Category: রাজনীতি

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে মনিরুল হকের প্রশ্ন

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে মনিরুল হকের প্রশ্ন

    জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তীব্র মন্তব্য করেছেন। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

    সংসদে দাঁড়িয়ে মনিরুল হক বলেন, স্বাধীনতার পরও একটি মেধাবী শ্রেণি এসেছিল যারা জাসদ গঠন করেছিল। ‘‘বাড়াবাড়ি করতে করতে দেশ ও জাতিকে ক্ষতি করা হলো, তারা নিজেও শেষ পর্যন্ত আর রইলো না। আমাদের যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক দিয়ে।’’

    তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি দেশনেত্রী খালেদার নেতৃত্বে তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। খালেদা জিয়া অনেক বিরোধ উপেক্ষা করে জাতি-দেশের স্বার্থে জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন—এই অবদানটুকু অন্তত স্মরণ করা উচিত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা যখন প্রশ্ন তোলেন, মনে হয় এ দেশে ১৫–২০ বছর বিএনপি ছিলই না। ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে এমন অনেক বিষয় ভাবা দরকার।’’

    মনিরুল হক আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো তিনি ভেবেছেন কী ভাষায় কথা বলবেন—আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলা হতো তাদের চিনতাম, কিন্তু আজকের বিরোধীদের অনেককেই তিনি চিনতে পারছেন না। তিনি তরিক রহমানের কথাও তুলে আনেন—‘‘কঠিন নির্বাচন’’—যা সেই সময় অনেকে বুঝতে পারেননি, পরে তাদের ধারণা হলো নির্বাচন কত কঠিন ছিল।

    তিনি বৃহস্পতিবার আরো মন্তব্য করে বলেন, এত সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর যে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত ছিল, তা যদি কেউ মনে করে তা হলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। তবুও আজ আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে—কয়েকজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধার ওপর প্রশ্ন করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনাও একই কাতারে ধরা হচ্ছে কি না—এই ধরনের আশঙ্কা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিস্টদের শাসনামলে বিচার নামে যদি অন্যায় হয়ে থাকে, সে কথা আলাদা।’’

    শেষে মনিরুল হক বলেন, সংসদে এই বিষয়গুলো উত্থাপন রেখে তিনি জামায়াতকে একটি কথা জানাতে চান: স্বাধীনতার পর এনসিপির মত নতুন নেতৃত্বে যারা আছে তাদের বয়স কম হলেও তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি তাদের ‘সাহসী সন্তান’ হিসেবে মন্তব্য করে বলেন, বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী কিছু নতুন শক্তির দরকার আছে।

  • মীর স্নিগ্ধের পরামর্শ: এনসিপিকে এখনই ১১ দলীয় জোট ছাড়তে হবে

    মীর স্নিগ্ধের পরামর্শ: এনসিপিকে এখনই ১১ দলীয় জোট ছাড়তে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনই ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই অভিযানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ছোট ভাই মীর স্নিগ্ধ। শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই পরামর্শ জানিয়েছেন।

    পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, ‘সামান্তা শারমিনের মতো আমিও মনে করি, এনসিপির এখনই জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। কারণটা খুবই সহজ — এনসিপি যদি নিজেকে বড় দল হিসেবে না দেখে, তাহলে অন্য কেউ তাকে বড় করে তুলবে না।’

    তিনি আরও বলেন যে এনসিপিকে নিজেদের আদর্শ, রাজনৈতিক অবস্থান এবং মানকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর ফলে সাময়িকভাবে কিছু সমস্যা হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। মীর স্নিগ্ধ নির্দেশ করেন, ‘এই দেশের তরুণরা পুরোনো ধাঁচের প্রচলিত রাজনীতিতে ক্লান্ত; তারা এনসিপিকে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়।’

    মীর স্নিগ্ধের বক্তব্যে বলা হয়েছে, এখনই জোট ত্যাগ না করলে ধীরে ধীরে মানুষের মনে ধরা পড়বে যে এনসিপির কোনো স্বতন্ত্রতা নেই এবং একসময় তা স্থায়ী ধারণায় পরিণত হবে। তিনি অঙ্গীকার করেন যে যদি এনসিপি এখনই স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ায়, তখন অনেকে — যারা হয়ত এখন চোখে নেই — শক্তিশালী ও প্রতিভাবান নেতৃত্ব নিয়ে আসতে আগ্রহী। তাই সময়টা এখনই, এমনটাই তার দৃঢ় মতামত।

  • মীর স্নিগ্ধের আহ্বান: এনসিপি এখনই ১১-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসুক

    মীর স্নিগ্ধের আহ্বান: এনসিপি এখনই ১১-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসুক

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনই ১১-দলীয় নির্বাচনি জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত—এমনটাই দাবি করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ছোট ভাই মীর স্নিগ্ধ। শনিবার রাতের নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ফেসবুকে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, ‘সামান্তা শারমিনের মতো আমিও মনে করি, এনসিপির এখনই জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। কারণটা খুবই সহজ—এনসিপি যদি নিজেকে বড় দল হিসেবে না দেখে, অন্য কেউ তাকে বড় করে তুলতে পারবে না।’

    তিনি আরও জানান, দলকে তাদের আদর্শ, অবস্থান এবং রাজনীতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে সাময়িক কিছু কষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মীর স্নিগ্ধ বলেন, ‘এই দেশের তরুণরা পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিতে ক্লান্ত। তারা এনসিপিকে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়।’

    তিনি সতর্ক করেন যে, এখনই দল যদি স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় নিচ্ছে না, তাহলে ধীরে ধীরে জনগণের মনে ধারণা গড়ে উঠবে যে এনসিপির কোনও স্বতন্ত্রতা নেই এবং একসময় তা স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

    মীর স্নিগ্ধ আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, এনসিপি যদি এখনই স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়াতে পারে, তাহলে অজানা নয় কত প্রভাবশালী ও সম্ভাবনাময় নেতারা তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত—শুধু এই আশায় যে এনসিপি নিজস্ব স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করবে। তার মতে, সময়টা এখনই।

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে মন্তব্য করেছেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে মন্তব্য করেছেন মনিরুল হক চৌধুরী

    বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত এবং এনসিপি বিষয়ক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরও একসময় একটি মেধাবী শ্রেণি উপস্থিত হয়েছিল, যারা জাসদ গঠন করেছিল। কিন্তু বাড়াবাড়ি করে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়েছে, তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। আমরা যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক পাই।’’

    মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘৯১ সালের সংসদে আমি আপনারা—আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের নেতৃত্বে। যখন আপনারা প্রশ্ন তোলেন, মনে হয় এই দেশে ১৫–২০ বছর বিএনপি নেই। কিন্তু দেশনেত্রী অনেক বিরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছেন। রাজনীতিকে যেখানে নিয়ে এসেছেন, তার পেছনে তার অবদানও একটু স্মরণ করবেন।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘একসময় জাসদ মনে করত আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষ—এভাবে ইতিহাসকে বিবেচনা করার মতো বুদ্ধি-বিদ্যা প্রত্যেকের আছে।’’

    পিছনে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতিও প্রকাশ করেন। ‘‘আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম। আজ যারা বিরোধী, তাদের আমি এখনও পুরোপুরি চিনি না। আমাদের নেতা তারেক রহমান যখন বলেছিলেন ‘কঠিন নির্বাচন’, অনেকেই তখন বুঝতে পারেননি; আমি তখন বুঝেছিলাম। পরে নির্বাচন করতে গিয়ে বুঝেছি আমরা সত্যিই কঠিন নির্বাচন পেরেছি।’’

    মনিরুল হক বলেন, ‘‘এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকেই। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা এখনও জীবিত, তাদের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হোক—মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদি অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিচারের নামে অন্যায় হয়ে থাকে, তার এক আলাদা আলোচনা আছে।’’

    শেষে তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে এবং এনসিপিসহ তরুণ নেতাদের মন্তব্যে বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর বা এনসিপির মতো অংশগুলোর নেতারা বয়সে ছোটও হতে পারেন, তবু আমি তাদেরই সম্মান করি—কারণ তারা সাহসী সন্তান, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এগিয়ে আসে।’’

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে কড়া মন্তব্য বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে কড়া মন্তব্য বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর

    রবিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপি সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াত ও এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে তীব্র বক্তব্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।

    মনিরুল হক বলেন, স্বাধীনতার পরও এক মেধাবী শ্রেণি এসেছিল যে দল গঠন করেছিল — জাসদ। ‘‘বাড়াবাড়ি’’ করার ফলে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা নিজরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এ কথাগুলো মনে রাখতে হবে। তিনি বিভাজন এবং অতিরঞ্জনের নীতিকে সমালোচনা করেন এবং দেশকে সবকিছু সহ্য করার ক্ষমতা দান করার জন্য দোয়া করেন।

    তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি তখনকার সরকারে কাজ করেছেন, এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াতকে রাজনীতিতে আনায় তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি অন্য নেতাদের আহ্বান জানান যেন ওই সময়ের বাস্তবতা ও ইতিহাসকে ভুলে না যায় এবং দেশনেত্রীর সেই ভূমিকা সম্মান করা হয়।

    মনিরুল হক অভিযোগ করেন, আজকের পরিস্থিতিতে বিরোধীদলের পরিচয়ও বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে; আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম, আজকে বিরোধীদেরও চিনতে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেছেন যে তার নেতা তারেক রহমান ‘‘কঠিন নির্বাচন’’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন—সেটি তখন অনেকে বুঝতে পারেননি, পরে নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে তা স্পষ্ট হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পরও যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত ছিল, তাদের মধ্যে একটি হলো জামায়াতে ইসলামী। তবে আজকাল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন ওঠাচ্ছে — যারা জীবিত আছেন তাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা ঠিক না; মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১’র যুদ্ধকে কি একইভাবে দেখা হচ্ছে — এ ধরনের বিষয় মহান সংসদে আলোচনার দাবি রাখে। তিনি বলেন, যদি ফ্যাসিস্ট আমলে বিচারের নামে অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে সেটি আলাদা বিষয়।

    সমাপ্তিতে তিনি জামায়াতকে এক বক্তব্য রেখে বলেন, স্বাধীনতার পরে বা এনসিপির নেতারা বয়সে ছোট হতে পারেন, কিন্তু তাদের সাহস ও উদ্যোগকে তিনি শ্রদ্ধা করেন; এটিই এই যুগের চাহিদা।

  • মীর স্নিগ্ধের পরামর্শ: এনসিপিকে এখনই ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত

    মীর স্নিগ্ধের পরামর্শ: এনসিপিকে এখনই ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উচিত এখনই ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট থেকে বেরিয়ে আসা—এমন মন্তব্য করেছেন জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ছোট ভাই মীর স্নিগ্ধ। শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এ অনুরোধ করেন।

    ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, ‘সামান্তা শারমিনের মতো আমিও মনে করি, এনসিপির এখনই জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। কারণটা খুবই সহজ—এনসিপি যদি নিজেকে বড় দল হিসেবে না দেখে, তাহলে অন্য কেউ তাকে বড় করে তুলবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের আদর্শ, অবস্থান এবং রাজনীতি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এতে সাময়িক কিছু অসুবিধা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ মীর স্নigd্ধের কথায়, দেশের তরুণরা পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিতে ক্লান্ত; তারা এনসিপিকে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়।

    তিনি সতর্ক করেন যে এখনই জোট থেকে না বের হলে ধীরেধীরে জনগণের মনে ধারণা সৃষ্টি হবে যে এনসিপির কোনো নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নেই, এবং এক সময় সেই ধারণা স্থায়ী হয়ে যাবে।

    মীর স্নigd্ধ আরও যোগ করেন, ‘এনসিপি যদি এখন স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ায়, তবে হয়তো অনেক প্রভাবশালী ও সম্ভাবনাময় নেতার আবির্ভাব ঘটবে—যারা অপেক্ষা করছেন শুধু এই আশায় যে এনসিপি নিজের স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান নেবে’। শেষ করে তিনি লেখেন, সময়টা এখনই।

  • হানজালার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘আমি খোঁচা দিলেই দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    হানজালার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘আমি খোঁচা দিলেই দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা শিবচর উপজেলা বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ও রাতেই ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার বাহাদুরপুর গ্রামে কুয়েত রিলিফ সোসাইটি ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হানজালা। অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে নানা রকম হুঁশিয়ারি দেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে হানজালাকে বলতে শোনা গেছে, ‘‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না। আরে আমি (হানজালা) যদি বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করি, এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’’ ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, শিবচরের মানুষকে তিনি বাকস্বাধীনতা দিয়েছেন এবং বিরোধী নেতাদের অকারণ হুমকি-ধমকির অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রতি সতর্ক হতে বলেন।

    বক্তব্যে হানজালা দাবি করেন যে তিনি শান্তি চান এবং শিবচরের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘‘আমি চুপ করে আছি কারণ আমি শান্তি চাই। আমার চুপ থাকা কোনো দুর্বলতা নয়—আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, অন্য কাউকে এক্ষেত্রে স্থাপন করলে শিবচরের মানুষ নির্দ্বিধায় চলতে পারত না।

    এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শিবচর উপজেলা বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য-সচিব মোঃ সোহেল রানা বলেন, বর্তমান এমপি ও তাঁর পরিবার আগের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শিবচরে উগ্রভাবের উত্থান ঘটাতে চাইছেন বলে তিনি মনে করেন। সোহেল রানা দাবি করেন, শিবচরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উত্তপ্ত করার উদ্দেশ্যেই এমন বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে এবং আশা ব্যক্ত করেন হানজালা তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। শিবচর উপজেলা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ করার কথাও জানিয়েছে।

    হানজালা নিজের বক্তব্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর মূল উদ্দেশ্য শিবচর উপজেলা বিএনপিকেই বলা ছিল। তিনি দাবি করেছেন যে কিছু মানুষ তাঁর কথা কেটে কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে কেউ আমাকে বলেছেন আমি বিএনপি নিয়ে খোঁচাখুঁচি করি—তাই সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে আমি এমন কিছু বলেছি। কিন্তু ‘দেশে বিএনপি থাকবে না’ বলতে দেশের কথা বোঝানো হয়নি।’’

    নোট: প্রতিবেদনে বিএনপি নেত্রী হিসেবে এক জায়গায় নাদিরা আক্তার নামে ও অন্যত্র নাদিরা চৌধুরী নামে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে নামের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবারের নির্বাচনে খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নাদিরা (প্রতিবেদনভেদে নাম ভিন্নভাবে উল্লেখিত)কে পরাজিত করে শিবচর থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হন। তিনি মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। হানজালার পারিবারিক পটভূমির বিষয়ে উল্লেখ আছে যে তিনি হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ)-এর সপ্তম পুরুষ।

    ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জনমত ও রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি নিয়ে আরও বিবৃতি দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলন প্রচলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেছেন, আগামীকাল পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান ড. হামিদুর রহমান আজাদ। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে; যদিও নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হয়েছে, তবু অনেকে মনে করেন ভোটাধিকার পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পর্ষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা নিয়ে জোটের মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতেই বাধ্য হবে। জোট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে শীঘ্রই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হতে পারে।

    একই সময়ে তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন। এসব সিদ্ধান্ত জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—এই নিয়ম প্রত্যাহার করে নির্বাচন-ভিত্তিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেন প্রশাসন চালাতে পারেন, সেই দাবি জানান তিনি।

    সংসদে বিরোধীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

  • হানজালার মন্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’—মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    হানজালার মন্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’—মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বাহাদুরপুরে দেওয়া একটি ইফতার মাহফিলে বলেন, ‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’, এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনায় পরিণত হয়।

    ঘটনাটি গত শুক্রবার কুয়েত রিলিফ সোসাইটি ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে বাহাদুরপুর মাঠে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ঘটে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে নেওয়া একটি চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিও হানজালার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাতেই শেয়ার করা হয় এবং মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা মতপ্রকাশ ও সমালোচনা শুরু হয়।

    ভিডিওতে হানজালা শিবচর উপজেলা বিএনপি’র নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা (বিএনপি) শিবচর নিয়ে রাজনীতি করুন, আমি পুরো বাংলাদেশ নিয়েই রাজনীতি করি। আমি শান্তি চাই; আমার চুপ থাকা দুর্বলতা নয়।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেতৃত্বের কেউ কাউকে হুমকি-ধমকি দেয়নি, বিদেশি, স্থানীয় ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমর্থনে তিনি জিতেছেন এবং তাই রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে চান।

    ভিডিওতে হানজালা তেমনকিছু ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি ও কঠোর ভাষার কটাক্ষের কথাও তুলে ধরেন এবং বলেন, তিনি শিবচরের মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন—যারা তার নামে লিখবে, সেই স্বাধীনতাই তিনি দিয়েছেন।

    বক্তব্য সংক্রান্ত প্রশ্নে হানজালা বলছেন, তার মন্তব্যে দেশের সর্বত্র বিএনপিকে উদ্দেশ্য করা হয়নি; তিনি মূলত শিবচর উপজেলা বিএনপিকেই বোঝাতে এই কথাগুলো বলেছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু মানুষ তার কথাগুলো কেটে কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এছাড়া তিনি বলেন, বিএনপির নাদিরা আক্তার নামের এক নেত্রী এক অনুষ্ঠানে তাকে উদ্দেশ্য করে জানিয়েছেন যে তিনি বিএনপিকে নিয়েই খোঁচাখুঁচি করেন—সেই মন্তব্যের প্রতিবাদগত প্রেক্ষাপটেই তিনি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

    শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানা এই মন্তব্যকে তীব্র আপত্তিকর হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, হানজালা ও তার পরিবারের আচরণ শিবচরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্বাভাবিক করবার চেষ্টা করছে; আশা করা হচ্ছে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং উপজেলা বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করবেন।

    প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিএনপি প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে পরাজিত করে জয়ী হন—মাত্র ৩৮৫ ভোটে, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট ব্যবধানে জেতার ঘটনা হিসেবে নজিরবিহীন। তিনি হাজী শরীয়ত উল্লাহ (র:)–এর সপ্তম পুরুষ।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকার হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকার হলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামা হবে—এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, আগামীকাল পর্যন্ত সমস্যা না মিটলে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন ড. হামিদুর রহমান আজাদ। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও, জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে জোটের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    জামায়াত নেতার অভিযোগ, জুলাই সনদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পর্ষদ গঠনের জন্য একদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। সেই নীরিক্ষার পরও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা জোটের কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ বলে তিনি জানান।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি’।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ না নেয় তবে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বিরোধীরা। এ বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আগামী ২৮ মার্চ ডাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে পারে জোটটি, জানান তিনি।

    এ সময় ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরো অভিযোগ করেন যে, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা নতুন করে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান।

    সংসদের বাইরে ও সংসদে দুই জায়গাতেই বিরোধী দলের করণীয় থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই—কারণ জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে’—শেষ করেন ড. হামিদুর রহমান আজাদ।