Category: বিশ্ব

  • ফুজাইরাহ উপকূলে ট্যাংকারে হামলা

    ফুজাইরাহ উপকূলে ট্যাংকারে হামলা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান বন্দর ফুজাইরাহের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (UKMTO) মঙ্গলবার ভোরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    ইউকেএমটিও বলেছে, হামলাটি ওমান উপসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে ঘটেছে—ফুজাইরাহ থেকে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে। ঘটনার সময় জাহাজটি নোঙ্গর করা অবস্থায় ছিল।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজে বিস্ফোরক ধরনের আঘাত ধরা পড়েছে। কীভাবে এই আঘাত হয়েছে—ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্য কোনো অস্ত্র—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আকস্মিক হামলার পর জাহাজে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবর নেই।

    ফুজাইরাহ বন্দর হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী একটি কৌশলগত সমুদ্রবন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি রফতানিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্ত করে বিস্তারিত জানালে তা সম্পর্কে আরও আপডেট জানানো হবে।

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল: কاؤن্টারটেরোরিজম প্রধান জোসেফ কেন্ট পদত্যাগ

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল: কاؤن্টারটেরোরিজম প্রধান জোসেফ কেন্ট পদত্যাগ

    ইরান সম্পর্কে নেওয়া সাম্প্রতিক নীতিকে নৈতিক ও আইনগত কারণে সমর্থন করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের প্রধান জোসেফ কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। কেন্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের ভিতরে বিদ্যমান ধ্রুবক বিভক্তিকে আরও অস্পষ্ট করে তুলেছে।

    রয়টার্সসহ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এটি এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আসা সবচেয়ে জোরালো অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ। অনেক কর্মকর্তা মনে করছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন; এই মূহুর্তে কেন্টের বিদায় সেই অভিযোগকে আরও জোরালো ভাঙচুরের মতো রূপ দিয়েছে।

    নিজের পদত্যাগপত্রে কেন্ট লিখেছেন, ‘বিবেকের তাড়নায় আমি ইরানবিরোধী এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান আমাদের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। স্পষ্টতই ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপের কারণে আমরা এই সংঘাতে জড়িয়েছি।’

    কেন্ট তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এও প্রকাশ করেছেন। তার পদত্যাগের খবর পাওয়ার পর গোয়েন্দা মহলের অনেকেই অবাক হয়েছেন; সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি অনেককে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মন্তব্য করেন যে বর্তমান আইন ও প্রচলিত রীতিনীতিতে কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরু করার ক্ষেত্রে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে এই মূহূর্তে সেই ধরনের স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণ ছিল না।

    ফলত, এতদিন যেসব নানান জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে পশ্চিমা মিত্ররা সমর্থন দেখিয়েছে, এবারের ঘটনায় তাদের অনেকেই সরিয়ে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প যখন মিত্রদের যুদ্ধ জোড়াতে বলছেন, তখন অনেক দেশের সরকার সরাসরি বলছে—এই সংঘাত তাদের লড়াই নয়। সংবাদে বলা হয়েছে, স্পেন এমন পদক্ষেপও নিয়েছে যাতে তাদের ঘাঁটিটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে না পারে।

    ইরানের প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু দুর্বলতাও ধরা পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিভিন্ন সময়ে একরকমের স্থির বক্তব্য দিতে পারেননি, ফলে তাদের অভিযান-উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

    কেন্টের পদত্যাগ হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে আগুনে ঘি ঢালার মতো প্রভাব ফেলেছে; তবে হোয়াইট হাউস দ্রুত কোনো মন্তব্য করেনি। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    জোসেফ কেন্টের সঙ্গে পরিচিত কংগ্রেসের সাবেক সদস্য তুলসি গ্যাবার্ডও কিছুটা নীরব মনোভাব গ্রহণ করেছেন—যদিও তিনি কয়েকবার আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করে এসেছেন। চলতি সংঘর্ষে তিনি প্রকাশ্যভাবে বড় কোনো বিবৃতি দেননি; কেবল সাম্প্রতিক সময়ে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতায় তাকে দেখা গেছে।

    অবশেষে, কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে যে ভিন্নমত ও অনিশ্চয়তা রয়েছে তা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—বিশেষত আইনি অধিক্ষেত্রে যুদ্ধ আরোপের নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক কেমন মোড় নেবে, তা সময়ই বলে দেবে।

  • ইসরায়েল দাবি: আলী লারিজানি ও বাসিজ কমান্ডার সোলাইমানিকে হত্যা

    ইসরায়েল দাবি: আলী লারিজানি ও বাসিজ কমান্ডার সোলাইমানিকে হত্যা

    ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) প্রধান আলী লারিজানি ও আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে পৃথক হামলায় হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছিলেন, সোমবার রাতের ওই অভিযানে দুজনেই নিশানা করা হয়েছে এবং তাদের রাতারাতি নির্মূল করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

    ইসরায়েলি সামরিক এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তবে তিনি নিহত নাকি আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই সময়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বাসিজ কমান্ডার সোলাইমানিকে হত্যা করার দাবিও প্রকাশ করেছে।

    ইরান এখনও এই দাবিগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও মেহের বলেছে যে আলী লারিজানি শিগগিরই একটি বার্তা দেবেন এবং প্রতিক্রিয়ার কথা কিছু সময়ের মধ্যে জানানো হবে।

    পটভূমি অনুযায়ী, আলী লারিজানি ইরান শাসনব্যবস্থার একটি শক্তিশালী চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হন। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর লারিজানি দেশের কার্যত প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি এক বিবেচনাধর্মী রক্ষণশীল নেতার পরিচয় পান, যিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় ঝোঁক রাখেন এবং দেশের কট্টরপন্থীদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারদর্শী বলে পরিচিত। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে তিনি প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা ও পারমাণবিক নীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোতে প্রভাবশালী ছিলেন।

    ইসরায়েলের দাবির সত্যতা নিশ্চিত হলে তা ইরানের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হবে, বিশেষ করে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্যে যখন লারিজানি দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।

    বাসিজ বাহিনী ইরানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বিদ্রোহ দমন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাসিজের উচ্চস্তরের কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে—অর্থাৎ সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ ও সংগঠনের সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতীতে বাসিজসহ ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এসেছে, এমনই বিবেচনা রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।

    এ ঘটনার পরবর্তী সময়ে বিশ্বমঞ্চে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিরপেক্ষ উৎস থেকে দাবিগুলো যাচাই করা রইল। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, বিবিসি।

  • ফুজাইরাহ নিকটে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

    ফুজাইরাহ নিকটে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান বন্দর ফুজাইরাহের কাছাকাছি মঙ্গলবার ভোরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটো)। সংস্থাটি এক বার্তায় জানিয়েছে, হামলাটি উপসাগরীয় ওই অঞ্চলে ঘটেছে এবং ঘটনার সময় জাহাজটি নোঙর করা অবস্থায় ছিল।

    ইউকেএমটোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে কোনো বিস্ফোরক স্বরূপ বস্তু আঘাত করেছে। তবে এটি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্য কোনো অস্ত্র— তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আনুমানিকভাবে জাহাজটিতে তীব্র ক্ষতি ঘটেনি এবং এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।

    ঘটনাস্থলটি ফুজাইরাহ থেকে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ওমান উপসাগরের দিকে অবস্থিত। ফুজাইরাহ হরমুজ প্রণালীর কাছে হওয়ায় এবং আমিরাতের জ্বালানী রফতানির প্রধান বন্দরের জন‍্য এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইউকেএমটো ছাড়াও ঘটনাটি সম্পর্কে তদন্ত চলছে—এখনও পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করে কোনো গোষ্ঠীর ঘোষণা পাওয়া যায়নি এবং ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণ করা হয়নি।

    রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পরে থেকেই এই বন্দর কার্যক্রমে ব্যহত রয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে বলা হচ্ছে।

  • ফুজাইরাহের কাছে তেল ট্যাঙ্কারে অজানা হামলা

    ফুজাইরাহের কাছে তেল ট্যাঙ্কারে অজানা হামলা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান সমুদ্রবন্দর ফুজাইরাহের কাছাকাছি মঙ্গলবার ভোরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটে বলে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটো) জানিয়েছে। হামলাটি ওমান উপসাগরের সেই এলাকায় ঘটেছে যেখানে জাহাজটি নোঙ্গর করা ছিল; ফুজাইরাহ থেকে ঘটনাস্থলটি প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে।

    ইউকেএমটো বলেছে, ট্যাঙ্কারটি কোনো বিস্ফোরক ধরণের আঘাত পেয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি কী—ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্য কিছু—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে জাহাজটিতে তীব্র ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহত বা নিহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

    ফুজাইরাহ হার্মুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানী রফতানিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সম্পর্কিত উত্তেজনার পর থেকেই বন্দরটির কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা এসেছে। ইউকেএমটো এই ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং পরবর্তী বিবরণ প্রকাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি

    কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অনেকে নিহত হন—তবে সেদিন মোজতবা খামেনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং সেই ঘটনার শ্বাসরুদ্ধকর বিবরণ তুলে ধরে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইস্রায়েলের প্রথম ধাপের আঘাতের প্রধান লক্ষ্য ছিল আলি খামেনির কম্পাউন্ড—যে জায়গায় তিনি বাস করতেন ও কর্মতৎপরতা চালাতেন। একই হামলায় মোজতবা খামেনিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরাইলি “ব্লু স্প্যারো” ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের কয়েক মুহূর্ত আগে মোজতবা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান—একটি কাজ করার উদ্দেশ্যেই।

    ফাঁস হওয়া অডিওর কথোপকথনে আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি ঘটনার বর্ণনা দেন। অডিওর শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতারা ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডাররা। সেই কথায় জানা যায়, মোজতবা ঠিক কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর বাড়িতে ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

    মাজাহের হোসেইনি জানান, মোজতবা সরাসরি পুরোপুরি বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু না হলেও পায়ে আঘাত পান। হামলায় তার স্ত্রী ও সন্তানেরা তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। এতে তার শ্যালকের দেহও বহুগুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—অডিওর বর্ণনায় শ্যালকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

    আরও বলা হয়, খামেনির সামরিক ব্যুরোর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজি ওই আঘাতে ‘ছিন্নভিন্ন’ অবস্থায় নিহত হন; পরে তার মরদেহ শনাক্তের সময় শুধু কয়েক কিলোগ্রাম মাংস অবশিষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    টেলিগ্রাফ তাদের কাছে পাওয়া ওই অডিও ফাইল নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি করেছে। তবে ইরানের এক অনামিক কর্মকর্তা বলেন, সামরিক কমান্ডারদের কাছে মোজতবার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই—সে কেনাকাটা মোজতবা সুস্থ আছেন না, সে বিষয়ে স্পষ্টতা এখনো মেলে নি।

    এই ঘটনার পরও বিবਾਦিত অবস্থানগুলি প্রকাশ পেয়েছে—১৪ মার্চ এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‘তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি শুনেছি যে তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে দেশের স্বার্থে তার উচিত আত্মসমর্পণ করা।’ তবে ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবরে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন।

    তার বিপরীতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আলজাদিদকে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘সুস্থ আছেন’ এবং ‘পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছেন।

    সংক্ষেপে, দ্য টেলিগ্রাফের ফাঁস হওয়া অডিও সেই হামলার সময়ের নাটকীয় মুহূর্তগুলো উন্মোচন করেছে—কিন্তু মোজতবা খামেনির বাস্তব সময়ের অবস্থান ও সুস্থতা সম্পর্কে বিপরীত বিবৃতি ও অনিশ্চয়তা এখনো থেকে যায়।

  • গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরান ৫০০ জন গ্রেপ্তার করেছে

    গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরান ৫০০ জন গ্রেপ্তার করেছে

    ইরানের পুলিশ ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান। তিনি গতকাল আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেছেন, গ্রেপ্তারকার্য মূলত গোপনে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে করা হয়েছে।

    রাদানের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্তত ২৫০ জনকে বিশেষভাবে লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। বাকি গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকটি আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সদস্যরাও রয়েছেন; তারা নাশকতা, উসকানি ছড়ানো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ভাড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছেন পুলিশ সূত্র।

    ইরান ২০২২ সালে লন্ডনভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘সন্ত্রাসী সংস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই চ্যানেলটিকে সরকারবিরোধী প্রচারণা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে লক্ষ্য করে আসছে। তাসনিমে দেওয়া বক্তব্যে রাদানও ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

    এই গ্রেপ্তার অভিযানকে চলমান অঞ্চলে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে। সংবাদে বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ক সংলাপ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন চলার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বয়ে কিছু সামরিক অভিযান চালায়—যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নাম দেয়।

    এর জবাবে ইরান একাধিকবার মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ (সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে) অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা এখনও চলমান রয়েছে। একই সংঘর্ষে ইরানে নিহত হয়েছেন অনেক মানুষ; আনুষ্ঠানিক সূত্র বলেছে সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

    ইরানের পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার অভিযান ও তদন্ত চলমান আছে এবং আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিবেদনটির উৎস: আনাদোলু এজেন্সি এবং তাসনিম নিউজে প্রকাশিত বিবরণ।

  • এক্সের চ্যাটবট গ্রোক বলছে নেতানিয়াহুর কফি-ভিডিও ‘ডিপফেক’

    এক্সের চ্যাটবট গ্রোক বলছে নেতানিয়াহুর কফি-ভিডিও ‘ডিপফেক’

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে জীবিত থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখানো একটি কফি-শপ ভিডিওকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ডিপফেক বলেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সের চ্যাটবট গ্রোক। সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্য এবং অবস্থান নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনের মধ্যে এই ভিডিও নতুন বিতর্ক ছড়িয়েছে।

    আগে অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ক্লিপে নেতানিয়াহুর বাম হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাওয়ার কারণে সেটিকে এডিট বা ভুয়া হিসেবে নিয়েও বিতর্ক চলছিল। এর পর সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করা হয়, যেখানে নেতানিয়াহুকে জেরুজালেম হিলসের ‘দ্য সাতাফ’ ক্যাফেতে কফি অর্ডার করতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে তিনি কফি তুলে ‘ল’চাইম’ বলে জীবনের জয় কামনা করেন এবং ছড়ানো মৃত্যুর গুজবকে উপহাস করেন।

    গ্রোক ওই ভিডিওকে এআই-জেনারেটেড ও ডিপফেক হিসেবে শনাক্ত করে বলেছে, ‘‘এ ধরনের দৃশ্য—নেতানিয়াহু পাবলিক ক্যাফেতে বসে গোপন অভিযানের কথা বলছেন—বাস্তবে ঘটেনি। মূল পোস্টেও এটি অপ্রকাশিত উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’’

    অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও ভিডিওর বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা তুলে ধরেছেন। কেউ ক্লোজ-আপ শটে কফির কাপ ও অ্যাকশনের অযৌক্তিকতা দেখিয়েছেন, কেউ বলেন মুখের আকৃতিও শটের মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে। গ্রোক একবার আরও জোর দিয়ে জানায়, ‘‘হ্যাঁ, ১০০ শতাংশ নিশ্চিত—এটি উন্নতমানের এআই ডিপফেক; পুরো দৃশ্যই কাল্পনিক।’’

    নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই গুজব প্রতিকূল করে ‘ভুয়া’ বলেছে এবং প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে। আর যেখানে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, সেই ‘দ্য সাতাফ’ ক্যাফের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে নেতানিয়াহুর কফি পান করছে এমন ছবিও পোস্ট করা হয়েছে; ক্যাপশনে তারা তাদের আতিথেয়তা প্রকাশ করেছেন।

    বিষয়টি নিয়ে সংশয়ের মধ্যেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এআই-জেনারেটেড কন্টেন্ট শনাক্তকরণ ও তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারো浮ে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি।

  • ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার

    ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার

    ইরানের পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী গোপনভাবে বিদেশী সংবাদমাধ্যম ও প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তথ্য গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন পুলিশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান।

    রাদান বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ২৫০ জনকে বিশেষভাবে লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার তালিকায় কিছু সময়ের জন্য ছদ্ম-অপরাধী কার্যক্রম চলাচলকারী আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্রুপের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ব্যক্তি তথ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা-উসকানি ছড়াতে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে ভূমিকা রেখেছে।

    ইরান ২০২২ সালে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠন’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান অভিযোগ করে যে এই চ্যানেলটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে উসকানি দেয় এবং সরকারবিরোধী প্রপাগান্ডা চালায় — তবে এসব অভিযোগ ইরান ইন্টারন্যাশনাল পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করে আসছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক কूटনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ধারাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তেহরান ব্যাপকভাবে আলোচনায় নেমেছিল; দুই পক্ষের সংলাপ গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এবং কোনো সমঝোতা ছাড়া বন্ধ হয়। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘‘অপারেশন এপিক ফিউরি’’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’’ নামে কার্যক্রম চালায়।

    উত্তেজনার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে, যা এখনও চলছে—ইরান-মেডিয়া ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইরানে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি

  • ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যেসব দেশ

    ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যেসব দেশ

    ইরানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার ওই আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ প্রকাশ্যে সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ এই সংকটের প্রভাবিত হতে পারে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গে মিল করে হরমুজ প্রণালে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এনবিসিকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প যে দেশগুলোর নাম নিয়েছেন তাদের কয়েকটির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি আশাবাদী যে চীন প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। তবু এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি নৌবাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গু বলেন, জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব এবং উত্তেজনা কমাতে বেইজিং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।

    অন্যদিকে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তাদের সামরিক বাহিনী প্রণালির কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়। ইরান জানিয়েছে, তাদের দৃষ্টিতে প্রণালিটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ছাড়া অন্য দেশগুলোর জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন টেলিভিশন সিবিএসকে বলেছেন, নিরাপদে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কয়েকটি দেশ তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রমনিয়াম জয়শংকর বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ফলে শনিবার দুইটি ভারতীয় পতাকাবাহী গ্যাসবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। তিনি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনাই ভারতের পছন্দের পথ।

    এদিকে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পরও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান স্পষ্ট রেখে তাদের দেওয়া সামরিক সহায়তার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিমান সরবরাহ করাও রয়েছে। জাপানও একইভাবে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালে তেলবাহী জাহাজগুলোর পাহারাদিতে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই।

    সংক্ষিপ্ত সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক চেষ্টার তীব্রতা বেড়েছে। কিন্তু এখনও বিশ্ব শক্তিগুলো মিলিতভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।