বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এখন একটি নতুন শিখরে পৌঁছেছে, যা বেশ কয়েক বছরworker পরিণত হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের upcoming সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা। মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের মূল্য বেড়ে গেছে, বিশেষ করে ফেডের বৈঠকের আগে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
Month: September 2025
-

পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন চূড়ান্ত করেছে পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার একটি বিশেষ বোর্ড সভার শেষে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান, সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বোর্ড সদস্যরা একীভূতকরণের বিষয়ে সর্বসম্মত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। আরিফ হোসেন খান বলেন, মার্জার বা একীকরণ এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। তবে এখন থেকে এর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত, এবং খুব শিগগিরই এই প্রকল্প দৃশ্যমান হবে।
প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক টিম গঠন করা হবে যা এই বিষয়ের দেখভাল করবে। তিনি আরও জানান, ব্যাংকগুলো দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বর্তমান ব্যবস্থাপনা টিম। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার পদে বহাল থাকবেন। তবে এই একীকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকদের পর্ষদ বা বোর্ড বাতিল করা হবে না, বরং ধীরে ধীরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এই প্রশাসক টিম নিয়মিত তাদের অগ্রগতি ও আপডেট বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ডেপুটেমেন্টে জানাবে।
এছাড়াও, সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। গত মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো মূলত আলোচনা করে খেলাপি ঋণ আদায়, বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তসমূহ।
সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক গঠন করা হবে, যার সম্ভবত নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। এই ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ধরে এই পাঁচ ব্যাংকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক বোর্ড একীভূত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক বিরোধিতা করে।
একীভূত করার প্রক্রিয়ায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
-

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এই রিজার্ভ বর্তমানে ২৬.০৮ বিলিয়ন ডলার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে, দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বিপিএম-৬ অনুযায়ী মূল রিজার্ভ ছিল ২৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যে জানা গেছে, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ এখন ৩১.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে, দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাব আলাদা, যা শুধু আইএমএফকে জানানো হয় এবং প্রকাশ করা হয় না; এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২১ বিলিয়ন ডলার পার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসার অন্যতম কারণ হলো প্রবাসী আয়, রফতানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অন্যান্য বৈদেশিক ধারকদের মাধ্যমে ডলার আসা। এরপর দেশ থেকে বিদেশে ঋণ পরিশোধ, বেতন-ভাতা ও নানা খাতে ব্যয় হওয়া ডলার দেশের রিজার্ভ কমিয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি ইতিবাচক, কারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা কমেছে।
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলমান সময়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩.৪ কোটি ডলার এবং ২ সেপ্টেম্বর আট ব্যাংকের কাছ থেকে ৪.৭৫ কোটি ডলার কোলাকৃত হয়।
গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের বড় অবদান। এই অর্থ পৌঁছায় মোট ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার জুলাই মাসে এবং ২৪২.২ কোটি ডলার আগস্ট মাসে। অন্যান্য মাসের রেমিট্যান্সের পরিমাণও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
অতিরিক্তে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। বিগত বছরগুলোর তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বরাবরই ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর বৈদেশিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে রিজার্ভ কিছুটা কমলেও, বর্তমানে পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
-

স্বর্ণের দাম রেকর্ড গড়ার পর পতন
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘ আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পরে আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে। চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর।
নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এর আগে গত মাসে অন্তত দুই দফা ও চলতি মাসে ছয় দফা দাম বেড়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল, যা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। এই দামে স্বর্ণের চাহিদা কমতে শুরু করেছে, যা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক খবর।
বাজুসের এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে গেছে। এর ফলে নতুন দাম নির্ধারণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯४১ টাকা এবং সনাতন প্রথায় এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
অপরিবর্তিত থাকছে রুপার দাম, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ১৩৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
বাজুসের তথ্যানুসারে, স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হারে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বাভাবিক।
-

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দুর্নীতি, জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। এ সিদ্ধান্ত ৯৭২তম কমিশন সভায় নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা হলেন মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকার (১ কোটি ১৪ লাখ টাকা), আবুল বাসার (৪ কোটি ২ লাখ টাকা), সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং (৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা), মোঃ সেলিম (১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা) এবং জামিল (২ কোটি ২০ লাখ টাকা)। এই শাস্তির কারণে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেয়ার কারসাজির জন্য জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে সংশ্লিষ্টতার জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তার সাথে এছাড়াও তাকে পদচূড়ান্ত ও চাকরি থেকে অবাঞ্ছিত করে পাঁচ বছর পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, কোম্পানির শেয়ার কারসাজির জন্য শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অপরাধে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দণ্ডিত করা হয়।
এছাড়া, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকায় পুঁজিবাজারের আলোচিত ব্যক্তি মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
-

কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করলো জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করে ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের তাদের পাঁচ দফা দাবির জন্য নির্ধারিত কর্মসূচি এবার সকালে নয়, বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিবর্তনের ঘোষণা তারা তাদের ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে, যাতে কোনও সমস্যা না হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, জামায়াত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সংবিধানের ভিত্তিতে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার জন্য তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, ওই দিনগুলোর মধ্যে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা পরীক্ষার পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং অতএব, বিকেলে কর্মসূচি পালন করলে পরীক্ষার কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না বলে তারা আশ্বাস দেয়। তাই তারা সারা দেশের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, যে, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল বেলা কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা কর্মসূচি সামনে আনা যাবে না; কর্মসূচি শুধুমাত্র বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা পরীক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
-

ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: তারেক রহমান
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এবার শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সর্তকতা ও প্রস্তুতি নিতে হবে যেন কোন অপচেষ্টা যেন কার্যকর না হয়। স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা অতীতে এই উৎসবের সময় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে। যদিও স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি, যা তাজা উদাহরণ। তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই সময় আমাদের সবাইকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ধর্মীয় ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে। তিনি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সমন্বয় করে সব শ্রেণির জনগণের সহযোগিতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় আমাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে এবং অপচেষ্টাগুলো প্রতিহত করার জন্য সবসময় প্রস্তুত।
-

প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরে চার সমমনা রাজনীতিবিদের সঙ্গে ফখরুল ও তাহের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কে রওনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন চারজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা। তাঁরা হলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুলাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবং বিএনপি’এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চারজন নেতার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর সে শহরে পৌঁছাবেন। ফেরার কথা রয়েছে ২ অক্টোবর।
২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ দেবেন, যার মাধ্যমে তিনি গত এক বছরে দেশে হওয়া বিভিন্ন সংস্কার ও আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার নিজস্ব প্রত্যয় বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির নেতৃত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস এন্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা এই বিষয়ক প্রথমবারের মতো। এই সভায় রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাগিদ রয়েছে। আর তার অংশ হিসেবে, গত মাসে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত অংশীদার সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
-

ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান দায়িত্ব: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি জন্য আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি ভোটারের আস্থা আরও শক্তিশালী এবং নিশ্চিত করা। এটি আমাদের মূল লক্ষ্য, কারণ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের বিশ্বাস ও সমর্থন।
আজকের ও ভবিষ্যতের তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা সম্পন্ন করে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতেই বিএনপি কাজ করছে। এজন্য দলটি তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে দারুণভাবে পৌঁছে দিচ্ছে সংগঠনের শক্তিমত্তা ও গণতান্ত্রিক মূলমন্ত্র। এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা আমাদের লক্ষ্য—to স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসমর্থন ধরে রাখা।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এসব কথা লিখেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের সাত হাজারেরও বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, এবং অসদাচরণের জন্য কেউ শাস্তি পেয়েছেন, আবার কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন। এই কঠোর পদক্ষেপের মাঝেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়নি, তবে বাস্তবতার দিক দিয়ে এগুলো অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি আমাদের শক্তির উৎস। দলের সদস্যদের দায়বদ্ধ করে আমরা আবারো প্রমাণ করলাম বিএনপি সততার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারেক রহমান আরও বলেন যে, ক্ষমতাসীনদের কৃত মানদণ্ডের মতোই আমাদেরও উচিত নিজেদের মানদণ্ড স্থাপন করা, যাতে জন আস্থা পুনরুদ্ধার হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে—a যারা রাজনীতিকে শুধুমাত্র ক্ষমতার খেলা হিসেবে দেখে না, বরং একটি সমাজের জন্য গড়ে তোলা মহৎ সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখে।
রাজনীতির আধুনিক চাহিদা মেটাতে বিএনপি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নিজেকে আধুনিক করে চলছে—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও লিখেছেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও যোগাযোগ আরও জোরদার করছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ ৩১ দফা কর্মসূচি আমাদের নীতির মূল ভিত্তি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলকই নয়, বরং আরও বেশি নারী, তরুণ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই, যাতে জাতির উন্নয়ন তরান্বিত হয়। আমাদের লক্ষ্য, বিএনপি যেন সেবার, ন্যায়বিচারের এবং দক্ষতার প্রতীক হয়ে উঠে—not বিভাজন বা সুবিধাভোগের প্রতীক।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো আলাদা, তাই আমাদের পদক্ষেপগুলোও হতে হবে নতুন ভাবনা, ভিত্তি করে। তবে আমাদের ইতিহাসকে অস্বীকার না করেই অগ্রসর হতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের আশার আলো দেখিয়েছিলেন, এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠা সংগ্রামকে অটুট রেখে দেশ এখন নতুন যুগের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
নিজের ঐতিহ্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিএনপি এক শৃঙ্খলাবদ্ধ, ভবিষ্যতনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণের পথে কাজ করছে—এটাই তারেক রহমানের প্রত্যয়। তিনি বলেছেন, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চায়, তারা ফাঁকা বুলি পছন্দ করে না। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, তারা বিশৃঙ্খলা চাই না। আর বিশ্ব চায় বাংলাদেশ হোক একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সম্মানিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই প্রত্যাশাগুলো পূরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
শেষে, সহকর্মী ও নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি আহবান জানিয়েছেন, সবাই একযোগে কাজ করতে, এক সঙ্গে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে এবং জনগণের সেবা করতে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, আপনারা যেমন আমার ওপর আস্থা রাখেন, আমি তেমনি আপনাদের ওপর আস্থা রাখি। এই সাফল্যের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করবো, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের প্রত্যাশিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম—ইনশাআল্লাহ।
-

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব এনসিপির
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছি। এই আলোচনা দুই ধরনের বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত। প্রথমটি হলো, যে বিষয়গুলো সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, সেগুলোর জন্য অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, তবে রাষ্ট্রের মূল কাঠামো’যা সংবিধানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত—সেগুলো ব্যাপক পরিবর্তন এনে থাকলে সেগুলো শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব কি না, সেটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এই বিষয়গুলোকে সংবিধান সংশোধনের অনুমোদনযোগ্য বিপদসমূহ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনায় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। এ সময় কমিশনের সভাপতি ও মাননীয় সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ও তার বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। তাই, আমরা নতুন সংবিধান ও সংশোধনীকে টেকসই ও কার্যকর করতে চাই— এ জন্য আমাদের প্রয়োজন স্পষ্ট পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক ঐক্য।
আখতার হোসেন মনে করেন, যদি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও নতুন ধারা ও উপধারা প্রণয়ন করা হয়, তবে সেগুলো দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকরী হবে। এতে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব হবে।
এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রণয়ন জরুরি, যাতে সবাই এককথায় সমর্থন জানাতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে।
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, এ জন্য তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন রেখেছেন— যে, কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হোক, যাতে কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হয় এবং কোন বিরতি না আসে। এতে করে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
