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান, যেখানে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল ও বন বিভাগের সদস্যরা সক্রিয় ছিলেন।

    মাহিত আব্দুল্লাহ ঢাকার মীরপুর ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক শেখ সুলতান মাহামুদ আসাদের ছেলে। তিনি মহাম্মদপুরের শেখেরটেকের বাসিন্দা। তার পরিবারের সঙ্গে আসা পর্যটকদের একটি দল, যাদের মধ্যে মোট ৭৫ জনের মতো সদস্য ছিলেন, সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছিলেন। তারা এমভি দ্য এক্সপেরার জাহাজে করে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা, কচিখালী, এবং ডিমের চরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের ভ্রমণটি হঠাৎই দুঃখজনক এক দুর্ঘটনায় রূপান্তরিত হয়। ঘটনার পরপরই সবাই ভ্রমণ বন্ধ করে ঢাকার পথে রওনা দেন।

    পর্যটকদের একজন, মোঃ আল আমীন বলেছেন, রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মোবাইলে জানিয়েছেন, সবার মনে শোক ও হতাশা ভর করেছে। দর্শকদের একজনের নিখোঁজের খবরে তারা সবাই গভীর শোকাহত হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকের মা লিমা বেগম, তিন ভাইসহ ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে এখন থাকছেন তার বাবা, একজন বন্ধু, এবং জাহাজের দু’জন স্টাফ।

    পর্যটক আল আমীন আরও জানিয়েছেন, মা লিমা বেগম ছেলেকে হারানোর শোকে জাহাজের কেবিনের দরজার সামনে কেদে কেদে 울ছেন। অন্য পর্যটকরাও এই শোকের মুহূর্তে দুঃখে ভেঙে পড়েছেন। তারা আনন্দের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তাদের হৃদয় ভেঙে ফিরে যেতে হচ্ছে শোকের ছায়ায়।

    শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান জানান, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে নদীর দক্ষিণে ডিমের চর থেকে কিশোরের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। মাছ ধরার জেলেরা এতে নজর দিয়ে উদ্ধারকারী দলের খবর দেন, যারা এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

    বাগেরহাটের বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং এটি কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

    অন্যদিকে, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মোংলা সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকারী দল মরদেহ উদ্ধার করে মোংলার সদর দপ্তরে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • পাইকগাছা পৌর বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ১৮ সেপ্টেম্বর, ৭ প্রার্থী মনোনয়ন জমা

    পাইকগাছা পৌর বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ১৮ সেপ্টেম্বর, ৭ প্রার্থী মনোনয়ন জমা

    পাইকগাছা পৌরসভা বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল শনিবার। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মোট ৭ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন, যা নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক ছাত্রনেতা জিএম মিজানুর রহমান।

    সভাপতি পদে বর্তমান আহবায়ক আসলাম পারভেজ ও সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ মনোনয়নপত্র জমা দেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন লড়ছেন বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ এবং যুগ্ম আহবায়ক সেলিম রেজা লাকি। আর সাংগঠনিক পদে তিনজন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন—সাবেক ছাত্রনেতা শেখ রুহুল কুদ্দুস, বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক এস এম মোহর আলী, এবং সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম মন্টু।

    এছাড়াও দুটি সাংগঠনিক পদে তিনজন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটাররা ভোট দিয়ে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করবেন, যার সংখ্যা ৫শ’ ৯৮ জন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে এবং দুই বছর মেয়াদে দলটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

  • গোলাম পরোয়ার: জনগণ নতুন শাসক দেখতে চায়

    গোলাম পরোয়ার: জনগণ নতুন শাসক দেখতে চায়

    বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সংরক্ষিত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন নতুন নেতৃত্ব দেখতে এই প্রত্যাশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়গুলোতে লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষের প্রতীকের মাধ্যমে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল দেশের শাসনক্ষমতায় ছিল, কিন্তু তারা দেশের ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যর্থতা বলেই প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র ও যুবজনতার গণঅভ্যুত্থানে দেখানো হয়েছে, এক ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা দেশ থেকে যেমন বিদায় নেওয়া উচিত, তেমনি জনগণ আর কোনও ফ্যাসিবাদকেই ক্ষমতায় দেখতে চান না। তাদের আশা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে ডাণ্ডিপালার প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়যুক্ত করে নতুন শাসক হিসেবে দায়িত্ব তুলে দেবে। এর মাধ্যমে দেশের দুর্বৃত্তাচার, দুর্নীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও দলীয় দাঙ্গার অবসান হবে বলে আশা করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, রোববার সন্ধ্যায় ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়ন জামায়াতের আয়োজন করা ভোটার সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা শেখ আব্দুস সোবহান। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম কুদ্দুস, গাজী সাইফুল্লাহ, মুন্সি মঈন উদ্দিন, উপজেলা আমির মাওলানা মুখতার হুসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, কৃষ্ণপদ নন্দী ও ডাঃ হরিদাস মন্ডলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সমাবেশে অংশ নেন তিনি।

  • বাগেরহাটে মহাসড়কে ঢিলেঢালা হরতাল চালু

    বাগেরহাটে মহাসড়কে ঢিলেঢালা হরতাল চালু

    বাগেরহাটে চলমান শৃঙ্খলাহীন হরতালের কারণে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। তৃতীয় দফায় তিন দিনের হরতাল পালন করছে বিভিন্ন দলীয় নেতাকর্মীরা, যারা মূলত ৪টি সংসদীয় আসন বজায় রাখার দাবিতে এই আন্দোলন করছেন। আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মিছিল করেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানেও তারা অবস্থান নেন। বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে দুরপাল্লার ও অভ্যন্তরীন রুটে কোনও যানবাহন চলাচল করছে না, তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রয়েছে। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও রিকশাগুলো মহাসড়ক ও ছোট সড়কে চলাচল করছে।

    জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম বলেন, জনগণের ভোগান্তির কথা ভেবে আমরা মহাসড়কে হরতাল ঘোষণা করেছি। তবে ইজিবাইক, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ দুই চাকার যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই হরতালের আওতামুক্ত থাকায় আজকের হরতালে জনগণের ভোগান্তি নেই।

    অপরদিকে, সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা দাবি করেন যে, বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পূর্বের মতো বহাল রাখতে হবে। তারা সরকারের কাছে ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম বলেন, চারটি আসনের দাবি বাগেরহাটবাসীর খুবই ন্যায্য। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের ঘোষণা দেন, যাতে আদালত আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে আসনগুলি পুনরুদ্ধার করে দেয়।

    হরতালের প্রথম দিন, সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল 6টা থেকে দুপুর 12টা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এর আগে, তারা দুটি দফায় হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।

    গত ৩০ জুলাই, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রাথমিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা থেকে বাগেরহাটবাসী শুরু করে আন্দোলন। নির্বাচনী কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়ে তারা এই দাবিতে সোচ্চার হন। তবে, ৪ সেপ্টেম্বর, নির্বাচন কমিশন only সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসনই ঘোষণা করে, যা তাদের দাবি ও গণ মানুষের চাহিদাকে উপেক্ষা করে বলে অভিযোগ।

    নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাট-১ (বাগেরহাট সদর-চিতলমারী-মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট-রামপাল-মোংলা) ও বাগেরহাট-৩ (কচুয়া-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) নামের সংজোয়াগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে, এই চারটি আসনের জন্য ছিল বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর-কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) ও বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)। দীর্ঘদিন ধরে এই চার আসনে নির্বাচন চলে আসছে। তবে, চূড়ান্ত গেজেটে আসনগুলো পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে তিনটি হয়ে গেছে। এটি বাগেরহাটবাসীর সঙ্গে প্রতারণা ও তাদের ন্যায্য দাবি পর ignore করার শামিল।

  • নগরীর সড়কে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    নগরীর সড়কে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    নগরীর শেরেবাংলা রোডে এক মোটরসাইকেল চালকের প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটেছে। শেখ সিদ্দিকুর রহমান (৫৩), known as একটি জনপ্রিয় ব্যক্তি, রোববার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনায় আহত হন। তিনি ১৪৮/২ কাশেম সড়ক-২ এলাকার বাসিন্দা এবং শেখ আব্দুর সাত্তারের পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে তিনি ময়লাপোতা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। এ সময় পথের নিরালা মোড় সংলগ্ন সেবা ক্লিনিকের সামনে তার মোটরসাইকেল একটি পিকআপের সাথে ধাক্কা খায়। গুরুতর আহত হয়ে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত প্রথমে সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তারেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের লোকেরা দ্রুত মরদেহ হাসপাতালে থেকে নিয়ে যান। এই দুর্ঘটনায় তার পরিবারের শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • অর্থ উপদেষ্টার কাছে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার

    অর্থ উপদেষ্টার কাছে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, বলেছেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের মুখে আমাদের মোকাবিলার জন্য অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলার দরকার। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে মাত্র এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনতে গিয়ে আমাদের খুবই কষ্টে পড়তে হয়। এই অপ্রতুলতার কারণে বারবার আমাদের জানবের টাকা খরচ করতে হয়।

    আজ ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) যৌথ ও আয়োজন করে তিন দিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অপ্রতুল অর্থের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অচিরেই বড় পরিমাণ অর্থের জোগান দরকার বলে জানান তিনি।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের দেশে দুটি ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। তিনি বলেন, এগুলোর মোকাবিলায় পাঁচটি মূল পক্ষের সমন্বয় জরুরি: বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, সংস্থাগুলো, অর্থ সংগ্রহকারী এবং জনগণ।

    বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষরা তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকেন। মূলত, যদি আমাদের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া শুধুমাত্র ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টা নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকে, তা হবে না। আগুন লাগলে আগে মানুষ নিজে এগিয়ে আসে, তারপরকি ফায়ার সার্ভিস। এই বাস্তবতা আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। এই প্রক্রিয়ায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের বিশ্লেষণ ও জ্ঞানদানের উপরও জোর দিতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব কারণেও তৈরি হয় অনেক দুর্যোগ। এ জন্য প্রতি বছর ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের কূটনীতি চলতে আছে।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ নিয়ে তাঁদের সচেতনতা ও তথ্যপ্রেরণায় ভূমিকা বাড়াতে হবে। জাপানের ছাত্ররা যে যার বয়স থেকেই কয়শ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতন, আমাদেরও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একইভাবে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান জরুরি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই শতাব্দীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সমস্যা। এর কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিশেষ অতিথির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী উল্লেখ করেন, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য আমাদের সচ্ছতা ও উন্নত পরিকল্পনা দরকার। তিনি বলেন, কেসগুলো তুলে ধরতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে দ্রুত অর্থ আদান-প্রদান সম্ভব হয়।

    আরেক বিশেষ অতিথি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য পরিস্থিতি বোঝাতে জলবায়ু পরিবর্তনও গুরুতর সমস্যা। সিলেটে পানি বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু হারসহ নানা সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ঘটছে। তবে, এই সব গল্প বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে আমাদের আরও বেশি সচেতনতা ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাহলে আমরা অর্থের জন্য উপযুক্ত কেস তুলতে পারব।

    এই তিন দিনের প্রশিক্ষণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব ও এর মোকাবিলা বিষয়ক রিপোর্টিং দক্ষতা অর্জনে কাজ করবেন।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন রেকর্ডে পৌঁছিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা দেয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন দাম কাল থেকে কার্যকর হবে।

    প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১,২৬০ টাকা বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্যও বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজার পরিস্থিতিতে, ফলে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২৭๑৮ টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা করা হয়। এটি তখন দেশের সর্বোচ্চ স্বর্ণের দামের রেকর্ড ছিল।

  • স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনও বৃদ্ধি পেলো

    স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনও বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বাজারে ক্রমাগত চতুর্থ দিনের মতো স্বর্ণের মূল্য বেড়েই চলছে। মঙ্গলবার ভরিত স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে আরও ৩ হাজার ১৩৭ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে, এই হারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।

    বাজুসের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় এবং জানানো হয়েছে যে, নতুন দাম আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতিভরি দাম এখন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের মানে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকায়।

    এর আগে, গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরি প্রতি ১ হাজার ২৬০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকায়। যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চ দামের স্বর্ণ।

    সাথে সাথেই, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকায়। এগুলো কার্যকর হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর।

    এর আগে, সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবারও স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা তখন দেশের সর্বোচ্চ দাম ছিল।

    এভাবে, চলতি বছর মোট ৫২ বার স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৬ বার এবং কমেছে মাত্র ১৬ বার।

    বেজোড় খবর হলো, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রোপা বিক্রি হয় ২ হাজার ৮১১ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।

  • খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

    খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

    বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে এই ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও ব্যাপক হারে বাড়ছে। এর পিছনে অন্যতম কারণ হলো অনেক শিল্প উদ্যোক্তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়া এবং কারখানা বন্ধের ফলস্বরূপ ঋণের টাকা ফেরত দিতে না পারা।

    অতীতে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তবে গত ১৫ বছর পর, অর্থবছরের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, মার্চ থেকে জুন, এই তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এই পরিমাণ বেড়েছে মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, যা এখন রেকর্ড ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ফর্নসিক অডিটের মাধ্যমে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র পরিস্কার হচ্ছে। এ ছাড়াও, ঋণ খেলাপির নিয়মে পরিবর্তন বারংবার হওয়াও এর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টর গত দশক ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যাংক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে এবং কিছু খেলাপি ঋণ আদালতের নির্দেশে আনক্লাসিফায়েড দেখানো হতো। তবে এখন আমরা সেই সব ঋণের ব্যাপারে স্পষ্ট ভাবনা নিয়ে তাদেরকে ক্লাসিফাই করে ডিএফ (ডিফার্ড অ্যান্ড অ্যারিয়ারেজড) দেখাচ্ছি।

    অধিকাংশ খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র দেখাতে ফরেনসিক অডিটের রিপোর্ট সহায়তা করছে। কিছু ক্ষেত্রে, এ অডিটে জানা গেছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সব খেলাপি ঋণকে ক্লাসিফাই করে চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে জুন মাসে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায়। ব্যাংকুলোর এই ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও অশ্লীল প্রভাবের কারণে ঋণ বিতরণে অস্বচ্ছতা ও দলিলের গাফিলতি এখনো বড় সমস্যা। কিছু ঋণ অতিরিক্ত করে দেওয়া হয়, যেখানে মূল পরিমাণের দ্বিগুণ বা তিনগুণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ঋণ আদায় বা পরিশোধ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আর্থিক স্থিতিশীল রাখতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য তত্পরতা প্রয়োজন, যাতে আমাদের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল থাকে।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জরিমানা ও শাস্তি

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জরিমানা ও শাস্তি

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। এর মধ্যে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য চারজন ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানকে যথাক্রমে অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি ডেটা অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও জরিমানা করা হয়। বুধবারের ৯৭২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এক্ষেত্রে শেয়ার কারসাজির জন্য আরোপ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে ওই কোম্পানির সঙ্গে জড়িত এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকার জরিমানা ও পাঁচ বছর অর্থাৎ চাকরি ও সিকিউরিটিজ লেনদেন থেকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে, কোম্পানিটির অন্য এক ব্যক্তিকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই কারসাজির জন্য তারা ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দায়ী।

    এছাড়া, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবির) সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে, এই শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুঁজিবাজারের একজন পরিচিত ব্যক্তির, মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।