Category: সারাদেশ

  • কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যায় পরিবার মামলা করবে না, এখনও কেউ আটক নেই

    কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যায় পরিবার মামলা করবে না, এখনও কেউ আটক নেই

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবারের তিন ভাই ও আত্মীয়-স্বজন পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে বসে এ সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিহত পীর শামীমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মামলা করব না। আমাদের বয়স হয়েছে, এসব নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার বয়স আর নেই। যে চলে গেছে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারি না, তাই আর ঝামেলায় জড়াতে চাই না।” তিনি জানান, শনিবার ভাইয়ের দাফনের পরে রাতেও পরিবার নিয়ে বসা হয় এবং তখনও পুলিশ মামলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু পরিবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মামলা না করার।

    কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং তারা আমাদের মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। পরিবারের যে কেউ মামলাটি করতে পারেন। যদি কেউ মামলাটি না করেন, তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে — তাতেই মামলা হবে, তিনি জানান। এ ঘটনায় এখনো কোনো আটক নেই, তবে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানও বলছেন, মামলার জন্য তারা পরিবারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যদিও পরিবার মামলা করবেন না — এমন গুঞ্জন শোনা যায়। পুলিশ বাদী হয়ে মামলার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি বার্তা দেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে—দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে স্থানীয়রা দাবি করেন ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগ নিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। ওই সময় পীর শামীম ও তার অনুসারীদের উপর আক্রমণ করে স্থানীয়রা; পরে আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে বিকেল চারটায় তিনি মারা যান। রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তার মরদেহ ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    পরিস্থিতি সংবেদনশীল হওয়ায় পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং তদন্ত চলছে। পরিবারের মামলা না করার সিদ্ধান্ত তুলে নিয়েছে না-ই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে কি না, সেটি তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।

  • দর্শনা রেলস্টেশনে ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারী আটক

    দর্শনা রেলস্টেশনে ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারী আটক

    দর্শনা রেলস্টেশন থেকে অবৈধভাবে পাচারের সময় ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

    ঘটনা সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ঘটে। চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ভারতে স্বর্ণ পাচারের সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহলদল দর্শনা রেলস্টেশনে অবস্থান নেয়। এ সময় একজন ব্যক্তি ভারতের দিকে যাওয়ার সময়ে বিজিবিকে থামার সংকেত পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

    আটক ব্যক্তির নাম আলমগীর খান (৫৫)। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মোবারকপাড়া গ্রামের মৃত বাদল খানের ছেলে। বিজিবি সদস্যরা তাকে তল্লাশী করে কোমরে মোড়ানো অবস্থায় ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান আরও জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এই ঘটনায় বিজিবি একটি মামলা দায়ের করবে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণ চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা রাখা হবে।

    আটক আলমগীরকে প্রয়োজনীয় আইনগত کارروয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • কেসিসি প্রশাসক: বাজার সংস্কার ও নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প আসন্ন বাজেটে

    কেসিসি প্রশাসক: বাজার সংস্কার ও নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প আসন্ন বাজেটে

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রবিবার সকালে দৌলতপুর এলাকার বিভিন্ন খাল ও ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বর্ষার আগে শহরে জলাবদ্ধতা রোধে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যাচ্ছেন।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী উপহার দিতে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট কাজগুলো শেষ করতে হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি; একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনা ও বাজারে স্যানিটেশন ব্যবস্থা আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।

    তিনি জানান, বাজার পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেই আলোচনায় বাজারগুলোর সংস্কারসহ নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আসন্ন বাজেটে রাখা হবে।

    কেসিসি প্রশাসক দৌলতপুর বাজার ও সংলগ্ন নদী, দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজার, পাবলা কারিগর পাড়া ড্রেন, বিজিবি অফিস সংলগ্ন ড্রেন এবং ক্ষুদ্র খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন স্থানের পরিকাঠামো সরেজমিনে পরীক্ষা করেন। তিনি জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যানজট ও বাধা কম রাখতে ফুটপথ দখলমুক্ত রাখার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

    পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান, কঞ্জারভেনসী অফিসার (প্রকৌশলী) মো. আনিসুর রহমান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সমাজসেবক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ মোসারেফ হোসেন, দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. নান্নু মোড়ল প্রমুখ।

  • ফুলতলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    ফুলতলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    ফুলতলা বাজারে একটি বাড়িতে দায়িত্বপালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে ইসমাইল হোসেন (৩৩) নামে একজন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটে। ইসমাইল যশোর সদর থানার মোঃ ইব্রাহীম মোল্যার ছেলে ও পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আলামিনের ছোট ভাই। তার একটি ৬ বছর বয়সী সন্তান রয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল রোববার সকালে ফুলতলা বাজারের মিছরী দেওয়ান শাহ রোডে অবস্থিত এক যুবদল নেতার বোনের বাড়িতে থাইগ্লাস লাগানোর জন্য যান। কাজ চলাকালে, অন্য একজন কর্মচারী তাকে রেখে নিচে নাস্তা করতে যান। কিছুক্ষণ পরে, কাজ শেষ না হওয়ায় ইসমাইল দোতলার বারান্দায় উঁকি মারছিলেন, তখন পাশের পাশে টানা বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ওই 순간 তিনি নিচে পড়ে যান। আঘাতে তার কপালের ডান পাশে গভীর ক্ষত হয়ে যায় এবং তিনি প্রচুর রক্তক্ষরণ করেন। ঘটনাটির শব্দ শুনে অন্য শ্রমিকেরা দ্রুত উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। নিহতের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ ঘটনায় ফুলতলা থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ইসমাইলের মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও বিস্ময়কর।

  • খালিশপুরে লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন হুইপ বকুল, উন্নয়নের আশ্বাস

    খালিশপুরে লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন হুইপ বকুল, উন্নয়নের আশ্বাস

    খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল রোববার দুপুরে খুলনার খালিশপুর এলাকায় অবস্থিত লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি উভয় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি দেখে নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

    পরিদর্শনকালে হুইপ বকুল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, অবকাঠামো, জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এছাড়া তিনি স্কাউট মাঠের বর্তমান অবস্থা, ব্যবহারের উপযোগিতা ও ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মিনহাজুল আলম, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মিরাজুর রহমান, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

    পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হুইপ বকুল বলেন, খালিশপুর লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ আমাদের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠান। এগুলোকে আধুনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও কার্যকর সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন, লাল হাসপাতালকে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

    স্কাউট মাঠের বিষয়ে তিনি বলেন, এই মাঠকে শুধু খেলাধুলার জন্য নয়, বরং যুবসম্প্রদায় ও শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে এটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    হুইপ বকুল আরও উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি সকল স্তরের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। জনসেবা ও কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে খুলনা-৩ আসনসহ সমগ্র খুলনা অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসেবা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন।

  • নতুন বাজার নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে: কেসিসি প্রশাসক

    নতুন বাজার নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রবিবার সকাল থেকেই দৌলতপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নগরীর বিভিন্ন খাল, ড্রেন ও জলাবদ্ধতা এড়ানোর জন্য তৈরি করা পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্যে এই এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য হল বর্ষা মৌসুমের আগে নগরীর জলাবদ্ধতা ও জল সংগ্রহের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য এক সুখময় ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার জন্য বর্ষা মৌসুমের আগে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ ও স্যানিটেশন সিস্টেম শক্তিশালী করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাজারের সংস্কার এবং নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু দৌলতপুর বাজার, কাছাকাছি নদী, পাইকারী কাঁচা বাজার, পাবলা কারিকর পাড়া ড্রেন, বিজিবি অফিস সংলগ্ন ড্রেন ও ক্ষুদ্র খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফুটপথ দখলমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সমাজসেবক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, শেখ মোসারেফ হোসেন, দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নান্নু মোড়ল ও অন্যান্য।

  • মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীর অভিযোগ পিটিয়ে হত্যা

    মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীর অভিযোগ পিটিয়ে হত্যা

    মাগুরায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আকুব্বার মোল্লা (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    নিহত আকুব্বার মোল্লা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মাজেদ মোল্লার ছেলে। জানানো হয়, রোববার সকাল ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের একটি দল মহম্মদপুরের চরপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় তাদের তল্লাশি করে বাড়িতে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং আকুব্বার মোল্লাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়।

    অভিযান চলাকালে আকুব্বার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পাশে থাকা কর্মকর্তারা বাড়ির বাইরে অবস্থান নেওয়ার পরে, দ্রুত তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। এতে এলাকার মানুষ উৎসুক এবং উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকতাদের ওপর আক্রমণ করেন। এই হামলায় তিনজন কর্মকর্তা আহত হন। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে নিহতের লাশ মাগুরা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে পেটানোর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। অপর দিকে, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযানে নামি। তিনি আরও বলেন, তল্লাশি চলাকালীন আকুব্বার অসুস্থতা বোধ করলে তাকে বাইরে রাখা হয় এবং তার উপর কোনও নির্দয় বা মারধর করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ার কারণে তিনি মারা যান। এই সময় স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের তিন সদস্য আহত হন।

    মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় ব্যক্তির বাড়ি থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে, ওই ব্যক্তি মারা যান। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। নিহতের মরদেহ মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে রেখেছে পুলিশ।

  • বেনাপোলে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা বাড়ছে ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা

    বেনাপোলে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা বাড়ছে ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা

    দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহে অসুবিধা ও সংকটের প্রভাব এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে, বেনাপোলে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যহত হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটছে। মূলত গন্তব্য অনুযায়ী ট্রাক ভাড়া ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ট্রাক সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের সতর্কতার সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    সম্প্রতি বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এলাকার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগে যেখানে ট্রাক ভাড়া ছিল ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকায় পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রাম রুটে, যেখানে আগে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাগত ১৫ টন পণ্য পরিবহনের জন্য, সেখানে এখন গুণতে হচ্ছে ৪০-৪২ হাজার টাকা। এই অপ্রত্যাশিত ভাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাঁদের মনে হচ্ছে, এর প্রভাব পণ্য ও খাবারের দামেও পড়বে।

    বেনাপোলের স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সহিদ আলী বলেছেন, পূর্বের মতো পণ্য খালাসের জন্য দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক চলাচল করত, কেউ কেউ এতে তেল সংকটের অজুহাতে গত ২ এপ্রিল থেকে ট্রাক ভাড়া তিন থেকে চার হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক শ্রমিক কাজ হারানোর সম্মুখীন হচ্ছেন এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    ট্রাক চালক আরিফ বিল্লাহ বলেন, সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে, কিন্তু বর্তমানে পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও তা দূরপাল্লার মালামাল পরিবহনের জন্য যথেষ্ট নয়। গত এক সপ্তাহে ট্রাক ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, আমাদের ট্রাক দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়াই কঠিন হবে। অন্য আরেক চালক, আব্দুল মতিন, বলেছেন, তিনি পাবনা যাচ্ছেন কেমিক্যাল পরিবহনের জন্য এবং আগের চেয়ে চার হাজার টাকা বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এই ভাড়া বৃদ্ধি পণ্যদ্রব্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে ডিপোজিটে তেলের সমস্যা নেই, তবুও ট্রাক মালিকেরা ভাড়া বাড়াচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই অসুবিধাজনক।

    বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি বলেছেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের কোন বড় সমস্যা না থাকলেও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। পাম্পে চাহিদার অর্ধেকেরও কম ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

    বেনাপোলের দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হিসেবে, এখানে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। বর্তমানে তেলের সংকটের কারণে এই পণ্য পরিবহন জটিল হয়ে পড়েছে এবং ট্রাক ভাড়া বিগত এক সপ্তাহে ৭-৮ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা অবলোকাচ্ছেন যে, তাদের পণ্যদ্রব্যের দামও বাড়বে, যা সাধারণ ভোক্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম-সম্পাদক ও আমদানি ব্যবসায়ী এজাজ উদ্দিন টিপু বলছেন, বাজারে তেলের কোন সংকট নেই; কিছু অসাধু ব্যাক্তি তেলের মজুদ করে রাখার কারণে পাম্পগুলোতে সরবরাহ কম হচ্ছে। এই সুযোগে মালিকরা ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভোক্তার উপর চাপ বাড়ছে।

    বেনাপোলে শাহজালাল ফিলিং স্টেশনের পরিচালক ইয়ান আলী জানান, চাহিদামতো তেল তারা পাচ্ছেন না। তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় যতটুকু তেল পান, তা সঠিকভাবে বিতরণ করছেন। এই পরিস্থিতিতে, তেলের অভাবে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং দরকার হলে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

  • অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন হয়েছেন খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন হয়েছেন খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুমেবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট সার্জন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন।

    রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষিত আছে।

    নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি উপসচিব রাহেলা রহমত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এবং তা জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।

    অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। একজন অভিজ্ঞ সার্জন ও শিক্ষাবিদ হিসেবে চিকিৎসা অঙ্গনে তার দীর্ঘদিনের সুনাম আছে এবং তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ও同行 পেশাদারদের মধ্যে ব্যাপক শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।

    তার এই নিয়োগকে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে; অনেকেই আশা করছেন নতুন নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও চিকিৎসা কার্যক্রমে নব্য গতিশীলতা ও মান উন্নয়ন আনবেন।

  • কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আটকে পড়ে হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আটকে পড়ে হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুটি যাত্রীবাহী বাসের প্রতিযোগিতার মাঝেই আটকে পড়ে হকার ওসমান আলী (৪০) মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনা কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে।

    নিহত ওসমান আলী কালীগঞ্জ পৌরসভার হেলাই গ্রামের বাসিন্দা হলেও তার আদি বাড়ি মাহেশপুর উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী যানবাহনে উঠে-নামা করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে শাপলা পরিবহনের দুটি বাস স্ট্যান্ডের সামনে একই লাইনে চলছে। এক বাস দ্রুতগতিতে অন্য বাসটি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে পেছনের বাস ও সামনের বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে যান ওসমান আলী। তিনি চিৎকার করে সহায়তা চাইলেও বাস দুটির চালকগণ গতি কমাননি এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকায় ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মৃত্যু হয়।

    কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে উপস্থিত ডাঃ জান্নাতুল নাঈম লাজুক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। মরদেহে বুকে এবং মস্তকে তীব্র আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং নাক থেকে অতিরিক্ত রক্তপাতে তার শ্বসন ও জীবনচিহ্ন নষ্ট হয়েছিল।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।