চুয়াডাঙ্গায় এখন তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে হিমশীতল বাতাস, কুয়াশা এবং মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে। সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে জনজীবনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতা মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। সোমবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাস এবং ঘন কুয়াশা সকাল থেকে দিন পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। বাতাসের তীব্রতা এবং প্রবল ঠাণ্ডার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ক্ষুধার্ত ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে শীতের কারণে তাদের কষ্ট আরও বাড়ছে। এর পাশাপাশি, সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমে আসায় জীবনধারা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষজন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তীব্র শীতের ফলশ্রুতিতে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ধান চাষে প্রভাব ফেলতে পারে। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুরা ও বৃদ্ধরা, যেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদানে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। রোগীর চাপ এত বেশি যে, শয্যার অভাব এবং চিকিৎসাকক্ষে বরান্দা ও মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাতিকাটা গ্রামের ইজিবাইক চালক নুর ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছি, কিন্তু ভাড়া পাচ্ছি না। সড়কে উপস্থিতি কম থাকায় আয় কমে গেছে। শীত আর পেটের তাগিদে কষ্টে আছি।” অন্য এক পথচারী আব্দুল হালিম জানান, “শীত এতই তীব্র যে, শরীরে ছয়টি পোশাক পরেও ঠাণ্ডা কমছে না। শরীরের বিভিন্ন অংশ জমে যাচ্ছে আর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।” বৃদ্ধ ভ্যানচালক হাসমত আলি বলেন, “গরম চায়ের সঙ্গে শীতের রাত কাটাতে হচ্ছে। গরীবের জন্য পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকছে না, তাই এখনো পর্যন্ত কোন কম্বল পাইনি।” চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, আকাশ মেঘলা, কুয়াশাচ্ছন্ন ও উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা আরও কিছুদিন থাকতে পারে। তিনি জানান, শীতের মাত্রা আরও কমতে পারে, তাই সূর্যের দেখা মিলাও একদম কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও শীতের দাপট কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
Category: সারাদেশ
-

তারেক রহমান দেশে ফেরার পর নির্বাচন আর থাকছে অনিশ্চিত নয়
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ফেরার পর দেশের নির্বাচনের আর কোন অজুহাত বা সংশয় রইলো না বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ২৫ ডিসেম্বরের পরে আর কোনো পরিস্থিতি নিবৃত্ত করে নির্বাচন ঠেকানোর সুযোগ থাকবে না। যারা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে চান, তাদের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বিকল্প কোনোভাবেই নেই।
শনিবার বিকেলে শৈলকুপা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে ঝিনাইদহ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, যদি তিনি নির্বাচিত হন, তাহলে তার প্রথম অঙ্গীকার হবে বাংলাদেশের শাসন কাঠামোকে সুদৃঢ় করা। এর পাশাপাশি শিক্ষা, নারীর অধিকার, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে তার মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের মানুষ যেন তার পছন্দমতো ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার।
সাবেক এই কূটনীতিবিদ আরও বলেন, “আপনাদের জানা আছে যে, আমি সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনের রায় রিভিউ করে বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতের জন্য সংগ্রাম করেছি, এবং এই সংগ্রামে আমি জয়ী হয়েছি। এখন থেকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, যা আমরা আইনসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করেছি।”
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপি’র পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় তারা অবিরত সংগ্রাম করবে।
এর আগে, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন মো. আসাদুজ্জামান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, ঝিনাইদহ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী জেলা সভাপতি এম.এ. মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা আব্দুল বারী মোল্লা, পৌর বিএনপি’র সভাপতি আবু তালেব মিয়া প্রমুখ। -

খুবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা সরাসরি http://apply.ku.ac.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাদের নিজস্ব প্রোফাইলে লগইন করে ফলাফল দেখতে পারবেন।
মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ০১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে ০৩ জানুয়ারি (শনিবার) পর্যন্ত অনলাইনে তাদের ডিসিপ্লিন পছন্দের ক্রম নির্ধারণ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসিপ্লিন পছন্দ তালিকা পূরণ না করলে তাদের ভর্তির সম্মতি গৃহীত হবে না। চূড়ান্ত ফাইনাল ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী ০৮ জানুয়ারি। এরপর ১২ থেকে ১৩ জানুয়ারি সকাল ৯:৩০ থেকে বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত মেধা তালিকা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য আজ ২৯ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এর নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় চারটি ইউনিটের ইউনিট প্রধানগণ ফলাফল উপস্থাপন করেন। চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও অনুমোদনের পর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, সকল স্কুলের ডিনগণ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এবং ভর্তি কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অতীতে, গত ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ‘সি’ ইউনিট (কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, শিক্ষা এবং চারুকলা স্কুল) ও ‘ডি’ ইউনিট (ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল) এবং ১৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ‘এ’ ইউনিট (বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল) ও ‘বি’ ইউনিট (জীববিজ্ঞান স্কুল) এর ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
-

কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্বাচিত সরকারকে সবস্তরে সহযোগিতা করার ওপর জোর দেওয়া দরকার। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিগত সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিল। এখন আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই অস্থিতিশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি কল্যাণমুখী, সুখী ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠন করা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
-

ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই ভোটাররা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে : আজাদ
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনা-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে এবং সমাজে নীতি ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামি কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং ইসলামী মূল্যবোধে ধ্রুবতুর সমাজ গঠন হোক। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং ইসলাম ভিক্তিক সমাজ গঠনে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ও একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই আসনে তারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষেই রায় দেবেন। শনিবার সকালে কোরারার কয়রা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে কয়রা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কয়রা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক। বক্তৃতা দেন উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজা উদ্দিন, সমিতির উপদেষ্টা লুৎফর রহমান, সুন্দরবন নার্সিং হোমের পরিচালক কামরুজ্জামান টুকু, সহকারী সেক্রেটারি কামরাজ্জামান ও আমিনুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
-

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের ফেরার মধ্য দিয়ে দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করা জনগণের মাঝে কেটেছে। এই ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে নিরলসভাবে সংগ্রাম করে আসছি, ভোটাধিকার অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েছি। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেষ পরিণতি হল ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান, যা স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছে এবং ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের উদ্বোধন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সোনাডাঙ্গা থানার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুপাড়া নূরানীয়া বহুমুখি মাদ্রাসায় খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি মনিরুজ্জামান মনির। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরে সনাতন ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু, যার সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল কুমার বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু মন্ডল এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। রাত পৌনে ৮টায় রূপসা শ্মশানঘাট কালি মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, যেখানে তিনি বলেন, দেশ ও বিদেশের ষড়যন্ত্রকারীরা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আবারও সক্রিয় করে তুলতে চাইছেন। তারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়ে গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে রুখে দিতে চায়। আমরা সবাই একসঙ্গে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল ও একরামুল হক হেলাল সহ আরও অনেকেই। বক্তারা দেশের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও ঐক্যের আহ্বান জানান। মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
-

আমি একজন সমাজসেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই: আজিজুল বারী হেলাল
বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি সব সময় মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। আমাদের মূল লক্ষ্য মানবসেবা এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের পাশে দাড়ানো। তিনি আরও বলেন, রূপসা পাড়ের এই অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ আমরা একসাথে মিলেমিশে বাস করি। যদিও রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে আমরা সবাই একই এলাকার সন্তান। আমি এখানে রাজনীতি করার জন্য আসিনি, বরং একজন সমাজসেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতেই চাই।
-

বাংলাদেশের পরিচয়: চিংড়ি ও ইলিশের দেশের স্বীকৃতি ও জিআই পণ্য
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মৎস ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) আয়োজিত এই সভায় দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই এ্যাপোচের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মৎস খাতের উন্নয়ন, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনা শ্রীম্প টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বক্তৃতায় বলেন, ব্যবসা শুধু লাভের জন্য নয়, দেশসেবার অন্যতম মাধ্যম। সরকারি আইনের সাহায্যে এ খাতের সুষ্ঠু উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তিনি আরও বলেন, চিংড়ি শুধুমাত্র একটি ব্যবসা নয়, এটি আমাদের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন আইনে নারীর কর্মসংস্থানসহ এ খাতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ রয়েছে। ফরিদা আখতার ব্যবসায় সততা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, কারণ চিংড়ির অপ্রত্যাশিত বা ক্ষতিকর উপাদান থাকলে মানুষের স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চিংড়ি ও ইলিশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কারিগরি উন্নয়ন ও মনিটরিং আরও জোড়দার করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ চিংড়ি ও ইলিশের দেশ—এ দুটি পণ্য আমাদের আন্তর্জাতিক পরিচয়সহ জিআই পণ্য। চিংড়ি উৎপাদন আরও বাড়ানোর জন্য হ্যাচারির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগে সরকার প্রাথমিক সাপোর্ট দেবে, একই সঙ্গে আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো হবে। সভায় বিএফএফইএ’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট শেখ কামরুল আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ আবদুর রউফ, মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর; মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, বিএফএফইএ’র প্রেসিডেন্ট; মোঃ তারিকুল ইসলাম জহির, সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট; এবং বিএফএফইএ’র পরামর্শক সৈয়দ ইসতিয়াক, যিনি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সকাল-অপরাহ্নে মতবিনিময় সভায় বয়রা এলাকায় মৎস্য পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোয়ালিটি ল্যাবরেটরির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা দেশের রপ্তানি ও বাজারের ভিত্তি। সঠিক মানের পরীক্ষায় কোন ত্রুটি থাকলে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে পারে, সেটি সরকারের জন্য সর্বোচ্চ চিন্তার বিষয়। এ ক্ষেত্রে সততা ও পেশাদারিত্বের বিকল্প নেই। এর আগে, উপদেষ্টা রূপসা জাবুসা মোট ফুড প্রোসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড ও খুলনার ঘাগড়ামারী মৎস্য ঘের পরিদর্শন করেন এবং চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যাতে ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারিত হয়।
-

চুয়াডাঙ্গায় সাইকেল শোরুম থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ব্যবসায়ী আটক
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, গোলা ও অন্যান্য অস্ত্র-সস্ত্রসহ এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে জীবননগর পৌর এলাকার নারায়নপুরে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, ক্যাপ্টেন সৌমিক আহমেদ অয়নের নেতৃত্বে এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে জীবননগর থানার মডেল মসজিদের পাশে অবস্থিত গাজী জাহিদের চায়না সাইকেল শোরুমে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানকালে শোরুমের ভিতর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি, একটি স্মার্টফোন, ১১টি সিম কার্ড ও এক সেট ব্যাটন উদ্ধার করা হয়। একই সাথে শোরুমের মালিক গাজী জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়।
আটকব্যক্তি গাজী জাহিদ হাসান জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহানগর দক্ষিণপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে।
জোড়া সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার된 অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো অবৈধভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি হচ্ছে। এ বিষয়ে জীবননগর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
-

তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হবে: কেএমপি কমিশনার
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মद জাহিদুল হাসান বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় রুখতে আমাদের কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের জন্য শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা এ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুক্রবার খুলনার পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেএমপি কমিশনার স্কুলের অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করে ভবিষ্যতেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি নিজেকে যুক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে তিনি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে শুভ সূচনা করেন।
সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেএমপির ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়সহ স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী গণ। খোলা মন নিয়ে তারা এই পুনর্মিলনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা নতুন দিক দিয়ে সংযোগ স্থাপন করবে।
এ সময় ছাত্র-শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই মিলনমেলার মাধ্যমে পুরনো স্মৃতিগুলো রোমান্চিত করে তুলেছেন।
