Category: সারাদেশ

  • বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে কুমির তুলে নিয়ে গেল; তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে কুমির তুলে নিয়ে গেল; তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাট থেকে এক কুকুরকে কুমির ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেলে এ দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সরগরমি শুরু হয় এবং ঘটনার真তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ অনুযায়ী, মাজার এলাকায় একমাত্র কুমির ধলা পাহাড় ঘাটে অবস্থান করছিল। ঘটনার দিন কুকুরটি অসুস্থ মনে হচ্ছিল এবং আশপাশের মানুষের মধ্যেই কামড় দিয়েছে বলে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। কুকুরটি নিজে থেকেই ঘাটে নামে; কিছু সময় পর কুমির এসে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কুকুরটির মরদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা তাকে মাটি চাপা দেয়।

    একটি ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে থাকা ভিডিওতে দেখা যায় কুকুরটি অর্ধেক পানিতে তলিয়ে আছে, পরে পানির গভীরে নামার চেষ্টা করে এবং কুমির কাছে এসে কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধারণা ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে; কেউ কেউ বলছেন কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু লোক খাদেমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান হাওলাদার জানান, ঘটনাস্থলে অনেক দর্শনার্থী ছিলেন। কুকুরটি হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিক থেকে দৌড়ে এসে ফোরকানের পায়ে কামড় দেয়। পরে অন্যকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে ফোরকান কুকুরটিকে থামাতে চেষ্টা করেন; কুকুরটি পানির দিকে নেমে গেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে কুমির এসে কুকুরটিকে পানি থেকে ধরে নিয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ অন্য পাশে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা সেটি মাটিচাপা দেয়।

    মাজার সংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তারও বলেন, কুকুরটি আগে থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল, তাঁর দোকানের সামনে কয়েকজনকে কামড়িয়েছে, এক তিন বছরের শিশুকেও গ্রাসের চেষ্টা করেছে এবং বিভিন্ন পোলাপান খেয়েছে। তাই এখানে এখন মিথ্যা গল্প ও ভিত্তিহীন অভিযোগও ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    মাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিচিত যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পাড়ায়; ডিম পাড়ার পরে মা কুমির একটু হিংস্র হয়ে যায়। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন না, কিন্তু সেখানে অনেকেই ভিডিও করেছে এবং কাউকে কুমিরের মুখ থেকে কুকুর ছিনিয়ে আনতে অনেকে সাহস পায়নি।

    খাদেমরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে এআই বা মিছমিছ তথ্য ব্যবহার করে মূল ঘটনা বিকৃতি করা হয়েছে। তাদের দাবি, কুকুরটিকে কেউ বেঁধে বা ঠেলে দিঘিতে ফেলেনি; কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং নিজে থেকেই ঘাটে নেমেছিল। প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলামও ঘটনার অনাকাঙ্ক্ষিততা স্বীকার করে বলেন, ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের কারণে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

    ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসক আতিয়া খাতুনকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও আছেন। জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং কুকুরটির মাথা সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানিয়েছেন, রিপোর্ট পেলে কুকুরটির অসুস্থতা বা জলাতঙ্কের মতো রোগ ধরা পড়েছে কিনা তা জানা যাবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)–র সদস্য শেখ মোহাম্মদ নূর আলম বলেন, যদি প্রমাণিত হয় কেউ বিনোদন বা ভিউ বৃদ্ধির জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ঠেলে দিয়েছে, তাহলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানিয়েছেন, মাজারের দিঘিতে কখনও কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হয়নি এবং এমন কাজ করা হয় না—যদিও অনেকে কুসংস্কারের কারণে বেঁচে থাকা প্রাণি ছুড়ে দিতে চাইতে পারেন। তিনি খাদেম ও দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়েছেন যে কোনো জীবিত প্রাণি দিঘিতে না ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধও করেন।

    পটভূমি হিসেবে জানা গেছে, খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে প্রাচীনকাল থেকে কুমিরের বংশধর রাখা হলেও বর্তমানে ঐতিহ্যগত প্রাচীন কোনো কুমির নেই। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে একটিই এখনো দিঘীতে আছে এবং ঐ কুমির আগেও কয়েকবার মানুষের উপরে আক্রমণ করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি দ্রুত কাজ করছে; প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। যেখানে মনের মতো পরিষেবা ও সুযোগ থাকবে—সেই খুলনাই গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল বিকেলে নগরীর গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সকলের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্ত করতে হবে—আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতে আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করব।’’ তিনি মন্দিরের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সম্ভব সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন।

    মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।

    এদিন সকালে প্রশাসক নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজের তহবিল হতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। সামাজিক কাজে নিবেদিত লোকজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ—যাদের মধ্যে সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন ও বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস আছেন—তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাটে গত বুধবার বিকেলে এক কুকুরকে শিকার করেছে মাজারস্থ কুমির। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ছড়ায় ও অভিযোগ ওঠে যে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

    ওই ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় দেখা যায়, কুকুরটি প্রথমে ঘাটে একা এসে পড়ে এবং পানির মধ্যে নামার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে কাছাকাছি এসে কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা সেটি মাটি চাপা দিয়ে দাফন করে। কিছু লোক দাবি করেন কুকুরটি অসুস্থ্য হওয়ায় তারা সেটি মাটিচাপা দিয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী এবং মাজারের নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, ওইদিন ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় ছিল। হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিকে থেকে এক আক্রমণকারী কুকুর দৌড়ে এসে তার পায়ে কামড় দেয়। নিরাপত্তা প্রহরী কুকুরটিকে ঠেকাতে চাইলে কুকুরটি দিঘির দিকে নামতে উঠে; সে সময় কুমিরটি এসে কুকুরটিকে ধরে পানির ভেতরে নিয়ে যায়। ফোরকান বলেন কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিল এবং অনেককে কামড়িয়েছে।

    মাজারের খাদেমরা ও স্থানীয়রা অভিযোগসমূহ খণ্ডন করে বলেছেন, ঘটনাটিকে অসত্যভাবে উপস্থাপন করে ভিডিও ও ম্যানিপুলেটেড তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা বলছেন, কাউকে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ছুঁড়ে দেওয়ার মতো সাহস ছিল না। স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কয়েকদিন আগে ওই কুমির ডিম পেড়েছিল; ডিম পাড়ার পর কুমিরটি একটু হিংস্রভাবে আচরণ করতে পারে।

    ঘটনার পর জেলা প্রশাসন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

    আজ বিকালে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে; কুকুরটির মাথা সিডিআইএল (সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি) এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএল এর রিপোর্ট পেলে কুকুরটি অসুস্থ্য ছিল কিনা বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা জানা যাবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম ঘটনাটি হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, যদি কেউ ভিউ বা বিনোদনের জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ফেলে থাকে, তাহলে কঠোর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর কোনো প্রথা নেই এবং এরকম দাবি ভিত্তিহীন। তিনি খাদেমদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কুমিরকে কোনো জীবিত প্রাণী খাওয়ানো না হয় এবং এ ধরনের কুসংস্কার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো হয়। এছাড়া প্রাণিটির শরীরে কুমিরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো আঘাত আছে কিনা তাও আমরা যাচাই করছি; তদন্ত কমিটি পেলে দ্রুত প্রতিবেদন দেবে এবং তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তথ্য মতে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন ওই দিঘিতে দীর্ঘদিন ধরেই কুমির রাখা হলেও বর্তমানে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে কেবল একটি কুমিরই এখন দিঘীতে আছে। ওই কুমির আগেও মাঝে-মধ্যেই মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

    ওই দিন ঘটা কুকুর শিকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ল্যাব রিপোর্টের ওপর সবাই অপেক্ষা করছে।

  • প্রধানমন্ত্রী ২৭ এপ্রিল যশোরে—জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী ২৭ এপ্রিল যশোরে—জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর সফরে আসছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভ্রমণ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর মাধ্যমে যশোরের দীর্ঘ সময় থেমে থাকা উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন প্রাণ পাবে।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থল ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    ভিত্তিপ্রস্তর পরিদর্শনের পর অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী উলাশী খালের পুনঃখননেরও উদ্বোধন করবেন—উলাশী খালটি আগে তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করিয়েছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সময়সাপেক্ষ পাবলিক পরিদর্শন ও ঈদগাহ মাঠে জনসভা করারও পরিকল্পনা রয়েছে। জনসভা শেষে তিনি যশোর ত্যাগ করবেন।

    জ্বালানি তেলের সংকট সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট, যা বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। তবে জনগণ যাতে ভোগান্তির মুখে না পড়ে, সেজন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন চলবে এবং কৃষকদের ক্ষতি না হয়—এমনভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অব্যাহত সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনী স্থল পরিদর্শনের পরে প্রতিমন্ত্রী শার্শায় উলাশী খাল পরিদর্শনও করেন। পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) কর্সমকর্তা ও অন্যান্য সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সকল সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়ার আহ্বান কেসিসি প্রশাসকের

    সকল সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়ার আহ্বান কেসিসি প্রশাসকের

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়ে তোলা হবে তাদের লক্ষ্য। যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনাকে আধুনিক ও বহুজাতিকভাবে সহনশীল একটি শহরে পরিণত করা হবে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীত মুখার্জি।

    প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বক্তৃতায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। তিনি সকলে যাতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, তাতে সবাই একসঙ্গে মিলে বসবাসের পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। মন্দিরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে তিনি প্রয়োজনে সবধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

    মতুয়া মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ দেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু এবং ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।

    সকালে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • দিঘলিয়ায় তিন দিন নিখোঁজের পরে মাঝির মরদেহ উদ্ধার

    দিঘলিয়ায় তিন দিন নিখোঁজের পরে মাঝির মরদেহ উদ্ধার

    দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি শিববাড়ি গ্রামের শাহ আলম কালু মোল্লা (৩৫) নামে এক নৌকার মাঝির মরদেহ তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ উদ্ধার করা হলো। শুক্রবার দুপুরে মোকামপুর খেয়াখাঁট এলাকা থেকে নৌ-পুলিশ তার ভাসমান মরদেহটি খুঁজে পায়। স্থানীয় সূত্র বলছে, কালু মোল্লা গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৯টার দিকে নদীর চরে নৌকা বাঁধার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরেননি। পরিবার এই বিষয়ে নানা স্থানে খোঁজ চালাতে থাকেন, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাননি। অবশেষে দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। জানানো হয়, কালু মোল্লা পেশায় নৌকা মা’জ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেনহাটি বাজারের এক ব্যবসায়ীর সাথে কাজ করতেন। নিখোঁজের সময় তার ব্যবহৃত স্যান্ডেল নৌকায় ও মোবাইল ফোন নদীর চরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, উদ্ধারকৃত মরদেহটি তার স্ত্রীর শনাক্ত করেছেন। নৌ-পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

  • সমাজের সকল সম্প্রদায়ের সাথে মিলেমিশে উন্নত নগরী গড়তে চান খুলনা সিটি মেয়র

    সমাজের সকল সম্প্রদায়ের সাথে মিলেমিশে উন্নত নগরী গড়তে চান খুলনা সিটি মেয়র

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একসাথে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, সুন্দর এবং উন্নত নগরী গড়ে তোলা। তিনি বলেন, যেখানে যা প্রয়োজন, সেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনাকে একটি আরো সুষ্ঠু, বাসযোগ্য ও সুন্দর শহর হিসেবে রূপান্তরিত করতে চাই। এ জন্য তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা ও সহানুভূতি কামনা করেন।

    গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃ্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন খুরুনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক। মূল অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় শ্রী শ্রী হরিমন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাসের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু এবং ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা ভারতের সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।

    প্রশাসক আরো বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রকল্প, যা দেশের সব অংশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য। তিনি জানান, জাতির বঞ্চনা দূর করে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগে আছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সকলের মধ্যে সম্প্রীতি, বিশ্বাস ও আস্থার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে চাই, যাতে সবাই একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে। তিনি মন্দিরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাসও দেন।

    মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় এবং এতে উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। মূল আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত ও ঢাকা কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক এড. অপূর্ব বৈদ্য।

    সকালে, নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন নগরপাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের নিজ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক এড. জিএম ফজলে হালিম লিটন, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

  • রামপালে জমি বিরোধের জেরে হামলায় আহত ১

    রামপালে জমি বিরোধের জেরে হামলায় আহত ১

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার আদাঘাট এলাকায় জমির বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন মোঃ রাজু হাওলাদার (৩২)। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজু হাওলাদের স্ত্রী সনিয়া বেগমের সাথে একই এলাকার আব্দুল হালিম শেখ ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত একটি বিবাদ শুরু হয়। এই বিরোধের জের ধরে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে আদাঘাট সাইদের দোকানের সামনে রেহেনা বেগমের বসতবাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আব্দুল হালিম শেখ, তার ছেলে রবিউল শেখ ও আরও কয়েকজন লাঠি, লোহার রড, দা ও চাইনিজ কুড়াল সংগ্রহ করে এসে তার ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত রাজুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

    স্থানীয়রা জানায়, আহতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত রাজুকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রেহেনা বেগম রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

    রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত বিশ্বাস জানান, তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩টি দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

    সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩টি দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

    সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে শুক্রবার বনবিভাগের কর্মকর্তারা এক অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি দেশীয় বন্দুক এবং চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছেন। এ সময় তারা কোনো দুষ্কৃতিকারীকে আটক করতে পারেননি। ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরা বিভাগের কেঁচির খালের বাইনতলার এলাকায়, যেখানে বনবিভাগের টহলদল সন্দেহজনক কিছু দৃষ্টিগোচর হয়। বনকর্মীরা তখন দুষ্কৃতিকারীদের ধাওয়া করে, যারা বনপ্রান্তের গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে এই অস্ত্র ও গুলির সন্ধান পান। ঘটনা প্রসঙ্গে বনবিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বনজঙ্গল ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকেন এবং এই ধরনের অপরাধ দমন করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলিগুলো এখন পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলচ্ছে। বনদস্যুদের দমন এবং সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে এই অভিযান আরও জোরালোভাবে চালানো হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

  • গোবিপ্রবি’র শিক্ষক বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

    গোবিপ্রবি’র শিক্ষক বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

    গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বুধবার রেজিস্ট্রার মোঃ এনামউজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফাতেমা খাতুনের পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক হিসেবে अवসর শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও, তিনি তার পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্সের সুপারভাইজারের স্বাক্ষর, এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সময়মতো জমা দেননি।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি) লিখিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি।

    এ পরিস্থিতিতে, ঘটনা তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মোঃ কামরুজ্জামان, আর সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন রেজিস্ট্রার মোঃ এনামউজ্জামান। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক।

    উল্লেখ্য, এই তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।