Category: সারাদেশ

  • খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য খুলনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

    খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য খুলনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

    বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের জন্য অগ্রণী নেত্রী, এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে খুলনায় বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা, খুলনার ঐতিহ্যবাহী টাউন মসজিদে খুলনা মহানগর বিএনপি এর উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা প্রিয় নেত্রীর জন্য অন্তরের আন্তরিকতা ও গভীর শোকের অনুভূতি প্রকাশ করে চোখের জল দিয়ে দোয়া করেন। এ সময় তাদের মধ্যে এক আবেগময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা সকলের মনকে স্পর্শ করে।

    দোয়াকে উদ্বোধন করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মাধ্যমে দেশের গণমানুষের প্রতি যা ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগ প্রকাশ হয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এই ভালোবাসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জীবন উৎসর্গ করেছেন। আজ তারেক রহমানের হাতে পতাকা ওঠার পর, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশকে স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ার অঙ্গীকার যুগান্তকারী।

    মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নীতির প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মাপকাঠিতে বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপোস করেননি। তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তেও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে গেছেন, বারবার কারাবরণ করেছেন। তার গভীর দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি ভালোবাসাই আজ সকলকে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ সময়েও অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি দেশ থেকে দূরে যাননি, কারণ দেশের মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা অমোঘ।

    দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, নাসিরউদ্দিন, আব্দুর রশিদ, আশরাফুল ইসলাম নূর, আশরাফুল আলম নান্নু, সজীব তালুকদার, ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তি, কাজী জলিল, রকিবুল ইসলাম মতি, এড. মশিউর রহমান নান্নু, নাজমুস সাকিবসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে খুলনা মহানগর ও জেলার প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজের শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসব দোয়াতে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধার পাশাপাশি, মানুষের মনে মনে দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তির জন্য অঙ্গীকার আরো দৃঢ় হয়। প্রমাণ হয়, গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন অঙ্গীকার হিসাবে থাকবেন।

  • খুলনা-৪ আসনে মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা

    খুলনা-৪ আসনে মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা

    খুলনা-৪ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আজ সম্পন্ন হয়েছে। চতুর্থ দিনের এই পর্বে মোট চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। শনিবার সকালে সাড়ে ১০টায় শুরু হয় মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, যাতে দেখা যায় যে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। আজকের এই চতুর্থ দিনের যাচাইয়ে, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অন্যদিকে, মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম, বিএনপির এস.কে. আজিজুল বারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহমেদ সেখ, এবং খেলাফত মজলিসের এস এম শাখাওয়াত হোসেন। এই ফলাফলের ফলে আসনে প্রার্থীর সংখ্যা এখনও নির্দিষ্ট থাকলেও, বাতিল হওয়া প্রার্থীসংখ্যা মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে।

  • বাগেরহাটে ঋণ খেলাপি ও তথ্যে গরমিলের কারণে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    বাগেরহাটে ঋণ খেলাপি ও তথ্যে গরমিলের কারণে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    বাগেরহাট জেলায় আসন্ন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঋণ খেলাপি ও তথ্যগত গরমিলের কারণে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মোঃ বাতেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু আনসার, সহকারি রিটার্নিং অফিসারগণ, মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা।

    বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন থেকে মোট ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয় এদের মধ্যে cincoজনের মনোনয়ন বৈধ নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলা) আসনে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এর মধ্যে স্বাক্ষর গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মুশফিকুর রহমান, ঋণ খেলাপির অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শামীম, এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম সরোয়ারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলা) আসনে লিভারের ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রার্থী মোঃ হাসান ইমাম লিটুর মনোনয়ন ঋণ খেলাপির কারণে বাতিল হয়েছে।

    বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা) আসনে ভোটারদের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খাইরুজ্জামান শিপনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, এবং ঋণ খেলাপি বা তথ্যগত গরমিল থাকায় পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাতিলপ্রাপ্ত প্রার্থীরা ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

  • আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল

    আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল

    আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের নির্বাচন কমিশন আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে। ওইদিন দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর সংঘর্ষের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেটি নির্বাচন কমিশনের পাঠানো স্বাক্ষরের সঙ্গে মেলে না। ফলে, মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।

    নির্বাহী হাকিম হেদায়েত উল্যাহ বলেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর গরমিল থাকায় তাকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে যে গরমিল পাওয়া গেছে, সেটি পরীক্ষা করে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    চট্টগ্রাম-৫ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

  • দেশ ও মানুষের স্বার্থে কখনো মাথা নত করেননি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া

    দেশ ও মানুষের স্বার্থে কখনো মাথা নত করেননি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এত বড়ো জানাজা, এত সম্মান, এত মানুষের আবেগঘন উপস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি। কোন রাজনীতিকের শেষ বিদায়ের এমন দৃশ্য আর দেখা যায়নি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের জন্য এক অনুভূতির নাম। দীর্ঘ নয় বছর তিনি স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে অবিরাম আন্দোলন চালিয়ে যান, যেনতেনভাবে সংগ্রাম করে ১৯৯১ সালে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন। মহানগরবাসীর কাছে তিনি পেয়েছেন ‘আপসহীন দেশনেত্রীর’ মর্যাদা। তিনি দেশের স্বার্থ ও মানুষের জন্য চির আপসহীন। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে তিনি সকল অপশক্তির সামনে কখনো মাথা নত করেননি। প্রলোভন, ষড়যন্ত্র কিংবা হুমকি—সবকিছুকেই তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত এড়িয়ে চলেছেন। তিনি সবসময়ই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেঁতুলতলা মোড়ে অবস্থিত দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে দলের প্রয়াত চেয়রম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, সাদেকুর রহমান সবুজ, মজিবর রহমান ফয়েজ, ইশহাক তালুকদার, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, রবিউল ইসলাম রবী, মাহিুদ্দিন টারজান, বাচ্চু মীর, শরিফুল ইসলাম বাবু, আব্দুল জব্বার, নাসির খান, আসলাম হোসেন, ওমর ফারুক, খায়রুল ইসলাম লাল, জিএম রফিকুল ইসলাম, মাসুদ খান বাদল, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হোসেন আলম, নাহিদ মোড়ল, শামীম খান, জাকারিয়া লিটন, লিটু পাটোয়ারী, খান শহিদুল ইসলাম, গোলাম নবী ডালু, মনিরুল ইসলাম, রিয়াজুর রহমান, মোল্লা ফিরোজ আহমেদ, খান মোঈনুল ইসলাম মিঠু, আলম হাওলাদার, মাজেদা খাতুন, নূরুল ইসলাম লিটন, মাওলানা আব্দুল গফ্ফার, সুলতান মাহমুদ সুমন, এড. রফিকুল ইসলাম, ইফতেখার জামান নবীন, জামাল মোড়ল, আল বেলাল, জাহাঙ্গীর হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, মোল্লা আলী আহমেদ, মাসুদ রেজা, শরিফুল ইসলাম সাগর, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, শাকিল আহমেদ, এ আর রহমান, মোঃ সুলতান মাহমুদ সুমন, সুলতান মাহমুদ সুমন, ইউনুচ মোল্লা, মীর মোহাম্মদ বাবু, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, মহিদুল হক টুকু, রাজিবুল আলম বাপ্পি, এম এ সালাম, তালেব মোল্লা, তরিকুল আলম, মাহমুদ হাসান মুন্না, শামসুল আলম বাদল, ইমরান হোসেন, পারভেজ মোড়ল, মেজবাউল আক্তার পিন্টু, হাবিবুর রহমান, সেলিম বড় মিয়া, মামুনুর রহমান, আসমত হোসেন, মারুফুর রহমান, রুহুল আমির রাসেল, সাজ্জাদ আলী, কামরুল আলম খোকন, আল আমিন শেখ, পারভেজ আহমেদ, তানভীর প্রিন্স, নাজমা বেগম ও লাকি অথকার সহ অনেক নেতাকর্মী।

  • খুলনা ওয়াসার অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

    খুলনা ওয়াসার অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

    খুলনা ওয়াসার বিভিন্ন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে তারা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের জন্য আন্দোলনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এই বিষয়ে জানা গেছে, শোক দিবস ও সাধারণ ছুটির ঘোষণা উপেক্ষা করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা ওয়াসার সব দপ্তর বন্ধ করে কর্মচারীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ওয়াসা ভবনের বাইরেWorkers’ Union নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

    বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে শ্রমিক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, গত বুধবার দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শোক দিবসের অজুহাতে সব কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও খুলনা ওয়াসার কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তারা বলেন, ওই দিন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে অফিস চালু রেখেছিলেন, তবে তিনি নিজে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করেননি। এমনকি তিনি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না করে গোপনে নিয়োগের বাণিজ্য চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    বুধবারের ঘটনা নিয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, ওই দিন অফিসের প্রধান ফটকের সামনে তারা বিক্ষোভ ও র্যালি করেন। এরপরে, বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবারো প্রতিবাদে জড়িত হন, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ কবির হোসেন। বক্তারা জানান, দেশের শোকের দিন সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও অফিস খুলে রাখার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়।

    শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, এই তারেক্কা শোভাযাত্রা ও কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির যোগসাজশের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপ ও অর্থ লেনদেনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁরা বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্তারা এখনকে পদোন্নতি পাচ্ছেন এবং একাধিক অপ্রকাশ্য নিয়োগ অবৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অফিসের অপ্রমাণিত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতা কর্মীরা।

    প্রসঙ্গত, শ্রমিক-অভিযুক্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়ার পরে অনেক কর্মকর্তাই বৃহস্পতিবার অফিসে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ব্যতিক্রম হিসেবে, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা অফিসে উপস্থিত হয়নি।

    উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে খুলনা ওয়াসার সচিব মাহেরা নাজনীন বলেন, তিনি ওইদিন ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকায় রয়েছেন এবং রোববার অফিসে ফিরে আসার পর বিষয়টি দেখা হবে। এর পাশাপাশি, খালিশপুর থানার ওসি মোঃ তৌহিদুজ্জামান জানান, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

  • রাশেদের মোট সম্পদ সাড়ে ৮১ লাখ, আবু তালিবের ৫৩ লাখ ও ফিরোজের প্রায় ৫৫ লাখ টাকা

    রাশেদের মোট সম্পদ সাড়ে ৮১ লাখ, আবু তালিবের ৫৩ লাখ ও ফিরোজের প্রায় ৫৫ লাখ টাকা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার অংশবিশেষ) মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ প্রচুর আগ্রহ দেখা গেছে। মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও অবশেষে ৯ জন তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এসব দাখিলকৃত হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রার্থীদের আয়, সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্য বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে।

    এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খাঁন, জামায়াতে ইসলামী থেকে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সম্পদ ও আয়ের বিষয়গুলো বিভিন্ন আলোচনায় আসছে।

    বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খাঁন তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসার মাধ্যমে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি নিজের নামে ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণ আছেন, যা উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত নগদ অর্থ রয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা, আর স্ত্রীর নগদ অর্থ ৩০ হাজার টাকা। বাড়ির আসবাবপত্র, অন্যান্য সামগ্রীসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা, আর স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সেইসঙ্গে তার নামে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে তিনটি চলমান এবং দুইটি খারিজ হওয়া মামলার উল্লেখ রয়েছে।

    জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনিত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, কৃষি, ব্যবসা এবং নিজস্ব চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪০ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি উপহার হিসেবে পেতেছেন ৫ ভরি স্বর্ণ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, যার মধ্যে বাড়ির আসবাবপত্র, মোটরযান ও কৃষিজমিসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ রয়েছে, আর স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৪ টাকা। বর্তমানে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ২৯ লাখ ১৫ হাজার ২০৫ টাকা, এছাড়াও তার কাছে ২২ ভরি স্বর্ণ ও গহনা রয়েছে। উত্তরেরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির পরিমাণ ৪৭.১৯ শতক, এবং মোট আসবাবপত্র ও কৃষিজমিসহ তার মোট সম্পদ প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই হলফনামার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, যদিও আবু তালিব এবং ফিরোজের কৃষি জমি ও কৃষি আয় রয়েছে, রাশেদ খাঁনের ক্ষেত্রে কৃষি সম্পদ বা কৃষি আয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

  • খুলনা নগরী ও পূর্ব রূপসায় আওয়ামী লীগের স্লোগান লেখা পোস্টার দেখা গেছে

    খুলনা নগরী ও পূর্ব রূপসায় আওয়ামী লীগের স্লোগান লেখা পোস্টার দেখা গেছে

    খুলনা মহানগরী ও পূর্ব রূপসা এলাকায় এখন বিভিন্ন স্থানে পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যেখানে আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গলা তোড়া ভাষা এবং আওয়ামী লীগের অশুভ স্লোগান। এসব পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘দেশদ্রোহীর মুখে লাথি মারুন, জয় বাংলার শপথ করুন, দেশকে রক্ষা করুন! জয় বাংলা’, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি বিশদভাবে ফুটে উঠেছে।
    সূত্রমতে, এই পোস্টারগুলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেমন ট্রাফিক মোড়, সুন্দরবন কলেজের সামনে, পশ্চিম রূপসা ঘাট, মাছের আড়ত, কাঁচা বাজার, তেরগোলা, পূর্ব রূপসা ঘাট, মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এ সব পোস্টার দ্রুতই বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয় এবং দেখা যায় রাতের অন্ধকারে এসব কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে ভয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • স্বতঃস্ফূর্ত স্বাক্ষর প্রমাণ করে খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের আস্থার ও ঐক্যের প্রতীক

    স্বতঃস্ফূর্ত স্বাক্ষর প্রমাণ করে খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের আস্থার ও ঐক্যের প্রতীক

    খুলনা মহানগর বিএনপি উদ্যোগে দেশবরেণ্য নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে শোক বই খোলা হয়েছে। এই শোক বইটি খোলা হয়েছে দলীয় কার্যালয়ে, কে ডি ঘোষ রোডে, যেখানে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে স্বাক্ষর দিয়ে শ্রদ্ধা ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করতে পারছেন।

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, গণতন্ত্রের মা ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা ও গভীর শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে এই শোক বই খোলা হয়েছে। এতে দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি সহ সাধারণ মানুষ স্বাক্ষর করছেন। তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই নানা পেশার ও সমাজের মানুষ দলীয় কার্যালয়ে এসে এই শোক বইয়ে স্বাক্ষর করছেন, যা প্রমাণ করে খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক।

    Thursday, এর শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবীর, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী।

    নেতাকর্মীরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, এবং তার ত্যাগ ও অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

    তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মরদেহের জন্য তিন দিনের শোকপ্রদর্শনী শেষে, ৩১ ডিসেম্বর থেকে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে শুরু হয় এই শোক বই, যা এখনও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

  • বটিয়াঘাটায় নারীর মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন, প্রেমিক গ্রেফতার

    বটিয়াঘাটায় নারীর মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন, প্রেমিক গ্রেফতার

    অপহরণের মামলার সূত্র ধরে বটিয়াঘাটায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন এক নারীর মৃতদেহের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। দীর্ঘ চার দশকের তদন্ত ও ৪০ দিনের কঠোর অভিযানের পর আসল আসামি মোঃ লালন গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা শামিম ফকির (৩০) তার মা সালেহা বেগমের অপহরণের অভিযোগে একই গ্রামের মোঃ লালন গাজীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান। তদন্ত চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, সালেহা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তবে ১৯ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যার পর তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সালেহা বেগম ও আসামি লালন গাজী একত্রে ইন্দুরকানীর চাড়াখালী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন।

    প্রাথমিক তদন্তে আরও নির্দেশ করে, ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ভিকটিম ও আসামি খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার জন্য একত্রে বাসা থেকে বের হন। পরের দিন, অর্থাৎ ২০ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া গ্রামে ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

    পরে, পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিমের সংগৃহীত ছবি ও আলামত দেখানোর পর পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহটি সালেহা বেগমের বলে ত্বরিতভাবে শনাক্ত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পিবিআইয়ের বাক্যবদ্ধ হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

    উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই প্রেমিকার হত্যার প্রধান আসামি লালন গাজী পলাতক থাকেন। পিবিআই’র প্রধান মোঃ মোস্তফা কামাল, এ্যাডিশনাল আইজিপি’র তত্ত্বাবধানে, এবং খুলনা জেলা অফিসের ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। অবশেষে, ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের হালুয়াঘাট বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    আটকের জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি স্বীকার করে যে, ভিকটিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের চাপের কারণে সে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৯ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার পার বটিয়াঘাটা খেয়াঘাট এলাকায়, সহযোগীদের সহায়তায় সালেহা বেগমের হত্যা করে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহটি ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি তার দেখানো অনুযায়ী গজালিয়া গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সালেহা বেগমের ব্যবহৃত মালামাল ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেন। বর্তমানে, আসামিকে পুনরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, এবং এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।