Category: রাজনীতি

  • হানজালার বিতর্কিত বক্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    হানজালার বিতর্কিত বক্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নানান প্রতিক্রিয়া ডেকে এনেছে। তিনি বুধবার (বক্তৃতার দিন) উপজেলা বিএনপির উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দেন—যা পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    বক্তৃতার একাংশে হানজালা বলেন, ‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যান্ডিডেট ছিলেন। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না। আরে আমি হানজালা—বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’ এই উক্তি থেকেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

    হানজালা ওই বক্তব্য গত শুক্রবার বাহাদুরপুর মাঠে কুয়েত রিলিফ সোসাইটির তত্ত¡াবধানে ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় দেন। ভিডিওতে তিনি প্রবাসী ভাইদের আস্থা, লোকজনের দেওয়া বিজয় এবং রাজনীতিকে শুধু ব্যয়ভিত্তিক না করলে ভালো হবে—এমন প্রাসঙ্গিক সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, কিছু লোক বিশেষ করে শিবচরের বিএনপি’র কর্মীরা অনেক লিখছেন এবং কথা বলছেন, কিন্তু তিনি শান্তি চান এবং শিবচরের প্রতিটি মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চান।

    ভিডিওতে হানজালা আরও বলেন, অন্য কেউ হলে হয়তো এলাকায় কাউকে থাকতে দিত না, কিন্তু তিনি শিবচরের মানুষকে বাকস্বর স্বাধীনতা দিয়েছেন; তাই অনলাইনেও মানুষ লেখালেখি চালাতে পারবেন। তিনি উপস্থিতদের শান্তি, নতুনত্বের রাজনীতি ও প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানান।

    ঘটনার পর হানজালা দাবি করেন, তাঁর নির্দেশনা বিশেষত শিবচর উপজেলার বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমার বক্তব্য কাটাছেঁড়া করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’ উদ্ধৃত মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি’র এক নেতা—নাদিরা আক্তার—এক অনুষ্ঠানে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে তিনি বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি করেন; সেই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেছেন। হানজালা অস্বীকার করেন যে তিনি সার্বিকভাবে দেশকে উদ্দেশ্য করে ‘এ দেশে বিএনপি থাকবে না’ এমন মানে কিছু বলেননি।

    শিবচর উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানা বলেন, বর্তমান এমপি এবং তার পরিবার ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী শক্তিদের সঙ্গে ছিল; তাদের উদ্দেশ্য শিবচরে উগ্রবাদী রাজনীতি ও উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি হানজালাকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান ও জানান, শিবচর উপজেলা বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করবে।

    উল্লেখ্য, গত নির্বাচনেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিএনপি প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হন—যা দেশে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটের ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। হানজালা হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ)-এর সপ্তম পুরুষ।

    বক্তব্য প্রতিবাদের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে তর্ক-আলোচনা চলছে, এবং বিষয়টি এখনও প্রকাশ্যভাবে সমাধান বা ব্যাখ্যার অপেক্ষায় আছে।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত ডাকা না হলে রাজপথে আন্দোলন শুরু করবে জামায়াত ও ১১ দলের জোট। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক ড. হামিদুর রহমান আজাদ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান। সভায় এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামি পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত নানা দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকার ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলে আখ্যায়িত করলেও বাস্তবে জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সেই সংক্রান্ত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা জোটের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানাবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি।’

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, সরকার দ্রুত এই অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। এই প্রেক্ষিতে শীঘ্রই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আগামী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব ২৮ মার্চ তারিখে করেছে তারা; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।

    এইসাথে তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতাকে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন। এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

    সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা হবে; তবে প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ—উভয় এলাকায় বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালনে শক্ত অবস্থান নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’

  • আসিফকে লক্ষ্য করে মামলা দায়েরের চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    আসিফকে লক্ষ্য করে মামলা দায়েরের চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে মামলা করবার চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। তিনি এই কাণ্ডকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বকে লক্ষ করে করা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত বলেও অভিহিত করেছেন।

    শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং তাদের ‘অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকা’কে উদ্দেশ্য করে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা করা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি।

    নাহিদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়; এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আদর্শ, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নেওয়া পরিকল্পিত রাজনীতি।

    তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা প্রমাণ করে যে ৫ আগস্ট পরাজিত শক্তিগুলো এখনো ষড়যন্ত্র চালাতে সংকুচিত হয়নি।

    নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, মামলা-ভীতি বা আইনি হুমকির মধ্য দিয়ে এ নেতৃত্বকে দমন করা যাবে না; অতীতে এ রকম চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ করা যায় এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    বিবৃতিতে নাহিদ আরও নিশ্চিত করেন যে, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা সংকল্পবদ্ধ।

  • অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেছেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শুক্রবার নয়, শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও পুরো বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন নেই—এমন অভিযোগ বৈঠকে উঠে এসেছে।

    জোট সূত্রে বলা হয়, জুলাই সনদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল; তখন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনও আহ্বান করা হয়নি, যে কারণে জোটের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ড. আজাদ আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি।’ যদি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামবে—এটাই তাদের ঘোষণা।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব ২৮ মার্চের জন্য রাখা হয়েছে। ওই বৈঠকে আগামী আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

    এ সময় ড. হামিদুর রহমান আজাদ প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা ও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিকে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

    সংসদে বিরোধীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ—উভয়ক্ষেত্রেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। ‘জুলাই সনদ আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে,’ যোগ করেন তিনি।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদ না ডাকা হলে ১১ দল রাজপথে নামবে: জামায়াত

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ না ডাকা হলে ১১ দল রাজপথে নামবে: জামায়াত

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত ডাকা না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে; যদিও নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হয়েছে, তবুও ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে জোটের অভিযোগ।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রসঙ্গে একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ও সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনও ডাকা হয়নি, যা জোটের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    জুলাই সনদের বিধি মোতাবেক সংসদের নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন আহ্বানের পরামর্শ দিবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন—কিন্তু এখনো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, তিনি অভিযোগ করেন।

    ড. হামিদুর বলেন, ‘সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষায় বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’ এ বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আগামী ২৮ মার্চ ডাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হতে পারে, জানান তিনি।

    অপরদিকে, তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতাকে জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

    সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. হামিদুর বলেন, প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সংসদে এবং রাজপথ—দুই জায়গাতেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা কার্যত বাস্তবায়ন করতেই হবে।’’

  • আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় এবং এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত। তিনি বলেন, এমন কাণ্ড জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বকে টার্গেট করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা।

    শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ বলেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার অভিযোগ এনে মামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে; তবে আদালত ওই মামলাটি গ্রহণ করেনি। তিনি এ ধরনের চেষ্টা গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ তথা গণতান্ত্রিক অর্জনের প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের ওপর হয়রানিমূলক মামলা করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দমন করা হবে না; অতীতেও এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

    জনগণ ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নাহিদের আহ্বান—এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • আসিফের বিরুদ্ধে মামলা-চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    আসিফের বিরুদ্ধে মামলা-চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টাকে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলেছেন। তিনি বলেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।

    আজ শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লব নেতৃত্বদানকারী ওই আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার অজুহাতে মামলা দায়েরের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত ওই মামলা গ্রহণ করেনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদশে এমন অপচেষ্টা একই সঙ্গে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এটি কোনো ব্যক্তি-নির্ধিষ্ট বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়; বরং জুলাই বিপ্লবের আদর্শ, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম ও তার তরুণ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নেওয়া সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।

    তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়ের দাবি, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের চেষ্টা এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, মামলা কিংবা ভয়ভীতির মাধ্যমে এই তরুণ নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব নয়। অতীতেও এ ধরনের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে।

    সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নাহিদ ইসলাম আহ্বান জানান, এমন অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকার তোড়জোড় না হলে সরকারকে বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন চালাবে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট—এই আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক ড. হামিদুর রহমান আজাদ।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, বলেও তিনি জানান।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সরকারের দাবি থাকা সত্ত্বেও জনগণমুখী ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি—এই অভিমান সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত একদিনের গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অথচ সংসদ অনুচিত প্রক্রিয়া না মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই। ‘‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি,’’ তিনি উল্লেখ করেন।

    ড. হামিদুর বলেন, যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করে, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার্থে বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে নামতে বাধ্য হতে হবে। কবে, কোথায় এবং কী ধরনের কর্মসূচি হবে—এ বিষয়ে শীঘ্রই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তিনি জানান, জোটের শীর্ষ নেতাদের আগামী ২৮ মার্চ বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যত আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।

    বৈঠকে একাধিক বিষয়কেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়—বিশেষত ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনগণের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ড. হামিদুর দাবি করেন, এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে।

    সংসদে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকাসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিরোধী দল both সংসদে সহযোগিতা করবে ও রাজপথেও তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই সনদ আংশিকভাবে নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন চাই—কারণ জনগণের রায়ের মাধ্যমে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’’

    ব্রিফিংয়ে তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন যে, সরকার যে বিলম্ব দেখাচ্ছে সেটি সমাধান করা না হলে জনগণের আপেক্ষিক আস্থা ও গণতান্ত্রিক মর্যাদা রক্ষার জন্য তারা পদক্ষেপ নেবে।

  • আসিফের বিরুদ্ধে মামলা-চেষ্টা ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত’ — নাহিদ ইসলাম

    আসিফের বিরুদ্ধে মামলা-চেষ্টা ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত’ — নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসিফ মাহমুদকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নেওয়া সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তাঁদের অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার অভিযোগ করে মামলা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ওই মামলাটি আদালত গ্রহণ করেনি, বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    নাহিদ আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জন্য এমন অপচেষ্টা একই সঙ্গে উদ্বেগের এবং নিন্দার যোগ্য। তিনি বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত হামলা নয়; বরং জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বকে কুঁচিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া পরিকল্পিত চালচিত্র।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্রের প্রতীক। আন্দোলনের নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বা ভয়ে-ভীতি দেখিয়ে দমন করা যাবে না; অতীতেও এমন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন।

    সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। নাহিদ আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী কোনো গোষ্ঠীর অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।

  • পানিসম্পদ মন্ত্রী: বিএনপি সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে

    পানিসম্পদ মন্ত্রী: বিএনপি সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে

    পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ১৭ বছর ধরে জমে থাকা জঞ্জাল সরিয়ে বিএনপি সরকারের সময়ে সৃষ্ট অরুচিকর অবস্থা পরিষ্কার করতে হবে। খাল-বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে জমে থাকা বর্জ্য ও আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারি বাজার এলাকায় খাল খনন কাজ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব পেয়েছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব কাজ এবং সব দপ্তরে শহীদদের সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি খাল দখলমুক্ত করাও নিশ্চিত করা হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচি শুরু হলে সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ‘‘দেশপ্রেমিক সরকার হিসেবে আমরা দেশের মানুষকে নিয়ে এগোবো, তাই তাদের সহযোগিতা চাই,’’ তিনি যোগ করেন।

    প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সরকার সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে মন্ত্রী জানান।

    মন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুরে ইতোমধ্যে তিনটি খাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও বলেন, খালগুলো খননের আগে সবচেয়ে প্রয়োজন যে বর্জ্য ও আবর্জনা তা পরিষ্কার করা এবং অবৈধ দখল তুলে নেওয়া। ‘‘এই দুটো কাজ না হলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না; সেজন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে,’’ তিনি আবেদন করেন।