Month: August 2025

  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের সুযোগ থাকবেনা: রিজভী

    পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের সুযোগ থাকবেনা: রিজভী

    বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের হাতে প্রার্থী বাছাইয়ের কোনও সুযোগ থাকবে না। ভোট দিতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীককে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পিআর পদ্ধতি চালু হলে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ এখনও এই পদ্ধতির বিষয়ে সচেতন নয়, কারণ পূর্বে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কখনো এই পদ্ধতির ব্যবহার দেখেনি দেশবাসী। হঠাৎ করেই কিছু রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির কথা বলছে। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাড়ে জেলা বিএনপির সদস্য নবায়ণ ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী অভিযোগ করেন, কিছু দল পিআর এবং নির্বাচনে সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাইছে, যা বিএনপি বোঝে। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষিত, শ্রমিক ও ভদ্র সমাজের মানুষই বিএনপির সদস্য হবে। তবে যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে দলের সদস্য হতে চাইবে না। যারা গণতন্ত্রকে কণ্ঠরোদের মাধ্যমে দমন করে রেখেছিল, তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। আসল সদস্য হবে সমাজের গুণীজন এবং দেশপ্রেমিকরা। রিজভী উল্লেখ করেন, এ দেশটি কড়া ত্যাগের বিনিময়ে ৩০ লাখ মা-বোনের আবেগের সঙ্গে অর্জিত। তিনি বলেন, সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সেই হিংস্রতা বাংলাদেশের ওপর চালিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের মানুষ তাকে পরাজিত করে নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’s অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন দলের টিম লিডার আহসান উদ্দিন খান শিপন প্রমুখ। পরে তিনি নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির জন্য ফর্ম বিতরণ করেন। পাশাপাশি, এই কর্মসূচির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিলসহ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে।

  • ধর্ষণের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর কারাগারে

    ধর্ষণের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর কারাগারে

    ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিজনক সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর রহমান (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আদালত আজ এই কনস্টেবলের কারাগারে পাঠের আদেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আগামী রোববার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এটি নিশ্চিত করেছেন।

    ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ অগাস্ট রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে, যখন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার নারী ব্যারাকের ভিতরে অন্য একজন সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের আড়ালে ভিকটিম নারীর শয়ন ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে সাফিউর। অভিযোগ অনুযায়ী, সাফিউর তেরদিন আগে বিবাহের প্রলোভনে ওই নারীকে সাময়িকভাবে ঐছা করেন। এর আগে পেছের ৫ মাসে, সপ্তাহে দুইবার করে, ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সেই সময়ের ঘটনাগুলোর ভিডিও চিত্র আইফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করেন।

    গত ২২ আগস্ট এই ঘটনার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার বিবরণে দেখা যায়, সাফিউর তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন, তারপর বিভিন্ন সময় নিরိত্তে তাকে ধর্ষণ করেন। স্পষ্টত তারা প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে থাকলেও, ভিকটিমের সন্দেহ ছিল যে, তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

    আদালত বলেছেন, এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত তদন্তের জন্য রিমান্ড অনুমোদন করবেন। তবে এই মুহূর্তে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায়, রিমান্ডের শুনানির জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি গোপনীয়তা ও সততার সাথে তদন্তাধীন রয়েছে, যাতে আসল ঘটনার প্রকৃতি ও দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।

  • বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি ও চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি ও চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শেষে এসব চুক্তি ও স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার মধ্যে।

    বৈঠকের আগে সকালে অনুষ্ঠিত হয় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যেখানে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বে ছিলেন ইসহাক দার। এই বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসা বিলোপ চুক্তি, যা সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে রয়েছে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাগুলোর (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, পাশাপাশি বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইস্লামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা।

    দুই দেশের কর্মকর্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন। সকাল ১০টায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ইসহাক দার তাঁর দলের নেতৃত্বে থাকলেও, ঢাকায় বেশ কিছু সরকারি ও ব্যক্তিগত সফর করেন। তিনি বাংলাদেশে মোটরশিল্প, বিনিয়োগ ও সম্পর্ক জোরদার সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের সফরকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়, যেখানে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    সন্ধ্যায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদের জন্যে বিশেষ একটি সৌজন্যভোজে অংশ নেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাকিস্তানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা শুধু সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনায় থাকেননি, বরং তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় গোপন সাক্ষাতের পরিকল্পনাও করেছেন।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এদিকে, ইসহাক দার গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ঢাকায় আসেন প্রথমবারের মতো। এর আগে, জুলাইয়ে ঢাকায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী এবং গত বুধবার পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ঢাকা সফরে আসেন। এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    সংক্ষেপে, এই সফর ও স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি দুজন দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

  • পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বললেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যু দুইবার সমাধান হয়েছে

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বললেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যু দুইবার সমাধান হয়েছে

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু দুটি পৃথক সময়ে সমাধান হয়েছিল। রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

    সাংবাদিকেরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ অমীমাংসিত কতিপয় ইস্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে, ইসহাক দার বললেন, ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মুশাররফের সফরের মাধ্যমে এই বিষয়ে কিছুটা দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি সমাধান হয়েছিল। তিনি আরও বললেন, আপনারা আপনার হৃদয় পরিষ্কার করুন। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

    তথ্য অনুযায়ী, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এক চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
    – দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা মওকুফের চুক্তি;
    – দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন;
    – দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা;
    – দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা;
    – বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদ (আইএসএসআই) এর মধ্যে সহযোগিতা।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় পৌছেছেন। এটি এক যুগের মধ্যে পাকিস্তানের প্রথম কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর। সফরের প্রথম দিনই তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    অতীতে, ২৭ এপ্রিল ইসহাক দার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও, ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে তার সফর স্থগিত হয়।

  • সীমানা নির্ধারণে বিশ্লেষণী ও নিরপেক্ষ কাজের চেষ্টা করি: সিইসি

    সীমানা নির্ধারণে বিশ্লেষণী ও নিরপেক্ষ কাজের চেষ্টা করি: সিইসি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় পেশাদারিত্বমুখর, নিরপেক্ষ ও জনপ্রতিনিধি-উপযোগী প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১২টায় নির্বাচন ভবনে এ শুনানির সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

    সিইসি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করা। আইন অনুযায়ী, নতুন খসড়া সীমানা নিয়ে যে কোনও দাবি বা আপত্তি উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এই দাবিগুলো আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। আজকের শুনানিতে আপনাদের যৌক্তিক যুক্তি ও মতামত উপস্থাপন করতে হবে।

    প্রথম দিনে কুমিল্লা অঞ্চলের মোট ১৮টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে জমা পড়া দাবিগুলো নিয়ে এই শুনানি চলবে। এর আগে নির্বাচন কমিশন ৩০ জুলাই দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করে। এই প্রক্রিয়ায় ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গাজীপুর জেলাকে একটি নতুন আসন দেওয়া হয় এবং বাগেরহাটের আসন সংখ্যা কমিয়ে তিনটি করা হয়।

    এর মধ্যে রোববার সকাল থেকে শুরু হয়ে এ দিন বিকেল পর্যন্ত কুমিল্লা অঞ্চলের দাবিগুলো নিয়ে আলাপচারিতা অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের সচিব জানিয়েছেন, এ দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ৩ ও ৫ আসনের দাবিগুলো সকাল ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে; কুমিল্লা-৬, ৯, ১০ ও ১১ আসনের দাবিগুলো আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে; আর নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চাঁদপুর-২ ও ৩, ফেনী-৩ ও লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩ আসনের দাবিগুলো বিকেল ৩:৩০ থেকে ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে।

    এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের নিয়ম মেনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রক্রিয়ার শেষে চার দিন ধরে চলতে থাকা এই শুনানি শেষ হলে, ২৭ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত সীমানা ঘোষণা করবে ইসি। এরপরই ৩০০ আসনের সংসদীয় সীমানার গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকতর সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য কার্যকর এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

  • আনসার মোতায়েন থাকবে ৬ লাখের বেশি ভোটকেন্দ্রে: মহাপরিচালক

    আনসার মোতায়েন থাকবে ৬ লাখের বেশি ভোটকেন্দ্রে: মহাপরিচালক

    আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশের ভোটকেন্দ্রে সাড়ে 6 লাখের বেশি আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ জন্য নতুন করে এক লাখ 80 হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের আনসার একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

    মহাপরিচালক আরও জানান, নির্বাচনের সময় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। যদি কোনও নাশকতার চেষ্টা করা হয়, তাহলে দ্রুত कार्यवाही করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আনসার বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রতিটি সদস্যের উন্নত প্রশিক্ষণ জরুরি। যারা প্রশিক্ষণে টিকে থাকছেন, তারা বোঝানো হয় যে, তারাই ভবিষ্যতে আনসার বাহিনীতে সেবাকাজে অংশ নেবেন।

    এ সময় আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিদা মাহমুদ, উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ রফিকুল ইসলাম, একাডেমি কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ নুরুল আবছার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    সূত্র থেকে জানা যায়, গত 10 আগস্ট থেকে 23 আগস্ট পর্যন্ত আনসার, এপিসি ও পিসি সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ চলেছে। এতে মোট 1,160 জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে 1,151 জন পুরুষ এবং 9 জন নারী। এর মধ্যে 1,136 জন সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং 24 জন অকৃতকার্য হন। প্রশিক্ষণে মৌলিক শরীরচর্চা, সাধারণ ও অস্ত্রের ড্রিল, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো শেখানো হয়।

  • উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’র প্যানেল ঘোষণা

    উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’র প্যানেল ঘোষণা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে উমামা ফাতেমা ও আল সাদী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নতুন স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন উমামা ফাতেমা।

    এই প্যানেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে থাকছেন আল সাদী ভূঁইয়া, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জাহেদ আহমদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্র ও পাঠচক্র ‘গুরুবার আড্ডা’ সংগঠক।

    অন্য পদে মনোনীতরা হচ্ছেন মুমিনুল ইসলাম (বিধান) — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, নাফিজ বাশার আলিফ — আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সুর্মী চাকমা — কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক, অনিদ হাসান — সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, সিয়াম ফেরদৌস ইমন — গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক, মো. সাদিকুজ্জামান সরকার — ক্রীড়া সম্পাদক, মো. রাফিজ খান — ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, তানভীর সামাদ — সমাজসেবা সম্পাদক, রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা — ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক, ইসরাত জাহান নিঝুম — স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক এবং নুসরাত জাহান নিসু — মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক।

    সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুলাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজিব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানি।

    উমামা ফাতেমা এই প্যানেল ঘোষণা করেন। এই প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন কলেজের পাঁচজন শিক্ষার্থী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছয়জন নারী এবং দু’জন আদিবাসী ছাত্র।

    উমামা ফাতেমা বলেন, অনেক পথ পেরিয়ে আজ আমি এই প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। ক্যাম্পাসে আমি ৭-৮ বছর ধরে রয়েছি। জীবনের প্রথম বর্ষে যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি, তখনই আমার ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়। তখন কবি সুফিয়া কামাল হলে পাঠচক্র পদে নির্বাচন করে আমি হেরে গিয়েছিলাম, কিন্তু ওই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এরপর আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সংগ্রাম চালিয়ে গেছি, কীভাবে ক্যাম্পাসকে আরও নিরাপদ এবং বন্ধুসুলভ করা যায়। আমি আমাদের গণরুম ও গেস্টরুমের অধিকার রক্ষা করতে সংগ্রাম করেছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের কথা এবং মতামত সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া। এই প্যানেল তাদের ভয়েস হয়ে কথা বলার জন্য এসেছে।

  • জামায়াতের ঘোষণা: নির্বাচন নিশ্চিত করতে এনসিওর দাবি

    জামায়াতের ঘোষণা: নির্বাচন নিশ্চিত করতে এনসিওর দাবি

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো নির্বাচনকে সময়োপযোগী ও সুষ্ঠু করার জন্য এনসিওর করা। এই কথা সোমবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। জামায়াতের এ নেতার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে তারা সব বক্তব্য সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য ইসিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে চাইলে সন্ত্রাস এবং অনিয়ম বন্ধ করতে হবে এবং ভোটের জন্য পিআর পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। সবাই সব দাবি না রাখতে পারে, তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে পিআর পদ্ধতিই জাতির জন্য উপকারী বলে তিনি মনে করেন। জেলেদের সমর্থনে তিনি বলেন, জনগণ যদি এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়, তাহলে এটি দেশের জন্য কল্যাণকর। তিনি উল্লেখ করেছেন, জামায়াত মাঠে থাকবে এই দাবি নিয়ে, পাশাপাশি নিজেদের নির্বাচনী প্রস্তুতিও সম্পন্ন করবে। প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেছি।’ পিআর (সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি) ছাড়া জামায়াত কি নির্বাচন করবে- এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি, তবে জানান, নির্বাচনের ব্যাপারে তারা সবসময়ই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত, আমরা ফেয়ার ইলেকশনের জন্য সচেতন। এই পদ্ধতিও আমরা মনে করি দেশের জন্য খুবই উপকারী। এটি ভোটার মূল্যায়নে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা বাড়াবে।’ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, তারা বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই মতো, তারা তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং মাঠে-ময়দানে জনমত গড়ে তুলছে। এর আগে, রোববার (২০ আগস্ট) জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ইসির সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।

  • নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি এখনও উপযোগী নয়: তারেক রহমান

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি এখনও উপযোগী নয়: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এখনও উপযুক্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনে এই পদ্ধতি নিয়ে বহু মতবাদ এবং বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের একটি জটিল আর্থ-সামাজিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি নির্বাচন করার উপযোগিতা নেই। মানুষের অন্যতম অধিকার হলো নিজ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করে সংসদে পাঠানোর বিষয়টি জানা। কিন্তু প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে এতে সরাসরি স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা অনেকটাই অনুপস্থিত।

    তিনি মন্তব্য করেন, আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল জন্মাষ্টমী উপলক্ষে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে জাতীয় সংসদ বা সরকারে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জনগণের কাছে গিয়ে তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন আদায় করতে হয়। পিআর পদ্ধতি এবং কিছু অন্যান্য ইস্যুতে বিরোধী মতের জন্যতা থাকলেও এই ধরণের ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলছিলেন, যেসব ব্যক্তির ক্ষমতায় আসার প্রবণতা রয়েছে কিংবা এবারের নির্বাচনের পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তারা গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদি এই জটিলতা আরও বাড়ে, তাহলে স্বৈরাচার ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্রের পথে হাঁটছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সম্ভবত ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নানা ধরনের মন্তব্য ও শর্ত দেয়া বরাবরের মতো ভোটের পরিবেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    বিএনপির এই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে জনগণ নিজেদের পছন্দের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। এরই প্রতিরোধে কিছু স্বৈরাচারী গোষ্ঠী বিভিন্ন শর্ত আরোপের মাধ্যমে ভোটের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনীতি যেন রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা হয়, জনগণের ওপর আস্থা রাখতেই হবে। বিএনপি যদি জনগণের রায় পায়, তবে তা রুখে দেয়ার ক্ষতিকর চেষ্টা না করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকলেও সেই বিরোধ কখনো পরস্পরের অপকর্ম আড়াল করার জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। সব বিষয়েই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, বিশেষ করে স্বৈরাচারী শক্তি পুনর্বাসন ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়।

    অর্থাৎ, তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সকলের জন্য সমান অধিকারের স্থান, সেখানে কে কি দেশের নাগরিক, ধর্ম বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই সমান। দেশের সবাই আইন অনুযায়ী সকল হক ভোগ করবেন, এটাই বিএনপির মূল নীতি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন দলের অন্য নেতারা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা। অতিথিরা সকলেই দেশের স্বার্থে ঐকমত্য ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

  • শেখ হাছিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাছিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনা বর্বরোচিত হত্যা ও গুমের জন্য দায়ী। তাঁর শাস্তি তিনি অবশ্যই এই দেশের মাটিতেই পেতে হবে। তিনি বলেন, এই অপরাধের বিচারের জন্য সকল দেশের নাগরিকের মতই তার জন্যও দীর্ঘদিন অপ্রত্যাশিত অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

    শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুমের রহস্য উন্মোচন ও গণশুনানির জন্য গুম কমিশনকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের কান্না বন্ধে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাপারে অবশ্যই জনতার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

    তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিতা ও নিপীড়িত মানুষের পাশে আছি। আমাদের নেতারা বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় বছরখানেক কারাগারে ছিলেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ বাধ্য হন নির্বাসনে যেতে। এমনকি নেতৃত্বের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা বা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ফলে মনে করা ভুল হবে যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব অন্ধকার ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বিএনপি চায় নির্বাচন হবে, এবং সেই মাধ্যমে এসব বিচার সমাপ্ত হবে বলে প্রত্যাশা করে।

    মির্জা ফখরুল বল_CLICKেস, আমাদের অন্যতম দাবি ছিল— গুম ও হত্যার সুবিচার। তিনি অঙ্গীকার করেন, গুম হওয়া শিশুসহ সব ভুক্তভোগীর পাশে থাকবেন এবং যতক্ষণ না ন্যায়বিচার হয়, ততক্ষণ সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, গুমের শিকার প্রত্যেকের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তিনি আশ্বস্ত করেন, পরিবারগুলো নিরাশ হবেন না। জনগণের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি— এর প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে যারা পিতা, ভাই বা সন্তান হারিয়েছেন, তারা নিশ্চিত ন্যায়বিচার পাবেন। এই আন্দোলন সত্যিই মর্মস্পর্শী এবং দেশের নির্যাতিত পরিবারগুলোকে একটি আশার আলো দেখিয়েছে।