Category: সারাদেশ

  • খুলনা BNP নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক খালেদা জিয়্যার জানাজা

    খুলনা BNP নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক খালেদা জিয়্যার জানাজা

    অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা, নিঃশব্দ কাঁন্না ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ঢাকা পড়ে যায় মানিক মিয়া এভিনিউ। সেই জনসমুদ্রে খুলনার সাধারণ মানুষও একসূত্রে আবদ্ধ হয়ে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে খুলনা মহানগর ও জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ রাজধানীতে ছুটে যান। প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায় জানাতে পেরে তারা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন এবং মনে করছেন তারা এই ইতিহাসের সাক্ষী। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোর থেকেই খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্রেন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অনেকেই রাত কাটিয়ে সকালে পৌঁছান রাজধানীতে। দীর্ঘ পথ, কষ্ট və ভিড় অনেককেই থামাতে পারেনি। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। মূল জানাজার আগে আগে দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের ঢল নামায় তা বিলম্বিত হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানাজার ভিড়ে সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ঢাকা পড়ে যায়। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির শত শত নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ লোক দলীয় পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কেউ ফুঁপিয়ে কাঁদছেন, কেউ নীরবে হাত তুলে দোয়া করছেন। কারো চোখে শূন্যতা, কারো চোখে হারানোর গভীর বেদনা। জানাজায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন। খুলনা থেকে আসা ঢলের এই অংশ হাজির করে প্রমাণ করে, এই নেত্রী শুধু দলের নেত্রী নন, তিনি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। এই জনসমাগম দেশের কাছে অসাম্প্রদায়িক ভালোবাসার এক প্রকার গভীর বার্তা। কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া যে গণভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তারই প্রতিচ্ছবি এই বিশাল জনসমুদ্র। খুলনার মানুষ যে ভালোবাসা অনুভব করেছিল, যে প্রেম ও সমর্থন সংগৃহীত হয়েছিল, তা আজ অশ্রুকর মরুচিহ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। এই জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। জানাজার স্থানেই খুলনার একজন প্রবীণ নেতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আর কখনো দেখব না খালেদা জিয়াকে—এটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনিই আমাদের সাহস, আমাদের লড়াই।’ উল্লেখ্য, তিন বার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে খুলনা ও সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার সকাল থেকেই খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ের জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেগঘন অংশগ্রহণ খুলনাবাসীর গভীর সম্পর্কের প্রমাণ, যা দীর্ঘকালীন স্মৃতিতে রয়ে যাবে। খুলনা বিএনপির কার্যালয়ে বুধবার শোক বইতে শত শত মানুষ স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি, মহানগর বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন বিএনপি অফিসে কোরআনখানি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা ও ব্যাজ ধারণ করে নেতাকর্মীরা গভীর শ্রদ্ধা জানান।

  • খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়াকে তার দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্য আলাদা করে চেনা যায়। স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের অধীনে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও, তিনি সেই পথ পছন্দ করেননি। আসন্ন তালিকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, যখন অন্যরা আপস করতে থাকলে তিনি সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর এই দৃঢ়তা সময়ই প্রমাণ করে, ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর, ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া শপথ নেন। জীবনে কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তিনি হেরেছেন না, বরং আপসের মুখ দেখাননি, যা তাকে একজন ‘আপসহীন’ বলিষ্ঠ নেত্রী হিসেবে পরিচিতি দেয়।

    বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং খুলনা-২ আসনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর পাশাপাশি আরও ছিলেন দলের বিভিন্ন নেতা, কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সমর্থকগণ। তিনি তাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বজনীন শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এই প্রার্থনা ও সমাবেশে অংশ নেন। এসময়ে রাজনৈতিক নেতারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করে তার অবদানকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে, শীতের কঠোরতা বাড়ছে

    চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে, শীতের কঠোরতা বাড়ছে

    মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়েছে। হাড়কাঁপানো এই শীত পরিবেশে জেলার সাধারণ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, আর সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায়, দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষগুলো।

    আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তুলনায় এটি অত্যন্ত কম, এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। গত দুই দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যার ফলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আগের দিন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর), সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গায়ও শীতের তীব্রতা স্পষ্ট দেখা গেছে। সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঐ দিনও আকাশে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে ছিল, ফলে শহর ও গ্রামে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    জেলাজুড়ে ভোরে কুয়াশা আর হিমশীতল বাতাসের কারণে রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইর হতে চাননি। তবে, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি বড় ধরণের দুর্ভোগের কারণ। তারা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে জীবিকার জন্য কাজের খাতায় ঢুকছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়, চায়ের দোকান ও বাজার এলাকায় খড়কুটো, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের।

    চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে থাকলেও, এই অবস্থা আগামী দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শীতের এই প্রকোপ আরও কিছু সময় এভাবেই থাকবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

  • সারাদেশে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা ও শোক প্রকাশ

    সারাদেশে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা ও শোক প্রকাশ

    সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও ত্রিবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিভিন্ন অঞ্চলে এ জানাজার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খালেদা জিয়ার রুহের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, যাতে তার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়।

    কুষ্টিয়া: ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বাদ জোহর খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা নাহিদুল ইসলাম। এ জানাজায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক।

    ঝিনাইদহ: শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।

    এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রথম দিন থেকেই জেলা বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। দলীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা হয়েছে এবং কোরআন তিলাওয়াত চলছে। এই কর্মসূচি ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছেন জেলা বিএনপির কর্মকর্তারা।

    বগুড়া: শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিকেলে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন, কিছু মানুষ কাঁদো কাঁদো হয়ে জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর মুসল্লিরা দোয়া ও মোনাজাত করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

    সিলেট: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জানাজায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন।

    রাঙ্গামাটি: জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায়কৃত জানাজায় রাঙ্গামাটির মানুষও উপস্থিত হন। জানাযার সম্প্রচার এলইডি টিভির মাধ্যমে দেখানো হয় সরাসরি।

    রংপুর: বুধবার বাদ জোহর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গায়েবানা জানাজা হয়। ইমামতিতে ছিলেন মাহফুজ হাফেজ মোঃ হামিদুল ইসলাম। এতে প্রবীণ নেতারা ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ অন্যরা অংশ নিয়ে দোয়া করেন।

    রাজবাড়ী: খানখানাপুর সুরাজ মোহিনী ইনস্টিটিউট মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সবস্তরের মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

    পঞ্চগড়: বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুলে বাদ জোহর গায়েবানা জানাজা হয়, যেখানে সব স্তরের মানুষ অংশ নেয়। জানাজার পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া হয়।

    রাজশাহী: বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে জানাজা সম্পন্ন হয়। নগরীর টিকাপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে সবাই তার জন্য দোয়া করেন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোহরের নামাজের পরে কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হয়। সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোক পালিত হচ্ছে।

    বরিশাল: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নগরের ৩০টি ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে সাত দিনের দোয়া-প্রার্থনা ও শোক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকল অফিসে কালো পতাকা উত্তোলন ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।

  • গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে শঙ্কা ফিরে এসেছে

    গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে শঙ্কা ফিরে এসেছে

    আগামী জাতীয় নির্বাচন কি বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে সেই প্রশ্নে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, নির্বাচন শুরুর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তফসিল ঘোষণের পর থেকে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনীসহ সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকলেও, আসল প্রশ্ন হলো—এই পরিস্থিতিতে কি নির্বাচনটা সত্যিই ফ্রি, ফেয়ার এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবে? তিনি ব্যক্ত করেছেন ব্যাপক শঙ্কা।

    এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে এখনও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অনুপস্থিতি নেই। তারা সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে কেন্দ্রে না যাওয়ার धमকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও নিরাপত্তার অভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু ভোটারদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে, কেন তারা অন্য দলের পক্ষে ভোট দেবেন। এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে এবং এর দায়ভারও সরকারের ওপর চাপান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন কল্পনা করা সম্ভব নয়। তিনি সোমবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্বারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    প্রধান নির্বাচন উপদেষ্টার আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোটাররা যেন ঈদের দিনের মতো উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেই নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সরকারের। তাছাড়া, আসন্ন নির্বাচনের জন্য ১০ দল একত্রে আলোচনা করে শিগগিরই আসনের বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা যদি মনে করেন, পরিবর্তনের পক্ষে তারা ভোট দিতে চান, তবে প্রত্যাহার করে ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান।

    এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই সময় খুলনা-১, খুলনা-২, খুলনা-৪ ও খুলনা-৬ আসনের প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দেন।

  • সাতক্ষীরা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আ’লীগ নেতা সরদার মুজিবের মনোনয়নপত্র দাখিল

    সাতক্ষীরা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আ’লীগ নেতা সরদার মুজিবের মনোনয়নপত্র দাখিল

    সাতক্ষীরা-১ আসনে (তালা-কলারোয়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সরদার মুজিব। সোমবার জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে তার পক্ষে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। সরদার মুজিব নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়া সংগঠন আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলা শাখার কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি দলের মনোনয়ন চেয়ে unsuccessful হয়েছেন, তারপরও বিভিন্ন সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। সোমবার রাতে সরদার মুজিব বলেন, আমার পক্ষে আজ সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে আমার প্রস্তাবক মাগফুর রহমানকে কলারোয়া থানা পুলিশ আটক করেছে। আমি তার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জানার জন্য সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

  • বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

    বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

    বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু সংবাদটি বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও একই তথ্য জানানো হয়, যেখানে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আমাদের দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের প্রার্থনায়ের পরে ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দান করুন এবং তার জন্য দোয়া কামনা করছি।’ তার জীবনের শেষ সময়টিতে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে সেখানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, এবং তার অবস্থা সংকটময় বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়ে ছিলেন। খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে। তার বাবা ছিলেন ইস্কান্দার মজুমদার, মা তাহিয়া মজুমদার। তরুণ বয়সে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তার বিবাহ হয় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি ছিলেন ফার্স্ট লেডি এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু শোকাবহ পরিস্থিতিতে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮২ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান ও ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। আটের দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি এনে দেয়। দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি সাতবার শিরচ্ছেদ ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সরকারের প্রথম অবদান ছিল দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করা, বিশেষ করে শিক্ষাখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা, যেখানে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৬ সালে বিএনপি নির্বাচনে হেরে গেলেও, তিনি বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালে অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর বিশ্বস্ততা উপরে তুলে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাশালী নারীদের মধ্যে স্থান দেয়। নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি পরাজয়হীন, প্রায় সব নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০১১ সালে তাকে নিউ জার্সি স্টেটের সিনেট ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ হিসেবে সম্মানিত করে। ২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়ে। তবে বিভিন্ন দেশের ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। প্রায় তিন বছর পর, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় এসব মামলায় তাঁকে অব্যাহত দৃষ্টান্তে খালাস দেওয়া হয়, ও তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য প্রয়াসী, এই মানবতাবাদী নেত্রী আজ আমাদের মাঝে নেই, তবে তার প্রতীকী অবদান ও সংগ্রাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • খুলনায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    আমরা মনে করি, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা। এই গণতান্ত্রিক স্বপ্নকে সামনে রেখে আমরা দীর্ঘ দিন ধরে জীবন উৎসর্গ করে লড়াই করে এসেছি। বাংলাদেশের মানুষও শত শত বছর ধরে তাদের স্বাধিকার অর্জনের জন্য নিরলস সংগ্রাম করে আসছে। এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আরও এগিয়ে যেতে এবং দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক অবস্থা সুদৃঢ় করতে, খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে বিশেষ এক দোয়ায় অংশ নেন, যেখানে তিনি দেশবাসীর জন্য শান্তি, মুক্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এ সময় তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এছাড়াও তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা এবং স্বস্তি কামনাও করেন। পরে খুলনা চানমন্ডল কবরস্থানে গিয়ে তার পিতামাতা ও পরিবারের জন্য দোয়া করেন, যা পরিচালনা করেন মাওলানা জাহিদুল ইসলাম।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু এরপর নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকরা। আরও ছিলেন জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, এড. আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, কাজী মোহাম্মদ রাশেদ, এড. আকরাম হোসেন, আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু সহ অনেক নেতাকর্মী।

    অন্যদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় সাউথ সেন্ট্রাল রোডে হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে দেশ ও দলের জন্য শান্তি কামনা করা হয়। এই দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জাকির হোসেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন জুয়েলারী ব্যবসায়ী সমিতির শংকর কর্মকার, শিবনাথ ভক্ত, পরিতোষ চন্দ্র রায়, বাসুদেব কর্মকার, শেখ শওকত আলী, আজিজুর রহমান ও আক্তার দেওয়ানসহ আরো অনেকে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি গুলজার ফাউন্ডেশনের সদস্য মরহুম ডাঃ সাঈদ এর রুহের মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। সভায় আলোচনা ও দোয়া পরিচালনা করেন জাকির হোসেন, যেখানে গ্রাম-শহর থেকে আগত নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশ নেন।

  • খুলনায় বিএনপির শোক প্রকাশে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু

    খুলনায় বিএনপির শোক প্রকাশে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু

    খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে। শোকের খবর শোনার সাথে সাথেই বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং সকল নেতাকর্মী কালো ব্যাজ ধারণ করে। পাশাপাশি, দলের কার্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং পালন করা হচ্ছে শোকসভা।

    আমিন, খুলনা জেলা বিএনপি ৭ দিনের কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—৭ দিন কালো ব্যাজ ধারণ, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলন।

    নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, আজ দেশের জন্য বড় ক্ষতি হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের একজন মহান নেত্রী, যিনি জাতির জন্য প্রয়োজনীয় ছিলেন। গত সরকার তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে জেলে পাঠিয়েছে, যার ফলে তিনি আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন।

    নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। তিনি একজন সাহসী নেত্রী, যিনি দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি দ্রুত চলে যাওয়ার কারণে সবাই শোকে ভেঙে পড়েছেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

  • তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, গত দেড় দশকে সারাদেশের মতো খুলনার মানুষও ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে এবার দেশবাসী সেই অধিকার ফিরে পেয়েছেন। তিনি বলেন, সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্নিপরীক্ষা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপি সম্পূর্ণ দৃঢ়। তাই দেশবাসীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাইরে বিএনপি’র কোনো প্রার্থী নেই; ব্যক্তি চেয়ে দল বড়, আর দল থেকে বড় কিছুই নেই; সর্বোপরি, আগে বাংলাদেশ।

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেলে খুলনা-১ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা শীর্ষক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি। মনিরুজ্জামান মন্টু আরও বলেন, খুলনার প্রত্যেক সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী করতে দলের সকল নেতাকর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা জানেন- এবারের নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হবে। ইতিমধ্যে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়েছে। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করতে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, সব স্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করবেন।

    এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক শেখ মোঃ তৈয়েবুর রহমান। জেলা বিএনপি’র সদস্য সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে ও মোঃ এজাজুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা মোঃ ফারুক হোসেন খন্দকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান জিকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, আশিকুজ্জামান আশিক, ওয়াহেদুজ্জামান, কারিমুল ইসলাম, শেখ মোঃ মাসুদুজ্জামান, আবু বকর সিদ্দিক নিরু, ব্রজেন ঢালী, বাহাদুর মুন্সী, আবুল হোসেন তালুকদার, রেহেনা আফরোজ সুইটি, কনিজ ফাতেমা, বাপ্পী খান, রুহুল মোমেন লিটন, রাশেদ কামাল, জসিম উদ্দিন, ওলিয়ার রহমান, মোল্লা ইমরান আহম্মেদ, আসাফুর রহমান, হাফিজুর রহমান, মোঃ আরাফাত হোসেন, কামাল মহলদার, জাহাঙ্গীর হাওরাদার ও মোল্লা আসাদুজ্জামান প্রমুখ।