সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পরিচালিত দুটি বিশেষ অভিযানে অপহৃত দুই জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক বনদস্যু দয়াল বাহিনীর বিপজ্জনক সদস্যকে অস্ত্র ও গুলির সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ডের মতে, ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুইটি পৃথক অভিযান চলমান ছিল। এর অংশ হিসেবে ১৬ এপ্রিল বিকেলে সুন্দরবনের মুর্তির খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলে, সেখানে একটি কাঠের নৌকা ও দুই জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। However, স্থানীয় ডাকাতদল জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে জেলেদের ফেলে বনে পালিয়ে যায়। কখনও কখনও এই ধরনের অভিযান সফল হলেও, এদিন জেলেদের নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন কোস্ট গার্ড।
অন্য এক অভিযানে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ভোর ৬টার দিকে এই এলাকার ওপর চালানো হয় ঝাঁঝালো অভিযান। অভিযান চলাকালে, ডাকাতরা যখন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পায়, তখন তারা পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ধাওয়া করে তরিকুল (৩৫), যা খুলনা জেলার কয়রা এলাকার বাসিন্দা, তাকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও নয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
গত ১৫ এপ্রিল রাতের ঘটনা বলছে, বরইতলা টহল ফাঁড়ির কাছে শুয়োরমারা খালে মাছ ধরতে এসে, বনদস্যু করিম শরিফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে বেশ কয়েকজন জেলে অপহৃত হয়। ওই ডাকাত দলের বিরুদ্ধে জেলেদের মুক্তিপণের জন্য তাদের অন্য খালে নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
বিসিজিএসের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, আটক হওয়া ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
