Category: সারাদেশ

  • মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব: খুলনা বিএনপি

    মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব: খুলনা বিএনপি

    রমজান এখন মাত্র কয়েক দিন দূরে, যারা রহমত, বরকত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসছে এই পবিত্র মাস। এই সময় সমাগত হলেও পবিত্রতা রক্ষা এবং তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব অনেক বেশি। পবিত্র রমজান পালনকারী সকল মুসলমানের উচিত এই মহৎ মাসের শিক্ষা ও আদর্শে নিজেদের জীবন গড়ে তোলা। খোলনাবাসীর পাশাপাশি পুরো বিশ্বে মুসলমানদের জন্য এ সময়ের তাৎপর্য অপরিহার্য।

    গতকাল বুধবার, খুলনা বিএনপি তাদের মিডিয়া সেল থেকে একটি বিবৃতিতে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, এই মাসের মহত্ত্ব শুধু রোজা ও নামাজে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি কল্যাণময় জীবন গড়ার সময়। মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও কৃত্তিম অহংকার থেকে মুক্তির জন্য এই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সৎ মুমিন ব্যক্তি সারাদিন সংযমী থাকেন, মহান আল্লাহর কাছ থেকে রহমত ও বরকত প্রাপ্তির আশায় সব কিছু নিবেদন করেন।

    খুলনা বিএনপি অপরদিকে পবিত্র রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, অশ্লীলতা ও অসাংগঠনিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারা মনে করেন, এই মাসের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় সবাই একসাথে কাজ করতে হবে।

    বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, রমজানের সময় রোজাদারদের জন্য প্রয়োজনীয় ইফতারি ও সেহরীর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত, বিদ্যুৎ ও পানির স্বচ্ছন্দ ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, যানজটমুক্ত করে নগর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন ও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

    এছাড়া, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, মজুদদার, মুনাফাখোর ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। তারা সকলের সহযোগিতা ও সচেতনতায় এই মাসটিকে সুন্দর ওসবস্ত রাখতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, নগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • শৈলকুপায় জমির বিরোধে কৃষক নিহত

    শৈলকুপায় জমির বিরোধে কৃষক নিহত

    ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বসন্তপুর জয়ন্তী নগর গ্রামে জমির বিরোধের জেরে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। নিহত ব্যক্তির নাম কেসমত আলী (৫৬), তিনি নদীয়ার সিরাজ সর্দারের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে এই গ্রামের কেসমত আলী ও তার ছোট বোনজামাই নবছদ্দির মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা অচিরেই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই বচসার মধ্যে নবছদ্দি ও তার পরিবারের লোকজন কেসমত আলীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে তাকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নবছদ্দি এবং তার ছেলে রফিকুলকে বোয়ালিয়া গ্রামে পিকেট করে এলাকায় আটক করে পুলিশ।

    ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারিয়া তাহসিন জানান, কেসমত আলী হাসপাতালের মরদেহ নিয়ে আসা হয়, সেখানে তার যত্নে আঘাতজনিত বা স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

    শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে, বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

  • যশোরে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

    যশোরে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

    যশোর শহরে যানজট কমাতে এবং সড়ক সুন্দর ও সরু করার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্ছেদ অভিযান চলেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১২টার দিকে, শহরের চৌরাস্তা থেকে দড়াটানা পর্যন্ত প্রধান সড়কের দু পাশে অবৈধ পন্থায় নির্মিত শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এই অভিযানটি পরিচালনা করেন যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেনের নেতৃত্বে।

    উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন, রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট, বাড়তি শেড এবং ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে, স্থানীয় দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেয়া হয় যাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দখলদারিত্ব না করে।

    পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলী জানান, আজ মোট শতাধিক দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শহরে ফুটপাত মুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন ফুটপাত না দখল করে, বরং নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করে শহরকে পরিচ্ছন্ন এবং সুশৃঙ্খল রাখতে সহায়তা করেন।

    এই দলের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যশোর শহর আরও সুন্দর, শান্ত ও交通জনিত ঝামেলা থেকে মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • খুলনায় বাসে তল্লাশি, ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক 1

    খুলনায় বাসে তল্লাশি, ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক 1

    খুলনার কৈয়া বাজারে পুলিশের পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ২৫ হাজার পিস ইয়াবা সহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে। বুধবার দুপুরে নগরীর হরিণটানা থানা এলাকার কৈয়া বাজারের কাছে এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ চালকের আসনে থাকা মিলন মন্ডল (৩৮), যিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বাসিন্দা এবং বাবুল মাল এর ছেলে, তাকে আটক করে।

    পুলিশ জানিয়েছেন, ইয়াবাগুলির চালান মূলত মিয়ানমার থেকে সাগর পাথর দিয়ে ভারতীয় জেলেদের মাধ্যমে আসে সাগর পথে। এরপর সড়ক পথে এগুলি সরবরাহ করা হয় খুলনা ও ঢাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিলন মন্ডলকে আটক করে। এর আগে এই রুট ব্যবহার করে বহু চালান পাচার হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এটি খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ের הגדולতম ইয়াবার চালান। উদ্ধারকৃত মাদক মোট সংখ্যার আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার পিস। তিনি আরও বলেন, আটক মিলন মন্ডলের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তিনি বেদেও সম্প্রদায়ের সদস্য। এই চক্রের সঙ্গে কারা-কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) টিপু সুলতান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সাতক্ষীরা থেকে একটি মাদক চালান খুলনা হয়ে ঢাকায় যাবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কৈয়া বাজারে চেকপোস্ট বসায়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সাতক্ষীরাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি গাড়ি থামানোর সংকেত দেয়। গাড়ি থামার পরে পুলিশ তার তল্লাশি শুরু করে। মিলন মালের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তার ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • ডাকাত আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে দুবলার চরের পাঁচ হাজার জেলে

    ডাকাত আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে দুবলার চরের পাঁচ হাজার জেলে

    বনদস্যুদের কবলা ও আতঙ্কের কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন দুবলার চরের প্রায় পাঁচ হাজার শুঁটকিকরণ জেলেসহ শত শত সাধারণ জেলের দল। গত দুই দিনেও অপহৃত ২০ জন জেলের খোঁজ মেলেনি, আর এটা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত সোমবার রাতের দিকে বনদস্যুরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগের আয়-রোজগার কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    দুবলার জেলেগোষ্ঠীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বললেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বনদস্যুদের terror ও চেতনা বাড়ছে। এ কারণে তারা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে চরে অবস্থান নিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে বসে অবসর কাটাচ্ছেন এবং মৌসুম শেষের আগে ঘর ফিরে যাওয়ার বিষয়টি ভাবছেন।

    তিনি আরও বললেন, সুন্দরবনে চারটি দল সক্রিয় রয়েছে— জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী। এ দলগুলো বনদস্যুদের নামে পরিচিত, যারা খাটাখাটনি ছাড়াই বন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, তারা জেলেদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে, কিন্তু টাকা দিতে না পারলে মারধর করে থাকে। গত সপ্তাহে চারজন জেলে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য রামপালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলিষ্ঠ না থাকায় দস্যুরা প্রকাশ্যে বিচরণ করছে। গত ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিল, কিন্তু এখন আবার দস্যুরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে— এটা চরম উদ্বেগের বিষয়।

    অন্যদিকে, আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে ছিলো, জলাধারে কুমির আর মাঠে বাঘ। এখন সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে, সাগরে গেলে ডাকাত।’ দস্যুদের তাণ্ডবের কারণে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ দিনেও অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে কমপক্ষে শতাধিক জেলে দস্যুদের আমলে আটক রয়েছে। গত সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জনের সঙ্গে দস্যুরা যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়েছে, কিন্তু এ পর্যনতেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কের কারণে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন, ফলে রাজস্ব ও আয় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আরও জানানো হয়, সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের বেশ কিছু মুদি দোকানী— যেমন জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদার— বলেছেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    অন্যদিকে, শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার খবর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চালাচ্ছেন।

  • নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত

    নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত

    নগরীর লবণচরা থানার বান্দাবাজার এলাকার রহমানিয়া গলির সামনে দুর্বৃত্তের দ্বারা গুলিবর্ষণের ঘটনায় যুবক আয়নুল (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় তার শরীরের ডান হাঁটুর উপরে দুটি গুলি বিদ্ধ হয়। আহত আয়নুল বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি স্থানীয় ভুতের আড্ডা পার্ক এলাকার বাসিন্দা আলমগীরের ছেলে।

    প্রত আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শীরা ও পুলিশ জানিয়েছেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে আয়নুল সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর অর্ণমূল্যে গুলি চালায়। দুইটি গুলি তার ডান হাঁটুর ওপর জড়িয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুতই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    লবণচরা থানার এসআই খালিদ হাসান জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়া আয়নুলের শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার অবস্থা খুবই সংকটজনক। তিনি বলেন, পুলিশ এখন ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

  • খুলনা বিএনপি: মাহে রমজানে পবিত্রতা রক্ষা সবার দায়িত্ব

    খুলনা বিএনপি: মাহে রমজানে পবিত্রতা রক্ষা সবার দায়িত্ব

    রমজান এসেছে রহমত, বরকত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে। এই পবিত্র মাসে পবিত্রতা রক্ষা এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন ইসলামী মূল্যবোধের অনুসারীরা। গতকাল বুধবার খোলনাবাসীর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা রমজানের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেল এক বিবৃতিতে এ কথা উল্লেখ করেছে। পবিত্র রমজানে একজন রোজাদার মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট করুণা ভিক্ষা করলে তিনি সন্তুষ্টচিত্তে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এই মাসে একজন প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি সারাদিন সংযম পালন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রতি সচেতন থাকেন। তাকওয়া ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পবিত্র রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আমলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরদার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রমজানের শিক্ষা অনুযায়ী হিংসা-বিদ্বেষ, অসংযম ও অশান্তি পরিহার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। রমজানের সম্মানে অবৈধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইফতারি ও সেহরি সময়ের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা চালু রাখতে ও খুলনা মহানগরীকে যানজটমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান হয়েছে। পাশাপাশি, অশ্লীলতা দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণসহ মজুদদার, মুনাফাখোর ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যক্রম নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। এইসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও অংশগ্রহণকারীরা, যেমন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ অন্যরা। সকলের উদ্দেশ্য হলো, রমজানের পবিত্রতা সংরক্ষণে সবাই সচেতন এবং উদ্যোগী হোন যেন এই মাসের শিক্ষা বাস্তবায়িত হয়।

  • খুলনায় মাদক বিরোধের জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ

    খুলনায় মাদক বিরোধের জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ

    খুলনা মহানগরীর মওলার বাড়ি খালপাড় বোর্ড ঘরের সামনে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন।

    আহত যুবক ব্যক্তির নাম সোহেল ওরফে চেগা সোহেল, বয়স ২৮ বছর, তিনি শাহাদতের ছেলে। বর্তমানে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে নগরীর বিভিন্ন থানায়। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে হামলা করে।

    খুলনা থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, ওই রাতেও সন্ত্রাসীরা সোহেলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি তার কোমরের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকদের অবস্থা গুরুতর দেখে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ঘটনাস্থলে পুলিশ মোবাইল করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।

  • সমাজসেবক থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন লায়ন ফরিদুল, মোংলা ও রামপালে খুশির জোয়ার

    সমাজসেবক থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন লায়ন ফরিদুল, মোংলা ও রামপালে খুশির জোয়ার

    বাগেরহাট-৩ (মোংলা ও রামপাল) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সমাজসেবক লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই কারণেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এটি ৩৫ বছর পর আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপির প্রাথমেই প্রথম বিজয়। মোংলা-রামপাল এলাকার মানুষের মাঝে এখন উৎসাহ এবং আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।

    নির্বাচন জয় করে সংসদে আসার পরই তিনি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহের শেষ নেই। মোংলা ও রামপালে বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই খবর উৎসাহের সাথে গ্রহণ করেছেন। এলাকায় তিনি কেবল রাজনৈতিক দল হিসেবেই পরিচিত নন, বরং সামাজিক ও মানবিক কাজে তাঁর জনপ্রিয়তা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক। নিজ এলাকায় তিনি বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসাসহ অসংখ্য মানুষের সুরক্ষায় কাজ করেছেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় করে তুলেছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ৩ হাজার ৭৭১ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। দেশ-সংখ্যালঘু এই নেতা তার দায়িত্বশীল চরিত্র এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য এলাকার মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছেন।

    বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোংলা পৌর বিএনপি’র সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মঞ্জুর হাওলাদার বলেছেন, ড. ফরিদুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় শুধু দলের নেতা-কর্মীরা নয়, পুরো বাগেরহাট জেলাবাসী গর্বিত। তবে মোংলা ও রামপালের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে, এই নেতার মাধ্যমে তাদের মৌলিক দাবি ও চাহিদাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

  • বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরের পৃথক দুটি স্থানে দস্যুরা অপহরণ করেছে ২০ জন জেলেকে। সোমবার গভীর রাতে নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়ির খাড়িসংলগ্ন জলসীমায় মাছ ধরছিলেন জেলে ও ট্রলার। এই সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা অস্ত্রের মুখে ওই ট্রলারগুলোতে হামলা চালিয়ে ২০ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর স্থানীয় জেলেদের বলে জানা গেছে। জেলেদের মধ্যে আছেন হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়োল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা এবং আশাশুনি এলাকায়। বনবিভাগের পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির অফিসার মিল্টন রায় মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলেরা মাছ ধরছিলেন। সেই সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা দুইটি জেলেসহ ২০টি ট্রলার থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা ট্রলার ছাড়ার আগে অন্য জেলেদের মোবাইল নম্বরও রেখে যায়। শরণখোলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর দখল করে দস্যুরা ব্যাপকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই ঘটনাগুলির ফলে জেলেরা মাছ ধরা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে এবং অপহরণের ভয়ে সাগরে যেতে চাইছে না। দস্যুদের চাঁদা ও মুক্তিপণের জন্য অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে। পেশা ছেড়ে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছে কিছু ব্যবসায়ী। তিনি দ্রুত অপহৃত জেলেদের উদ্ধার ও দস্যুদমন অভিযান জোরদার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। জলদস্যুরা দাপটের সঙ্গে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকে নিজেদের কবজায় রাখার কারণে জেলেরা মারাত্মক আতঙ্কে আছেন, এবং এই জুলুমের অবসান জরুরি।