Category: সারাদেশ

  • ছাত্রলীগের আবরণে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন

    ছাত্রলীগের আবরণে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন

    গাজীপুর মহনগরের টঙ্গী এলাকার সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ মুক্তির ডাক ৭১’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে ছাত্রলীগের আবরণে এ সংগঠন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    সংগঠনের মূল লক্ষ্য হিসাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সুরক্ষিত এবং মুজিববাদ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানকে সমুন্নত রাখা।

    শনিবার ঢাকার উত্তরার ডিয়াবাড়ি পিঁপড়া কিচেন রেস্টুরেন্ট নামে একটি হোটেলে কঠিন গোপনীয়তার মাঝে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ নতুন সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।

    সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন আল রিয়াদ-আদনান অন্তর, মহাসচিব খলিলুল্লাহ গাজী এবং মুখপাত্র হিসাবে কাজ করবেন হুমায়ুন কবির। সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ১৫-২০ জন উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।

    ‘মুক্তির ডাক ৭১’-এর চেয়ারম্যান আল-রিয়াদ-আদনান অন্তর জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করাই তাদের লক্ষ্য। এছাড়া শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রম নয় বরং সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক কাজের মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে সংগঠনটি। শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে দলীয় লোগো উন্মোচন করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ সংগঠনের চেয়ারম্যান আল রিয়াদ-আদনান অন্তর টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদ নগরের ১নং ব্লকের ভাণ্ডারী গলির বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগ টঙ্গীর ৪৯নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন।

    সম্প্রতি তিনি গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের স্বঘোষিত আহ্বায়ক হিসাবেও কোথাও কোথাও পরিচয় দিতেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। ২০১৮ সালে ইয়াবাসহ টঙ্গীর কলেজ গেট থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। এ বিষয়ে র‌্যাব-১০ এর ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি মো. আজিজুর রহমান বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন। এরপর ছাত্রলীগ থেকে তিনি বহিষ্কার হন। বহিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত তিনি মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান সরকার বাবুর অনুসারী তথা উভয়ে সাবেক এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের অনুসারী ছিলেন। বহিষ্কারের পর থেকে আল রিয়াদ-আদনান অন্তর গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম গ্রুপের হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতেন বলে জানা গেছে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নতুন দল গঠনের বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কাজ চলছে।

  • অপরিকল্পিত স্থাপনায় ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম

    অপরিকল্পিত স্থাপনায় ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম

    জনবল-সংকটে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জনের মতো কাজ করলেও জনবল-ঘাটতি আছে ৬০০ জনের মতো। সীমিত লোকবলের কারণে অতিরিক্ত কাজের চাপে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না বর্তমানে কর্মরতরা। 

    জানা গেছে, গত দুই দশকে সিডিএ থেকে অনেক স্থপতি, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ অবসর গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সিডিএতে আর্কিটেক্ট আছে মাত্র এক জন। দুটি অথরাইজড কমিটির একটিতেও আর্কিটেক্ট নেই। আর্কিটেক্ট ছাড়া অথরাইজড কমিটি কীভাবে প্ল্যান অনুমোদন দেয়—এমন প্রশ্ন উঠেছে। ভবনের নকশা অনুমোদনে অনেক সময় বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ভবন পরিদর্শক আছে মাত্র তিন জন। ফলে ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয় হচ্ছে কি না—তা তদারকি করা যাচ্ছে না। ফলে মহানগরী চট্টগ্রাম ইতিমধ্যেই এক অপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হয়েছে। একসময়ের নান্দনিক শহর ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

    জানা গেছে, অতীতে প্রতিষ্ঠানটির নিচের দিকে প্রচুর লোকবল নিয়োগ দেওয়া হলেও উপরের দিকে নিয়োগ প্রায় বন্ধই ছিল। অতীতে যারা সিডিএর দায়িত্বে ছিলেন লোকবল নিয়োগের চেয়ে প্রকল্প নেওয়ার দিকেই তাদের বেশি ঝোঁক ছিল। ফলে নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠানটি। গত ২২ বছরে সিডিএ থেকে ১২ জন স্থাপত্য প্রকৌশলী অবসর নিয়েছেন। কিন্তু এক জনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এক জনকে অনেকগুলো প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প তৈরির জন্য কমপক্ষে তিন বছর স্টাডি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাত্র সাত দিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীকে প্রকল্পে যুক্ত করায় প্রকল্পটি আংশিক সাফল্যের মুখ দেখলেও পুরোপুরি সুফল এখনো জনগণ পায়নি। সিডিএর প্ল্যানিং ইউনিটে চিফ টাউন প্ল্যানারের জায়গায় পরিকল্পনাবিদের পরিবর্তে কাজ করছেন প্রকৌশলী। প্ল্যানারের কাজ কখনো আর্কিটেক্ট বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার করতে পারেন না। টাউন প্ল্যানারের ১১টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র সাত জন। কর্মরত জনশক্তি প্রায় ৩০০ জন। সিডিএতে কর্মরত কোয়ালিফাইড আর্কিটেক্ট আছে এক জন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও কাজ করানো হয়। প্ল্যান অনুমোদনের বিষয়টি শুধু আর্কিটেক্টের ওপর ন্যস্ত নয়। ঐ বিষয়ে কাজ করেন ইমারত নির্মাণ কমিটি।

    সিডিএকে আরও বেশি জনবান্ধব করতে দক্ষ জনবলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম। তিনি জানান, সিডিএতে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া অচিরেই শুরু হবে। এ ব্যাপারে আজ (রবিবার) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছি। আমরা শতভাগ আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করব, যাতে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যায়।