Month: August 2025

  • অতীতের শক্তিশালী ধাক্কা দিতে চলেছে কাজিকি ঘূর্ণিঝড়

    অতীতের শক্তিশালী ধাক্কা দিতে চলেছে কাজিকি ঘূর্ণিঝড়

    ভিয়েতনাম উপকূলে বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় কাজিকি ইতিমধ্যে আঘাত হানা শুরু করেছে। সোমবার বিকেল থেকে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে বিবিসির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৩৩ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা প্রবল বাতাসে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসের গতি এখনও বিপজ্জনক পর্যায়েই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ঝড়টি গত বছরের ভয়াবহ টাইফুন ইয়াগির মতোই শক্তিশালী হতে পারে। ইয়াগি ছিল গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী ঝড়, যার কারণে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ঝড়ের মোকাবিলায় প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে হা তিঙ্ঘ উপকূলীয় প্রদেশ থেকে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাংসহ বেশ কয়েকটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে ব্যাপক সুরক্ষার জন্য সর্তকতা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন ও নবীনবরণ

    খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন ও নবীনবরণ

    সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর গল­ামারীস্থ এম এ বারী রোডে হয় খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন এবং নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগতম। এ অনুষ্ঠানে আড়ম্বরপূর্ণ র‌্যালি, ফলক উন্মোচন, পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ওড়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ডেজিগনেট ও অনারারি) প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট ও কেকেবিএইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। বিশেষ অতিথির ভাষণে ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড সদস্য প্রফেসর ড. আবু তৈয়ুব আবু আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ ডা. এম এ জলিল। অনুষ্ঠান শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বক্তরা এই অনুষ্ঠানে আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা হযরত খান বাহাদুর আহছানউল্লা (রঃ) এর জীবন ও কর্মের আলোকপাত করেন। তিনি তার জীবন উজাড় করে সৃষ্টির ইবাদত ও সেবা কাজে নিবেদিত ছিলেন। ঢাকা আহছানিয়া মিশন তার দর্শন অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও সমাজসেবার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধারায় দক্ষিণবঙ্গের উচ্চশিক্ষার বিস্তারে খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এক সুদীর্ঘ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম আতিয়ার রহমান। এছাড়াও বক্তৃতা করেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. মোঃ মউন উদ্দিন ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন রথীন্দ্র নাথ মহালদার। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাদিয়া সুলতানা।

  • বটিয়াঘাটায় অবৈধ ইউরিয়া সার জব্দ ও তিনজন আটক

    বটিয়াঘাটায় অবৈধ ইউরিয়া সার জব্দ ও তিনজন আটক

    বটিয়াঘাটার কিসমত ফুলতলা স্লুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সরকারি ইউরিয়া সার বিক্রি ও পরিবহন সংক্রান্ত একটি চক্রের বিরুদ্ধে এক(Map) ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে তিনজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়, পাশাপাশি প্রায় ৫ থেকে ৬ টন ইউরিয়া সার এবং একটি মালবাহী ট্রলার জব্দ করা হয়। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বটিয়াঘাটা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও এসআই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি সঙ্গীয় ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হচ্ছেন পিরোজপুর জেলার কাউখালি উপজেলার বিজয়নগর এলাকার মৃত মোখলেস মোল্লার ছেলে কুদ্দুস মোল্লা (৬৫), বেকুটিয়া এলাকার আল আমিন হাওলাদারের ছেলে রাজু হাওলাদার (২২), এবং ছিপাড়া এলাকার মৃত সোবহান শেখের ছেলে আসলাম শেখ (২৯)। উদ্ধারকৃত সারগুলো বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়া চলমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই সারা কারবারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ না ঘটে।

  • সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল, দাম কমেছে কাঁচা মরিচের

    সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল, দাম কমেছে কাঁচা মরিচের

    সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি পেঁয়াজের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের বস্তা কাটা হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, আর মাটিতে ঢেলে বিক্রি হচ্ছে ৬৭ টাকা কেজিতে। লাল জাতের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। অন্যদিকে, ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ বস্তায় কাটা হচ্ছে ৬০ টাকা, আর মাটিতে ঢালে এর দাম ৬২ টাকা। খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজের দাম আরও একটু বেশি, ৫ থেকে ৭ টাকা কেজি। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যায়, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনো কমে যাওয়ার দিকে, কারণ সরবরাহ বেড়ে গেছে। বাজারের মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, সরকারের অনুমতি না থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে গুদামে পেঁয়াজ জমা রাখলেও, আমদানি বন্ধ থাকায় দাম অস্থির থাকেনি। কিন্তু এখন আমদানির পুনরায় শুরু হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ও চাষিরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে ভয় পেয়ে থাকেন, যার ফলে দাম এখনও স্বাভাবিক। ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে এটাই শেষ আমদানি ২৭ মার্চ, এরপর কয়েক মাসের জন্য বন্ধ ছিল। গত ১৭ আগস্ট আবার আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিনে সাতটি ট্রাকে ২০২ মেট্রিক টন, দ্বিতীয় দিনে ১৩ ট্রাকে আরও ৩১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আনা হয়। মোট এই পাঁচ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তবে সরকার ১৯ আগস্ট থেকে নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি বন্ধ করে দেওয়ায়, এখন কেউ নতুন করে আদানপ্রদান করছেন না, ফলে সরবরাহে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্যাংক ও বন্দরের সহযোগিতা থাকলে দ্রুত বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • লুটেরা আওয়ামী সরকার খুলনাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে

    লুটেরা আওয়ামী সরকার খুলনাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে

    মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে লুটেরা আওয়ামী সরকার দেশ শাসন করছে। তারা নানা ধরণের দুর্নীতি, দালালী ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খুলনা, একসময়কার শিল্পনগরী, আজ ক্রমশ মৃত নগরীতে পরিণত হয়ে গেছে। এখানে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, বেকারত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব বেড়েছে। পাটকলসহ বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার অনাহারি ও অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এ শহরের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তিনি জানান, খুলনা এখন আর কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর নয়, বরং জনশূন্যতা, অবহেলা ও অচলাবস্থা তার চিহ্ন। সরকারের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত, তারা কেউই এই দুর্দশার জন্য দায়বদ্ধ নয়। বরং ক্ষমতা ধরে রাখারিহতে দমন-পীড়ন চালানো, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর মামলা-হামলা ও দমননীতি চালানোর মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে। আওয়ামী লীগের লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে খুলনাবাসী এখন দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে আছেন।

    আলোচ্য অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খুলনার অর্থনীতি এখন আর গতিশীল নয়, বরং জনশূন্যতা ও অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের কষ্টের প্রতি সরকারের কোনো দায়িত্ব নেই। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতারা খোলা মাঠে শফিকুল আলম তুহিনের নেতৃত্বে ধানের শীষের প্রচার মিছিল বের করেছেন। এই মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তেঁতুলতলা মোড়ে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ। বক্তারা বলেন, একদিকে সরকারের অপাঙ্খিত কর্মকাণ্ডের আওতায় খুলনা ধ্বংসের পথে, অন্যদিকে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

  • নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

    নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

    নগরীর নুরনগর এলাকায় বাংলাদেশ বেতারের সামনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক দুর্ভাগ্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালক মনিরুল ইসলাম গাজী নিহত হয়েছেন। তিনি নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া মহিরবাড়ি ছোটখালপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং কুরমান আলীর ছেলে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই সময় একটি রিকশার সামনে একটি সিএনজি ট্রাক ঠেলে দেয়, যার ফলে রিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং চালকটি পড়ে যান। এর পর থেকে পেছন থেকে আসা সার বোঝাই ট্রাকটি তাদের উপর দিয়ে চলে যায়।

    উপ-পরিদর্শক আব্দুল হাই বলেন, ট্রাকটি প্রথমে ওই সিএনজির সামনে আচমকা ধাক্কা দেয়। এরপর চালকটি পড়ে গেলে, অন্য ট্রাকটি তাকে চাপা দেয়। অভিযুক্ত ট্রাকটি আটক করা হলেও, চালক দ্রুত পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক ফেরারি হয়ে যায়। পরে উদ্ধার করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়। पुलिस বর্তমানে ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে।

  • বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এই খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গভর্নর বলেন, বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • গভর্নর: ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্র

    গভর্নর: ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্র

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেনের ভিত্তি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রেক্ষাপটে পরিণত হবে যেখানে নগদে না যাওয়া লেনদেনই সাধারণ হবে।

    বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে একটি উন্নয়ন কৌশল বিষয়ক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন। গভর্নর উল্লেখ করেন, নগদ লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও কর ফাঁকি বেড়ে যায়, তাই এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি এটি সফল হয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও स्थায়ী হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি, নতুন ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন চালু করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যাতে সমাজের সব স্তরই এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।

    গভর্নর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ‘ন্যানো লোন’ এর প্রসার নিয়ে বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হজার মানুষ এই ধরনের ঋণ সুবিধা গ্রহণ করছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা।”

  • ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন

    ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্ধ করতে নয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যাতে আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। মূল কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, লুটপাট এবং অব্যবস্থাপনা জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ তারা উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধনের ঘাটতি নিয়ে আটকে আছে। তাদের লাইসেন্স বাতিলের এই প্রক্রিয়া আগামী দিনগুলোতে শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অর্থাৎ রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট, ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য কেন্দ্রের গవర্নরের সম্মতিতে পাঠানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া, পাশাপাশি তাদের চাকুরির বিষয়েও সকল সুবিধা নিশ্চিত করা।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    তিন বছর আগের তুলনায় দেশের দারিদ্র্য হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), যা জানিয়েছে, ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সম্প্রতি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান দারিদ্র্য, অতি দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব বিষদভাবে বিশ্লেষণ করেন।

    গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অতি দারিদ্র্যের হারও বাড়ছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে চলমান ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে এই গবেষণা চালানো হয়, যেখানে প্রায় ৩৩ হাজার ব্যক্তির জীবনমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই সংকটগুলোকে আরও জটিল করে তোলে। পিপিআরসি বলেছে, গত আগস্টের আগে মানুষের মধ্যে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা ৮.৫৪ শতাংশ হলেও সে হার এখন কমে ৩.၆৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, সবচেয়ে বেশি ঘুষের কার্যক্রম হচ্ছে সরকারি অফিসে, এরপর পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুসারে, শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় কমে যাচ্ছে, তবে খরচ বাড়ছে। শহরের গড় আয় এখন ৪০,৫৭৮ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারগুলোর গড় আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা। সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্তরে, গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২,৬১৫ টাকা, অর্থাৎ সামান্য সঞ্চয় বা অবশিষ্টাংশ থাকছে না।

    উল্লেখ্য, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থ খরচ হয় খাবার পূরণের জন্য। মাসে গড়ে এই পরিবারের খাবারে খরচ হয় ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা ও আবাসন খাতে ১,০৮৯ টাকা করে খরচ হয়।

    নেতৃত্ববলে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির দিকে তাকিয়ে না থেকে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিকের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বৃদ্ধি, নারী প্রধান পরিবারের দুর্বলতা, ঋণের বোঝা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং স্যানিটেশন সংকট।

    বিশেষ করে, দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি বিবেচনায়, বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন পরিকল্পনা ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি উচ্চারণ করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যেন দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবন মান উন্নত হয়।