Month: September 2025

  • পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের ভরসা সাম্প্রতিক পারফরমেন্স

    পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের ভরসা সাম্প্রতিক পারফরমেন্স

    এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার প্রথম সুযোগে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরমেন্স প্রত্যাশিত নয় বলে অনেকের মনে হয়েছিল। ফলে, সুপার ফোরে পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের শেষ ম্যাচটি এখন তো যেন এক অলিখিত সেমিফাইনালে পরিণত হয়েছে। ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য উভয় দলের জন্যই এখন সহজ সমীকরণ, যারা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জিতবে, তারাই মূল টুর্নামেন্টের মহারণে অংশ নেবে। আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দুই মানুশের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

    এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের ফাইনালে উঠার সম্ভাবনা খুব বেশি মনে হয়নি। তবে সুপার ফোরে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশের আশার বাতিগুলি প্রজ্জ্বলিত হয়েছে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়ে বেশ আশাবাদ জুগিয়েছে, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে অন্যান্য ম্যাচেও দেখা গেছে। বিশেষ করে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে, যখন পাকিস্তানের স্বাভাবিক ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে, তখন বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ কিছুটা আশা জাগিয়েছে।

    পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে, তবে, এখনো অনেক অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষের পর বিগত ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ছিল না। ভারতীয় দলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ বেশ দুর্বল হতে দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যে মাত্র ১৩৪ রান তাড়া করতে হয়নি, শেষপর্যন্ত ১২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে। পরে শেষ দিকে হুসাইন তালাত ও মোহাম্মদ নওয়াজের জুটি পাকিস্তানের বিপদ থেকে খানেকটা মুক্তি দিয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা এখন পাকিস্তানের এই ব্যাটিং দুর্বলতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।

    বাংলাদেশের বোলিং দুর্দান্ত প্রশংসা পেয়েছে। গতকালও ভারতের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে তারা গড়ে ১২ গড়ে ৭২ রান দিয়ে, ১০.১ ওভারে দলীয় ১শ পূর্ণ করে ফেলেছে। তাতে সূর্যকুমার যাদবের দল ১৬৮ রানের লক্ষ্য পৌঁছায়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান সাইফ হাসানের ছাড়া অন্য কেউ ধারাবাহিকভাবে কিছু করতে পারেননি, যা আশার সঙ্গে কিছু হতাশার ছোঁয়া দেয়। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস কিছুটা বেড়েছে। তাদের মাটিতে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর স্মৃতি এখনও জ্বলজ্বল করছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক জয় লাভের মধ্য দিয়ে এই দলটি এশিয়া কাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মোট টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এখনো বাংলাদেশ পিছিয়ে, যেখানে পাকিস্তান ২০ জয়, বাংলাদেশের জয় মাত্র ৫টি।

    ভারতসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের পরিকল্পনা নিয়ে গত ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া জাকের আলি অনিক বলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে আসছি। কালকের (পাকিস্তান) ম্যাচেও সেই সাহস নিয়ে খেলব। ফাইনালে উঠা ও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলছি। বোলিং ও ব্যাটিং দুই বিভাগেই আমরা ভালো করেছি। অবশ্যই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যাটিংয়ে ভালো করে ম্যাচটি জেতা। আশা ছাড়ার কিছু নেই।’

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি মনে করছেন, বাংলাদেশকে হারানোর জন্য পাকিস্তানকে নিজেদের সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে। বাঁ-হাতি এই পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো দল। বেশ কিছুদিন ধরে তারা ভালো খেলছে। শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেললে প্রথম ধাক্কাটা আপনাকেই দিতে হবে। আমাদের যত বিভাগ, ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিনই ভালো খেলতে হবে, যাতে আমাদের জেতার সুযোগ তৈরি হয়।’

  • আইসিসির কাছে অভিযোগ করেছে ভারতের against পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের

    আইসিসির কাছে অভিযোগ করেছে ভারতের against পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের

    এশিয়া কাপের সুপার ফোরে রবিবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মাঠের আচরণকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) পাকিস্তানের ক্রিকেটার হারিস রউফ এবং শাহেবজাদা ফারহানের বিরুদ্ধে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। জানা গেছে, এই অভিযোগটি বুধবার ই-মেইলের মাধ্যমে আইসিসির কাছে পৌঁছে গেছে। যদিও রউফ ও ফারহান লিখিতভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ফলে বিষয়টি এখন শিগগিরই শুনানির মুখোমুখি হতে পারে। এই শুনানি পরিচালনা করবেন ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন, পরিচালক হিসেবে থাকবেন অ্যান্ডি পাইক্রফট।

    অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু হলো—ফারহানের অর্ধশতক পূরণের আগে করা উদযাপন এবং লাইন ধরে ফিল্ডিং করার সময় দর্শকদের উদ্দেশে রউফের অঙ্গভঙ্গি, যা ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

    এদিকে, আরও একটি অপ্রত্যয়িত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নাকি পাল্টা অভিযোগ করে রেখেছে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের বিরুদ্ধে। ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর, সূর্যকুমার সেই জয়টি পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারকে উৎসর্গ করেছিলেন। পিসিবি এটিকে ‘রাজনৈতিক মন্তব্য’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ তুলেছে বলে জানা গেছে।

    অপরদিকে, সেই ম্যাচের পরের উপস্থাপনা অনুষ্ঠান নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিল। ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে হ্যান্ডশেক না করাকে কেন্দ্র করে ‘হ্যান্ডশেকগেট’ নামক এক বিতর্ক চলে।

    সোমবারের ম্যাচটিও ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। পাকিস্তানের দুই পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফের সঙ্গে ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও শুবমান গিলের মধ্যে বাকবিনিময় ও তর্ক চলে, যা ম্যাচের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

  • বিসিবি নির্বাচনে ক্রিকেটারদের এমন পরিস্থিতি

    বিসিবি নির্বাচনে ক্রিকেটারদের এমন পরিস্থিতি

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে চলছে একাধিক বিতর্ক ও নাটকীয়তা। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে তামিমের প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

    সাবেক ক্রিকেটার হালিম শাহ অভিযোগ তুলেছেন, তামিম এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর না নিলে তিনি বিসিবির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিলর হতে পারবেন না। তিনি আরও জানান, তামিম ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের সদস্য নন এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর করার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি।

    অথচ, বাস্তবতা হলো, গত ১০ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তার এই ঘোষণাটি দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। তিনি আরো জানান, যদি তিনি বিসিবিতে দায়িত্ব নেন, তবে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও সরে যাবেন। বর্তমানে তিনি ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, ইরফান শুক্কুর, মোহাম্মদ মিঠুন ও সাব্বির রহমান সবাই একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বিসিবি নির্বাচনের এই ধরনের অপ্রশান্তি ও বিভ্রান্তির অবসান দরকার। তারা আরো বলছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ—অতএব, নির্বাচনে যেন প্রতিযোগিতা হয় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।

    এসব ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, বিসিবি নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চয়ই দেশের ক্রিকেটের জন্য দিক নির্দেশক হতে যাচ্ছে।

  • পাকিস্তানের কাছে হারিয়ে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ থেকে বিদায়

    পাকিস্তানের কাছে হারিয়ে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ থেকে বিদায়

    বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা প্রাণপণে চেষ্টা করেছেন নিজেদের সেরা সুবিধা দেওয়ার জন্য, কিন্তু লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৩৪ রান। এই সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। উইকেটে এসে তারা প্রতিপক্ষের মনোবল ভাঙার জন্য ঝুঁকি নিয়ে শট খেলতে থাকেন, কিন্তু মাঝে মাঝে ভুলের কারণে উইকেট হারিয়েছেন। এমন ব্যাটিং দেখেই ধারাভাষ্যকক্ষে বসে কমেন্টেটর সুনীল গাভাস্কার মন্তব্য করেছিলেন, “বাংলাদেশের ব্যাটাররা এখানে সবাই হিরো হওয়ার চেষ্টা করেছেন।” টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার পর্যন্ত সবাই একই রকম ভুল করে সাজঘরে ফিরেছেন, যার ফলে বাংলাদেশের চোট লেগেছে অধিক। ২৫ বলে ৩০ রান করে দলের জন্য কিছুটা সান্তনা বেঁচে থাকা শামীম হোসেন পাটোয়ারি চার্ট তার ইনিংসের মাধ্যমে। বাঁহাতি এই ব্যাটারটির সামান্য ইনিংসটি অবশ্য বাংলাদেশের হারের ব্যবধান কমিয়েছে। অবশেষে পাকিস্তানের কাছে ১১ রানে হার মানে বাংলাদেশের দল, যা তাদের এশিয়া কাপ থেকে বিদায়ের কারণ হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এই জয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে। এশিয়া কাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-পাকিস্তান মুখোমুখি হচ্ছে ফাইনালে, যেখানে ভারতের সঙ্গে ষোলকান্না করবেন পাকিস্তান। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল ১৩৬ রান। শুরুতেই বাংলাদেশ আরম্ভ ভালো করে না, প্রথম ওভারে পারভেজ হোসেন ইমন উইকেট হারান, যখন তিনি শাফিন আফ্রিদির শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে নাওয়াজকে ক্যাচ দেন। তিনি প্রথম দুটি বলেই কোনো রান করতে পারেননি। চাপ কমাতে সাইফ উজ্জীবিত করেন হারিস রউফের ওভার থেকে ছক্কা আর চার মারার মাধ্যমে। তবে পঞ্চম ওভারে তৌহিদ হৃদয় যদি একদম ঠিকঠাক করেন, তাহলে তিনি ফিরতে পারতেন, কারণ তিনি পয়েন্টে বল ঠেলে দিয়ে রান নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বলফিল্ডারের হাতে চলে যায়। উল্টো, সাইফ দৌড়ে এসেছেন এবং হৃদয় দৌড় না দেয়ায় সাইফ নন স্ট্রাইক রান আউট হতে পারতেন। দুর্ভাগ্যবশত, পাকিস্তানের ফিল্ডারদের অদক্ষতায় তিনি জীবিত থাকেন। তবে পরের বলেই হৃদয় আউট হন। সাহস দেখানোর চেষ্টা করে সাইম আইয়ুবের ক্যাচ দিয়ে সাইফের আউট হয়েছেন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাইফ আশা অনুযায়ী রান করতে পারেননি। হারিস রউফের বল মোকাবেলা করতে গিয়ে তিনি লিডিং এজ নিয়ে ক্যাচ দেন ১৮ রানে। এই ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ পাওয়ার প্লে-তে তিন উইকেট হারিয়েছে, স্কোর দাঁড়ায় ৩৬ রান। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন করা হলেও দলের প্রভাব পড়েনি। নাওয়াজের ডেলিভারিতে ব্যাট করে ভিন্নধর্মী কিছু করতে চাওয়া হুসাইন তালাতের হাতে ক্যাচ দেয়। তিনি ১০ বলে ১১ রানে আউট হন। এরপর সোহান ও শামীম জোট বেঁধে একটু পরিস্থিতি ঘুরিয়ে আনতে চান, কিন্তু তারা সফল হননি। সোহান ২১ বলে ১৬ রান করে আউট হন, আর শামীমও শেষ মুহূর্তে ফিরেছেন। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১২৪ রানে অলআউট হয়ে গেছে। পাকিস্তানের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন শাহীন আফ্রিদি ও হারিস রউফ। এই জয়ে পাকিস্তান এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারতের সঙ্গে হবে।

  • পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

    পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

    আজ একই দিনে বাংলাদেশের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাতের এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান, যা অলিখিত সেমিফাইনাল বলে মনে হচ্ছে। এই ম্যাচের জয়ী দলই ফাইনালে পৌঁছাবে। এর আগে, ক্রিকেটের বাইরে এক অন্য স্বরণীয় স্থানে, শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সাফ অ-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে।

    এই ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের জন্য শুভ সূচনা হয়। প্রথম চার মিনিটে দুই গোল করে তারা বড় অঙ্কের লিড তৈরি করে। তৃতীয় মিনিটে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড কেড়ে নেন অপন্যই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোল। পাকিস্তানের গোলরক্ষক ও ডিফেন্সের কিছু অসচেতনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড নাজমুল হুদা ফয়সাল বল জালের গভীরে পাঠান।

    প্রথম গোলের জন্য পাকিস্তানের গোলরক্ষক ও ডিফেন্সের কিছু ভুল ছিল। তারপর, এক মিনিট পরই বাংলাদেশের অপু দুর্দান্ত একটি গোল করেন, ডান প্রান্ত থেকে পাকিস্তানের ডিফেন্সের পিছনে ফাঁকা সুযোগ নিয়ে তিনি জোরালো শটে বল জালজাত করেন।

    ম্যাচের বাকী সময়ে উভয় দলই আক্রমণ চালিয়েছে, তবে আর কোনো গোল না হওয়ায় স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গোলের সুযোগ বাড়ানো গেল না, আবার পাকিস্তানও তাদের আক্রমণ থেকে তোড়জোড় করতে পারেনি। যদিও গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান দাপটের সঙ্গে খেলেছিল। প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে তাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল। শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরেও তারা গ্রুপে রানার্স আপ হয়ে যায়। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা গোল করতে পারেনি।

    আবার আজকের রাতে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে অন্য একটি সেমিফাইনাল। নেপাল ও ভারত মুখোমুখি হবে, যার বিজয়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক উত্তেজনাপূর্ণ এবং অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

  • লাদাখে বিক্ষোভে সহিংসতা, কারফিউ জারি

    লাদাখে বিক্ষোভে সহিংসতা, কারফিউ জারি

    ভারতীয় হিমালয় অঞ্চলের লাদাখে রাজ্যের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য চলমান বিক্ষোভ ও আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়ে উঠেছে। এর ফলশ্রুতিতে লেহ জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। বুধবারের এই সহিংসতায় কমপক্ষে চারজন নিহত এবং বহু জন আহত হন। খবর বিবিসির। পরে, বিক্ষোভকারীরা বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় বলে জানা গেছে।

    ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় আন্দোলনের অগ্রणी পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করেছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, তিনি আরব বসন্তের আন্দোলন ও নেপালের জেন-জি বিক্ষোভের অনুকরণে মানুষকে উসkýে দিচ্ছেন। তবে, ওয়াংচুক এই অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, এর আগে ৬ অক্টোবর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাইপাওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন, ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়া এ আন্দোলন অর্থহীন।

    এমন সময়ে এই আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হলো, যখন আগামী মাসে লাদাখের অটোনমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজেপি জয় লাভ করেছিল।

    ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার লাদাখকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আলাদা করে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে। এর পর থেকেই, বৌদ্ধ অধ্যুষিত লেহ ও মুসলিম অধ্যুষিত কারগিল-উভয়ই সমপ্রদায়ের মানুষ রাজ্যের মর্যাদা ও অধিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য উদ্যোগী হয়ে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মর্যাদা হারানোর কারণে তাদের জমি, সংস্কৃতি ও সম্পদে নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে এবং বাইরের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কুবিন্দর গুপ্তা জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁরা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক করবেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ কমিটি আগামী ৬ অক্টোবর লাদাখের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

  • ভারতও কি ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দেখালো?

    ভারতও কি ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দেখালো?

    চীনা সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য গত নয় সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় অনশন। তাদের মধ্যে ছিল লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং চাকরিতে সংরক্ষণ চালু করার দাবী, পাশাপাশি লেহ ও কার্গিলের জন্য একটি লোকসভা আসনেরও প্রয়োজনীয়তা। এই দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে বেশ কয়েকটি দল এবং অধিকারকর্মী আন্দোলন চালাচ্ছেন।

    তবে, গত মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি তখনই দ্রুত বিপরীত মোরঠে যায় গুরুতর আহত হন অনশনকারী দুই ব্যক্তি, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর শুক্রবার লেহ শহর তীব্র আন্দোলনের এক ঢেউয়ে পরিণত হয়। বিশাল সংখ্যক জনতা পথ চলা শুরু করে, নানা স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে মিছিল করে। ডিজে-সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, পুলিশের অফিস ও গাড়িতে পাথর ছোড়া ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয় এবং জনতার মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

    ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অনশনরত আন্দোলনকারীদের একজন ওয়াচুংক উসকানিমূলক বক্তৃতা দেয়ার পর জনতা উত্তেজিত হয় এবং সরকারি অফিসে হামলা চালায়। এছাড়াও, পুলিশের গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এতে ৩০ জনের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থলে গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশ, যার ফলে কিছুজনের মৃত্যু ঘটে।

    অভ্যুত্থানের নেত্রী সোনম ওয়াংচুক সবশেষে বলেন, আমি চাই সব যুবক যেন এই সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পথে ফিরে আসে। তিনি আরও বলেন, এই দিনটি লাদাখের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক কারণ গত পাঁচ বছর ধরে এখানকার মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, বহু বার অনশন ও হাঁটূ মৃত্যুর মতো পথ অবলম্বন করেছেন।

    সোনম আরও বলেন, “আজ শান্তির সারিবদ্ধতা কোথাও থাকছে না, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা রাতারাতি বেড়ে গেছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, সহিংসতা বন্ধ করে অবিলম্বে আলোচনা পথে ফিরে আসতে। আমরা অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাব। যখন শান্তি উপেক্ষিত হয়, তখনই এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”

    ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লেহ ও কার্গিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি বৈঠক আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনায় সংরক্ষণ ও অন্যান্য দাবি দাওয়া সমাধানের জন্য বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন মেয়েদের জন্য এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ, সরকারি ভাষার স্বীকৃতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তবে, কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রবৃত্তি ও গোষ্ঠী এই আলোচনাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা।

    এখন প্রশ্ন উঠছে, লাদাখের এই আন্দোলন কি ‘জেন জি’ বা প্রজন্মের চলমান ক্ষোভের অংশ? শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালসহ অন্য দেশেও কি ‘জেন জি’র এই তরুণ প্রজন্ম তাদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ করছে?

    ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলার সময় সাংবাদিক স্যমন্তক ঘোষ বলেন, “অভিযানের মধ্যে দিয়ে এটাকে মূলত জেন জি আন্দোলন বলাই যায়। অনশনরত দুই তরুণের শরীর খারাপ হওয়ার পরে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এর ফলে বেশ কিছু তরুণ রাস্তায় নামেন। বিকেল চারটার পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়, যদিও কারফিউ বহাল রয়েছে। এরপরই সিআরপিএফের গুলিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তবে, মোটামুটি স্পষ্ট যে, পুরো বিষয়টি জেন জি আন্দোলনের অংশ।”

    ভারতের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, এই আন্দোলন মূলত যুবকদেরণ। তবে বিজেপির কিছু নেতা দাবি করছেন, এই সহিংসতার পেছনে আছে কংগ্রেসের মদত, যারা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্ঠা করছে।

    অন্যদিকে, বড় শহর ও লাদাখে সংঘটিত এই সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে। ভারতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর জানিয়েছেন, এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। রাতের মধ্যে ৫০জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরও কংগ্রেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে, এনডিটিভি।

  • লাদাখে বিক্ষোভ-সহিংসতা: কারফিউ জারি, কারগিলে সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত

    লাদাখে বিক্ষোভ-সহিংসতা: কারফিউ জারি, কারগিলে সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত

    ভারতের হিমালয় অঞ্চল লাদাখে রাজ্য মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়ায় লেহ শহরে কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। বুধবারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অন্তত চারজন নিহত ও বেশ কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। বিক্ষোভকারীরা বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরানোর পাশাপাশি পুলিশের একটি গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়। বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাগুলোর জন্য আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনি আরব বসন্ত ও নেপালের জেন-জি আন্দোলনের উদাহরণ উল্লেখ করে মানুষকে উসকানী দিয়েছেন। তবে, ওয়াংচুক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার উদ্যোগ না থাকলে আন্দোলন অর্থহীন। এই বিক্ষোভ ও আন্দোলনের সময় এসে পৌঁছেছে যখন আগামী মাসে লাদাখের অটোনমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে; ২০২০ সালে বিজেপি এই নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে লাদাখকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আলাদা করে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই বৌদ্ধপ্রধান লেহ ও মুসলিমপ্রধান কারগিলসহ বিভিন্ন অংশের মানুষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশেষ মর্যাদার অপসারণের ফলে তাদের জমি, সংস্কৃতি ও সম্পদ সাধারণের নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে, অপরদিকে বাইরের অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। লাদাখের জেলা প্রশাসক কবিন্দর গুপ্তা জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ কমিটি লাদাখের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে ৬ অক্টোবর। অন্যদিকে, কারগিলে ঐতিহাসিক ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সংগঠনগুলি, যাতে এই অঞ্চল অচলায়তনে পরিণত হয়। বুধবার লেহে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ায় কার্গিল জেলাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লেহের জনগণের সংহতি প্রকাশ করে কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) এই ডাকা দেয়, যার মাধ্যমে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় এবং রাস্তায় মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন কার্গিলে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫০ এর বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ, আইটিবিপি ও সিআরপিএফ-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। কেডিএ ও লেহ অ্যাপেক্স বডির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাজ্যের মর্যাদা নিশ্চিত করা, লাদাখের ষষ্ঠ তফসিল ঘোষণা এবং স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, বিজেপি সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেডিএ’র সহ-সভাপতি আসগর আলী কারবালাই সরকারের কঠোরতা কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বিচারহীনতা ও সহিংসতা বন্ধ করা দরকার’ এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ড. ফারুক আবদুল্লাহ কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, তিনি বিজেপির উপর আঙুল তোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার জন্য এই ঘটনার জন্য দায়ভার গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রথমে অহিংস আন্দোলন দেখিয়ে লাদাখের মানুষ জানিয়েছেন তারা শান্তিপূর্ণ পথে চলেছেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতায় এই আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পাহাড় উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ জাফর আখুন লেহের এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন ও জনগণের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তিনি সকল ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়।

  • স্লোভেনিয়া নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো

    স্লোভেনিয়া নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়া। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং দুইজন অতি-ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীকে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (আগস্ট ৩১) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

    স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সেক্রেটারি অফ স্টেট নেভা গ্রাসিক বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্লোভেনিয়া আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকারের সার্বজনীন মূল্যবোধ এবং তার একটি নীতিগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

    এর আগে গত আগস্টে ইসরায়েলের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্লোভেনিয়া, যার মধ্যে ইসরায়েলি-অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

    নেভা গ্রাসিক আরও জানান, নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। যে কারণে তাকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্লোভেনিয়া তার ন্যায়বিচারের প্রতি কঠোর অঙ্গীকার প্রকাশ করছে।

  • প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজিকে পাঁচ বছরের জেল

    প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজিকে পাঁচ বছরের জেল

    অন্যদিকে, পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের জন্য নির্দেশনা বলা হয়েছে, কেন্দ্রে অন্যান্য ব্যক্তির বা পরীক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনতে পারবে না।