Category: সারাদেশ

  • রাষ্ট্র সংস্কার: ৩১ দফার ভিত্তিতে নতুন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা

    রাষ্ট্র সংস্কার: ৩১ দফার ভিত্তিতে নতুন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা

    কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি ধ্বংস করা হয়েছিল। এই কারণে জনগণ ভোট দিতে পারেনি এবং সরকারও তাদের ভালো-মন্দের কোনও দায়িত্ববোধ ছিল না। তিনি জানান, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন দেশের মুক্তির জন্য ৩১ দফার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, যা দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করবে। রোববার বিকেলে নগরীর খালিশপুরে আনসার উদ্দিন সড়কে অনুষ্ঠিত এক স্থানীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা তিনি বলেন।

    বকুল আরও বলেন, “শেখ হাসিনা পালানোর আগেই আমাদের নেত্রী তারেক রহমান এই ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, স্বৈরাচারী শাসন কায়দায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। এই দফাগুলো শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশের জন্য স্পষ্ট একটি পরিকল্পনা।”

    বিগত সরকারের অনুকুলে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত দুই সরকার কালো টাকা লুটপাটে লিপ্ত ছিল এবং জনগণের ভোটাধিকারের আওতা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, সরকার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সেবা পাওয়া নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চালু হবে হেলথ কার্ড, যার মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে।”

    বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিল্পায়নের পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বললেন, “প্রথম ধাপে এক কোটি যুবককে বেকার ভাতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়া হবে। খুলনাসহ দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে পুরনো কলকারখানা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পুনরায় চালু করা হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।”

    তাঁরা আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনও অন্যায়-অবিচার হবে না।”

    সভায় এলাকাবাসীর প্রতি সামাজিক সচেতনতা ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয় এবং প্রত্যেক মহল্লায় সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনগণ।

  • খুলনায় অস্ত্র তৈরির কারখানা নির্মাণের সত্য ঘটনা উন্মোচিত

    খুলনায় অস্ত্র তৈরির কারখানা নির্মাণের সত্য ঘটনা উন্মোচিত

    খুলনায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে অস্ত্রের অংশ তৈরি সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পুলিশি অভিযানে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়, যার মাধ্যমে অন্তত ৩০টি অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব ছিল। তদন্ত শেষে জানা গেছে, এই অস্ত্র নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি (নেভাল সেকশন) ক্যাডেটদের জন্য প্রশিক্ষণের জন্য ডামি অস্ত্র তৈরি করা।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতের দিকে খুলনা নগরীর জোড়াগেট এলাকার একটি গলিতে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ উদ্ধার করে কারখানার ভিতর থেকে অস্ত্রের ছাঁচ, সীসা, ট্রিগার, ট্রিগার গার্ড এবং ৩০টি অস্ত্রের নির্মাণের সরঞ্জাম। একই সঙ্গে কারখানা পরিচালনাকারী মো. নজরুল ইসলাম, আকবর আলী, শহিদুল ইসলাম ও পিকলুকে আটক করা হলেও পরে খালাস দেওয়া হয়।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এই কারখানাতে অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে আসছিল। এর আগে এই কারখানা থেকে তৈরি অস্ত্রের চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এই নির্মাণ প্রক্রিয়াতে অস্ত্রের মূল অংশ সংযোজন অন্য কোথাও করা হতো।

    অভিযানের সময় খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তৈমুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় বর্তমানে তিনজনকে আটক করেছি। মূল কারিগরকে ঈশ্বরদী থেকে আনা হয়েছে। এখানে অস্ত্রের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছিল, যেমন ট্রিগার, ট্রিগার গার্ড ও অন্যান্য খুচরা জিনিস।’

    ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএনসিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ প্রকাশ পায়। যেখানে দেখা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি প্লাটুনের (সেনা, নৌ ও বিমান শাখা) জন্য কিছু আধুনিক কাঠের অস্ত্র তৈরি করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা এবং আদেশ জারি করা হয়েছিল। ওই আদেশটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এবং গাজী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ঠিকানাও উল্লেখ ছিল।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রগুলি ডামি অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিল, যা মূলত প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো। বিএনসিসি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলানো হয়েছে, এসব অস্ত্র আসলে বাস্তব নয়।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার তাজুল ইসলাম এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে, এবং পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএনসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এগুলো ডামি অস্ত্র। এরপর আটককৃত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা তাদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও 강화 করা হবে।

  • বাগেরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত

    বাগেরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত

    সারাদেশের মতোই বাগেরহাটে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের মূল অনুষ্ঠানে সকাল ৯টায় শহরের বধ্যভূমিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিদুর রহমান ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদদের স্মরণে গার্ড অব অনার প্রদান ও এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, জেলা আইনজীবি সমিতি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, এলজিইডি, সড়ক বিভাগ, যুব দল, মহিলা দল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন স্কুল কলেজ। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহররক্ষা বাধ সংলগ্ন বধ্যভূমিতে অনুষ্ঠিত হয় একটি আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগ বাগেরহাটের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ ফখরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিদুর রহমান, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামানসহ আরও অনেকে। বক্তারা ভাষণে বলেন, ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য এক বেদনাদায়ক দিন। এ দিনই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বুঝতে পেরেছিল তারা পরাজিত হয়েছে। এই দিন তারা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য শহীদ বুদ্ধিজীবিদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সারাদেশে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পাক হানাদার বাহিনী শেষের নৌকা টেনে নিয়ে যায়। এই শহীদ বুদ্ধিজীবি ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফলেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আজকের এই স্মরণসভা আমাদের জন্য এক গৌরবময় অনুপ্রেরণা।

  • খুলনায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা

    খুলনায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা

    খুলনায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনされ হয়।

    সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতি বছরই আমাদের কষ্টের সাথে এই দিনটি পালন করতে হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন, শিল্প ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তারা চেয়েছিল বাংলাকে মেধাশূণ্য করে দিতে। এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে তারা দেশের উন্নয়ন ও সভ্যতার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা প্রায় ১১শো বুদ্ধিজীবীকে হারিয়েছি, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। যুগযুগ ধরে যারা এই মাতৃভূমিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তাদের অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে ও দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে তারা অনুপ্রাণিত করে যাবেন।

    প্রতি বছর এই দিবসে দেশের সর্বস্তরের মানুষ তাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব রহমান, স্থানীয় সরকারের দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. হ. মোঃ রুহুল আমীন এবং খুলনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মোঃ আবু জাফর। এ ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যারা এই মহান সংগ্রামের ইতিহাস ও ত্যাগের প্রতি নিজেদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • দিঘলিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

    দিঘলিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

    দিঘলিয়ায় বাংলার মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ রোববার একটি সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার প্রশাসনের উদ্যোগে এটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হারুন অর রশিদ। এতে বিভিন্ন উপজেলা বিভাগের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় অংশগ্রহণকারীরা মহান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে বলেছিলেন, সেই সময় পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসররা বাংলার সূর্য সন্তানদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে দেশকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা চালিয়েছিল। ১৪ ডিসেম্বরের ওই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে কেবলমাত্র ১১১১ জন বুদ্ধিজীবীকে জুলুম করে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।

    সভায় বক্তারা আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামীর উন্নত, সমৃদ্ধ ও নির্লোভ বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

    আলোচনা সভায় স্থানীয় কর্মকর্তারা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকৌশলী, খাদ্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা বলেন, আমাদের সকলের উচিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়ে তাদের আদর্শ ও ত্যাগের মূলমন্ত্র কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর, ক্ষুধা মুক্ত ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

    উপজেলা প্রশাসনের এই আয়োজনে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে এই ত্যাগের ইতিহাস উৎসাহজনকভাবে থাকায় উৎসাহিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

  • বাগেরহাটে জাপান প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট

    বাগেরহাটে জাপান প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট

    বাগেরহাটে জাপানপ্রবাসী খন্দকার রবিউল ইসলামের বাড়িতে ভোরের দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা তার বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সব সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলেন। এরপর ঝটপট করে ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা নগদ লুটে নেয়। খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

    প্রবাসীর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খন্দকার আবু জাফর বলেন, তখন তিনি, তার স্ত্রী এবং বড় ছেলে ও তার স্ত্রীরাও বাড়িতে ছিলেন। ভোর চারটার দিকে বাথরুমের দরজা দিয়ে বের হতে গিয়ে ডাকাতদের হাতে পড়ে যান। তারা অস্ত্র দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে হাত, পা এবং মুখ বেঁধে ফেলেন, পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও একইভাবে জিম্মি করেন। তারপর বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতেরা ছাদে উঠে গেট ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেছিল।

    বড় ছেলে ব্যবসায়ী খন্দকার মাইনুল ইসলাম জানান, তিনি আগে জাপানে থাকতেন। ডাকাতরা তার ঘরও তছনছ করেছে এবং তাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। তারা আমাদের নিঃস্ব করে দিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার আশংকা প্রকাশ করে বলে তিনি জানান।

    খন্দকার আবু জাফরের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, ডাকাতরা তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে রেখে লুটপাট করে। এর মধ্যে এক দল ৬জনসহ এক মেয়ে ছিল। তারা বারবার বলছিল, কোনো ক্ষতি করব না, যা আছে দিয়ে দাও। তবে বেশি বাড়াবাড়ি হলে হত্যা করা হবে বলেও তারা হুমকি দেয়।

    বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুম খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। এর আগে, ৯ ডিসেম্বর দিনদুপুরে বাগেরহাট শহরের ডাউনীস্থ পুলিশ সুপারের বাংলোর পাশে একটি বাড়িতে চুরি হয়।

  • নিজের হাতে প্যানা-সাইনবোর্ড অপসারণে বকুলের দৃষ্টান্ত

    নিজের হাতে প্যানা-সাইনবোর্ড অপসারণে বকুলের দৃষ্টান্ত

    বিএনپي ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ স্থাপন করেছেন। গতকাল শুক্রবার জুম্মা ইসলামের নামাজের আগে তিনি নিজে আওয়ামী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ হাতে বিভিন্ন স্থানে থাকা রাজনৈতিক প্যানা ও সাইনবোর্ড তুলে ফেলার কার্যক্রম শুরু করেন।

    খুলনা-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় তিনি মোটরসাইকেল এবং পায়ে হাঁটার মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে তাঁর নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার জন্য স্থাপন করা বিভিন্ন প্যানা ও সাইনবোর্ডগুলোর অপসারণ করেন। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন—“নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা আমরা অবশ্যই মানবো। আমাদের সব প্যানা ও সাইনবোর্ড দ্রুত এবং শান্তিপূর্ণভাবে খুলে ফেলতে হবে। আমরা চাই, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন হয়।”

    বকুল আরও বলেন, “আইন মানার মাধ্যমে আমরা সমাজে সুন্দর উদাহরণ তৈরি করতে চাই। জনগণই সিদ্ধান্ত নিবে, কে তাদের সেবা করবে।”

    নেতাকর্মীরা জানান, বকুলের নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা-৩ এলাকার বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে সব প্যানা ও সাইনবোর্ড অপসারণের কাজ চলছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই উদ্যোগের প্রশংসা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর পাশাপাশি, এ গণপ্রচেষ্টায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যারা এই স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

  • মঞ্জু বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে কোন ষড়যন্ত্র ঠেকাতে পারবে না

    মঞ্জু বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে কোন ষড়যন্ত্র ঠেকাতে পারবে না

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করলে কোনো রকম ষড়যন্ত্রই আমাদের পরাস্ত করতে পারবে না। এই ঐক্যই আমাদের দেশকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করে তুলবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সব প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা একত্রে কাজ করলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খুলনাসহ দেশের সকল ধানের শীষের প্রার্থী জয়ী হবে এটি নিশ্চিত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সর্বস্তরের জনগণ ও দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছে। এর ফলে সকল ষড়যন্ত্র যেমনই থাকুক না কেন, তা আমাদের রুখে দিতে সক্ষম হব।

    গতকাল শুক্রবার তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর সকাল ১১টায় সোনাডাঙ্গা গোবরচাকা এলাকায় নির্বাচন প্রচারণা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। এরপর বিকেলে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে হযরত বেলাল (রাঃ) জামে মসজিদে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দোয়া-প্রার্থনার আয়োজন করেন ছাত্রদল নেতা মোঃ কামাল হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায়, এবং মসজিদের ইমাম মোঃ ওহিদুজ্জামান শাহিন দোয়া পরিচালনা করেন।

    উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক নেতা-কর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যেমন—আরিফুজ্জামান অপু, ইউসুফ হারুন মজনু, মজিবর রহমান ফয়েজ, এইচ এম সালাম হোসেন, মোহাম্মাদ আলী, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন, কামরুল আলম খোকন, এড. ওমর ফারুক বনি, মাবুবুর রহমান লিটু, তালেব মোল্লা, সেলিম বড় মিয়া, নাজমুল হোসেন নাসিম, ফিরোজ আহমেদ, মুশফিকুর রহমান অভি, একেএম সেলিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাসুদ রুমী, মামুনুর রহমান, মত্তিয়র রহমান, সাহিদ ইসলাম, শুকুর আলী, জাহিদুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, কবির হোসেন, জীবন মীর, মামুনুর রহমান রাসেল, নূরুজ্জামান কাজী, সুলতান হাওলাদার, ইয়াকুব পাটোয়ারী, আলাউদ্দিন মিয়া, সোলাইমান হাওলাদার ও রুমি খল প্রমুখ।

  • খালেদা জিয়া ১৮ কোটি মানুষের জন্য দেশমাতা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত

    খালেদা জিয়া ১৮ কোটি মানুষের জন্য দেশমাতা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত

    বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবদান রেখে গেছেন। তার সুস্থতা আজ শুধু বিএনপি’র নয়, এর সঙ্গে জড়িত পুরো জাতির প্রত্যাশা। দলমত নির্বিশেষে, বেগম জিয়া বাংলাদেশের নেত্রী হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষের কাছে ‘মাদার ফিগার’—দেশমায়ের মর্যাদায় অভিষিক্ত। বিএনপি’র সমালোচকরাও একজন নেত্রীর প্রতি সম্মান প্রকাশ করেন, কারণ মতভেদের মধ্যেও তিনি আমাদের সকলের নেতা।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা কল্যাণ সমিতি, খালিশপুরের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশুরোগ মুক্তি কামনায় দোয়া ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী মাত্র একজন নারীর নাম বেগম জিয়া। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাকে জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে রেখেছে। ১/১১ এর সময় তার কারাদণ্ডসহ সব ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি গণতন্ত্রের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের অধিকার আদায়ে তার সংগ্রাম তার প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দৃঢ়চিত্তের পরিচয় বহন করে। দেশের বিভিন্ন সংকট, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত আঘাত সহ্য করে তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। এই গুণ তাকে একজন মাতৃসুলভ, দৃঢ় নেত্রী হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। বর্তমানে তার স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে, বিপক্ষ রাজনীতির সমালোচকরা পর্যন্ত তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। কারণ, তিনি কেবল এক দলের নেত্রী নন, দেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা অনুপ্রেরণার स्रोत। গ্রামের সাধারণ মানুষ, শহরের শ্রমজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক মানুষদের তিনি বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর দলের নীতিতেও কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

    আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এ দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা স ম আব্দুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন মৃধা, কাজী শফিকুল ইসলাম, মোঃ হেমায়েত উদ্দিন, শেখ মোঃ রাহাদুল হক কচি, ইঞ্জিনিয়ার শাহিন উদ্দিন, শেখ আল রুবেল, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোহাম্মদ নাজমুল কবির, মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ আসাদ, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, বি এম মাফিজুল ইসলাম, সোহেল রানা প্রিন্স, ইঞ্জিনিয়ার এমদাদুল হক খান, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ রহিম শেখসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। পরে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রয়াত সকল নেতৃবৃন্দের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।

  • খুলনা-মোংলা মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

    খুলনা-মোংলা মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

    খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার ফয়লা ব্রিজের ওপর একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।