Month: September 2025

  • খুলনায় দিনমজুর নারী সুপ্তির গলা কাটা লাশ উদ্ধার, চারজন গ্রেফতার

    খুলনায় দিনমজুর নারী সুপ্তির গলা কাটা লাশ উদ্ধার, চারজন গ্রেফতার

    খুলনায় দিনমজুর নারী মনোয়ারা বেগম সুপ্তির মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেডিএ ময়ূরী আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের বাথরুম থেকে তার পচা লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহত নারী ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মোস্তার মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ইউসুফ, হুমায়ুন কবির, জয়হীরা এবং শিল্পী। স্থানীয়রা জানায়, মাদক ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইউসুফকে ধরতে মঙ্গলবার পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ইউসুফের বাড়ির পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের বাথরুম থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখা যায়। সন্দেহ হলে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সুপ্তির মরদেহ উদ্ধার করে। এরপরই অভিযানের মাধ্যমে প্রথমে ইউসুফ এবং পরে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়। হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে গ্রেফতারের সময় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকারোক্তি দেয়। নিহত নারী জীবনযাত্রার সুবিধার জন্য মোস্তার মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে ধারণ করা হচ্ছে টাকা বা ধর্ষণকে বাধা দেওয়ায় তাঁর ওপর আঘাত হানা হতে পারে। নিহতের ছেলে শাহ জামাল সর্দার সজল এই ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শিল্পী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদনও প্রক্রিয়াধীন।

  • খুলনায় ট্রেনের ধাক্কায় শিক্ষার্থী শাকিলের মৃত্যু

    খুলনায় ট্রেনের ধাক্কায় শিক্ষার্থী শাকিলের মৃত্যু

    খুলনায় ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের পাওয়ার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। এই tragédieটি ঘটে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জংশন রেলওয়ে স্টেশনে। নিহতের নাম শাকিল, তিনি দিনাজপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং নগরীর বৈকালী এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

    দৌলতপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আজাদ রহমান জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যার ঠিক সময় বেতনা কমিউটার ট্রেনটি বেনাপোল থেকে খুলনার দিকে আসছিল। তখন শাকিল রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

    খবর পেয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার পুলিশকে অবগত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনা নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

  • টাইফয়েডের প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন: ফিরোজ সরকার

    টাইফয়েডের প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন: ফিরোজ সরকার

    বাংলাদেশ সরকার সম্প্রসারিত টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী এক বিশাল ক্যাম্পেইন শুরু হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও এ অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করতে গত বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার।

    সভায় বলা হয়, টাইফয়েড একটি স্পর্শকাতর ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ রোগের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদানের ব্যাপারে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষকে গভীরভাবে অবহিত করা জরুরি। অন্যতম লক্ষ্য হলো, সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত এবং সহজে এই টিকা গ্রহণে উৎসাহিত হয়।

    কর্মসূচির প্রথম দুই সপ্তাহ (১২-৩০ অক্টোবর) এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে, আর পরের দুই সপ্তাহ (১-১৩ নভেম্বর) এ কমিউনিটিতেও নিয়মিতভাবে এই টিকা প্রদান চালু থাকবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় মূলত নয় মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু বাসিন্দাদের এক ডোজ টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে, যেখানে জন্মনিবন্ধন সনদের ১৭ ডিজিটের তথ্য ব্যবহার করতে হবে। www.vaxepi.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। উল্লেখ্য, টাইফয়েডের এই টিকা হালাল সনদপ্রাপ্ত।

    সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শরীফ আসিফ রহমান, কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ-আল-মাসুম, কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলামসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, স্কুলের শিক্ষক ও কমিটির সদস্যরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। এ অভিযানটি যাতে পর্যাপ্ত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য সূক্ষ্ম সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মোট মিলিয়ে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিশুদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রোগের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষা জোরদার করবে।

  • মহিলা দলের নেত্রীদের ঘরে-বাইরে সমানভাবে কাজ করতে হবে: তুহিন

    মহিলা দলের নেত্রীদের ঘরে-বাইরে সমানভাবে কাজ করতে হবে: তুহিন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহিলা দলের নেত্রীদের আরো সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। তিনি বলেন, নারী ifারা যদি প্রতিটি এলাকায় সংগঠিত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। মহিলাদলের নেত্রীদের ঘরে-বাইরে সমানভাবে কাজ করে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় বসুপাড়ায় অবস্থিত বিএনপির سياسي কার্যালয়ে ২৫নং ওয়ার্ড মহিলা দলের নবগঠিত কমিটির নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তুহিন আরও বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা এবং নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। নারীরা মাঠে সক্রিয় থাকলে জনমত আরও দৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন সুসংগঠিত হবে। তিনি বলেন, বিএনপিকে শক্তিশালী ও এগিয়ে নিতে নারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা ঘরে-বাইরে সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। তাদের আন্তরিকতা, সাহস ও সংগঠিত প্রচেষ্টা নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি গুপ্ত সংগঠন ধর্মের আড়ালে প্রতারণার শিকার হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারীদের Bেহেস্তের টিকিট বিক্রির নামে বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব চক্র ধর্মের নামে ব্যবসা চালিয়ে নারীর আবেগ ও বিশ্বাসকে কাজে লাগাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে झুঁধিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এই ভণ্ডচক্রের ফাঁদে পা না দিয়ে সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশবাসীকে একযোগে এসব অপপ্রচার ও প্রতারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রুখে দাঁড়ানোর জোর আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকছে এবং জনগণের পাশে দাঁড়াবে। নারীরা যদি সঠিকভাবে সংগঠিত হন, তাহলে প্রতারণাকারী চক্রগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে।

    অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাসরিন হক শ্রাবণী, কামরুন্নাহার হেনা, মুন্নি জামান, রেশমি খাতুন, ওজিফা বেগম, নাজমা বেগম, মাকসুদা, লিলি বেগম প্রমুখ।

  • নগরীতে ১২ মামলার আসামী গলাকাটা রনি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

    নগরীতে ১২ মামলার আসামী গলাকাটা রনি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

    নগরীতে ১২ মামলার অন্যতম আসামী গলাকাটা রনি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে। এ সময় তাকে থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগজিন এবং গুলিসহ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জানা গেছে, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম, যার নেতৃত্বে ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম, বুধবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে নগরীর গোবরচাকা মেইন রোডের (খালাশি বাড়ির মোড়) রফিকের চায়ের দোকানের পাশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। সেখানে আশরাফুল করিম ওরফে রনি, যিনি গালাকাটা রনি নামে পরিচিত, তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আশরাফুলের বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার ডেউয়াতলা গ্রামে, তিনি মৃত কামরুল এবং ফরিদা বেগমের ছেলে।

    গোয়েন্দা পুলিশের জানান, গ্রেফতারকৃত রনির বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

    তার বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তার কার্যক্রমের বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত: রিজার্ভ চুরির তদন্তে বড় অগ্রগতি

    ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত: রিজার্ভ চুরির তদন্তে বড় অগ্রগতি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে থেকে চুরি হওয়া বিশাল পরিমাণ অর্থের একটি অংশ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ ও তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আদালতের নির্দেশে এই অর্থের সিআইডি নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ফিলিপাইনে তদন্ত চালিয়ে এই ডলারসমূহ বাজেয়াপ্ত করে। আজ রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলনে সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি জানান, আদালতের বরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার এই ব্যাংকের কাছে থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এখন আমাদের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কাজ করছেন।’ এটি এক ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া এই সাইবার হামলার ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্থের চুরি হয়। সেই সময় বাংলাদেশের ব্যাংকের নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর সময় সন্দেহজনক হিসেবে ফিরে আসে, namun বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) মাকাতি শহরের জুপিটার শাখায় ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে জমা হয়। পরবর্তীতে এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ যানবাহনের মাধ্যমে পাচার করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফিলিপাইনের আদালত আসামি হিসেবে রিজাল ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকেকে মানি লন্ডারিংয়ের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। এই ঘটনাটি দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ এবং এর তদন্ত আর নিরপেক্ষতার জন্য সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে ভাবা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে ভাবা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সর্বদা মুনাফা আসবে — এই ধারনাটি ভুল। তিনি সতর্ক করে বলছেন, কেউ যদি এটিকে নিয়মিত আয়ের স্থায়ী উৎস মনে করে, তাহলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। মূলধন বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে ক্ষতির সম্ভাবনাও। তাই বিনিয়োগকারীদের সহজেই বুঝতে হবে যে শেয়ার এবং বন্ড কেনার মানে কখনো কখনো ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও শুরুক মূলধন বাজার উন্মোচন: রাজস্ব, অবকাঠামো এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এখনও মূলধন বাজার যথেস্ট উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেগমেন্ট থাকলেও সেখানে বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ খুবই কম, এবং শেয়ারবাজারের অবস্থা খুবই সংকুচিত। এর ফলে বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যার ফলাফল হলো ঋণখেলাপি ও তহবিলের অপব্যবহার। এটি দেশের জন্য বড় ট্র্যাজেডি। প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ার বিনিয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ভুল খাতে ব্যবহার করাই সমাধান নয়। তাই মূলধন বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকি যতটাই আছে, তার সঙ্গে লভ্যাংশ বা মুনাফার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে এগুলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে লাভবান হওয়া কঠিন হবে না, পাশাপাশি ব্যাংকের উপর চাপ কমবে। অবশ্যই সুকুক প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা বজায় থাকে।

    অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সিকিউরিটাইজেশন কার্যকর হয়নি, যা বড় বড় প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, বাস্তবায়নে ব্যবহার করলে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হত। আপনারাও উল্লেখ করেন যে পেনশন ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারি দায়বদ্ধতার অংশ।

    তিনি আরও বলেন, মূলধন ও সুকুক বাজারের পাশাপাশি বীমা বাজারের উন্নয়নে নজর দেওয়াও জরুরি। সেই সঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

  • গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা বাজার তৈরি করুন

    গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা বাজার তৈরি করুন

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাজারকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সঞ্চয়পত্র ও বেসরকারি বন্ডের জন্য পৃথক সেকেন্ডারি মার্কেট বা পরবর্তী বাজার তৈরি করা জরুরি, যা দ্রুত সম্ভব যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকুক। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর উত্তরায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে গভর্নর এসব কথা বলেন, যেখানে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের কিছু লেনদেন বাজারে হয়, কিন্তু তা সম্পূর্ণভাবে ট্রেডযোগ্য করা উচিত। এতে সাধারণ গ্রাহকরা উপকৃত হবেন এবং বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, তিনি বেসরকারি বন্ডের জন্যও লেনদেনযোগ্যতার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, সঠিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলে বন্ড মার্কেটের আকার দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য ইতিবাচক দিক হবে।

    আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শ্রমশক্তি, পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বেনেভোলেন্ট ফান্ডকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জোর দিয়েছেন, এই ধরনের বিনিয়োগের জন্য একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন, যা তহবিলের ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করবে।

    গভর্নর আরও বললেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনা করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি মূলত বন্ড-নির্ভর, যেখানে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ১৩০ শতাংশ। বিপরীতে, বাংলাদেশ প্রধানত ব্যাংকনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো পরিচালনা করছে, যেখানে স্টক মার্কেটের পরিমাণ ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার ও মানি মার্কেটের আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশের বিমা খাতের আকারও খুবই ছোট—জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ।

    গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের বাজারে বন্ডের চাহিদা ও সরবরাহ উভয়কেই বাড়ানো দরকার। বর্তমানে সরকারি বন্ডের আধিপত্য থাকলেও করপোরেট বন্ডের বাজার খুবই ছোট। তিনি কারো কারো জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেন, যা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    গভর্নর বলেন, সুকুক বা ইসলামী বন্ডের বাজারও এখনও খুবই ক্ষুদ্র, যেখানে মোট ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বাড়ানোর জন্য একটি নতুন কৌশল প্রস্তাব করেন। সেটি হলো, যমুনা বা পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পের টোল আয় বা মেট্রোরেল প্রকল্পের উপার্জিত অর্থকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে বিভিন্ন নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করা। এর জন্য অর্থ মন্ত্রালয়ে একটি বিশেষ, কার্যকরী বিভাগ গঠন করার পরামর্শ দেন তিনি।

    সেমিনান শেষে গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের জন্য একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। খুব শিগগিরই এই প্রতিবেদনে সুপারিশসমূহ সহ বিভিন্ন ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

  • স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকার বেশি

    স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকার বেশি

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামে হু হু করে বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে, দেশি বাজারে ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম, যা আগে কখনো এমন উচ্চতায় পৌঁছায়নি। এই নতুন দামের কার্যকারিতা আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে।

    বাজুসের পাবলিসিটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা এর আগে কখনো এর চাইতেও বেশি ছিল না। অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের সর্বনিম্ন মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন,মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    অপরদিকে, বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য খারাপের মুখে নেই। এক আউন্স সোনার দাম কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলারের বেশি হয়নি। একদিনে ৩৪ ডলার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এক মাসে মোট ১০.৩৫ ডলার বৃদ্ধি হয়েছে, যা প্রায় ৪০০ ডলার। এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৬৯০ ডলার ছিল। এরপর দাম কমার পর ১৮ সেপ্টেম্বর কিছুটা দাম কমলেও, ২০ সেপ্টেম্বর ফের দামের উল্লম্ফন ঘটে। ওই দিন, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা ছিল, যা আগের তুলনায় ১ হাজার ১৫৫ টাকা বেশি। ২১ ক্যারেটের জন্য দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় দাঁড়ায়, যা ১ হাজার ৯৭ টাকার বৃদ্ধি।

    সোনার অস্বাভাবিক দামে এত বৃদ্ধি হওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, আমেরিকার শুল্ক নিয়ে দুর্ব্যবস্থা থাকায় এবং চীন, রাশিয়া, ভারতের সঙ্গে বৈঠক চলায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের চলমান ঝামেলার জন্য বিভিন্ন দেশ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারে সঞ্চয় করছে। এর ফলস্বরূপ, চীন ও ভারতসহ অন্যান্য দেশ সোনা কিনে রিজার্ভ করছে, আর সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে, দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে এবং স্বর্ণের বাজারের আকার সংকুচিত হয়ে আসছে।

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও নতুন করে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, এবং আগামী বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়াতে চলেছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবীভাবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, মান ও মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এটি ছিল এ সময় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ। সেই সময়ের জন্য অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। সেই দামসমূহ কার্যকর হয়েছিল ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

    একের পর এক দাম সমন্বয় בשנת ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার, আর কমানো হয়েছে ২৭ বার। এর আগে, চলতি বছর মোট ৫৭ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৪০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    অতিরিক্ত, এই দামে রুপার দামও বেড়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়ে রুপার নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার মূল্য হবে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৮ টাকা।