Category: রাজনীতি

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের দুর্দশা ও মুক্তিযোদ্ধা–শ্রমজীবীদের ত্যাগ ভুলে গেছে। তিনি এ মন্তব্য করেন শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন, ‘‘এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, স্বাধীনতার লড়াই থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণ–অভ্যুত্থানে শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি কুশল-অভ্যুত্থানগুলোতে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বিএনপি শ্রমজীবীর রক্তের ভিত্তিতেই ক্ষমতায় আসে, কিন্তু এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন সরকারের নামে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা শ্রমিকদের ত্যাগকে উপেক্ষা করে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে বেইমানি করেছে। গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে—এ সরকার গণবিরোধী। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার বিএনপি ভঙ্গ করেছে—এমন განცხადებით নাহিদ বলেন, ‘‘ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি দেশের জন্য ভালো হবে না। আমরা গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকারসহ এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করবো।’’

    নাহিদ বলেন, তিনি ও তার নেতৃত্ব এক নতুন জাতীয় ঐক্যের আওতায় কাজ করছেন। ‘‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সব মঞ্চে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা—ঐ লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতি শ্রমিকদের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হন। আপনাদের ঐক্যই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে। নতুন বাংলাদেশের পথে—জুলাইয়ের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল—তাকে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘এবার শুধু সংসদেই নয়, রাজপথে নামারও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রত্যেক দাবি বাস্তবায়িত হয়।’’

  • শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছে, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের কর্মীদের ওপর সশস্ত্র ও অপপ্রবৃত্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের কারণে বিএনপি নিজ দলীয়ভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে, ফলত আওয়ামী লীগও প্রভাবিত হয়েছে—এমন বক্তব্য দাঁড় করান তিনি।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই সমাবেশটি শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদ ও ফলাফল বাতিলের দাবি জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল।

    গণভোট নিয়ে তিনি বিএনপিকে কড়া আক্রমণ করে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল তারা গণভোটের ফল মেনে নেবে; কিন্তু এখন সরকার গঠন করলে তারা গণভোটের সিদ্ধান্তই বাতিল করার চেষ্টা করছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, শহীদদের ত্যাগেরও প্রতি অসমান্যতা।’

    তিনি আরও বলেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে যা ঘটেছে তা আগের তচকে-নাম করা কুচক্রী পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি—বিবিধ জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুগত কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ছবি মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নিরীক্ষণের দাবি করে দেশবাসীর সঙ্গে তামাশা করেছে।

    বিএনপিকে সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; যদি ক্ষমতায় থাকতে চান তবে দলেরাই প্রথমে চলমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও সমাধান করবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন ও আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়- বিজয়নগর গোলচত্বর পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নেওয়ার দাবি উচ্চারণ করেন।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের দাবি-অধিকারের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ বলেন, এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—শ্রমিকেরা গণআন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদের সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য গণ-অভ্যুত্থানে জয় করেছে শ্রমজীবী মানুষরা। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন, তিনি উল্লেখ করেন।

    অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের নীতির বিরুদ্ধে বেঈমানি করেছে; গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে। এই সরকার গণবিরোধী সরকার—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল তা আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও বিএনপি ভঙ্গ করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি না মানলে এর ক্ষতিকর পরিণতি হবে, তিনি সতর্ক করেন এবং বলেন, ‘‘আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকারসহ দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ বলেন, বর্তমানে তারা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে কাজ করছে। ওই ঐক্যের উদ্দেশ্যটাও স্পষ্ট—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি দেওয়া যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা পূরণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করা। এই লড়াইয়ে ঐক্য থাকা জরুরি, তিনি বলেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে আছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ। ‘‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন—বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের আন্দোলনের বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে,’’ তিনি বলেন।

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির কথাও বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়; আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব, যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

  • গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে নজীরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের লোকজন প্রহারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি এমনভাবে আচরণ করেছে যে আওয়ামী লিগকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।

    এসব অভিযোগ জানান তিনি শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। শেরপুর-৩ আসন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    গণভোট সংক্রান্ত দ্বিচারিতার কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন সামনে থাকলে বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা সর্বস্ব মেনে চলবে; কিন্তু পরে ক্ষমতায় থাকার জন্য গণভোটের আদেশই বাতিল করা হচ্ছে—এইভাবে দলের আচরণ জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের ত্যাগের অবমাননা বলে তিনি আখ্যা দেন।

    নির্বাচনে ‘মাগুরা মার্কা’ পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তোলেন তিনি। বলেন, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং জামায়াতের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও ভিডিও মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পরও সিইসি ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’ দাবি করে দেশের জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছেন।

    বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না; ক্ষমতায় থাকতে চাইলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন এবং সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    বক্তাগণ বগুড়া ও শেরপুর উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও তদন্তের দাবি করেন। সমাবেশের আগে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর এলাকায় শেষ হয়। মিছিলে অংশীরা উভয় কেন্দ্রেই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

  • মির্জা ফখরুল সতর্ক: সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে

    মির্জা ফখরুল সতর্ক: সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ দূর করে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর নির্মিত একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কিছু শক্তি এখনো সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা রোধ করা জরুরি।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফখরুল বলেন, ‘‘কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।’’

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলাম ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীত থেকেই এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে চলছে এবং সেটাই আমাদের শক্তি।

    ফখরুল স্থানীয় সময়ে ধর্মের নামে বিভাজন চেষ্টার যে সব অপচেষ্টা হয়েছিল সেগুলোকে ছাপিয়ে তুলে সবাইকে সামনে আনতে হবে বলেও সতর্ক করেন। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো সবাইকে নিয়ে সমাধান করতে হবে।’’

    তিনি প্রত্যেককে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বাইরে থেকে ঐক্য ও সৌহার্দ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রথম দিন, শুক্রবার (১০ এপ্রিল), সকাল ১১টায় রাজধানীর সেখানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা, আর জমা দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। এই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, আর্জিা সুলতানা রুমা ও অন্যান্য নেতা-কর্মী। রিজভী আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য বিএনপি মূলত স্বামী নারীবাদী নেত্রীদের মূল্যায়ন করবে, যারা নির্যাতিত হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই জন্য, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। বিএনপির মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে নারী নেত্রীদের অনেক সমস্যা—ক্যারাবরণ ও অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাই, দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সব দিক বিবেচনা করে তাদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেবে, এটাই প্রত্যাশিত। তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় প্রার্থীদের বিভিন্ন বিবেচনা করা হবে, যেমন—জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংসদে বক্তৃতার সক্ষমতা।

  • বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদী পথে: জামায়াত আমিরের মন্তব্য

    বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদী পথে: জামায়াত আমিরের মন্তব্য

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে একে একে দলীয়করণ করে দিচ্ছে, যা কার্যত আরেকটি ফ্যাসিবাদ এবং ‘অলিখিত বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার অনুরূপ। তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরশাসনের পতনের পরেও বর্তমান সরকার পূর্বের মতো দমনমূলক নীতিগুলো জারি রেখেছে, এবং তারা আবারও নতুন করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে রুখে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জামায়াতের এই নেতা এসব কথা বলেন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংসদে অধিবেশন শেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর আগে, গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিতর্কিত কিছু বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু জনবিরোধী বিল আনা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে জনগণের অধিকার হরণ করে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সদস্যরা বক্তব্য বলার সুযোগ পায়নি; কিছুক্ষণ বিরতিতে থাকলেও কিছু মন্ত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংসদে ভাষণ দেন, যা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী এবং বিরোধী কণ্ঠরোধের এক অপপ্রয়াস।

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়েও এই নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার এমন কিছু বিল পাস করছে, যা বিচারকদের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে। অতীতের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের পরিবর্তে এখন তারা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ভবিষ্যতেও দলীয় বিচারপতিদের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, হাইনাসহ অন্যান্য নেতাদের মতো বর্তমান সরকারও বিচার বিভাগে দলীয় আঁচড় কেটে যাচ্ছে।

    স্থানীয় সরকারের বিলগুলোরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার বক্তব্য, বিএনপি প্রথমে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে দলের পক্ষ থেকে বলানো হয়েছিল, সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগে অমুক অমুক শর্ত মানা হবে। কিন্তু সরকার অযৌক্তিক কারণ ছাড়াই সব স্তরে দলীয়করণ চালু করেছে, যা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করছে।

    এছাড়াও, শেরপুর ও বগুড়া উপ-নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১৯৯৪ সালে মাগুরায় যে কলঙ্কজনক নির্বাচন হয়েছিল, আজ আবারও একই ধরনের ‘স্টাইল’ দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এটাই আবার প্রমাণিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে এক কর্মী নিহতের পর আবার অন্য একজনের মৃত্যু, এর জন্য দায়ী খুনিদের বিচারের দাবি জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা সংসদ বর্জন করিনি। সংসদে যাবো এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলবো। তবে, যদি কোনো জনগণবিরোধী আইন পাস হয়, তবে আমাদের কণ্ঠ আবারো উচ্চারিত হবে। তিনি আরো বলেন, জনগণ আগেও ফ্যাসিবাদ ও বাকশাল রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ নতুনভাবে এ ধারাক্রম চালাতে চায়, তাহলে জনগণের সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

    সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের শীর্ষ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১১ দলের চার দিন ব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা

    ১১ দলের চার দিন ব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা

    দেশব্যাপী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই কর্মসূচির কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, দুঃখজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য নষ্ট করছে। মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একদলীয় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে, যেখানে জনদুর্ভোগ নিয়ে বিরোধীরা কথা বললেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ১১ দল এই নব্য ফ্যাসিবাদ রুখে দাঁড়াবে এবং গণভোটের রায় যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে শুরু হবে একটি সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি, যেখানে জনগণের মাঝে এই দাবির পক্ষসভা প্রচার করা হবে। এছাড়া ১১ এপ্রিল উপজেলা এবং থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধীদলগুলোকে রাজপথে আন্দোলনে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মকাণ্ডে দেশ হতবাক, বিস্মিত এবং তাদের গণভোটের নোট অব ডিসেন্টও এখন স্থগিত হয়ে গেছে। সংসদে একমাত্র একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকটে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলের কথা বলতেও দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন, তাদেরকেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে রাজাকার বলে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আহ্বান জানান, বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়ার জন্য।

  • মির্জা ফখরুলের আশঙ্কা, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে

    মির্জা ফখরুলের আশঙ্কা, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে

    সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা আমাদের কঠোরভাবে রুখে দিতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সকলকে এই বিভাজনের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। আমাদের মূল পথচলা হবে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য—এটাই হবে আমাদের শক্তি।”

    তিনি আরও বলেন, বাংলার ইতিহাসে দেখা যায়, এই দেশ সব ধর্মের মানুষকে গ্রহণ করে এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও সমান সম্মানে বসবাস করে আসছেন। এই ধরণীর এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে জীবনযাপন একটি প্রাচীন ঐতিহ্য।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এক সময়ে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই বিভাজন কায়েম রাখা কখনোই যেন আমাদের স্বপ্ন না হয়।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন আমাদের অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। ভবিষ্যতে আমরা যেন একটি সমৃদ্ধ ও কল্যাণময় সরকার গঠন করতে পারি, তার জন্য আপনাদের পাশে থাকতে চাই। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে, যার জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।”

  • শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও অনিয়মের অভিযোগ

    শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও অনিয়মের অভিযোগ

    শেরপুর ও বগুড়ায় উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোটাধিকার লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলছেন, কেন্দ্র দখলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রহস্যজনক হামলা ও জাল ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচনগুলোর সাথে অপ্রত্যাশিত অনিয়ম ঘটেছে। এই ঘটনা এতটাই গুরুতর যে, তা বিএনপির জন্যও শোরগোল সৃষ্টি করেছে।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা, বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন। এই সমাবেশের আয়োজক ছিল ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী, যা শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ নম্বর আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রকাশ্যে বলেছিল, তারা গণভোটে জিতলে তা মানবে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা সেই গণভোটের ফলাফলই বাতিল করছে, যা সম্পূর্ণভাবে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি।

    তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও নির্বাচন কমিশন নানা তত্ত্ব দিয়ে বলছে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে, যা একান্তই কপটতা এবং জাতির সাথে তামাশা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    গোলাম পরওয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতায় থাকা কোনো দিনই সম্ভব নয়। জনগণের সুবিচার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য বিএনপিকে এখনই রাজনৈতিক সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।

    সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান সহ অন্যান্য নেতারা।

    এর আগে, জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়, যা শেষ হয় পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর এলাকায়। এই মিছিলে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে বক্তৃতা ও শ্লোগান দেওয়া হয়।