Month: August 2025

  • চলতি বছরেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার গত বছরের সমান বা বেশি

    চলতি বছরেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার গত বছরের সমান বা বেশি

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা গত বছর যা ছিল, তার সঙ্গে তুলনা করে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সংখ্যাগুলি প্রায় সমান বা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে বেড়েছে। এর পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ, বাল্যবিবাহ এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনাও গত বছরের তুলনায় এখনই বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন: ২০২৪ সমীক্ষা’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সমীক্ষাটি ১৪টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে বয়সভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যেমন ১৮ বছরের কম বয়সী কন্যাশিশু ও ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারী। এই সমীক্ষায় ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ—এই আটটি অপরাধের বিষয়গুলো আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পরিসংখ্যানের হিসাবে দেখানো হয়েছে, ২০২৩ সালে মোট নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ২,০৯৩৭, ২০২৪ সালে তা কমে ২,৫২৫ হলেও চলতি বছর ছয় মাসে ঘটে গেছে ১,৫৫৫টি ঘটনা। কর্মসূচিতে সমীক্ষার বিশদ তথ্য তুলে ধরেন মহিলা পরিষদের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সাইবার অপরাধ ও গৃহকর্মী নির্যাতনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাকিগুলো বেড়েছে। বিশেষ করে কম বয়সী মেয়েশিশুরা বেশি ভুক্তভোগী ও অপরাধী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। সমীক্ষার তথ্যে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাই বেশির ভাগ অপরাধের মূল কারিগর। ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ২৫ বছর। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে এই সময়ের মধ্যে ৩৬৪জন ধর্ষণের শিকার, তার মধ্যে ২২০ জন কন্যা এবং ১৪৪ জন নারী। এছাড়া, ১৪৮ জনের উপর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪৯ জন কন্যা এবং ৯৯ জন নারী। ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছেন ১৩৪জন কন্যা এবং ৭৭জন নারী। যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন ২২৪ জনের মধ্যে ১২৫ জন কন্যা। বাল্যবিবাহের শিকার ২০ জন এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৬ জন নারী ও ২ কন্যা। গৃহকর্মী নির্যাতনের মধ্যে ১৬জন কন্যা ও ৮জন নারী এবং সাইবার অপরাধের শিকার ২৬জন কন্যা ও ৩জন নারী। ধর্ষণের অভিযুক্ত বেশির ভাগ ব্যক্তির বয়স ২১ থেকে ২৫ বছর, যেখানে ২৮ শতাংশ অভিযুক্তের বয়স ১১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এইভাবে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সের অভিযুক্তের সংখ্যা বেশি। সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে সূত্র জানায়, ২৪টি ঘটনার মধ্যে ১৪টি অভিযুক্তের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। শিক্ষক এবং বখাটেদের মধ্যে ২৪ শতাংশ নারী ও মেয়েশিশু উত্ত্যক্তের শিকার। দলের সঙ্গে অপরাধীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অজানা পরিচিত, যা ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ। স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে বেশি প্রকাশ পায়। অপরাধের পর মামলা করার প্রবণতা বেড়েছে, বিশেষ করে ধর্ষণের পর ৬২ শতাংশ ঘটনাতেই মামলা হয়। সামাজিক উদ্যোগও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে। তবে, মহিলাদের ও শিশুদের নির্যাতনের সব ঘটনাই গণমাধ্যমে আসে না, বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা বা কিছু নির্যাতনের খবর কম প্রকাশিত হয়। আইনগত পদক্ষেপ, মামলা নিষ্পত্তি ও ঘটনার অনুসরণ-up সংক্রান্ত তথ্যও খুব কম সময়ই পাওয়া যায়। মহিলা পরিষদের সভাপতির মতে, নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতনের অবস্থা ভয়াবহ হচ্ছে, এবং অপরাধীরা বারবার একই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য রাজনৈতিক ও ক্ষমতাসীন দলগুলোর নানা সহযোগিতাও দায়ী বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, দেশের নারীরা এখন আরও বেশি নিরাপত্তাহীন এবং এ পরিস্থিতি পুলিশ ও সমাজের সক্রিয় উদ্যোগ ছাড়া এই অবস্থা কঠিনেই রয়ে যাবে।

  • স্টেডিয়ামের অবস্থা দেখে চোখের জল ঝরল বিসিবি সভাপতি

    স্টেডিয়ামের অবস্থা দেখে চোখের জল ঝরল বিসিবি সভাপতি

    বিসিসি সভাপতি হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আইডিয়া’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

    নারায়ণগঞ্জে এসে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ফতুল্লা স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তার চোখে জল এল। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ আমাদের জন্য ছিল এক স্বপ্নের শহর। এখানকার ক্রিকেটের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আমি যখন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন এখানকার ক্রিকেটের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তখন এই এলাকায় বিভিন্ন লিগের আয়োজন হত। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ক্লাবে খেলোয়াড়রা নিয়মিত খেলতেন। এই শহরের ক্রীড়াবিদরা ঢাকায় গিয়ে প্রতিযোগিতা করে আসতেন।”

    বুলবুল আরও বললেন, “এখানে এসে আমি দেখে খুবই দুঃখ পেয়েছি যে, সেই ক্রিকেটের ঐতিহ্য বজায় থাকলেও এখন এই স্টেডিয়ামটি একপ্রকার পরিত্যক্ত। দেশের ক্রিকেটের জন্য এই মাঠের ব্যবহার এখন খুবই কম। এটি দেখে আমার মন কাঁদি।” তিনি উল্লেখ করেন, “ফতুল্লা স্টেডিয়ামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। আমি দেখতে পেলাম, এখানে মাত্র তিনটি উইকেট। আমাদের পরিকল্পনা, এই স্টেডিয়ামে অন্তত ২০টি উইকেট তৈরি করার। আগে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ক্রিকেট খেলা হলেও এখন সেটা পুরো বছর চলে। তাই এখানে কোচিং সুবিধা, খেলোয়াড়দের জায়গাসহ অন্য সুবিধাও বাড়ানোর চেষ্টা করব। আশা করি, এক বা দুই বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের এই স্টেডিয়ামের উন্নয়ন হবে, যাতে এখানকার খেলোয়াড়রা বাড়িতে থাকতেই প্রশিক্ষণ নিতে পারে। এর জন্য সব কিছুই আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। আমি চাই, যা বলি, তা বাস্তবায়ন করতে পারি। এর জন্য আপনাদের দোয়া প্রয়োজন। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমি আইসিসিতে থাকাকালীনও এই যাবতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছি।”

    বুলবুল আরও বলেন, “ক্রিকেট আমার জীবনের ছোট একটা অংশ। আমার সামনে আজ ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বসে আছেন। আমি জানি, এখান থেকে অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াজ উঠে আসবে, যারা হয়তো আগামী দিনের তামিম বা সাকিব হবে। আমি চাই, নারায়ণগঞ্জে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি হবে, যাতে ক্রিকেটাররা সবসময় খেলাধুলার মধ্যে থাকতে পারেন এবং ভবিষ্যতের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেন।”

  • বাংলাদেশকে ৩ গোলে হারালো নেপাল

    বাংলাদেশকে ৩ গোলে হারালো নেপাল

    সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয় আবারও প্রত্যাশিত হয়েছে। আগের ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ার পর, রোববার নেপালের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদশের মেয়েরা দুর্দান্ত খেলে ৩-০ গোলে জয় লাভ করে। এই ম্যাচটি ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখানো দেখে দর্শকরা অভিভূত হন। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দ্রুতই নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে দুই গোল করে এগিয়ে যায়। ৬ মিনিটে উম্মে কুলসুমের শট গোলরক্ষকের হাতে গেলে প্রথম সুযোগটি নষ্ট হয়। এরপর ৭ মিনিটে আলপি আক্তার কাজে লাগাতে পারেননি গোলমুখ থেকে, বল চলে গেছে ফাঁকায় থাকা প্রীতির কাছে, কিন্তু তার শট ছিল লক্ষ্যে অনুপস্থিত। ১৪ মিনিটে প্রীতির প্লেসিং শট গোলরক্ষক ব fist করেন। ২০ মিনিটে নেপালের ইয়াম কুমারীর চিপ শটটিও গোলের কাছ থেকে দূরে ছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পায় না দল। তবে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে, বেশ ফাঁকা পোস্টে সুযোগ থাকা সুরভী আকন্দ প্রীতি বাইরে শট নিয়ে হতাশ করেন। এর ছয় মিনিট পর, ম্যাচের ডেডলক ভাঙে বাংলাদেশের পক্ষে। মামনি চাকমা ডান দিক থেকে ক্রস করেন, যার মধ্যে দৃষ্টিনন্দনভাবে গোল করেন থুইনুই মারমা। ৪৫ মিনিটে, গোলরক্ষক পোস্ট ছেড়ে এসে ঠেকাতে পারেননি, ফলে বেঞ্চে থাকা প্রীতি সহজেই গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু সুযোগ মিস করলেও, যোগ করা সময়ে প্রীতির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। করছেনাৎ রিয়াই পোস্টে টেকনিক্যালি দুর্দান্ত একটা গোলে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ দল এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার প্রত্যয় প্রকাশ করেছে।”}]}“`

  • নতুন আইনে ফেঁসে গেল ড্রিম ১১, স্পন্সর হারালো বিসিসিআই

    নতুন আইনে ফেঁসে গেল ড্রিম ১১, স্পন্সর হারালো বিসিসিআই

    ভারতের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি গেমিং কোম্পানি ‘ড্রিম১১’ আজ, সোমবার (২৫ আগস্ট), তাদের স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী, অর্থভিত্তিক অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের টাইটেল স্পনসরশিপ এখন খালি, এবং বিসিসিআই নতুন স্পনসর পাওয়ার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে, চলমান এশিয়া কাপ শুরুর আগে নতুন স্পনসর নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ।

    রবিবার পিটিআই’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিত সাইকিয়া নিশ্চিত করেছেন, ড্রিম১১ আর ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘‘সরকারি নীতিমালা কঠোর হওয়ায়, ড্রিম১১ বা অন্য কোনো অনুরূপ গেমিং কোম্পানির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের এখন বিকল্প স্পনসর খুঁজতে হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; পেলে জানানো হবে।’’

    নতুন ওই আইনের মধ্যে, কেউ অনলাইনে টাকা দিয়ে গেম খেলতে উৎসাহিত করতে পারবে না এবং এই ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়াও নিষেধ। আইন ভেঙে থাকলে এক কোটি রুপি জরিমানা বা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

    প্রায় এক বছর বাকি থাকলেও, ড্রিম১১ গত বছর তিন বছরের জন্য ভারতীয় জাতীয় দলের (পুরুষ, নারী, অনূর্ধ্ব–১৯ ও অনূর্ধ্ব–২৩) টাইটেল স্পনসর হিসেবে চুক্তি করেছিল ৩৫৮ কোটি রূপিতে (প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার)। তারা এখনো চুক্তি অনুযায়ী এক বছর বাকি থাকলেও, জরিমানা কিংবা অন্যান্য শর্তের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।

    বিসিসিআইয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘এটি ড্রিম১১য়ের দোষ নয়। সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনো জরিমানা ধার্য করা হয়নি। তবে স্বল্পমেয়াদে আমাদের আয়ের ওপর প্রভাব পড়বে। আমাদের নতুন পরিকল্পনা করতে হবে।’’

    তিনি আরও জানান, এশিয়া কাপে ভারতের প্রথম ম্যাচের জন্য মাত্র ১৫ দিন বাকি, এই স্বল্প সময়ে নতুন স্পনসর খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ এই প্রক্রিয়া সময় নেয়, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিড আহ্বান, যাচাই-বাছাই, এবং শেষে বিজয়ী ঘোষণা করতে হয়।

    ড্রিম১১ এর সরে দাঁড়ানোর প্রভাব আইপিএলেও পড়তে পারে। অন্য এক ফ্যান্টাসি কোম্পানি ‘মাই১১সার্কেল’, যারা পাঁচ বছরের জন্য ৬২৫ কোটি রূপির চুক্তি করেছে, তারাও বড় ধাক্কা খেতে পারে। তবে বিসিসিআই মনে করছে, আইপিএলের জন্য এখনও যথেষ্ট সময় রয়েছে। প্রয়োজন হলে নতুন করে প্রক্রিয়া চালু করা যাবে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ মীর মুগ্ধ আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার পুনরায় চ্যাম্পিয়নত্ব

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ মীর মুগ্ধ আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার পুনরায় চ্যাম্পিয়নত্ব

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ মীর মুগ্ধ আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের বাংলা ডিপার্টমেন্ট। সোমবার বিকেল ৩:৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন চতুর্থ একাডেমিক ভবনের সামনে মাঠে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে তারা ৪-০ গোলে computer science and engineering (CSE) ডিপার্টমেন্টকে হারায়। দলের পক্ষে দু’টি করে গোল করেন আবির ও আশরাফ।

    রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের মধ্যে পারফরম্যান্সের জন্য বাংলা বিভাগের আবিরকে ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ ঘোষণা করা হয়, অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান সিএসই বিভাগ থেকে প্রান্ত মুখার্জি। পাশাপাশি যৌথভাবে শীর্ষ স্কোরার হন বাংলার আবির ও আশরাফ। সিএসইর আমান উল­াহ সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হন এবং প্রমিজিং প্লেয়ার হিসেবে বাংলার আশিকের নাম ঘোষণা করা হয়।

    ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, একাডেমিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই প্রাণবন্ত থাকে। শহিদ মীর মুগ্ধের নামে এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য সত্যিই গৌরবের বিষয়। তিনি চ্যাম্পিয়ন ও রেজাল্ট অপরাজিত দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানান এবং খেলাধুলার উন্নয়নে শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল ক্লাবের দক্ষ কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, যিনি বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহিদ মীর মুগ্ধের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই ধরনের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রেরণা হয়ে উঠবে।

    অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়কদের হাতে ট্রফি তুলে দেন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য। এসময় দুই দলের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পুরস্কার ও মেডেল বিতরণ করা হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অভিযোগ) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। টুর্নামেন্টের পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ নবীউল ইসলাম খান, যার স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মঈনুল হোসেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, বিভাগ প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিফা জানালো, ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে ক্লাব বিশ্বকাপ

    ফিফা জানালো, ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে ক্লাব বিশ্বকাপ

    ২০২৯ সালেই অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, এ সংক্রান্ত সূচি ও পরিকল্পনা অবশেষে নিশ্চিত করেছে ফিফা। এই খবরের আগে অনেকেরই ছিল অনিশ্চয়তা এই টুর্নামেন্ট কোথায় আয়োজন করা হবে।بعد مناقشায়, অবশেষে জানানো হয় যে, আসরটি গ্রীষ্মকালে অনুষ্ঠিত হবে। কাতার এই সময়সূচিতে আগ্রহী থাকলেও, শেষমেশ দেশের আয়োজক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ঝরে গেল। এর মূল কারণ হলো সময়সূচির সমস্যায়। ২০২২ বিশ্বকাপের মতো এই ক্লাব বিশ্বকাপ যদি কাতারে আয়োজন করা হয়, তাহলে গরম আবহাওয়ার কারণে টুর্নামেন্টটি শীতকালে স্থানান্তর করতে হত। কিন্তু শীতকালীন সময়ে আয়োজন করলে ইউরোপীয় লিগের সূচির সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জুন-July মাসের গ্রীষ্মকালের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে কাতারের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ফিফা ইতিমধ্যে মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলোকে নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই ৩২ দলের টুর্নামেন্টের পর ২০২৯ সালে দলসংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারেও আলোচনা চলছে। বড় ক্লাবগুলোর চাপের মধ্যেও, ফিফা সরাসরি ৪৮ দলের ফরম্যাটের পরিবর্তে ধাপে ধাপে দল সংখ্যার স¤প্রসারণের পরিকল্পনা নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্পেন এবং মরক্কো এই আয়োজনের মূল পাল্লায় এগিয়ে আছে। ২০৩০ বিশ্বকাপও এই দুই দেশ যৌথভাবে আয়োজন করবে। যদিও পর্তুগাল এই আসরে সহ-আয়োজক থাকলেও, ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ তেমন চোখে পড়ছে না। অন্যদিকে, খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফিফা নতুন কাঠামোও ভাবছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়, মূল টুর্নামেন্ট শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে একটি বাছাইপর্ব আয়োজন করা হবে। এতে জয়ী দলগুলো মূল আসরে অংশগ্রহণ করবে। এর আগের তালিকা তৈরিতে দেখা গিয়েছিল, শেষবার কনকাকাফের প্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ও ক্লাব আমেরিকার মধ্যে প্লে-অফ আয়োজন করতে হয়েছিল। ভবিষ্যতে এই ধরনের জটিলতা এড়ানোর জন্য ফিফা নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে।

  • সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

    সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে সম্প্রতি অভিযান চালানো হয়েছে তাদের আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে, ১৪ থেকে ২০ আগস্ট, বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে মোট ২২ হাজার ২২২ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানটি মূলত আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত হয়। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন তাদের আইন অনুযায়ী অসংগতির কারণে। আবাসন আইন লঙ্ঘনের জন্য ১৩ হাজার ৫৫১ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের দায়ে ৪ হাজার ৬৬৫ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য ৪ হাজার ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রেফতারকৃত প্রবাসীদের মধ্যে ২০ হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯২০ জনকে সৌদি আরব থেকে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৭৮৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়ান ও ইয়েমেনি নাগরিকের সংখ্যা বেশি। আবার, অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টায় আরও ৩৩ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এছাড়াও, অবৈধ প্রবেশ ও প্রবেশের চেষ্টাকারীদের পরিবহন ও আশ্রয় দেওয়ায় ১৮ জন ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রবাসীর বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া চলমান, যার সংখ্যা প্রায় ২৫,৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৩,৪১৯ জন এবং নারী ২,৫০২ জন।

    সৌদি আরবে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ বা অবস্থানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত এসব বিষয়ের ওপর সতর্কতা জারি করছে।

    প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাসের এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই শ্রমিক বা অন্য সম্প্রদায়ের সদস্য। বিশ্ববাখ্যাত এই দেশটি নিয়মিত আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছে।

  • চীনকে পর্যাপ্ত চুম্বক সরবরাহের কথা না মানলে ২০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    চীনকে পর্যাপ্ত চুম্বক সরবরাহের কথা না মানলে ২০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনকে পর্যাপ্ত পরিমাণে চুম্বক ও অন্যান্য দুর্লভ খনিজ সরবরাহ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে বা অন্য কোনো কড়া পদক্ষেপ নেবে। এই মন্তব্য তিনি সোমবার (২৫ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দেন, খবর রয়টার্সের ভিত্তিতে।

    ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, চীন যদি আমাদের প্রচুর চুম্বক না দেয়, তাহলে আমাদের তাদের ওপর কঠোর শুল্ক চাপাতে হবে। এই হুঁশিয়ারি বিশেষ করে তখন এসেছে, যখন বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করছে। এপ্রিলে চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের একাধিক পণ্য রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর পাল্টা জবাব।

    অন্যদিকে, আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীন দুর্লভ খনিজের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীন রফতানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, যা বিশ্ব বাজারে চুম্বকের সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। এই উপাদানগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য, যেমন সেমিকন্ডাক্টর চিপে, ব্যবহৃত হয় এবং স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে অপরিহার্য।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ইন্টেল কর্পোরেশন তাদের শেয়ার ১০ শতাংশ কিনেছে, যা এই কোম্পানির অর্ধেকেরও বেশি নির্ভরশীল দুর্লভ খনিজের ওপর। এর ফলে, এই বিষয়ে জোড়ালো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    অন্যদিকে, চীনের বিরল খনিজের রফতানি জোরালোভাবে বাড়ছে, যা চীনা কাস্টমসের তথ্য থেকে জানা গেছে। জুলাই মাসে এই খনিজের রপ্তানি জুনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৪,৭০০ টনের বেশি হয়েছে।

    বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই চলমান শুল্ক বিরোধ মোকাবেলা করতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপগুলো আরো জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। চলতি মাসের শুরুশতেই উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা সমঝোতার আভাস থাকলেও, ট্রাম্পের নতুন হুমকি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে।

    সম্প্রতি, ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে চীনা পণ্যের উপর শুল্কের সময়সীমা ৯০ দিন বাড়িয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা আলোচনার জন্য আরও সময় পাবে। যদি এই সময়সীমা না বাড়ানো হতো, তাহলে শুল্কের হার ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারত।

    এর আগে, মে মাসে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যেখানে শুল্ক হার ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হয়েছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের ওপর ৩০ শতাংশ আঘাত হানা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল। এখন পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠছে, কারণ এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে।

  • গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৬২ হাজার ৭০০

    গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৬২ হাজার ৭০০

    রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর গোলাবর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৮৬ জন নিহত হয়েছেন, আর আহত হয়েছেন আরও ৪৯২ জন। এ তথ্য সোমবার সন্ধ্যার পর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতি জানিয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, আর বাকিরা খাদ্য সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে মারা গেছেন। মন্ত্রণালয় বলছে, সোমবারের এই ঘটনায় গাজার হাসপাতালগুলোতে ৮৬ মরদেহ আনা হয়েছে এবং আহত ৪৯২ জনকে চিকিৎসায় পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যক্তিপ্রচেষ্টার অভাবে তাদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযান চলাকালে গাজায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬২,৭৪৪ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক।

    উল্লেখ্য, গাজার উপত্যকায় বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনারা। এর পর থেকে চলছে ব্যাপক সংঘর্ষ, এ ঘটনায় গত পাঁচ মাসে মৃতের সংখ্যা ১০,৯০০ এবং আহত হয়েছেন ৪৬,২১৮ জন।

    আগের মাসে গাজায় ত্রাণ ও খাদ্য সংগ্রহে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে প্রথম গাজায় ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যাওয়ার সময় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে, যা এখনো নিয়মিত ঘটছে। এ পর্যন্ত এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ২,১২৩ এবং আহত হয়েছেন ১৫,৬১৫ জন।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাসের সৈন্যরা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি হামলা চালায়। গুলির মাধ্যমে তারা এক হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৫১ জনের অধিককে জিম্মি করে নেয়। এর জবাবে ১৫ মাস ধরে গাজায় ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় উদ্যোগের চাপের কারণে ২০২৪ এর জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, হামাসের জিম্মি ও সংগঠনকে দুর্বল করতেই অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

    জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার ইসরায়েলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, অপরদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসকে দুর্বল ও জিম্মিদের মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যতক্ষণ না লক্ষ্য অর্জিত হয়, অভিযান চালানো চলবে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০০ জনের বেশি, অন্যান্য সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ

    গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০০ জনের বেশি, অন্যান্য সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ

    ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের আল-নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচজন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, যারা মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের মধ্যে রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আল জাজিরা এবং মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে—প্রথম আঘাতের পর যখন উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন, ঠিক তখনই আবার নতুন করে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে শুধু সাংবাদিকরাই নয়, আরও চারজন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানম ঘেব্রেইসাস নিশ্চিত করেছেন।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এটি এক “দুর্ভাগ্যজনক ভুল” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

    এই ঘটনার পর থেকে চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা এখন প্রায় ২০০। আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) জানিয়েছে, গাজার এই পরিস্থিতি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের একটি হিসেবে পরিণত হয়েছে, যেখানে গত দুই বছরে আরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য গাজায় প্রবেশের উপর কঠোর restriction আরোপ করেছে, ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকরাই পরিবেশন করে থাকেন।

    বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড শুধু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চিকিৎসাকর্মী এবং সাংবাদিকরা সংঘাতের মাঝেও কতটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।” তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি করেন।

    জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, “আরও সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে সেই শেষ কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যারা দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়া শিশুদের খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল।” ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এই হামলায় গভীর মর্মাহত বলে জানান। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোও বলেন, এই ঘটনা “অসহনীয়”।

    এদিকে, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হন, তাঁদের মধ্যে চারজন আল জাজিরার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫৮ জনের মরদেহ গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অসংখ্য মরদেহ আটকা পড়েছে বলে জানানো হয়। নিহতের মধ্যে ২৮ জন খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গেলে হামলার শিকার হন।

    অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, যাতে রয়েছে দুই শিশু। এভাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০০-এ, যাদের মধ্যে ১১৭ জনই শিশু। এর পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২,৭৪৪ জন, যা আন্তর্জাতিক মহলের বিশ্বাস অনুযায়ী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য।