Month: September 2025

  • নেতানিয়াহুর ভাষণে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি বিরোধিতা: ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সমান অভিযোগ

    নেতানিয়াহুর ভাষণে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি বিরোধিতা: ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সমান অভিযোগ

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্পর্কে কঠোর খবরদারি ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার মতো কাজে লিপ্ত হয়েছে। এই মন্তব্য তিনি শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে প্রকাশ করেন।

    নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার পরই বেশিরভাগ রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা দপ্তর থেকে বেরিয়ে যান, গ্রাম্য পরিবেশে তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ইসরায়েলের জন্য এক ভয়ংকর হুমকি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধমূলক এই সিদ্ধান্ত তার জন্য হয়তো ইহুদি সমাজের জন্য খারাপ দিক নির্দেশ করবে, কারণ এটি ইসরায়েলেকে একদিকে আত্মঘাতী পথে ঠেলে দিচ্ছে।

    নেতানিয়াহু ইউরোপীয় নেতাদের কঠোর আক্রমণ করে বলেন, মিডিয়া ও ইহুদিবিরোধী মবের মুখোমুখি হওয়ার সাহস এই নেতাদের নেই; বরং তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে হামাসকে পুরস্কৃত করছে এবং ইসরায়েলকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, আমরা কখনো এইভাবে মানব নই।

    গত সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক বৈশ্বিক সম্মেলনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ওই সম্মেলনে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল। এর ফলে ফরাসি, বেলজিয়ান ও জর্দানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বন্ধের দাবিও তোলেন বক্তারা।

    তবে নেতানিয়াহু এই ভাষণে পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের দখলদার কার্যক্রম নিয়ে কিছু বলেননি, বরং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি সরকারকে ‘প্রাচীন দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু তার রাজনীতি জীবনের শুরু থেকেই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করে আসছেন। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস অভিযান অব্যাহত থাকলেও তিনি সেই আচরণ বন্ধে কোন নির্দেশ দেননি।

    নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায়, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন সরকারের মুখপাত্র আদেল আতিয়েহ বিবৃতিতে বলেন, এই ভাষণ বিশ্বের পরাজিত এক মানুষের স্বীকারোক্তি ছাড়া কিছুই নয়।

  • ডেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: মেরুদণ্ডহীন মানবাধিকার কমিশন চাই না

    ডেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: মেরুদণ্ডহীন মানবাধিকার কমিশন চাই না

    বিগত সময়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নখদন্তহীন এবং দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমরা এমন মানবাধিকার কমিশন চাই না যা কার্যকরভাবে মানবাধিকার রক্ষা করতে সক্ষম নয় এবং যার কোনো মেরুদণ্ড নেই।

    আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ২০০৯ সালে ড. ফখরুউদ্দিনের সরকারের সময় মানবাধিকার কমিশনের আইনের খসড়া তৈরি হয়েছিল। এরপর নতুন সরকার সেই আইনের ভিত্তিতে কমিশন গঠন করে, এবং বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর কমিশন বাতিল হয়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে কার্যত অচল। অন্যদিকে, এই সময়ে সরকার আরও নানা কমিশন গঠন করেছে।

    তিনি বলেন, যদিও এই সময় মানবাধিকার বিষয়ক আইন প্রণয়নের চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি। বরং, এখনকার খসড়া আইনে নতুনত্বের অভাব রয়েছে, যা বাস্তবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, আমাদের প্রথম চাওয়া হলো, ক্ষমতা সম্পন্ন এবং দক্ষ মানবাধিকারের রক্ষাকারী একটি সক্ষম কমিশন তৈরি করা।

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, কমিশনের প্রধানকে একজন মেরুদণ্ডবক্ত ব্যক্তির ছেলে বা মেয়ে হিসেবে নয়, বরং একজন সাহসী, নীতিবান এবং সরকারের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম ব্যক্তির নিয়োগ দেয়া উচিত। তিনি বলেন, একজন মেরুদণ্ডহীন ব্যক্তি কখনো মানবাধিকার রক্ষা করতে পারবেন না, তাই আন্তরিকতা ও সাহস সম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বিগত সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার কর্মকা- যথাযথভাবে কাজ করেনি। তিনি বলেন, নতুন খসড়া আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দ্বৈত নাগরিকদের নিয়োগে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, এর কারণ জানি না, তবে এটি প্যারিস চুক্তির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

    ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ’ এর উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) দায়িত্ব, গঠন, স্বাধীনতা ও কার্যক্ষমতা বিশ্লেষণ করা। পাশাপাশি, খসড়া আইনকে আরও কার্যকর করার জন্য পরামর্শ দেয়া, যেন কমিশনের অনুসন্ধানী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ভুক্তভোগী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং সমন্বিত প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।

  • প্রকৃতি রক্ষা করলে বাংলাদেশ হবে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয়: পরিবেশ উপদেষ্টা

    প্রকৃতি রক্ষা করলে বাংলাদেশ হবে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয়: পরিবেশ উপদেষ্টা

    বিশ্ব পর্যটন দিবসের উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রকৃতি রক্ষা করলে বাংলাদেশ আরও বেশি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে। তিনি emphasized করেছেন যে পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘টেকসই উন্নয়নে পর্যটন’ থিমে নানা কর্মসূচি আয়োজন করে। এই কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‍্যালি, সাইকেল র‌্যালি, সিটি ট্যুর ও ফুড স্টল, যা আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সৈয়দা রিজওয়ানা এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, সরকার তরুণ সমাজকে প্রকৃতি ভিত্তিক পর্যটনের প্রতি উৎসাহী করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সিলেটের চা-বাগান, কক্সবাজারের সুন্দর সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও পাহাড়ি অঞ্চলের জলপ্রপাতগুলো অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এসব প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করলেই টেকসই পর্যটন নিশ্চিত হবে। সবাইকেই দায়িত্বশীল পর্যটন চর্চায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা।

  • তাপপ্রবাহে দগ্ধ দেশের ১৫ জেলা

    তাপপ্রবাহে দগ্ধ দেশের ১৫ জেলা

    দেশের বেশ কিছু অংশে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং গুটি গুটি করে পুড়ে যাচ্ছে ১৫টি জেলা। পাশাপাশি নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া এবং বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এটি রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক থেকে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে।

    শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করে আবহাওয়া অধিদফতর। এর মধ্যে মো. তারিফুল নেওয়াজ কবির জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য-বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে বর্তমানে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি আজ সকালের দিকে দক্ষিণ উড়িষ্যা ও উত্তর অষ্ট্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে। এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে, যেখানে স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সীমা পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উড়িষ্যা, স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্র ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত।

    বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কম থাকলেও মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগর। তিনি জানান, আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে। যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়া এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল থেকেই পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু অংশে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাত হতে পারে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানেও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে তাপপ্রবাহের ধকল কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

    অভিজ্ঞ আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর), ঢাকাসহ ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়া হতে পারে। এ সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও ঘটতে পারে। তাপমাত্রাও বেশিরভাগ স্থানে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    পরবর্তী দিনগুলোতেও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু অংশে এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলে আসার আশঙ্কা। মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, দেশের বিভিন্ন অংশে আবারো দমকা হাওয়া, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কিছু জায়গায় ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

    অক্টোবরের প্রথম দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে, এবং মাসের শেষের দিকেও বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই সময়ের ফারাক জানিয়ে বলা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের এই ধারা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

  • সাগরে নিম্নচাপের পূর্বাভাস ও বন্দরে সতর্কতা

    সাগরে নিম্নচাপের পূর্বাভাস ও বন্দরে সতর্কতা

    বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপূজার দিনগুলোতে আবহাওয়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়েছে এবং এর প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলে পড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে। এই কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দেশের সাত জেলায় মনোভাবাপন্ন তাপপ্রবাহ অনুভূত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, মহাষষ্ঠী থেকে দুর্গাপূজার ষষ্ঠী, সপ্তম ও অষ্টমী পর্যন্ত আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকতে পারে; তবে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা থাকায় কিছু কিছু স্থান আরো বৃষ্টি হতে পারে। আগামী রোববার থেকে শুরু হয়ে বিজয়া দশমী পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে আবহাওয়া বিভাগ। বিশেষ করে ২ ও ৩ অক্টোবর দেশের অনেক অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটের মত বিভাগগুলোতে বৃহস্পতিবারও ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে।

    বিশেষ করে শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে, এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে।

    আবহাওয়া বিভাগে জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পূ্র্ব উত্তর প্রদেশ থেকে বাংলাদেশ অতিক্রম করে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও বাংলাদেশের উপর মৌসুমি বায়ু ততটা সক্রিয় নয়, তবে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আজ শনিবার বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সাময়িক ভাবে কমতে পারে। রাজশাহী, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর ও সিলেট অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামীকাল রোববার দেশজুড়ে বিভিন্ন বিভাগে অল্প কিছু স্থানে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পরবর্তীতে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে, যা দেশের উপকূলে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অংশে এর প্রভাব খুব কমই থাকছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে খুলনার কয়রায়, ৫৩ মিলিমিটার। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ৩৬, খুলনায় ২৪ ও কুতুবদিয়ায় ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন ছিল বান্দরবান, ২৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু হাসপাতালে ভর্তি

    চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু হাসপাতালে ভর্তি

    দেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু চোখের সমস্যা নিয়ে রাজধানীর এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা গেছে, তার চোখের সফল অপারেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা এম এন ইস্পাহানি।

    রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। একজন পরিপূর্ণ সাদা মনের মানুষ। আল্লাহর রহমতে তাঁর চোখের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দোয়া করবেন।’

    ইস্পাহানি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। একজন পরিশুদ্ধ ও সৎ মানুষ। আপনার সুস্থতার জন্য আমরা সবাই দোয়া করছি।’

    অভিনেতা ও নির্মাতারা এই পোস্টে মন্তব্য করে দেলোয়ার ঝন্টুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তার জন্য দোয়া ও শুভকামনা প্রকাশ করেছেন।

    পোস্টে দেখা যায়, হাসপাতালে বিছানায় এক চোখে অপারেশন অবস্থায় শুয়ে আছেন দেলোয়ার ঝন্টু। তাঁর বয়স অাশ্রয় করে ৪০ বছরের বেশি দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত। শতাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণের এই গুণী মানুষটি তার ক্যারিয়ারে বহু সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

    তিনি প্রথম পরিচালনা করেন ‘লিডার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর নির্মাণ করেন ‘বন্দুক’, যা তার পরিচালনার জগতে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক। এর পাশাপাশি তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে, ‘শিমুল পারুল’, ‘প্রেমগীত’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ঝিনুকমালার প্রেম’, ‘বউমা’, ‘সকাল-সন্ধ্যা’, ‘পালকি’, ‘জজ ব্যারিস্টার’, ‘মুজাহিদ’, ও ‘হাতি আমার সাথী’ সহ আরও অনেক অসাধারণ ছবি। তাঁর কাজের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় নিজের আলাদা পরিচিতি ও স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

  • অভিনয়ের পর এবার গানও ছাড়ছেন তাহসান

    অভিনয়ের পর এবার গানও ছাড়ছেন তাহসান

    সংগীতজীবনের ২৫ বছর সম্পূর্ণ করলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান। তার এই বিশাল সংগীত Canvas পূরণে তিনি রজত জয়ন্তী উদযাপন করছেন। সেই উপলক্ষে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় একটি সংগীত সফরে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে প্রতিটি ধাপে তিনি দর্শকদের আনন্দ ও ভাবাবেগে মিশে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সফরে তিনি অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, সিডনি, মেলবোর্ন এবং পার্থে কনসার্ট ঘোষণা করেছেন। তবে মেলবোর্নের কনসার্টের আগে গানের আসরে এসে তিনি বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ঘোষণা দেন। তাহসান জানান, এটি তাঁর শেষ কনসার্ট কিংবা শেষ ট্যুর নয়, বরং ধীরে ধীরে সংগীতের ক্যারিয়ার থেকে বিদায় নিতে চান। এতদিন ধরে তার জন্য এই সিদ্ধান্তের খবর শুনে ভক্তরা বেশ মুষড়ে পড়েন, তবে তাহসান তাদের শান্ত করে বলেন, ‘এটি স্বাভাবিক।’ তিনি আরো মজা করে যোগ করেন, ‘কামিয়ে বড় হওয়া ডাড়ি নিয়ে স্টেজে লাফালে কি হয়!’ এরপর তিনি গভীরভাবে বলেন, ‘অভিনয় থেকে অনেক বছর হয়েছে বিরতি নিয়ে, এবার গান থেকে বিরতি নেওয়ার সময় হয়েছে। এই রাতটি আপনাদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে, হয়তো আর দেখা হবে না মেলবোর্নে, তবে আমি অবশ্যই আপনাদের ভালোবাসবো ও মনে রাখবো।’ তাহসানের এর পরিপ্রেক্ষিতে তার সঙ্গীত জীবনের দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলা তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে অলটারনেটিভ রক ব্যান্ড গঠন করে তার সংগীতজীবন শুরু করেন তিনি। তবে তিনি বেশি দিন ওই ব্যান্ডের সঙ্গে থাকেননি। ২০০৪ সালে ব্যান্ড থেকে বেরিয়ে একক ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেন। তার অ্যালবামগুলো যেমন ‘কথোপকথন’, ‘কৃতদাসের নির্বাণ’, ও ‘ইচ্ছে’ খুবই জনপ্রিয়। মোট সাতটি অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে তার। তার গাওয়া অসংখ্য হিট গান মধ্যে রয়েছে ‘আমার পৃথিবী’, ‘এখনো’, ‘ঈর্ষা’, ‘আলো’, ‘প্রেম তুমি’, ‘প্রেমাতাল’, ‘হঠাৎ এসেছিলে’, ও ‘কে তুমি’। পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েক বছর ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য সুফিজ’ ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য ব্যান্ড’-এর সঙ্গে পারফর্ম করেন। সংগীতের পাশাপাশি তিনি অভিনয় ক্ষেত্রেও জনপ্রিয়। নাটক, ওয়েব কনটেন্ট এবং সিনেমায় তার উপস্থিতি বেশ প্রশংসিত। তবে কিছু বছর ধরে তিনি অভিনয় থেকে দূরে থাকছেন। সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল গত বছর ‘বাজি’ ওয়েব সিরিজে। এই সিরিজের মাধ্যমে তিনি দুই বছরের বিরতির পর ফের চলচ্চিত্রে ফিরে আসেন। এছাড়াও তিনি ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের প্রথম সিজন উপস্থাপনা করেন। গত বছর তিনি কণ্ঠনালির সমস্যার কথা প্রকাশ করেন। জানায়, ছয় বছর ধরে তিনি কণ্ঠনালির জটিলতায় ভুগছেন। তার ভোকাল কর্ডে এক ধরনের রোগ ধরা পড়ে, যা মূলত ২০১৮ সালে শুরু হয়। এই সমস্যা থাকায় তিনি এখন আর আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে গান গাইতে পারেন না। তার ভয়, হয়তো আর গায়তে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এনেছেন। খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন করছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ধীরে ধীরে তার গানের ধারা কমে আসছে। ভক্তরা তার এই পরিস্থিতি বুঝে দোয়া ও সমর্থন করবেন, এটাই তার প্রত্যাশা। তিনি আশাবাদী, এই সমস্যার কারণে যদি কনসার্ট বা লাইভ পারফর্মেন্স কমে যায়, তবে তিনি তার ভক্তদের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞ থাকবেন ও চিরকাল মনে রাখবেন।

  • ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ালেন ভারতের অভিনেতা প্রকাশ রাজ

    ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ালেন ভারতের অভিনেতা প্রকাশ রাজ

    ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ ফিলিস্তিনে চলমান হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এই হত্যাযজ্ঞের জন্য ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেছেন। খবর অনুসারে, সম্প্রতি চেন্নাইয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়। এই প্রতিবাদে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বও যোগ দেন। অভিনেতা সত্যরাজ ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেত্রিমারনসহ অনেকে এতে সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলেন। প্রকাশ রাজ তাঁর ভাষণে বলেন, ‘যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধ কথা বলা রাজনীতি হয়, তবে হ্যাঁ, এটা সত্যিই রাজনীতি। আমরা আমাদের বক্তব্য রাখতে বাধ্য, অন্যথা থাকলে তারা বলে দেয়। যুদ্ধ শেষ হবে, নেতারা হাত মিলাবে, কিন্তু এর ফলে একজন মা তার সন্তানের জন্য অপেক্ষা করবে, একজন নারী তার স্বামীর জন্য, আর শিশুরা তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করবে। এটাই বাস্তবতা।’ তিনি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং মোদিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, ‘ফিলিস্তিনে চলমান এই অন্যায় ও অপরাধের জন্য শুধু ইসরায়েল নয়, আমেরিকাও দায়ী। এছাড়া নরেন্দ্র মোদির নীরবতাও এই ঘাটতিকে বাড়িয়ে দেয়।’ অভিনেতা সত্যরাজ গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞকে মানবতা বিপন্ন করার অপরাধ হিসেবে সমর্থন করেছেন এবং প্রশ্ন তোলেন, ‘কীভাবে গাজায় বোমা ফেলছে? মানবতা কোথায়? এত নৃশংসতা করার পরও কীভাবে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে?’ চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেত্রিমারন ফিলিস্তিনের এই আক্রমণকে পরিকল্পিত গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘গাজার বাসস্থান, স্কুল, হাসপাতাল—প্রতিটি জায়গাতে বোমা পড়ছে। এমনকি জলপাই গাছ পর্যন্ত ধ্বংস করা হচ্ছে, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এই প্রতিক্রিয়াগুলিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই ঘটনাগুলোর নিন্দা বিশ্বসমাজের জন্য অপরিহার্য।

  • বিতর্কের কারণে পুনম পাণ্ডেকে থেকে বাদ মন্দোদরীর চরিত্র

    বিতর্কের কারণে পুনম পাণ্ডেকে থেকে বাদ মন্দোদরীর চরিত্র

    ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বছরে রামলীলা উৎসবের অনুষ্ঠানে বড় একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মূলত ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিয়াগের কারণে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী পূনম পাণ্ডেকে মন্দোদরীর চরিত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বছর থেকেই এই সিদ্ধান্তের জন্য নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল, তবে সম্প্রতি তা চূড়ান্ত রূপ নেয়।

    প্রাথমিকভাবে, এই বছরের রামলীলা উদযাপনে পূনমের অভিনয় করার কথা ছিল রাবণের স্ত্রীর চরিত্রে। কিন্তু হঠাৎই বেশ কিছু গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করানো হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘একজন শিল্পীর পরিচয় তার কাজের মাধ্যমেই। অতীতের ঘটনাবলী বা ব্যক্তিগত জীবন দিয়ে কারো বিচার করা উচিত নয়। তবে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

    অন্যদিকে, আয়োজকদের আরও বলা হয়, ‘সমাজে প্রত্যেক নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের অপমান করা পুরোপুরি অনুচিত। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম, পূনম এই চরিত্রটি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। কিন্তু কিছু গোষ্ঠীর উষ্মাপ্রকাশের কারণে আমরা সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয়েছি।’

    অনেকের ধারণা, পূনম শিল্পীর হিসেবে যথেষ্ট সম্মান পাওয়া সত্ত্বেও, এই সিদ্ধান্তে কোনও অসুবিধা হয়নি। এবারের রামলীলা অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হ’ল রামচন্দ্রের জীবনী ও মৈত্রীর বার্তা সমাজে প্রচার। সেখানে কোনও বিতর্ক বা সমস্যা চান না আয়োজকরা। জানানো হয়, এই ‘লব কুশ রামলীলা’ প্রতি বছর দিল্লিতে ব্যাপক উৎসাহের সাথে উপভোগ করা হয় এবং এর আগেও বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে মূল চরিত্রে দেখা গেছে।

    দিল্লি বিজেপি দলের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি যেন ধর্মপ্রাণ দর্শকদের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে অবাধ ও আনন্দময় রামলীলা উৎসব পরিচালনা সফল করা যায়, সেটাই এখন মূল লক্ষ্য।

  • পরিচালকের তোপে সালমানকে ‘নোংরা বাবার নোংরা ছেলে’ বলে কটাক্ষ

    পরিচালকের তোপে সালমানকে ‘নোংরা বাবার নোংরা ছেলে’ বলে কটাক্ষ

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানের ওপর যেন একেবারে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ‘দাবাং’ খ্যাত নির্মাতা অভিনব কাশ্যপ। কিছু দিন আগে তিনি সালমান খান এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। এবারও তিনি এই বিষয়ে অপ্রতিরোধ্য কড়াকড়ি ভাষায় কথা বললেন।

    অভিনব কাশ্যপের দাবি, সালমানের বাবা সেলিম খানকে বলিউডের সেরা চিত্রনাট্যকার বলা যায় না। তার মতে, সেলিম খান নিজের প্রভাব খাটিয়ে বলিউডে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছেন, যা অপ্রত্যাশিত নয়।

    এরপরই তিনি সালমান খানকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘সালমান খানও তার বাবার মতোই প্রভাব খাটিয়ে টিকে আছেন। তাকে সত্যিই সুপারস্টার বলা যায় না। সালমান হল নোংরা বাবার নোংরা ছেলে; ফুটপথে বড় হয়েছেন, তাই এই ধরনের অশোভন রুচি!’

    অভিনব আরও জানান, সাইয়ারা সিনেমায় নবাগত অভিনেতা আহান পাণ্ডের অসাধারণ অভিনয় দেখে সালমানের হিংসা বোধ হয়।

    এই ক্ষোভের পেছনে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ও রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘দাবাং’ সিনেমার সিক্যুয়েল নির্মাণের সময় তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সম্প্রতি একটি প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেলের সিরিজ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা তিনি মনে করেন সালমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যuints পারে। এটাই তার মুখোমুখি ক্ষোভের মূল কারণ।