Category: সারাদেশ

  • গণমানুষের অধিকার আদায়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    গণমানুষের অধিকার আদায়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, তারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন—দেখেন এমন এক দেশ যেখানে প্রশিক্ষিত যুবকদের জন্য উন্মুক্ত কর্মসংস্থান থাকবে এবং বেকারত্বের שסা (অভিশাপ) কাটিয়ে তারা দেশ গঠনে নতুন সম্ভাবনার সোপান তৈরি করবে।

    মঞ্জু বলেন, ‘‘আমরা চাই এমন এক সমাজ যেখানে ভয়-ভীতির বদলে প্রতিষ্ঠিত থাকবে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের বিচারব্যবস্থা এবং থাকবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি দপ্তর হবে দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত। মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করা যাবে না; বরং প্রতিটি মানুষের মতামত হবে আগামীর পথচলার নতুন শক্তি।’’

    তিনি আশা প্রকাশ করেছেন খুলনার সোনালি দিনগুলো ফিরে আসবে—বন্ধ কল-কারখানাগুলো পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠবে, উৎপাদন বাড়বে, এবং পথঘাট, পাড়া-মহল্লা তরুণদের সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার কর্মকাণ্ডে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরিয়ে উঠবে। মঞ্জু আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করে সমৃদ্ধির সোপানে আগানোই তাদের লক্ষ্য এবং এই সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়া বাজারে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জব্বার মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, নান্নু সুপার মার্কেট, মশিউর রহমান মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। ওই সময় তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকায় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ান।

    গণসংযোগকালে মঞ্জু আরও বলেন, ‘‘গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। আসুন, প্রিয় খুলনার ঐতিহ্য, সম্মান ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’’

    উক্ত সভা ও গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাবেক ছাত্রনেতা রুহুল আজিম রুমি, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, আনোয়ার হোসেন, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, হাসান মেহেদী রিজভী, আবু সাঈদ শেখ, মহিবুল্লাহ শামীম, শফিকুল ইসলাম শফি, আব্দুল জব্বার, রবিউল ইসলাম রবি, মেশকাত আলী, নুর ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মাসুম, নাসির খান, ওহিদুজ্জামান খসরু, আলমগীর ব্যাপারী, শামীম খান, মোস্তফা কামাল, রিয়াজুর রহমান, মহবুব হোসেন, খায়রুল ইসলাম লাল, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, শামসুর রহমান লিচু, আবু বক্কর, অলিয়ার রহমান অলি, মোহাম্মদ আলী, আহসান কবির শাহিন, ওহিদুল ইসলাম, খান মঈনুল ইসলাম মিঠু, জাকারিয়া লিটন, মাজেদা খাতুন, মনিরুল আজম, মোফাজ্জেল হোসেন, গোলকি সাঈদ, কামরুল ইসলাম, মাসুদ রেজা, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আবুল কাশেম, জাহিদুর রহমান, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, ইউনুচ শেখ, ঈসা শেখ, আরিফুল ইসলাম, টিপু হাওলদার, কাওসার দাদো, আজহার, বেল্লাল, মাসুদ খান, মনিরুজ্জামান মনি, মহসীন, মিজানুর সরদার, রবিউল আলম, পান্না, টিটুসহ থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

    মোনাজের পুর্বে মঞ্চে কথা বলা ও প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীরা মঞ্জুর আহ্বানকে উৎসাহ দেন এবং খুলনার উন্নয়ন ও জনদশার উন্নতির জন্য একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • চিতলমারীতে স্বপদে বহালের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ৫

    চিতলমারীতে স্বপদে বহালের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ৫

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার থানা রোডে শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে; এতে কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়েছেন। মানববন্ধন শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন চলাকালে প্রতিপক্ষের কিছু লোক উপস্থিত সভা-সমাবেশে আগ্রাসীভাবে ঢুকে পড়ে এবং নারী-পুরুষভাবে অংশ নেওয়া অচলাদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন শীতল মন্ডল (৬২), সুরেন মজুমদার (৬৫), হাসিবুল বিশ্বাস (৫০), জানজার শেখ (৪৫) এবং একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারী। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে প্রদান করা হয়েছে।

    পরে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে দলীয় নীতিমালা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে বহিস্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার থানা রোডে টুলু বিশ্বাসের স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন করেন।

    আহতরা বলেন, টুলু বিশ্বাস বিএনপিতে নিবেদিতপ্রাণ; গতিতে ৩৫ বছর ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি নানা হয়রানি ও মামলার শিকার হয়েছেন। তারা দাবি করেন, দলের সুদিনের সময়ে কেন তাকে বহিস্কার করা হলো তা তারা জানেন না এবং দলের অভিভাবক সরোণ বা তারেক রহমানের কাছে পুনর্বহালের অনুরোধ জানিয়েছেন।

    বহিস্কৃত নেতা মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বলেন, ‘‘যারা কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভ্রান্ত করে আমাকে বহিস্কার করেছে, তাদের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়েছি। আমার বিচার করার দায়িত্ব আমি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছি; আশা করি দল আমার প্রতি অন্যায় কাজ করবে না।’’

    চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, উপজেলা বিএনপির কোনো নেতাকর্মি মানববন্ধনে হামলার সঙ্গে জড়িত নয়; তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল; বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেনও বলেন, সেখানে কিছু হাতে-হাতি ঘটা ছুঁইছুঁই ঘটনা হয়েছে, যা মিলিতভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে।

  • ১১টি শূন্যপদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

    ১১টি শূন্যপদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির ১১তম সভা গতকাল বুধবার নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ। কেসিসি’র কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই কমিটি স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫(ক)(২) মোতাবেক স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত বলে সভায় জানানো হয়।

    সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওয়াসা কর্তৃক স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের ফলে নগরীর রাস্তা খনন কাজকে আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ পর্যন্ত, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং খননকৃত রাস্তার মেরামতের জটিলতা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে উভয় সংস্থার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি উপস্থিত রেখে আলোচনা করার অনুরোধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দুদকের তদন্তাধীন সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কিত বিল পরিশোধ বিষয়ে দুদকের মতামত গ্রহনের সিদ্ধান্ত নির্বাহী কর্তৃপক্ষ নেয়। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ পরিশোধ করার অনুমোদন দেয়া হয়।

    কেডিএ কর্তৃক নির্মাণাধীন সড়কে (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়েরমহল পর্যন্ত) কেসিসি’র মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের বিষয়ে অনাপত্তি না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রূপসা ঘাট নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে চলমান মামলার কারণে ঘাটের পন্টুন মেরামত নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আইন উপদেষ্টার মাধ্যমে আদালতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    মশক নিধনে বিমান বাহিনী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে জিটুজি পদ্ধতিতে ২ হাজার লিটার এডাল্টিসাইড ও ২ হাজার লিটার লার্ভিসাইড ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নগর ভবনের প্রবেশ পথের পশ্চিম পাশে খুলনা সিটি এরিয়ার ম্যাপ স্থাপন, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেসিসি’র বিভিন্ন আবেদন ফরমের মূল্য সমন্বয় এবং কেসিসি পেট্রোল পাম্পকে অটোমেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।

    মিস্ত্রিপাড়া বাজারের বাতিলকৃত ১৪টি মাছ পট্টির বরাদ্দের বিরুদ্ধে জমাকৃত সেলামীর অর্থ ফেরত প্রদান করার এবং নতুনভাবে বরাদ্দ প্রদানের উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ, কেসিসি’র ১১টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রতিনিধি প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভায় কেসিসি’র সচিব আরিফুল ইসলাম সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান। এছাড়া কেএমপি, খুলনা ওয়াসা, কেডিএ, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, বিভাগীয় স্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, বিআইডব্লিউটিএ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয় এবং ওয়ার্ডের সক্ষম কর্মকর্তাগণ সভায় অংশ নেন।

    সভায় আরও জানা যায় যে প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ সভাপতি হিসেবে উপস্থিত অতিথিদের হাতে নতুন বছরের জন্য কেসিসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ডায়েরী হস্তান্তর করেন।

  • নাগরিকবান্ধব আচরে দায়িত্ব পালনের গুরুত্বে জোর দিলেন সেনা প্রধান

    নাগরিকবান্ধব আচরে দায়িত্ব পালনের গুরুত্বে জোর দিলেন সেনা প্রধান

    সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ (বেসামরিক ক্ষমতা সমর্থন) এর আওতায় মোতায়েন থাকা সেনা সদস্যদের কাজকর্ম পরিদর্শন করতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান খুলনা পরিদর্শন করেছেন।

    পরিদর্শনের সময় তিনি সরেজমিনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, মোতায়েনকৃত সেনা সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন সামরিক, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেন।

    সভার আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সেনা প্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

    পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড; জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এবং সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, বেসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত

    সাতক্ষীরার চার আসনে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টিকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং জেলার সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

    জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) জানায়, এসব কেন্দ্রগুলিতে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩ হাজার ৪১০টি। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৩ হাজার ২৮১টি এবং অস্থায়ী কেন্দ্র ১২৯টি। ঝুঁকিপূর্ণ ১৭৯টি কেন্দ্রের বাইরে ৪৩০টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    আসনভিত্তিকভাবে কেন্দ্রের বিস্তার হলো—

    – সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): মোট ১৬৮টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৫০; সাধারণ ১১৮।

    – সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): মোট ১৮০টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৬০; সাধারণ ১২০।

    – সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): মোট ১৬৫টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ৪০; সাধারণ ১২৫।

    – সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): মোট ৯৬টি কেন্দ্র; ঝুঁকিপূর্ণ ২৯; সাধারণ ৬৭।

    জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৮৩২,৭৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯১৭,৮৪৮ জন, নারী ভোটার ৯১৪,৯১৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।

    জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইনস্টলেশন কাজ চলছে; কাজটি বর্তমানে প্রায় ৭৫–৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল জানান, কোন কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণেই নয়; দূরত্ব, ভবনের অবস্থা ও অন্যান্য চলাচলের সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসন মিলিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে আশা করা হচ্ছে, সিসি ক্যামেরা ও শক্তপোক্ত নিরাপত্তা রেখার মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশকে শান্ত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা যাবে।

  • খুলনায় জলবায়ু ক্ষয়-ক্ষতি নিরসনে দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    খুলনায় জলবায়ু ক্ষয়-ক্ষতি নিরসনে দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    মাল্টি-অ্যাক্টর পার্টনারশিপ প্রকল্পের উদ্যোগে জলবায়ু সহনশীলতা ও ক্ষয়-ক্ষতি নিরসন সম্পর্কিত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) খুলনার রেলিগেটস্থ অ্যাডামস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাডামস ফাউন্ডেশন।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম। তিনি বলেন, উপযুক্ত অভিযোজনের কৌশল গ্রহণ করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব। উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষায় দেশি ও বিদেশি গবেষকদের সুপারিশ ও পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    প্রধান অতিথি আরও বলেন, সরকার, জনগণ ও উন্নয়ন অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম, সহনশীল ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। উপকূল রক্ষায় বিদ্যমান বাঁধগুলোকে চলাচলের উপযোগী ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ কেন সাফল্য পাচ্ছে না, তা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে উপকূলীয় স্থানান্তরিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা উন্নয়নের সময় নগরের স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থার ক্ষতি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    কর্মশালায় প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন কুয়েট ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুন্নবী মোল্লা। প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোঃ ইয়াসিন আলী, পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ মুজিবর রহমান, এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান মোঃ রেজাউল ইসলাম, কেডিএর প্ল্যানিং অফিসার মোঃ তানভির আহমেদ এবং আইক্যাডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব হক। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডামসের উপনির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ।

    মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (IDM) এর সহযোগী অধ্যাপক ড. আনজুম তাসনুভা। প্রকল্প সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান ও আইক্যাডের প্রতিনিধি মোঃ নূর ইলাহী।

    প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ক্ষয়-ক্ষতির অর্থনৈতিক ও অঅর্থনৈতিক দিকগুলো বোঝানো, কপ-৩০ (COP-30) পরবর্তী প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা ও এর বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা জোরদার করা, মাল্টি-অ্যাক্টর পার্টনারশিপ ম্যাপ (MAP) সম্পর্কে অবহিত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্ষয়-ক্ষতি নিরসনে কৌশল প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলা, কৃষিতে জলবায়ুর প্রভাব প্রতিরোধ এবং স্থানীয় নেতৃত্বাধীন অভিযোজন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

    উল্লেখ্য, প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ে অ্যাডামস, জাতীয় পর্যায়ে আইক্যাড এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জার্মানওয়াচের সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    কর্মশালায় ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিমণ্ডলী, যুব জলবায়ু কর্মী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

  • খুলনার রূপসা থেকে পরিত্যক্ত দুই রিভলবার উদ্ধার

    খুলনার রূপসা থেকে পরিত্যক্ত দুই রিভলবার উদ্ধার

    র‌্যাব-৬ খুলনার রূপসা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার উদ্ধার করেছে। র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে র‌্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি দল রূপসা থানাধীন ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সামন্তসেনা পঁচার বটতলা গুচ্ছগ্রামে একটি ঘরে অভিযান চালায়। ওই ঘর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত কোল্ট মডেল ১৮৭৮ সিক্স-শুটার রিভলবার রয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ওই দুটি রিভলভার উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রূপসা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য বা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত কোনো আলাদা উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত চলমান থাকবে।

  • রূপসা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই রিভলবার উদ্ধার

    রূপসা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই রিভলবার উদ্ধার

    খুলনার রূপসা থানা এলাকায় র‍্যাব-৬ একটি বিশেষ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার উদ্ধার করেছে।

    র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার নৈহাটি এলাকায় একটি ঘর থেকে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে র‍্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি দল।

    র‍্যাব জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রূপসা থানাধীন ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সামন্তসেনা পঁচার বটতলা গুচ্ছগ্রামে ওই ঘরে তল্লাশি চালানো হয় এবং সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি রিভলবার পাওয়া যায়।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কোল্ট মডেল ১৮৭৮ সিক্স-শুটার রিভলবার রয়েছে।

    র‍্যাব আরও জানায়, উদ্ধারকৃত রিভলবার দুটির জব्ती ক্রিয়া উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে এসব অস্ত্র সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রূপসা থানা বিপরীতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‍্যাব বলেছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে অবৈধ অস্ত্র বিস্তার রোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • সৎ শাসকই দেশের উন্নয়ন ঘটাবে: গোলাম পরওয়ার

    সৎ শাসকই দেশের উন্নয়ন ঘটাবে: গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশের নির্মাণে জনসাধারণের ভোটই পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, নাগরিকরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ভোট দিয়ে একজন সৎ শাসককে ক্ষমতায় বসাবেন—তাহলেই দেশ থেকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও হিংসা নির্মূল হবে এবং ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা হবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া ওয়ার্ডে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকা কোনো দলের স্বার্থ অনুসরনে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে না; সেখানে আর দাঙ্গা-হিংসা, মারামারি বা অর্থনৈতিক লুটপাট থাকবে না। বিগত সরকার চালিত সময়ে দেশের অর্থপাচার ও লুটপাট ব্যাপকভাবে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং বলেন, এখনই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রূপান্তর ঘটানোর সময় এসেছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও জনজাগরণের মাধ্যমে দেশে অযাচিত শাসন ব্যবস্থা বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট দিয়ে জামায়েত ইসলামীকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। ক্ষমতায় এলে প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকাগুলোর গ্রামের অবকাঠামো — রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে বক্তব্যে আশ্বাস দেন তিনি।

    সভায় কুলবাড়িয়া ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মঈনুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, মাওলানা মতিউর রহমান হাফেজ মইনুদ্দিন, শেখ রুহুল আমিন, রাজিকুল ইসলাম, শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, বাবলুর রহমান ফকির বাতি, আব্দুস সোবহান ও রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।

    তিনি একই দিনে মঠবাড়িয়া, চুকনগর আবাসন প্রকল্প এলাকা, গোবিন্দকাটি, কাঁঠালতলাসহ বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যও রাখেন।

  • খুলনা-৪ আসনে বিএনপি নির্বাচনি প্রচারণায় মৎস্য শিল্পের উন্নয়নের প্রত্যাশা

    খুলনা-৪ আসনে বিএনপি নির্বাচনি প্রচারণায় মৎস্য শিল্পের উন্নয়নের প্রত্যাশা

    খুলনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া জেলা মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ একটি কেন্দ্রীয় এলাকা। এই অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে খুলনা-৪ আসনকে দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হন, তাহলে খুলনা-৪ এর মৎস্য খাতকে আধুনিক ও টেকসই শিল্পে রূপান্তর করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠবে। মৎস্য শিল্প আমাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই শিল্পকে কোনোভাবেই অবহেলা বা ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে মৎস্য শিল্পকে রক্ষা করে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানসম্পন্ন মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায়। মঙ্গলবার সকালে রূপসা উপজেলা চর রূপসায় বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা অঞ্চলের আয়োজনের দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএফএফইএ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলাম জহির। এরপর রহিমনগর ও জাবুসা এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা সভায় আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসাকে শান্তির উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি কখনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেয় না এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে আমাকে খুলনা-৪ কে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করে যাবেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, উপজেলা বিএনপি সদস্যরা, বিভিন্ন শ্রমিক, কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতারা। বিকেলে খুলনা জেলা কৃষকদলের আয়োজনে রহিমনগরে দোয়া মাহফিল ও সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আজিজুল বারী হেলাল। এতে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ আবু সাঈদ। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা বিএনপি নেতারা, শ্রমিক, কৃষক এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি আবুল হাসান হামেদি।