বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) কাছ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। এ ঘটনা আদালতের আদেশে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনায় এই অর্থ বর্তমানে ফিলিপাইনের আরসিবিসির জুপিটার শাখার ভুয়া হিসাব থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জোরদার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ ধরনের বড় ধরনের সাইবার হামলার প্রথম নজির স্থাপিত হয়। তখন নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে, শ্রীলঙ্কায় প্রেরিত প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও, বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়। এই অর্থ পরে বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পাচার করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত মামলা দায়ের করে এবং এ বিষয়টি তদন্তে ফিলিপাইনের আদালত শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকেকে মানি লন্ডারিংয়ের দোষে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, বড় ধরনের সাইবার ক্রাইমের সাথে আন্তর্জাতিক জড়িত একটি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলছে।
Month: September 2025
-

পুঁজিবাজারে সব সময় লাভ হওয়া উচিত ভাবনা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় মুনাফা আসবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, কেউ যদি এটি অবিচ্ছিন্ন আয় উৎস হিসেবে ভাবতে থাকে, তবে itu বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ বিপদ ডেকে আনতে পারে। মূলধনী বাজারে যেমন লাভের সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির ঝুঁকি ও থাকা সম্ভব। এজন্য বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনও কখনও ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব বক্তব্য রাখেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখনও মূলধনী বাজার যথেষ্ট উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজার প্রায় অবহেলাজনক। ফলে বড় প্রকল্পের অর্থায়ন নির্ভরশীলতা ব্যাংকগুলোর উপর বাড়ছে, যা ঝুঁকি বা ঋণখেলাপি এবং তহবিলের অপব্যবহার বাড়ানোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, ঝুঁকি ভাগাভাগি করতে হলে মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার এবং শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে কেবল ঋণ নিয়ে তা ভুল খাতে ব্যবহার করা কোনো সমাধান নয়। বিশেষ করে, মূলধনী বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদেরও বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকির পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে। তবে এসব বন্ড সাধারণত শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে আয়ের হার কম। যদি এসব বন্ড উৎপাদনশীল প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। তাঁর মতে, সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হওয়া উচিত, যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা আরও জোরদার হয়।
অর্থ উপদেষ্টা আরো যোগ করেন, বাংলাদেশে এখনো সিকিউরিটাইজেশন কার্যকর হয়নি। তবে মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পে এই পদ্ধতি চালু থাকলে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এছাড়া, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারের দায়বদ্ধতা।
সেই সঙ্গে, তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, শুধুমাত্র মূলধনী ও সুকুক বাজার নয়, বীমা ক্ষেত্রের উন্নয়নেও মনোযোগ দিতে হবে। কর কাঠামো ও প্রণোদনা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
-

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বাজারের উন্নয়নের পরামর্শ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জন্য দেশের মূল ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের আর্থিক বাজারকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য সঞ্চয়পত্র ও বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা কেনাকাটা ও বিক্রয় বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) গঠন অপরিহার্য। এই বাজারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে, যা দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকেন, তবে খুব দ্রুত এই ধরনের একটি বাজার প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যা অর্থবিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও উপযুক্ত বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি, যেখানে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনার আলোচনা হয়।
গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরগুলোতে সঞ্চয়পত্রের লেনদেনের পরিমাণ সীমিত হলেও, এটিকে পুরোপুরি ট্রেডযোগ্য ও সহজলভ্য করে তুলতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন এবং একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে, যার ফলে অর্থের সরবরাহ ও বণ্টনের সময় ও খরচ কমে আসবে। একই সঙ্গে, তিনি বেসরকারি বন্ডের লেনদেনও সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তার মতে, সঠিক কাঠামো অনুসরণ করলে বন্ড মার্কেট দ্রুত দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক খাতে বিশাল পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
আহসান মনসুর আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের তহবিলগুলোকে কাজে লাগানো জরুরি। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করে বলেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসবের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। তিনি যোগ করেন, এর জন্য দক্ষতাসম্পন্ন ও কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণকারী একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজন, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষণে তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি মূলত বন্ড কেন্দ্রিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড বাজার রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশের সমান। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ব্যাংক নির্ভরশীল, যেখানে স্টক মার্কেটের বাজার মূল্যানุসারে প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে, নগদ অর্থের মানি মার্কেটের আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। তিনি লক্ষ্য করে বলেন, এসব তুলনা দেখিয়ে বোঝা যায় যে, দেশের আর্থিক কাঠামো এবং বাজার উন্নয়নের জন্য আরও বিকাশের প্রয়োজন। তবে, দেশের বিমা খাতের অবস্থা খুবই খারাপ, যেখানে জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ অবদান।
গভর্নর বলেন, চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশের বন্ড বাজার গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে মূলত সরকারি বন্ডের আধিপত্য রয়েছে, কিন্তু করপোরেট বন্ডের অবদানের দ্রুত বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড মার্কেটের দিকে আগানোর প্রস্তাব দেন। তিনি আরও বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধ না করায় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্বাসে অনেক সময় সেই সুযোগও ন্যস্ত হয়।
তাঁর মতে, সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজার খুবই ক্ষুদ্র। এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার সম্প্রসারিত করার উপর জোর দেন, এবং পরামর্শ দেন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন যমুনা বা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল প্রকল্পের আয়ের পথগুলোকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এর জন্য অর্থমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে একটি কার্যকরী এবং দক্ষ বিভাগ তৈরির প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
আলোচনা শেষে, আহসান এইচ মনসুর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড বাজারের উন্নয়নের জন্য একটি বিস্তৃত গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। খুব দ্রুত এই প্রতিবেদনটি সুপারিশসহ সরকারকে উপস্থাপন করা হবে। এই সুপারিশগুলো প্রাকৃতিক ও সুকুক উভয় বন্ডের উন্নয়নে বিস্তারিত নির্দেশনা দেবে, যেন দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত উন্নত ও গতিশীল হয়।
-

স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার, ভাঙলো সব রেকর্ড
বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার কারণে বাংলাদেশের বাজারেও নতুন একটি রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম নতুন দরে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রত্যেক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেকর্ড। এই নির্ধারিত দাম মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।
-

এক দিনের মধ্যেই স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটি প্রতিদিনের পরিবর্তনশীল বাজারের জন্য একটি বড় খবর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার রাত্রে একজন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম মূলত বেড়েছে, যা স্বর্ণের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নতুন এই দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়াবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পূর্বের প্রথামূলক মান) স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির সময় সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি স্বর্ণের মূল্যর সঙ্গে যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির পার্থক্য হতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল এবং ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এতে দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল যথাক্রমে ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা।
এছাড়া, এই বছর জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৫৭ বার, যেখানে ৪০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১৭ বার দাম কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম পরিবর্তন হয়েছে, এর মধ্যে ৩৫ বার বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।
এসবের পাশাপাশি, স্বর্ণের দাম বেড়ানোর সঙ্গে রুপার মূল্যেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
-

গণহত্যা ও ইনস্টিটিউশন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি দাবি বিএনপির
বিএনপি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আজ আবারও বলেছে, তারা কোনোরকম রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবং তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি কি বলবেন? দেশের সবচেয়ে পুরনো দল হওয়ার পরেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে। আওয়ামী লীগ সব চরিত্রকে ভুলিয়ে দিয়ে এখন এক ফ্যাসিস্ট দল হিসেবে পরিণত হয়েছে। এ জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের আস্থা কমে গেছে। যারা গণহত্যা, ইনস্টিটিউশন ধ্বংসের জন্য জড়িত, তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া দরকার।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগকে শাস্তি দেওয়া বা তাদের রাজনীতি বন্ধ করার ব্যাপারে বিএনপির স্পষ্ট অবস্থান আছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে চাই না। কিন্তু যদি সেই দল গণহত্যা বা দেশের প্রতিষ্ঠানধ্বংসের মতো অপরাধে জড়িয়ে যায়, তবে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দও এরকমই বলছেন। তবে নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি মনে করে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন সফল করতে সাধারণ মানুষকে তাদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে।
অন্যদিকে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন, ড. ইউনূস খুব দৃঢ়চিত্তে নির্বাচনে সহায়তা করছেন। যদিও বাংলাদেশে অবস্থা জটিল ও সব সময় অস্থির, এ কারণেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিভাজনের জন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ১৫ বছরের তরুণ রাজনৈতিক বিভাজন আজ দেশের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ এবং মিডিয়া মাঝে আস্থা কমে গেছে। এই অস্পষ্টতা দূর করার জন্য বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা জরুরি, যা বড় ও কঠিন কাজ।
ফখরুল আরও জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক মনোভাব ফিরিয়ে আনতে এখন আলোচনা চলছে। তিনি বলছেন, দল নিরাপদভাবে বৈঠক করতেস পারেন, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হতে পারে। তিনি বলেন, দল সব সময় বার্গেইন করে থাকে, এটাকে কেউ অপরাধ মনে করবেন না। সেটি দলটির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; অনেক বিষয় এখনও সমাধানযোগ্য।
শুধু তাই নয়, ড. ইউনূসের সাথে দেখা ও আলোচনা বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশে আসার আগে তার সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। তবে তিনি জানিয়েছেন, বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা ও নেত্রীর সাথে দেখা হয়েছে ও আলোচনা হয়েছে।
অবশেষে, জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সবসময় সম্পর্কের পরিবর্তন হয়। তবে তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে, তিনি জানান, সব আইনগত সমস্যা সমাধান হলে ও পরিস্থিতি উপযুক্ত মনে হলে, তখনই তিনি দেশে ফিরবেন। ততক্ষণে নিরাপত্তা সব সময় নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি মহাসচিব এই সফরসঙ্গী নেতাদেরও তথ্য দেন।
-

সরকার চাইলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব: মির্জা ফখরুল
দেশের সাধারণ মানুষ আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয়ে অনেকেরই শঙ্কা থাকলেও, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে সরকার যদি ইচ্ছে করে, তাহলে সেই সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য অবস্থান করছেন। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে সেখানে গিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে মাত্র তিন মাসের মধ্যে অনেক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো বড় অসুবিধা বা বাধা নেই। মূল বিষয়টি হলো, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যদি তারা চায়, তাহলে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরো যোগ করেন, প্রায় দুই দশক ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। বর্তমান সরকার পরিবর্তনের পরেও মানুষের মধ্যে আস্থা ভেঙে গেছে, যা পুনরুদ্ধার জরুরি।
বিএনপি মহাসচিব মনে করেন, এই আস্থাহীনতা কাটিয়ে ওঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, নির্বাচন হতদরকার, তবে এর জন্য জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক দল সন্দেহ প্রকাশ করলেও, মির্জা ফখরুল তা বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করেন না। তিনি বলেন, মানুষ এখন নির্বাচনের জন্য বেশ উদ্দীপ্ত। তাই সরকারের উচিত নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসable নির্বাচনের জন্য মনোযোগারোপ করা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তিনি আন্তরিকভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চান। এই বিষয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে জাতিসংঘ সফরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছে।
-

ক্ষমতায় এলে ভাঙাচোড়া শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার করবো: জামায়াতের আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশসেবা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তিনটি মূল অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, কর্মভিত্তিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা প্রদান। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে অনুষ্ঠিত ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি) এর বার্ষিক কাউন্সিলে অংশগ্রহণ করে তিনি এসব কথাবার্তা ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ক্ষমতায় এলে কাউকে রাস্তায় নামতে হবে না দাবি আদায়ের জন্য; বরং ইনসাফের ভিত্তিতে প্রত্যেকের পাওনা সরাসরি তার হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের মূল তিনটি অঙ্গীকার থাকবে — প্রথমে ভাঙাচোড়া শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন, এমন শিক্ষা দেওয়া যাতে অনৈতিকতা সৃষ্টি না হয় এবং মানুষকে দুর্নীতিপরায়ণ করে না। আমরা এমন শিক্ষা দেব যা মানুষকে মানুষ হিসেবেই গড়ে তোলে এবং সম্মান শেখায়।’
শিক্ষা খাতে তার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, নৈতিক ও প্রযুক্তিগত পাঠ্যক্রম সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা পাঠশেষে কাজ পায় বা নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এর ফলে বেকারত্ব কমবে।
দ্বিতীয় অঙ্গীকার হিসেবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র যাকে সম্মান দেবে, তা ডিগ্রি নয়, বরং কাজের মাধ্যমে। মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হবে কাজের মূল্য ও দক্ষতার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, ‘শুধু সার্টিফিকেট বা ডিগ্রির ভিত্তিতে কারো মর্যাদা নির্ধারণ হবে না; বরং প্রযুক্তি, দক্ষতা ও কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে।’
তৃতীয় অঙ্গীকার হিসেবে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দুর্নীতির জোয়ারকে রুখে দিতে হবে। সরকারি সেবার মান ও দায়বদ্ধতা অনুযায়ী যথাযথ বেতন কাঠামো প্রবর্তন করা হবে, যাতে সেবা ও দায়িত্বের ভারসম্য রক্ষণাবেক্ষণ হয় এবং দায়বদ্ধতা পুরস্কৃত হয়।’ এই বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দৃঢ়তা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং সামাজিক সমঝোতার প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশের মানুষের জীবনে সুশাসন, কর্মসংস্থান এবং ন্যায্য সুযোগের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
আয়োজকরা বলেন, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের অভিজ্ঞরা। আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত সদস্য ও অতিথিরা মতামত দেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
-

আদেশে সমাজে আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চান আমীর খসরু
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। আমাদের উচিত ধারনা ও দর্শন পরিবর্তন করে নতুন ধারণা ও ভিশন তুলে ধরা। তিনি জানান, বিএনপিকে একটি আদর্শিক দল হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত জিয়া সুইং মিনি কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এখনো নতুন প্রজন্মের প্রতি নেতৃত্ব ও দর্শন তুলে ধরা দরকার। জনগণের মনোজগতে পরিবর্তন আসছে, যা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। না করলে ভবিষ্যতে রাজনীতি চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
আমীর খসরু বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতির পাশাপাশি স্পোর্টসের গণতন্ত্রায়নের প্রয়োজন রয়েছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিক যেন স্পোর্টসের সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করতে স্পোর্টসকেও গণতন্ত্রায়ন করতে হবে।
তিনি এই উদ্যোগের বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন, একজন নেতা হিসেবে তারেক রহমানের স্পোর্টসের প্রতি আগ্রহ এবং পরিবারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে সবাই জানে। সাদামাটা শুরু হলেও আগামী দিনে ক্রিকেট, ফুটবল, সুইমিং সহ বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টসের জন্য নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই স্পোর্টস সেন্টারগুলো প্রত্যেক অঞ্চলে স্থাপন করা হবে, যেখানে নতুন প্রজন্ম তার আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
স্পোর্টস মানুষদের দেশপ্রেম ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের স্পোর্টসের মাধ্যমে নিজস্ব পরিচিতি ও সম্মান অর্জন করেছে। স্পোর্টসের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করে শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—এ বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে, তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের স্পোর্টসের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখা সম্ভব। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং স্পোর্টসের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।
-

মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতেই হবে নির্বাচন
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তুলে ধরেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে নিশ্চিত। তিনি জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা এবং সেনাবাহিনীও নির্বাচনের পক্ষে রয়েছে। তবে শত্রু চক্র দেশকে অস্থিতিশীল রাখতে চায়, যা সবাইকে মিলে মোকাবেলা করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ঠিকানা’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, অবশ্যই নির্বাচন হবে, তবে মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তবে এর মাধ্যমে দেশের জন্য নতুন আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ড. ইউনূস নিজেও নির্বাচনের পক্ষে আছেন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন সঙ্গে এক বৈঠকে নির্বাচনে সহযোগিতার দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন। আলাপের সময় তিনি মন্তব্য করেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও জানে যে আসন্ন নির্বাচন।
