কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবারের তিন ভাই ও আত্মীয়-স্বজন পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে বসে এ সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিহত পীর শামীমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মামলা করব না। আমাদের বয়স হয়েছে, এসব নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার বয়স আর নেই। যে চলে গেছে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারি না, তাই আর ঝামেলায় জড়াতে চাই না।” তিনি জানান, শনিবার ভাইয়ের দাফনের পরে রাতেও পরিবার নিয়ে বসা হয় এবং তখনও পুলিশ মামলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু পরিবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মামলা না করার।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং তারা আমাদের মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। পরিবারের যে কেউ মামলাটি করতে পারেন। যদি কেউ মামলাটি না করেন, তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে — তাতেই মামলা হবে, তিনি জানান। এ ঘটনায় এখনো কোনো আটক নেই, তবে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানও বলছেন, মামলার জন্য তারা পরিবারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যদিও পরিবার মামলা করবেন না — এমন গুঞ্জন শোনা যায়। পুলিশ বাদী হয়ে মামলার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি বার্তা দেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে—দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে স্থানীয়রা দাবি করেন ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগ নিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। ওই সময় পীর শামীম ও তার অনুসারীদের উপর আক্রমণ করে স্থানীয়রা; পরে আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে বিকেল চারটায় তিনি মারা যান। রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তার মরদেহ ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিস্থিতি সংবেদনশীল হওয়ায় পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং তদন্ত চলছে। পরিবারের মামলা না করার সিদ্ধান্ত তুলে নিয়েছে না-ই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে কি না, সেটি তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
