অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেছেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার নয়, শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও পুরো বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন নেই—এমন অভিযোগ বৈঠকে উঠে এসেছে।

জোট সূত্রে বলা হয়, জুলাই সনদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল; তখন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনও আহ্বান করা হয়নি, যে কারণে জোটের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ড. আজাদ আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি।’ যদি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামবে—এটাই তাদের ঘোষণা।

জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব ২৮ মার্চের জন্য রাখা হয়েছে। ওই বৈঠকে আগামী আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

এ সময় ড. হামিদুর রহমান আজাদ প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা ও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিকে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

সংসদে বিরোধীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ—উভয়ক্ষেত্রেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। ‘জুলাই সনদ আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে,’ যোগ করেন তিনি।