আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার, খুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইর উপস্থিতি উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সার্চ্চ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ আইএবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব ও খুলনা ৪ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওঃ ইউনুস আহমাদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর ও খুলনা ৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মাওঃ আব্দুল আউয়াল, উপদেষ্টা মুফতী মাহবুবুর রহমান, খুলনা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, জেলা সহ-সভাপতি ও খুলনা ১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওঃ আবু সাঈদ, মোঃ আবু গালিব, মহানগর সেক্রেটারী মুফতী ইমরান হোসাইন, জেলা সেক্রেটারী এস এম রেজাউল করীম, নগর জয়েন্ট সেক্রেটারী মোঃ দ্বীন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ হুমায়ুন কবির, মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, ফেরদৌস গাজী সুমন, আলহাজ্ব সরোয়ার হোসেন বন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, নুরুজ্জামান বাবুল, মোঃ মঈন উদ্দিন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার খুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইর আগমন উপলক্ষে একটি বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যা খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
Category: সারাদেশ
-

মন ভালো হয়ে গেছে: মঞ্জু বললেন, মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল চোখে গ্রহণ করছে
খুলনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক এবং জনপ্রিয় দল, যার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোট দিতে পারছিলেন না, তাই এখন আসন্ন নির্বাচনের জন্য ভোটের উৎসব ও আমেজ ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছে। তারা চায়, জনপ্রিয় দল বিএনপি জিতবে। তিনি মনে করেন, ভোটের ব্যাপক ফলাফলের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হবে কারণ মানুষের আস্থা বর্তমান। বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে জনস্বার্থে রাজপথে থাকছে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা স্টয়ান্ড রোড, চানমারী বাজার, খ্রিস্টান পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ কালে এসব কথা বলেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালিদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। তার চলে যাওয়ার পরও জনগণের স্মৃতি ও শোক এখনো গভীর থাকছে। তারেক রহমান ১৭ বছর পর বাংলাদেশে এসেছেন এবং একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সকলের জন্য উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ভোটের উৎসাহ ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। নিরাপত্তার কোনো শঙ্কাও নেই।
গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মহিবুজ্জামান কচি, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, এড. মাসুম রশিদ, কেএম হুমায়ুন কবির, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, আলমগীর কবির, মীর কবির হোসেন, সালাউদ্দিন বুলবুল, সওগাতুল ইসলাম, আলম হাওলাদার, নুরুল ইসলাম লিটন, মেহেদী হাসান লিটন, হাসিনা আক্রাম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, রোকেয়া ফারুক, সেলিম বড় মিয়া, স্বপন হাওলাদার, মাসুদ খান বাদল, সমির সাহা, আবু তালেব, এসএম আব্দুর রব, শাহআলম, ইয়াকুব আলী, মোহাম্মদ আলী, পারভেজ আলম খান, সিরাজ মোল্লা, মহিউদ্দিন মঈন, জাহান আলী, শাহাদাৎ গাজী, ফিরোজ আহমেদ, আল আমিন হক পাপ্পু, জিএম মোজিবর রহমান, মো. মুন্না, খালেক গাজী, খায়রুল আলম, হানিফ ফরাজী, শামসুর রহমান নিশান, মামুনুর রহমান, ফারুক হোসেন খান, ইউনুচ মোল্লা, আব্দুর রশিদ, আব্দুল করিম, আলাউদ্দিন আলম, শাহনাজ পারভীন রিক্তা, মামুন রেজা, নাজমা করিম সহ বিভিন্ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
-

খুলনা-৪: বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬কে সামনে রেখে খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, তিনি উপজেলার ভিত্তিতে মোট ৭৪টি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেন।
হেলাল তার বক্তব্যে বলেছিলেন, নদী ও প্রকৃতিবেষ্টিত এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আধুনিক খুলনা-৪ গড়ে তোলা তার প্রধান লক্ষ্য। তাই অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প ও কৃষিসহ সামাজিক নিরাপত্তাকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইশতেহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভৈরব নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ, অসমাপ্ত নগরঘাট ও রেলিগেট সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং রূপসা উপজেলায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। রূপসা ফেরিঘাটকে টোলমুক্ত করা ও সেখানে আধুনিক পরিবহন স্ট্যান্ড নির্মাণও তার পরিকল্পনার অংশ।
স্বাস্থ্য খাতে তিনি দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর, রূপসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল এবং তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শিক্ষার ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি করণের প্রচেষ্টা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও লাইব্রেরি স্থাপন এবং বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ইপিজেড স্থাপন, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার কথা বলেন। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ-সার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রচলন ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও প্রদান করা হয়।
অপরাধ ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ মোকাবিলায় তিনি মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা করেন। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও জোর দেওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে হেলাল বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ ও উন্নত জনপদে রূপান্তরিত করার কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য খান রবিউল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, আবু সাঈদ, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া এবং শিহাবুল ইসলাম সিহাব।
-

ধর্মভেদ বাদে সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করবো: আজিজুল বারী হেলাল
খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপি তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ থেকে মুক্ত রেখে সকল ধর্মের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। কে কোন ধর্মের প্রতিনিধি—তা বড় বিষয় নয়, সবাই সম অধিকার নিয়ে বাস করবে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য স্বীকার করা হবে না।
এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল আই’র জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে হেলাল বলেন, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে এবং নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ‘‘নারী সমাজকে সম্মান ও নিরাপত্তা ছাড়া বাস্তব উন্নয়ন সম্ভব নয়,’’ তিনি যুক্ত করেন।
মাদক ও সন্ত্রাস দমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হেলাল বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়—ধর্ম চর্চা ও ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারও অপরাধ দমন ও সুস্থ সামাজিকতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি পরিবারকে বাল্যকাল থেকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং খেলাধুলাকে বাড়িয়ে যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি সরকার গঠিত হলে তিনটি উপজেলায় তিনটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও ভূমি অফিসের দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠে আসলে তিনি বলেন, ইউনিয়নসহ উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং দালালমুক্ত ভূমি দফতর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামীতেও এমন ধরনের অভিযোগ পেলে সাংবাদিক ও জনগণকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুমকি উচ্চারণ করেন।
নিজের বিরুদ্ধে প্রায়ই মিথ্যা মামলা ও কারাবরণ সংক্রান্ত প্রশ্নে হেলাল বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জ মেনে না নিলে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত।’’ তিনি অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানই নিজের রাজনীতির মূল আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল হেলাল, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাহুল, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি জয় নোটন বাড়ই, ফিফা রেফারি মনির ঢালী, সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন, বাকির হোসেন, প্রধান শিক্ষক বিউটি পারভিন, হাফিজুর রহমান, আঃ কুদ্দুসসহ শতাধিক সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, রূপসা উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা আহ্বায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, আনিসুর রহমান, জেলা বিএনপি নেতা শেখ আলী আজগর, এম এ সালাম, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা তুহিন, তাঁতিদল নেতা মাহমুদুল আলম লোটাসসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণজনে আনন্দের পরিবেশ বজায় ছিল এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী।
-

রাজনৈতিক নিপীড়নের শেষের পথে ভোটের বিকল্প নেই
সম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মোঃ মঈনুল ইসলাম বলেছেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা জামায়াতকে কুফুরি ও শিরকের সঙ্গে তুলনা করে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সরাসরি অবমাননা। দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের নিরন্তর কার্যকলাপের অবসান ঘটানোর জন্য দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোন বিকল্প নেই—এমনটাই তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশে অর্থনীতিতে প্রকাশ্য লুটপাট, বিচারব্যবস্থাকে দলীয় কারবারে পরিণত করা, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, এবং ভিন্ন মত প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালিয়ে দেশকে এক ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে বর্তমান শাসন ব্যবস্থা। এই ধ্বংসাত্মক বাস্তবতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ ১০ দলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালেঃ ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় একাধিক গণসংযোগ ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত আবাসিক এলাকা, আল আকসা, ফলইমারা, শিবপুর, বাদুরগাছা এলাকায় গভীর গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, হরিণটানা থানার কর্মপরিষদ সদস্য লিখন হোসেন, মতিয়ার রহমান, আব্দুর রশীদ মল্লিক, শহিদুল ইসলাম, ডাঃ ইলিয়াস হোসেন, তাজুল ইসলাম, আমীর হোসাইন, সালাহ উদ্দিন, আবদুল্লাহ আল মামুন, রাসেল গাজী, রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ ও আবু মুহসীন প্রমুখ। পরে সেক্রেটারি জেনারেলকে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপির নাসির গাজী নেতৃত্বাধীন কয়েকজন জামায়াতে যোগ দেন। এরপর বাদুরগাছা উঠান বৈঠকেও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বিকেলে ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজন করা হয় গণমিছিল ও সমাবেশ। পরে ৬নং ওয়ার্ডের আটরা-গিলাতলা এলাকার উঠান বৈঠকেও মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।
-

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও মেরামতের জন্য
খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য সব ধর্মের মানুষকে একত্রে দাঁড়াতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষরা হাজার বছর ধরে এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে গত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আন্দোলন, সংগ্রাম ও শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে এ দেশের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া গেছে, যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে খুলনা নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের জন্য তাদের লড়াই চালিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে জনপ্রিয় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন সংগ্রাম দীর্ঘ সময়ের। মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটের অধিকার আবারো প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা রচনা করেছেন। এই নির্বাচনের সাফল্য দেশের গণতন্ত্রের স্থায়িত্বের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে তিনি মনে করেন।
শোকার্ত শহরতলির শঙ্খ মার্কেট এলাকায় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক দলের একটি নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন হোসেন ইমাম চৌধুরী পল্টু এবং পরিচালনা করেন খন্দকার আইয়ুব আলী। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল ইসলাম মনা উপস্থিত ছিলেন সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে। এছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা তাদের বক্তব্যে লড়াই এবং দেশের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বেলাতে বাদ মাগরিব, খুলনা-২ এর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার সামনে বালুর মাঠে নির্বাচনীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাসান মেহেদী রিজভী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
দৈনিক দিনব্যাপী নির্বাচনী গণসংযোগে বিভিন্ন স্থান odw উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, শের আলম সান্টু, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, কে এম হুমায়ুন কবির, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, কামরান হাসান, মহিবুল্লাহ শামীম, এড. হালিমা আক্তার, আব্দুর জব্বার, মেশকাত আলী, রিয়াজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জাকারিয়া লিটন, মাজেদা খাতুন, মোফাজ্জেল হোসেন ও আরও অগণিত নেতাকর্মী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে সকল ধর্মের মানুষের ঐক্য ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং সকলে একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশের আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত রচনা সম্ভব হতে পারে।
-

খুলনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ কে সামনে রেখে খুলনা-৪ আসনের (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি এই পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন তিনি। ইশতেহারে তিনি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলাভিত্তিক মোট ৭৪টি উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি স্থান দেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, নদী ও প্রকৃতিরোপিত এই জনপদের দেরিতে দেখা দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও একটি প্রগতিশীল, নিরাপদ ও আধুনিক খুলনা-৪ গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্পায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
তিনি বলেছেন, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ভৈরব নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ, নির্মিত না হওয়া নগরঘাট ও রেলিগেট সেতুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং রূপসা উপজেলায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করে সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও, রূপসা ফেরিঘাটের টোলমুক্ত করা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তিনি চেয়েছেন।
স্বাস্থ্যখাতে, তিনি দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর, রূপসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং তেরখাদায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা খাতে, যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও লাইব্রেরির ব্যবস্থা, পাশাপাশি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য তিনি ইপিজেড নির্মাণ, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে এসেছেন। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এছাড়া, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
অंतিম হিসেবে, আজিজুল বারী হেলাল বলেন, খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি এসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য খান রবিউল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, আবু সাঈদ, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া, শিহাবুল ইসলাম সিহাবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
-

ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট কেনা যাবে না
বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয় লাভের জন্য ধর্মীয় মিথ্যা ফতোয়া বা অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট কেনা আর সম্ভব নয়। বর্তমানে ভোটাররা বেশ সচেতন হয়ে উঠেছেন এবং তারা প্রকৃত উন্নয়ন এবং অধিকার আদায়কে সমর্থন করে কথা বলতে জানেন। রাজনীতির অপব্যবহার করে ধর্মকে ঢাল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব পরিবর্তনের দিন শেষ। খুলনার জনগণ সততা আর সাহসিকতার পক্ষে একযোগে রায় দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পরাজয়ের ঝুঁকি জেন নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে চাইছে, যা অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
গতকাল শুক্রবার, ১৪নং বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ওয়ার্ড বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তৃতায় বকুল আরও বলেন, মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট নেওয়ার কৌশল এখন আর কার্যকর নয়। বরং যারা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনমত পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, তাদের জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি খুলনাবাসীর অধিকার রক্ষা ও অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের সভাপতি আবু সুফিয়ান নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মো. চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ স.ম. আবদুর রহমান, খালিশপুর থানার বিএনপি সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হায়দার আলী তরফদার, নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান, জংশন বাজারের সভাপতি মো. কোরবান মীর, সমাজ সেবক মীর আব্বাস আলী, বিএল কলেজের সাবেক প্রভাষক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইকবাল, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার খন্দকার কামাল উদ্দিন আহমেদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিন আজাদ।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় এই দোয়া ও প্রার্থনামঞ্চে বেগম খালেদা জিয়া এবং সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনা ও দেশের কল্যাণের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুস সাত্তার। এর মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় অংশ নেন।
-

ধর্মের বিভেদের বৈরিতা না করে সকল মানুষের উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য
খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল সম্প্রতি এক জনসভায় বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান উন্নয়ন ঘটানো হবে। তার ভাষায়, কে কোন ধর্মের মানুষ সেটা বড় বিষয় নয়, সবাই আন্তরিকভাবে বাস করবে এবং সুযোগ-সুবিধা পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা-৪ আসন বিভিন্ন ধর্মের মানুষে গড়া এবং এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করা হবে। ধর্মের নামে যেন কোনো বৈষম্য ও বিভাজন না চলে সেজন্য সবধরনের ট্রেন্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই জনসভা সংগঠিত হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই এর জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর উপস্থিতিতে, যার সার্বিক পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এর আয়োজন করা হয় রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি নারীর নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তিনি বলেন, একজন নারীর উন্নয়নই সমগ্র সমাজের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রত্যেক পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার।
মাদক ও সন্ত্রাস দমন করতে তিনি বলেন, ধর্মীয় চর্চা ও শিক্ষা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে ছোট বড় সবাইকে নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন করতে হবে এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সুস্থ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলতে হবে। নির্বাচনী প্রশ্নে তিনি বললেন, বিএনপি সরকার গঠনে তিনটি উপজেলা আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা যুবকদের অপরাধ থেকে দূরে রাখে, এটি একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য।
সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত বা না-ই হই, আমার হটলাইন সার্বক্ষণিক চালু থাকবে, আর সরকারের আমলে অভিযোগের ভিত্তিতে সকলের অধিকার রক্ষা করা হবে। তিনি রূপসার সাংবাদিকদের জন্য আধুনিক প্রেসক্লাব গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ, তাদের জন্য স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
ভূমি অফিসের অনিয়মের অভিযোগে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, পরিষ্কারভাবে দালাল ও অর্থনৈতিক লেনদেন মুক্ত ভূমি অফিস গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
অতীতে বারবার মিথ্যা মামলা ও কারাবরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাহস না থাকলে নেতৃত্ব ও জনসেবা সম্ভব নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত। দুর্নীতি ও অন্যায়বিরোধী অপ্রতিরোধ্য অবস্থানই তার রাজনীতির মূল ভিত্তি হবে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। অনুষ্ঠানে গাইলেন দেশের বরেণ্য গায়ক কুদ্দুস বয়াতী।
-

ধর্মীয় ভেদাভেদ ছাড়াই সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে
খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ধর্মীয় ভেদাভেদের ভিত্তিতে কাউকে ভাগ করা হবে না; সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে উন্নয়নের অধিকার পাবে। তিনি বলেন, ‘‘কে কোন ধর্মের — তা বড় বিষয় নয়। সবাই সমান অধিকারভোগী হিসেবে বসবাস করবে এবং সাম্প্রদায়িক বন্ধন আরও দৃঢ় করা হবে। ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।’’
এই প্রতিশ্রুতিগুলো তিনি রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে আয়োজিত জনসংযোগ অনুষ্ঠানকালে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সার্বিক উপস্থাপনায় শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে হেলাল বলেন, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধ করে নারী অধিকার নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। ‘‘নারীকে সম্মান ও নিরাপত্তা না দিলে কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়,’’ তিনি উল্লেখ করেন। মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে সচেতন ভূমিকা নিতে অনুরোধ জানান।
মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, কেবল আইন-শৃঙ্খলা নয়, পারিবারিকভাবে ধর্মীয় জীবনচর্চা ও ক্রীড়া-সংস্কৃতির প্রচারও জরুরি। তাই উপজেলার সব স্তরের খেলার মাঠ আধুনিককরণ করে তরুণদের খেলাধুলার দিকে আকৃষ্ট করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তরুণ সমাজকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সুস্থ পথে ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর থাকবে।
ফিফা রেফারি মনির ঢালীর প্রশ্নে হেলাল আশ্বস্ত করেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনটি উপজেলায় তিনটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলা যুব সমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ জাতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।
নির্বাচনী হটলাইন চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, তিনি নির্বাচিত হন বা না হন তাঁর হটলাইন নম্বর সক্রিয় থাকবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ চলবে। রূপসার সাংবাদিকদের জন্য আধুনিক প্রেসক্লাব গঠন ও উন্নয়নে তিনি সহযোগিতা করবেন এবং সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভূমি অফিসে দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ এলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে দালাল-মুক্ত করে কোনো আর্থিক লেনদেন ছাড়াই জনগণের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতে অভিযোগমুলক ঘটনার বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
নিজের বিরুদ্ধে আগের মিথ্যা মামলা ও কারাবরণের প্রসঙ্গে হেলাল বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ছাড়া নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না।’’ তিনি আরও বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত এবং অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থাই তার রাজনীতির মূল আদর্শ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল হেলাল, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাহুল, খ্রিস্টান সমাজের জয় নোটন বাড়ই, ফিফা রেফারি মনির ঢালী, সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন, বাকির হোসেন, প্রধান শিক্ষক বিউটি পারভিন, হাফিজুর রহমান, আঃ কুদ্দুসসহ প্রায় শতাধিক জনতা।
বিএনপি’রস্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, রূপসা উপজেলা আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা আহবায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, আনিসুর রহমান, জেলা বিএনপি নেতা শেখ আলী আজগর, এম এ সালাম, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা তুহিন, তাঁতিদল নেতা মাহমুদুল আলম লোটাসসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শেষ অংশে স্থানীয় শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী সাংস্কৃতিক পরিবেশন করেন।
