Category: রাজনীতি

  • খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়া ছিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’। তার দীর্ঘ জীবনের অর্জন, সংগ্রাম ও শোকের গল্প দেশের বহু হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির একজন ক্ষণজন্মা নেতা, যিনি জীবনভর সংগ্রাম, সাফল্য ও বেদনার প্রতিচ্ছবি আঁকেছিলেন।

    খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে। তার বাবার নাম ইস্কান্দার মজুমদার, মা তৈয়বা বেগম। পরিবারের তিন কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার শৈশব কেটেছে পরিশ্রমে, পরিচ্ছন্নতা ও ফুলের প্রতি গভীর ভালোবাসায়। পড়াশুনা আগেই শুরু করেন সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে, পরে দিনাজপুর সরকারি স্কুল ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছোটবেলায় তাকে ‘পুতুল’ ডাক নাম দেওয়া হয়েছিল কেননা তার অবয়ব হয়েছিল খুব সুন্দর।

    বিবাহ life: ১৯৬০ সালে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দিনাজপুরের বালুবাড়িতে বিয়ে হয় তার। এই দম্পতির দুই ছেলে— তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ তিনি শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন।

    মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে, তিনি বেশ কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন, পরে ১৬ মে ঢাকায় এসে নৌপথে ঢাকায় প্রবেশ করেন। পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সেনানিবাসে বন্দি করে। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি মুক্তি পান এবং সংসার ও রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    রাজনৈতিক জীবনের শুরু: তার রাজনৈতিক জীবন ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয়, তখন তার বয়স ছিল ৩৬। তিনি প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারপারসন ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তার পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়, যা তার রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য।

    তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে তার জীবনেও রয়েছে বিতর্ক, বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগে। তবে তার দৃঢ়তা ও সংগ্রামী চেতনা তাকে দেশের মানুষের হৃদয়ে অম্লান করে রেখেছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগে ভুগে শেষ পর্যন্ত শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

    তার জীবনের শেষ সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন, তিনি বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আর আরোগ্য লাভ সম্ভব হয়নি। অবশেষে, তিনি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমির জন্য বিদায় নিলেন। তার জীবন ও কর্ম দেশবাসীর জন্য সত্যিই এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস।

  • বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি শুক্রবার তার সাংগঠনিকstructure অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নয়জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী tarafından প্রত্যেকের নাম ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

  • সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কার ব্যাখ্যা

    সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কার ব্যাখ্যা

    বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি মনে করেন, এই মৃত্যুটি বর্তমান বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এক বড় ধাক্কা। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এক পোস্টে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

    সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টে বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে, যখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন এবং দেশকে অস্থিতিশীল ও বিরাজনীতিকরণের অপচেষ্টা চলছে, তখন তার এই চলে যাওয়া বাংলাদেশের উত্তরণের পথে এক গভীর প্রভাব ফেলবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অতীতের নানা বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ায় তিনি শিকার হয়েছেন, তবুও নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন এবং দেশের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে অবদান রেখে গেছেন। তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তবে, তিনি এই সময় বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ঝটকের বিষয় হিসেবে তার মৃত্যুকে তুলে ধরেন।

    অবশেষে, সজীব ওয়াজেদ জয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • জামায়াত আমিরের কদর্য দৃঢ়কন্ঠে বললেন, খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে

    জামায়াত আমিরের কদর্য দৃঢ়কন্ঠে বললেন, খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার অর্জন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অদ্বিতীয় স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং প্রার্থনা করেন আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর যাবতীয় ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। এছাড়াও তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সকলের জন্য ধৈর্য্য ও տոկামের দোয়া করেন, যেন এই কঠিন সময়ে তাঁদের ধৈর্য্য ও সাহস বাড়ে। এমতাবস্থায়, তিনি মরহুমার জন্য আল্লাহর কাছে রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতের মর্যাদা কামনা করেন।”}}}## Additional Instructions? Let me know if you’d like any further adjustments or another version.“`#END_OF_RESPONSE#}]]}

  • খালেদা জিয়া: এক অনুপ্রেরণাদায়ক নেতৃত্বের պատմা

    খালেদা জিয়া: এক অনুপ্রেরণাদায়ক নেতৃত্বের պատմা

    চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির কঠিন সময়গুলোতে উঠে এসেছিলেন একজন সাহসী নারী, তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। খালেদা জিয়া তার আপসহীন নেতৃত্ব, দৃঢ়তা এবং স্বীয় স্বার্থের ওপরে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মনোভাবের জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন, এই দুঃখজনক খবর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    জেল, জুলুম, নির্যাতন—সবকিছুকেই উপেক্ষা করে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে অবিচল থাকতে তিনি কখনও পিছপা হননি। তার এই সংগ্রামী জীবনই তাকে জনসম্মুখে ‘আপসহীন নেত্রী’ নামে খ্যাতি দিয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে, এক সামরিক অভ্যুত্থানে শহীদ হন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তখনকার রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। এই ব্যথা ও শোকের মুহূর্তে দলটি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়লেও, সেই বিপর্যয় মোকাবেলা করে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন খালেদা জিয়া। স্বামীর শূন্যতা দৃষ্টিতে নিয়ে তিনি দায়িত্ব নেন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের জন্মদান ও উন্নয়ন।

    অতঃপর, ১৯৮১ সাল থেকে তিনি দলকে পুনর্গঠনে কাজ শুরু করেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করেন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে একযোগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথই তারা ধরে এগিয়ে যান, যেখানে কোনও আপসের স্থান নেই।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা এবং সাহসের কারণে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতন সাধিত হয়। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন তিনি। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই অর্জন তাকে ইতিহাসের পাতায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

    খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন অটুট। ভয় বা লোভের কাছে কখনও হস্তান্তর হননি। দীর্ঘ সময়কার কারাবরণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও কঠিন অসুস্থতার সময়েও তিনি দেশের জন্য তার আদর্শের লড়াই চালিয়ে গেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তার আত্মদান সাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রশ্নে তার অবিচল ও দৃঢ়চেতা মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করে দেয়। তার জীবন আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস, তিনি সত্যিই বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় নেত্রী।

  • বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি

    বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই শূন্যতা শুধুমাত্র দেশের জন্যই নয়, বরং গণতান্ত্রিক পৃথিবীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও অসীম গুরুত্ববহ।

  • খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়

    খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়

    জাতীয়তাবাদী দলের প্রবীণ নেত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ আর নেই। তিনি মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, যা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় শোকের ঘটনা।

    খালেদা জিয়া তার গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে প্রবেশের মাধ্যমে ৪১ বছর ধরে দেশের মুখে হাসি সঞ্চার করেছেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে, কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচন হয় তার। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলের নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    তার ব্যক্তিত্ব, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সংগ্রামী জীবন তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরে স্থান করে দিয়েছে। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পাশাপাশি তিনি দলের নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়। ইতিহাসে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাক্ষী হয়ে আছেন।

    খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৮১ সালের ৩০ মে, জিয়া(‘–‘)র হত্যার পর বিএনপি সংকটে পড়ে। তখন তিনি স্বামীকে হারানোর দুঃখের অভিঘাতে স্বামীকে হারানোর বেদনা নিয়ে দলটিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে তার প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হয় তার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

    তিনি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১ এপ্রিলের বর্ধিত সভায় তার বক্তৃতা সংগৃহীত হয়। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হওয়ার পর তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব সামলান। ১৯৮৪ সালের মে মাসে তিনি প্রকাশ্যে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

    খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু করে। তার নেতৃত্বে দলটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকে বাতিল করার জন্য তাঁর আপসহীন লড়াই এক বিস্ময়কর ইতিহাস গড়ে। বিভিন্ন সময় তাকে আদালতের নানা নিষেধাজ্ঞা ও মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে।

    জিয়া পরিবারের এই প্রবীণ নেত্রীর জীবনে নানা সংকট এসেছে। অগ্নিসংযোগে আক্রান্ত হয়েছেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে এরশাদের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন, নিজের বাড়ি হারানোর সর্বনাশের সময়েও তিনি দমে দেননি। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জেল জীবন উপভোগ করতে হয়েছে তাকে। পরে ২০০৮ সালে মুক্তির পর তার মা, বেগম তৈয়বা মজুমদার মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্য তা আরও গভীর শোকের বিষয়।

    করোনা মহামারীর সময় ২০২০ সালে পারিবারিক অনুরোধে তাকে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আবার মুক্তি পান। তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

    চিরঘুমে শায়িত হলেও তার রাজনীতিমুখী জীবন ও সংগ্রাম বাংলা রাজনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি, বরং প্রতিবারই জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের ইতিহাসে একজন সফল নারী নেত্রীর বৈচিত্র্য আয়ত্ত করেছেন। তার নেতৃত্বে নানা সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

    আজ তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন শোকেরাগ্নিতে দগ্ধ। তার জীবন ও সংগ্রাম প্রমাণ করে, সত্যিকার নেতা কখনো অস্ত যায় না। তার অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • খালেদা জিয়া নির্বাচনে পরাজয় করেননি

    খালেদা জিয়া নির্বাচনে পরাজয় করেননি

    বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য নেত্রী, যার জীবন boyunca কখনও নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে তিনি দেশের নির্বাচনী মাঠের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন, এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সফলতা অর্জন করেছেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে তিনি তিনটি আলাদা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যেকবারই জয় লাভ করেন। শেষবার ২০০৮ সালে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। তবে এরপরই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুরু হয়। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বয়কট করে নির্বাচনে অংশ নেয়নি, আর ২০১৮ সালে মামলার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের.Suppressb শেষের অংশটুকু বয়কট করেছে বিএনপি। ফলে, গত কিছু বছর ধরে তিনি নির্বাচনী মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার তিনটি আসন থেকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে দ্বিতীয় দায়িত্বকাল ছিল মাত্র এক মাস। বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শাইরুল কবির খান জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বাংলার সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের পর ২০০১ সালে বিএনপি হেরে যায় এবং তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে অবস্থান করে যান। ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সমন্বয়ে এই সফলতা অর্জন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন শেষে তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এক পরম ধরনের নেত্রী, যিনি কখনও হার মানেননি এবং দেশের রাজনীতিতে তার অবদান অসীম।

  • পবিত্র কোরআনের আয়াত স্মরণ করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করলেন এনসিপি নেত্রী ডা. মিতু

    পবিত্র কোরআনের আয়াত স্মরণ করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করলেন এনসিপি নেত্রী ডা. মিতু

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই দলের ভিতরে অস্থিরতা চলছে। শীর্ষ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাসনিম জারাসহ কয়েকজন ইতিমধ্যে দল ত্যাগ করেছেন। কিছু নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে, ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপির যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক, পবিত্র কোরআনের আয়াত স্মরণ করে মহান আল্লাহর সাহায্য ও guidance চেয়েছেন। রোববার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেন, “নিশ্চয়ই আমার রব আমার সাথে আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।” এই উক্তি হলো সূরা আশ-শু’আরা’র ৬২ নম্বর আয়াতের একটি অংশ, যেখানে হজরত মুসা (আ.) ফিরাউনের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বলেছিলেন, যখন তার সম্প্রদায় ভয় পেয়েছিল। এটি আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস ও ভরসার প্রতীক, যা যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে পথ দেখানোর আশ্বাস দেয়।

  • ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তারেক রহমান

    ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তারেক রহমান

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে অংশ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিএনপির নেতা তারেক রহমান। তার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

    আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম ও দলের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক।

    অমিনুল হক বলেন, ‘ঢাকা-১৭ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

    এর আগে, গতকাল তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

    বলা যায়, এর সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান বাইরের অন্য একটি আসনেও নির্বাচনে অংশ নেবেন, সেটা হলো বগুড়া-৬।

    তারেক রহমানের এই মনোনয়নপ্রাপ্তির খবরে, ঢাকায় তারেকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান, আন্দালিব রহমান পার্থ, এই আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এখন ভোলা-১ আসনে নির্বাচন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০০৮ সালে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।