Month: August 2025

  • বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হলো। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

    গভর্নর জানান, তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল বা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এছাড়া, একইদিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে শাহীনুল ইসলামকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর দাবি জানান। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাংক ও জাতীয় আর্থিক খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বিএফআইইউর এই প্রধানের আলোচিত ভিডিওগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তদন্ত চালু হয়। মঙ্গলবার গভর্নরের কাছে এই বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

    এ ঘটনার সময়টিতে উঠে এল আরও এক বড় নাটক — সম্প্রতি এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদনের ঘটনা। এর কারণে শাহীনুল ইসলাম ব্যাপক সমালোচনায় পড়েছেন। গত বছর নভেম্বরে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০টি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছিল বিএফআইইউ। তবে এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি হিসাব পুনরায় ফ্রিজ না করে ওই ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে আসে।

    দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রত্যক্ষভাবে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। এ বিষয়ে আদালত ২৭ মে সেই ১২০ কোটি টাকার ফ্রিজের আদেশ দেন। কিন্তু এখন জানা গেছে, এই অংকের মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ১০১ কোটি টাকা রয়েছে, বাকি অর্থ উত্তোলনের জন্য অনৈতিক সুবিধার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে এই ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

  • জামায়াতের হুঁশিয়ারি: উভয় কক্ষে পিআরের দাবিতে আন্দোলন সম্ভব

    জামায়াতের হুঁশিয়ারি: উভয় কক্ষে পিআরের দাবিতে আন্দোলন সম্ভব

    নতুন বাংলাদেশের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে জুলাই সনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং সেটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়েছে। তবে সংবিধানে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য নেই। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) অনুসারে সংসদের উভয় কক্ষে নির্বাচন চান। তারা মনে করে, পিআর ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল স্বচ্ছতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য ক্ষতিকর হবে। অনায়াসে এই পদ্ধতিটি চালু হলে, জনগণের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি কমে আসবে বলে তাদের ধারণা। জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন কার্যকর হবে না। তিনি ঘোষণা দেন, তারা যথাসাধ্য এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন। অন্যদিকে, দলের আরেক নেতা ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, মধ্যবর্তী সরকারের সময়ে উচ্চকক্ষের কয়েকটি প্রস্তাবে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন প্রস্তাব এসেছে, তবে তারা উচ্চ কক্ষের পাশাপাশি নিম্নকক্ষেও পিআর দেখতে চান। কারণ, শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে পিআর থাকলে এর প্রভাব কম হবে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জনগণের স্বার্থে গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নির্বাচন আগে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সবাই একমত হলে, জুলাই সনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সংস্কারগুলো কার্যকর করতে হবে এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়িত হবে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলছেন, সংখ্যানুপাতিক সংস্কার বা পরিবর্তন ছাড়া নির্বাচন যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়। তিনিWarning দেন, এমন নির্বাচন হলে দেশ আগের মতো জাহিলিয়াতের দিকে ফেরত যাবে। অন্যদিকে, মুজিবুর রহমান জানান, যদি নির্বাচন আগের মতো হয় এবং সংস্কার হয় না, তবে জুলাই আন্দোলন ও ছাত্রপরিষদের রক্ত বৃথা যাবে। সে কারণেই, তিনি বলছেন, সংস্কার ও পরিবর্তনের পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উত্তম। প্রতিপক্ষের মতে, সংস্কার না থাকলে নির্বাচন হবে অনির্দিষ্ট ও অকার্যকর, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

  • বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভবিষ্যৎ উদ্যাপন উপলক্ষে ৬ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী ১ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে। দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা এই কঠোর ও উৎসবমুখর কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন।

    বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বুধবার দলের ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন অনুসারে এক সভা শেষে নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচিগুলোর ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বলা হয়, ৩১ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সকল বিএনপি কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হবে।

    দলের নেতা-কর্মীরা সকাল ১১টায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। একই দিন সারাদেশের জেলা ও শহর ইউনিটগুলো আলোচনা সভা, র‌্যালি ও অন্যান্য কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে।

    ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একটি বিশাল র‌্যালি, যা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির সকল উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিটে সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ সেপ্টেম্বর, দলের পক্ষ থেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের মতো নানা গণকর্মসূচি পালন করা হবে। আর ৫ সেপ্টেম্বর, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে, সহযোগী সংগঠনগুলো ও অন্যান্য ইউনিটগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে তাদের কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করবে। এবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার, ক্রোড়পত্র ও বিভিন্ন উৎসবমুখর সামগ্রীর আয়োজন থাকবে।

    প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ দফা কর্মসূচি সহকারে বাংলাদেশ বিএনপি গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে বেশ কিছু সময় শাসনক্ষমতাও হাতে নিয়েছে।

    প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বর্ষপূর্তির স্মরণে, ১৮ আগস্ট বিএনপি একটি ১৬ সদস্যের ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মহান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে, দলটি তার সংগঠন ও অনুরূপ সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করবে।

  • উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা

    উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে উমামা ফাতেমা ও আল সাদী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নতুন একটি ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এক সর্ম্মেলনে এই প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

    এই প্যানেলের প্রার্থী নেতাদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে দাঁড়াবেন উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র এবং বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া। তিনিও ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়বেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও পাঠচক্র ‘গুরুবার আড্ডা’ সংগঠক জাহেদ আহমদ।

    অন্যান্য পদে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন: মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে নূমান আহমাদ চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম (বিধান), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাফিজ বাশার আলিফ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক সুর্মী চাকমা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অনিদ হাসান, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সিয়াম ফেরদৌস ইমন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাদিকুজ্জামান সরকার, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক মো. রাফিজ খান, সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর সামাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ইসরাত জাহান নিঝুম, এবং মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান নিসু।

    সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুলাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজিব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানি।

    উমামা ফাতেমা এ প্যানেল ঘোষণা করেন। এতে প্যানেলে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী, দু’জন আদিবাসী এবং ছয়জন নারী রয়েছেন।

    উমামা ফাতেমা বলেন, ‘নানান চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আজ আমি একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপির দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। ক্যাম্পাসে আমি বিভিন্ন বছর অতিবাহিত করেছি। প্রথম বর্ষেই আমি ডাকসুতে নির্বাচনী প্রার্থী হিসাবে অংশ নিই। প্রথমে কবি সুফিয়া কামাল হলে পাঠচক্রের জন্য দাঁড়াই, কিন্তু ফলাফল হয়নি। তবে এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এর পরে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনাসহ আন্দোলনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার চেষ্টা করেছি। আমার গণরুম ও গেস্টরুমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই প্রচেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের বোঝাতে চাই যে, তাদের কণ্ঠস্বর আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা তাদের ভোটে যেন মানসম্মত পরিবর্তন আনতে পারি।’

  • জামায়াতের দাবি, এনসিওর করে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে

    জামায়াতের দাবি, এনসিওর করে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে

    ফেব্রুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না। তবে, নির্বাচন পূর্বকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অংশগ্রহণের জন্য সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই মন্তব্য করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান মূসাও উপস্থিত ছিলেন।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে সবাই যাতে মতামত দিতে পারে, এ জন্য সিইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াত। নির্বাচন বিঘ্নিত করতে সন্ত্রাস ও অনিয়ম রোধে ভোট পদ্ধতিতে সাধারণতঃ প্রোপোরশনাল রিটেনশন (পিআর) বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি গ্রহণের কথা ভাবছে তারা। তিনি আরও বলেন, সবাই যদি চাই, তাহলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পদ্ধতিতে ভোটের ফলাফল বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সংবেদনশীল থাকবে। ফলে, জনগণের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। জামায়াত এই ধরণের একটি নির্বাচনের জন্য মাঠে থাকবে, পাশাপাশি তারা প্রস্তুতি নিবে।

    এক প্রশ্নে, অন্য কোনো আসনে তারা পর্যবেক্ষণ দিচ্ছে কি-না, জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা বিষয়টি আলোচনা করেছি।’

    পিআর পদ্ধতি ছাড়া জামায়াত কি নির্বাচন করবে কি না, এই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে, তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই ফেয়ার ইলেকশনের প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করেছি। এই পদ্ধতিটিও আমরা দেশের জন্য উপকারী মনে করি এবং মনে করি এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক উত্তম পদ্ধতি। পিআর পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে ভোটারদের সঠিক মূল্যায়ন হবে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

    জামায়াতের এই প্রতিনিধি দল যোগ করেছেন, তারা এমন সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। বর্তমানে তারা তিনশো আসনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে অবস্থান করছে ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণে সক্রিয়।

    এর আগে, রোববার নির্বাচনীয় প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের এক বৈঠক হয়েছে।

  • নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির উপযোগিতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ: তারেক রহমান

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির উপযোগিতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ: তারেক রহমান

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এখনও উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পদ্ধতি হিসেবে পিআর নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন, কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক মানদণ্ডে এই পদ্ধতিটি এখনও পুরোপুরি উপযোগী নয়। জনগণের অধিকার রয়েছে যেন তারা নিজেদের ভোটে কাকে বা কার প্রতি বিশ্বাস করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাঠাচ্ছেন, কিন্তু প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিতে এ বিষয়টি জনসমর্থনের জন্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাওয়া কঠিন।

    আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভার আয়োজন করা হয় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যদি জাতীয় সংসদ বা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাহলে অবশ্যই জনগণের সাথে সরাসরি সাক্ষাত ও আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে তাদের রায় পান। বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি হচ্ছে পিআর, তবে এই পদ্ধতিতে কিছু রাজনৈতিক মতভেদের বিষয় রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য স্বাভাবিক। এ সকল ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে যারা আসন্ন নির্বাচনের পরিস্থিতিকে ঘোলা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা আসলে গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছেন। পাশাপাশি যদি শর্তের পর শর্ত আরোপ করে নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়, তাহলে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর পথ সুগম হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাষ্ট্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী নানা মন্তব্য ও শর্ত দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

    বিএনপি নেতা আরও বলেন, যদি জনগণ সত্যিকারভাবে ভোট দানে এগিয়ে আসে, তাহলে তারা বিএনপিকে সরকারি দায়িত্ব নিতে পারবে। তবে স্বৈরাচার বিরোধীরা ভোটের মুক্ত পরিবেশ ঠেকাতে অজ্ঞান অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপির বিজয় ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। দেশকে একন execution সরকারের মতো পরিচালিত করে দুর্বার জেলখানায় রূপান্তরিত করার ইতিহাস রয়েছে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, যারা মনে করেন, নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবে, তারা ভুল ভাবনা ভাবছেন। এই পরিস্থিতিতে যারা বিএনপির জয় রুখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, রাজনীতি মোকাবিলা করতে রাজনীতি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর বিশ্বাস রাখুন। বিজয় জনগণের, তাই তাদের রায় রুখতে বাধা দেওয়া ভুল।

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধগুলো যেন পরস্পরের অপকারে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে প্রচুর গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেক দল একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন শুধু গোষ্ঠী বা দলের নয়— এটি আমাদের সবার। এই বাংলাদেশ আমাদের, আপনারা, আমি, সব নাগরিকের গর্বের জায়গা। সব মানুষ, ধর্ম, গোষ্ঠী নির্বিশেষে এই দেশের নাগরিকরা সমান অধিকার ভোগ করবেন, এটি বিএনপির মূলনীতि।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন ও দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহসংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক অপর্ণা রায় দাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, নিপুণ রায় চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য তপন চন্দ্র মজুমদার, এসএন তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্য, পূজা উদযাপন ফ্রণ্টের জয়দেব জয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইসচেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদসহ আরও অনেকে।

  • সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হতে পারে রোববার বা সোমবার

    সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হতে পারে রোববার বা সোমবার

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরো রোডম্যাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনে করছে, রোডম্যাপ এই রোববার বা সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা সম্ভব। এই খবর দিয়েছেন ইসির ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোঃ সানাউল­াহ। বৃহস্পতিবার ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় ব্রিফিং ভবনে। বৈঠকের বিরতিতে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমরা বর্তমানে আমাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করছি। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা চালিয়ে যাচ্ছি, সুতরাং আজই এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। প্রয়োজন হলে রবিবার বা সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে রোববার বিস্তারিত ব্রিফিং করতে পারবো বলে আশা করছি।”

  • শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচন নয়: জামায়াত

    শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচন নয়: জামায়াত

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নেতারা। তবে, নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও দৃঢ় করতে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ কথা জানান। এই বৈঠকেই তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান মুসা উপস্থিত ছিলেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে জামায়াত সব বক্তব্যের কথা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সন্ত্রাস ও অনিয়ম বন্ধে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া উচিত। তারা মনে করেন, সবাই সব কিছু চাইতে পারে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সবার জন্য ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। জাতির কল্যাণের জন্য এই পদ্ধতি মানা জরুরি। জামায়াত মাঠে থাকবে তাদের দাবি নিয়ে এবং একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও মনোযোগ দেবে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেছি।’ তবে, পিআর পদ্ধতি ছাড়া কি জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না, এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও নির্মিত নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময়ই সঠিক পদ্ধতির পক্ষে। এই পদ্ধতিটিও দেশ বা জাতির জন্য উপকারী মনে করি। এটি নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।’ আরও বলেন, পিআর পদ্ধতিতে ভোটারদের মূল্যায়ন আরো নির্ভুল হবে। জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, তারা গ্রহণযোগ্য সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছে। বর্তমানে তারা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে মাঠে কাজ করছে, যাতে জনমত গঠন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি, গত রোববার বিএনপি প্রতিনিধিদল নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।

  • আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

    আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিশিষ্ট সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি অপহরণ, গুম এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১২ সালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গেলে অপ্রত্যাশিতভাবে তার গায়েবি হয় এবং পরে তিনি নিখোঁজ হন। কিছু সময় পরে জানতে পারেন, তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়েছে এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনায় তিনি জানান, তাকে একটি গাড়িতে পুরো দিন আটকে রেখে মারধর চালানো হয়। এরপর রাতের আঁধারে তাকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, বিএসএফ তাকে আটক করে দুই মাস ১৭ দিন গুম করে রাখে এবং পরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচ্ছিন্নভাবে ভারতীয় কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে প্রায় এক বছর কারাবাস করতে হয়। অভিযোগের পক্ষে তিনি মনে করেন, এই ঘটনাগুলোর পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রয়েছে। তাঁর আইনজীবী উল্লেখ করেন, মক্কেল কোনো অন্যায় করেননি, বরং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অফিস জানিয়েছে, এই অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সাক্ষ্য দিতে এসে সুখরঞ্জন বালি নিখোঁজ হন। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, তাকে ভারতের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ বছর নিখোঁজ থাকার পরে তিনি দেশে ফিরে আইনি লড়াই শুরু করেছেন, বিশ্বাস করেন এই ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি হওয়া দরকার। তিনি আশা করছেন, এই ঘটনা সরেজমিন তদন্ত ও বিচার পাবে এবং তার অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে।

  • ইসির ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধন ও এআই বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বার্তা

    ইসির ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধন ও এআই বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বার্তা

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধন করেছে, যা দিয়ে জনগণের কাছে নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সহজে ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিয় করে সংস্থার জনসংযোগ শাখা জানায় যে, এই চ্যানেলের মাধ্যমে জনগণ ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচন সময়সূচী, প্রার্থীর দায়িত্ব ও নির্দেশনা, এবং ভোটারদের কর্তব্য সম্পর্কিত সম্যক তথ্য পাবে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই চ্যানেলের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা এই চ্যানেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করছি। এর মাধ্যমে আমরা নির্বাচন সম্পর্কিত সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজ, বিশদ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশেষ করে নারী, যুব সমাজ, প্রতিবন্ধী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতায় যোগান দেওয়া, যাতে তারা দেশের গণতন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোটদান ও ভোটার দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এ জন্য সবখানে স্বচ্ছতা ও আস্থা বজায় রাখতে হবে।

    সিইসি আরও বলেন, ‘আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তি ও বানোয়াট ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমি প্রত্যেককে অনুরোধ করবো, কোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নিন। তথ্য শেয়ার করার আগে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত করুন। আমাদের এই চ্যানেলটি নিয়মিত দেখুন, সাবস্ক্রাইব করুন, এবং সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতেও সক্রিয় কিছু প্রচেষ্টা রুখতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ফেসবুক পেজেও আপনি পাবেন নির্ভরযোগ্য নির্বাচন সম্পর্কিত তথ্য। আসুন, আমাদের এই উদ্যোগে অংশ নিন এবং দেশের গণতন্ত্র সচেতনভাবে শক্তিশালী করতে একসাথে কাজ করি।