Category: বিশ্ব

  • ট্রাম্প বললেন—ইসরাইল আর সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না

    ট্রাম্প বললেন—ইসরাইল আর সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রকাশ্যভাবে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরাইল সেখানে আর কোনো হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ইরান কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় পুনরায় হামলা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওই প্রধান গ্যাসক্ষেত্রকে ভয়াবহভাবে ধ্বংস করতে পিছপা হবে না।

    ঘটনাক্রম অনুযায়ী, গত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বুশেহর অঞ্চলে আসালুয়েহ বন্দরের উপকূলে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের আনজালি এলাকার কাছে নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায় ইসরাইল। সাউথ পার্সকে সাধারণত বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ধরা হয়; এখানে ইরান ও কাতার—দুই দেশের গ্যাস উত্তোলন ও শিল্পস্থাপনা রয়েছে।

    এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্যাস ও তেল সম্পর্কিত কিছু স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতার দ্রুততম কার্যক্রমে তাদের নিরাপত্তা পদক্ষেপ জোরদার করে: দেশটির ইরান শান্তদূতাবাসের মিলিটারি ও সিকিউরিটি অ্যাটাশে এবং তাদের স্টাফদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে দ্রুত কাতার ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও কট্টর প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা ব্যক্ত করেছে।

    টুইটরের পরিবর্তে ট্রুথ সোস্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরাইল সাউথ পার্সে হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছুই জানত না’। তবে সিএনএন সেই রিপোর্ট প্রকাশ করে যে, এই হামলায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কিছু ধরনের সমন্বয় ছিল।

    ট্রাম্প পোস্টে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ইসরাইল সাউথ পার্স নামের এক বৃহৎ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে আঘাত হানার অংশটি মোট এলাকার তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট ছিল।’ তিনি কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলাকে ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়েছেন এবং সাউথ পার্সকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান’ ধরে সেখানে আর ইসরাইল হামলা চালাবে না বলেও উল্লেখ করেছেন।

    তারপরেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি ইরান পুনরায় কাতারের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তবে আমি তাদের এই গ্যাসক্ষেত্রটিকে এমনভাবে ধ্বংস করার নির্দেশ দিতে প্রস্তুত আছি—যা ইরান পূর্বে কখনো দেখেনি বা কল্পনাও করেনি।’ তিনি যোগ করেন, এমন ধ্বংসযজ্ঞের অনুমতি দিতে তিনি স্বেচ্ছায় নয় কারণ এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব থাকবে, তবু কাতারের এলএনজি স্থাপনায় যদি আবার আক্রমণ হয়, তবে তিনি তা করতে দ্বিধা করবেন না।

    এর আগে কাতারএনার্জি জানিয়েছিল, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে সেখানে ব্যাপক আগুন লেগে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই স্থানটি খালি করা হয়েছিল। কাতারের পক্ষ বলেন, ইরান আগে থেকেই ঘোষণা করেছিল যে, তাদের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের ওপর চালানো হামলার জবাবে উপসাগরীয় কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ করা হবে।

    এ ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহকে নতুনভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি এলাকার দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

  • কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলা — দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ সবচেয়ে ঝুঁকিতে

    কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলা — দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ সবচেয়ে ঝুঁকিতে

    গত বুধবার ইসরায়েল ইরানের পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরোধ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ওই সংঘর্ষে কাতারের প্রধান গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে।

    সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দুই দফায় রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে আঘাত হানে। ফলে উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবস্থানে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হলো এবং এর প্রভাব ওই অঞ্চলের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্ব বাজারেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

    রাস লাফান, যা রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জি পরিচালিত, বিশ্বসেরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে গ্যাস সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বন্দরের সুবিধা একসঙ্গে রয়েছে। কাতার বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি করে—যুক্তরাষ্ট্রের পর এটি সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববাজারে কাতারের সরবরাহে কোন ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত মূল্য ও যোগান শৃঙ্খলে ছাপ ফেলতে পারে।

    হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মার্চের শুরু থেকে ওই অঞ্চলে অনেক এলএনজি ও অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। উৎপাদন স্থাপনাগুলোর যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তাতে কেন্দ্রটি পুরোপুরি পুনরায় চালু করতে সময় লাগতে পারে এবং এই বিরতি বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট বাড়াবে।

    দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ—বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত—এক্ষত্র সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। তাদের এলএনজি আমদানি-চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি কাতার থেকে আসে এবং মজুত ক্ষমতাও সীমিত, ফলে সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে। এ ছাড়া এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকেও অনেক দেশ সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব অনুভব করবে।

    রাস লাফানে কেবল এলএনজি নয়; এখানে সার উৎপাদন (ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া), সালফার এবং হিলিয়ামও তৈরি হয়—যা কৃষি ও আধুনিক প্রযুক্তি উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হিলিয়াম মাইক্রোচিপ তৈরিতে অপরিহার্য; কাতার এনার্জির তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববর্ষের প্রায় ২৫ শতাংশ হিলিয়াম সরবরাহের সক্ষমতা এই কেন্দ্রে রয়েছে।

    ভৌগোলিকভাবে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি কাতারের উপদ্বীপের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে, রাজধানী দোহার থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর দিকে অবস্থিত। এটি পার্স উপসাগরের বিশাল একটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে—যেটি কাতার ও ইরান যৌথভাবে ভাগ করে নেয়; কাতার তাদের অংশকে নর্থ ডোম বলে, আর ইরান সেই একই ক্ষেত্রকে সাউথ পার্স নামে চেনে।

    এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হল যে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর উপর সামান্য আঘাতও দ্রুত বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখন পরিস্থিতি কীভাবে স্থিতিস্থাপক হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো কবে পূর্ণ কার্যকারিতায় ফিরবে, সেটাই আগামী দিনগুলোতে নজরের কেন্দ্রে থাকবে।

  • কুয়েতে দ্বিতীয় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা; দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন

    কুয়েতে দ্বিতীয় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা; দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন

    মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ধারাবাহিকতা বজায় আছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোন আঘাত হানার ফলে সেখানে তীব্র অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে।

    হামলার পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়লে কর্মীরা দ্রুতই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং কেপিসি জানায় যে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থাপনায় সুরক্ষা বজায় রাখতে সব প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    এর আগে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারেও ড্রোন হামলার খবর আসে; সে ঘটনায় কোম্পানি জানিয়েছে কোনো হতাহত হয়নি। এক দিনের ব্যবধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারে হামলা হওয়ায় কুয়েতের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি সংক্রান্ত নিরাপত্তাকে নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    নভ কাঠামোর বাইরে, কাতারের রাস লাফান ও ইরানের গ্যাস ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক হামলার খবর মিলেছে, যা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও নাজুক করে তুলেছে। কুয়েত সরকার এখনো কোনো পক্ষের দায় স্বীকার বা প্রতিপক্ষের নাম ঘোষণা করেনি।

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা এসব ‘জ্বালানি লক্ষ্যভিত্তিক’ হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মিনা আবদুল্লাহ ও মিনা আল-আহমাদি—উভয় শোধনাগারই কুয়েতের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; তাই এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হচ্ছে।

  • ট্রাম্প বললেন: ইসরাইল আর ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না

    ট্রাম্প বললেন: ইসরাইল আর ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দক্ষিণ পার্স (সাউথ পার্স) গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলার সমালোচনা করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরাইল সেখানে আর হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—যদি ইরান আবার কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওই প্রধান গ্যাসক্ষেত্রকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার দ্বিধা করবে না।

    ঘটনাগুলোর সূত্রপাত গত বুধবার (১৮ মার্চ), যখন ইসরাইল বার্তা দেয়া হয় যে ইরানের বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। আক্রমণের মধ্যে ছিল বুশেহর অঞ্চলের আসালুয়েহ বন্দরের নিকটবর্তী সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং উত্তরাঞ্চলের আনজালি বন্দরের কাছাকাছি নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করা হামলা। সাউথ পার্স বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র; এই অঞ্চলে ইরান ও কাতার—উভয় দেশের গ্যাস উত্তোলনের স্থাপনাসমূহ রয়েছে।

    একপর্যায়ে উত্তপ্ত প্রতিস্পন্দে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু গ্যাস ও তেল সংক্রান্ত স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলার জেরে কাতার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়—দেশটি ইরানের দূতাবাসে থাকা মিলিটারি ও সিকিউরিটি অ্যাটাশে এবং তাদের কিছু স্টাফকে অনাগত ঘোষণা করে এবং দ্রুত কাতার ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সৌদি এবং আবুধাবি থেকে ও সতর্কবার্তা আসে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সাউথ পার্সে ইসরাইল যে হামলা চালিয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘‘কিছুই জানত না’’। তবে সিএনএনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইল হামলা চালাতে আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় করেছে—এই বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে বিবাদ্য তথ্য আছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।

    ট্রাম্প পোস্টে আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ঘটা ঘটনাগুলো থেকে উত্পন্ন ক্ষোভের সূত্রেই ইসরাইল ওই স্থাপনায় আঘাত হেয়েছে, এবং তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন আঘাতটি পুরো গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশে হয়েছে। তিনি কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় ইরানের প্রতিশোধাত্মক হামলাকে ‘‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং দক্ষিণ পার্সকে ‘‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান’’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ইসরাইল সেখানে আর হামলা করবে না।

    একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন—যদি তেহরান কাতারের ওপর পুনরায় হামলা চালায়, তাহলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওই গ্যাসক্ষেত্রটিকে এমন রকম ধ্বংসাত্মক শক্তিতে আঘাত করবে যা ইরান আগেও দেখেনি বা কল্পনাও করেনি। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের কারণে এমন ধ্বংসযজ্ঞের অনুমোদন তিনি ‘‘চায় না’’, তবে প্রয়োজনে তার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দ্বিধা করবেন না।

    কাতারএনার্জির সংবাদভিত্তিক দাবি অনুযায়ী, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে বিস্তৃত অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ওই স্থাপনাটি হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই খালি করা হয়েছিল; এর পেছনে কারণ হিসেবে ইরানের পূর্বঘোষিত প্রতিশোধ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি দেখানো হয়—ইরান বলেছিলো তারা সাউথ পার্সে হামলার জবাবে উপসাগরীয় কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এলাকার একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করবে।

    এই সংকলিত ঘটনার পরে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা ও শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, এবং অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা সম্পর্কে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কিভাবে এগোবে তা নিয়ে কূটনৈতিক চাপ ও সংবাদমাধ্যমের নজর অব্যাহত রয়েছে।

  • ড্রোন প্রশিক্ষণের অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার ১ মার্কিনি ও ৬ ইউক্রেনীয়

    ড্রোন প্রশিক্ষণের অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার ১ মার্কিনি ও ৬ ইউক্রেনীয়

    ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ড্রোন ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয়কে গ্রেপ্তার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই ঘটনার তথ্য তদন্তকারীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজর কাড়ছে।

    গ্রেপ্তারকৃত মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইককে কলকাতা থেকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। অন্যদিকে ছয় জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের মধ্যে তিনজনকে লখনৌ থেকে এবং তিনজনকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনআইএ তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করে।

    মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যানডাইকের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা প্রশিক্ষণ প্রদানের, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ সংবাদদাতা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান এবং পরে ‘সনস অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ (এসওএলআই) নামে একটি সংগঠনও গঠন করেন। এই সংগঠনটি ঘিরে আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শ দেয়ার সর্বস্বতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এনআইএ তদন্তের অংশ হিসেবে যে কয়েকটি ধারনা উঠে আসছে তার মধ্যে রয়েছে—কিছু ইউক্রেনীয় পর্যটক ভিসায় ভিন্নভিন্ন সময়ে ভারতে প্রবেশ করেছে, তারা প্রথমে গুয়াহাটিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই মিজোরামে পৌঁছেছে এবং তারপর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে ঢুকেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া, যা পূর্বেই পরিকল্পিত ছিল।

    তদন্তকারীরা বলছেন, ইউরোপ থেকে ড্রোনের একটি বড় চালান ভারত হয়ে মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং তা ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহারেই যাবে। এছাড়া মিয়ানমারে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর যোগাযোগ রয়েছে—এদের মাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদি এসব প্রমাণিত হয়, তবে তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এনআইএকে গ্রেপ্তারের পর ১৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলেও আদালত ১১ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের যাতায়াতের রুট শনাক্ত, ষড়যন্ত্রের প্রমাণ সংগ্রহ এবং অন্যান্য সহযোগীদের খোঁজ করা হবে। সূত্র জানিয়েছে আগামী ২৭ মার্চ তাদের আবার আদালতে তোলা হবে।

    গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং ড্রোন আনা-পরিবহনের ধরন খতিয়ে দেখছেন। তারা একই সঙ্গে খোঁজ করছেন—ভারতের ভেতরে এই নেটওয়ার্কের কোনো স্থানীয় সংযোগ আছে কি না এবং ভূখণ্ড ব্যবহার করে কিভাবে ড্রোন পাঠানো হচ্ছিল।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন যে বিদেশি স্পেশাল ফোর্স সদস্য ও ভাড়াটে যোদ্ধারা মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করে স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বর্তমান গ্রেপ্তার ও তদন্ত সেই সতর্কবার্তাকে ফেরোত দিয়েছে এবং এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশ্ন খুলে দিয়েছে।

    এনআইএ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্তে তৎপর রয়েছেন। তারা বলছে—যতই তদন্ত এগোবে, ততই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে এবং প্রয়োজন পড়লে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও পাচার রুট নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • সৌদিতে চাঁদ দেখা যায়নি; ঈদ উদযাপন শুক্রবার, ২০ মার্চ

    সৌদিতে চাঁদ দেখা যায়নি; ঈদ উদযাপন শুক্রবার, ২০ মার্চ

    ইসলামের পবিত্র ভূমি সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরির শাওয়াল মাসের চাঁদ আজ দেখা যায়নি। দুই মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইনসাইড দ্য হারামাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফলে দেশটিতে রমজান মাস পূর্ণ ৩০ দিন ধরে সম্পন্ন হচ্ছে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে আগামী শুক্রবার, ২০ মার্চ।

    দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি সন্ধ্যায় বৈঠক করে এবং দেশের কোনও প্রান্তেই নতুন চাঁদ দেখা যায়নি বলে ঘোষণা করে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে চাঁদ দেখা না গেলে মাস পূর্ণ ধরা হয়—এবারও সেই নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ বিষয়টি প্রতিবেদন করেছে।

    এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বেসরকারি ও অলাভজনক খাতের কর্মীদের জন্য ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছিল। সৌদি শ্রম আইনের ওপর ভিত্তি করে ওই ছুটি বুধবার (১৮ মার্চ) রাত থেকে শুরু হয়ে চার দিন চলবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল রুজাইকি জানান, ছুটির বিষয়ে নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে আগেভাগেই বোঝাপড়া করা হয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করে জরুরি সেবা বজায় রেখে কর্মীরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

    সূত্র: গালফ নিউজ।

  • বি১-বি২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্পর্কে বাংলাদেশিদের জরুরি সতর্কবার্তা

    বি১-বি২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্পর্কে বাংলাদেশিদের জরুরি সতর্কবার্তা

    ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বি১-বি২ (ভিজিটর) ভিসা ব্যবহার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত পোস্টে ভিসাটির অনুপযুক্ত ব্যবহার ও কিছু স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ কার্যক্রমের তালিকা জানানো হয়েছে।

    পোস্টে বিশেষ করে কয়েকটি বিষয়কে নিষিদ্ধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বি১-বি২ ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গর্ভধারণ করে সন্তান জন্ম দেওয়া বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। দূতাবাস বলছে, এ ধরনের আচরণ ভিসার নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

    আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে — বি১-বি২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বেতনভিত্তিক কোনো চাকরি বা কোনো নিয়োগকর্তা/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। সহজ কথায়, এই ভিসায় বৈধভাবে চাকরি করা বা বেতন গ্রহণ করা অনুমোদিত নয়; কেবল ব্যবসায়িক আলোচনা, সাক্ষাৎ বা সম্মেলনে অংশগ্রহণের মতো সীমিত কার্যক্রম করা যায়।

    শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে দূতাবাস সতর্ক করেছে যে, ভিজিটর ভিসায় ডিগ্রি অর্জন বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা করা যাবে না। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হলে আলাদা স্টুডেন্ট ভিসা (এফ‑১) নেওয়া আবশ্যক।

    দূতাবাস আরো জানিয়েছেন যে, মার্কিন অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের প্রেক্ষাপটে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মেনে না চললে ভিসা বাতিল, ভবিষ্যতে ভিসা প্রত্যাখ্যান বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর ফলাফল ভোগ করতে হতে পারে।

    ভ্রমণ করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। নিরাপদ ও আইনগতভাবে সঠিক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ও অনুমোদন নিন।

  • ভারতে গ্রেপ্তার ১ মার্কিন ও ৬ ইউক্রেনী; সীমান্তে অস্ত্র ও ড্রোন প্রশিক্ষণের অভিযোগ

    ভারতে গ্রেপ্তার ১ মার্কিন ও ৬ ইউক্রেনী; সীমান্তে অস্ত্র ও ড্রোন প্রশিক্ষণের অভিযোগ

    ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি (এনআইএ) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে একজন মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগটি ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিকের নাম ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ সংবাদদাতা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। ২০১১-এর লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান এবং সেই ঘটনার জন্য তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল। পরে তিনি ‘সনস অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ (এসওএলআই) নামের একটি সংগঠন তৈরি করেন, যা বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শ দেয় বলে জানা গেছে।

    ভ্যানডাইককে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের তিনজনকে লখনৌ থেকে এবং তিনজনকে দিল্লি থেকে আটক করে এনআইএ। পরে তাদের গ্রেপতার পর এনআইএ পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাঁকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করে। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগামী ২৭ মার্চ তাঁদের আবার আদালতে তোলা হবে।

    এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৪ জন ইউক্রেনীয় বিভিন্ন সময়ে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তারা প্রথমে বিমানযোগে গুয়াহাটিতে এসেছিলেন এবং এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মিজোরামে পৌঁছে অনুপ্রবেশ করে মায়ানমারে ঢুকেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের উদ্দেশ্য ছিল মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (ইএজি) ড্রোন-যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়া — যা একটি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছিল।

    পাশাপাশি অভিযোগ আছে যে, ইউরোপ থেকে ড্রোনের একটি বড় চালান ভারতে এনে সেটি মায়ানমারে পাচার করা হয়েছিল, যা ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করতো। এনআইএ জানিয়েছে, মায়ানমারের কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর যোগসূত্র থাকার আশঙ্কা আছে; এসব গোষ্ঠী ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি স্বরূপ।

    তদন্তকারীরা বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক, ড্রোন-রুট ও পাচারের পথ খতিয়ে দেখছে। গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের ফলপ্রসূ বিশ্লেষণ চলছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং যোগসজ্জার প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।

    মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা আগে থেকেই সতর্ক করে জানিয়েছিলেন যে, বিদেশি সাবেক 특ফোর্স সদস্য, ভাড়াটে যোদ্ধা ও অন্যান্য নাগরিকরা মিজোরামের পথ ধরে মায়ানমারে প্রবেশ করে স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ওই মন্তব্যও তদন্তের প্রেক্ষাপট হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    এনআইএ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে। সরকারি এবং গোয়েন্দা সূত্রের দিকেই এখন নজর।

  • ভারতে গ্রেপ্তার ১ মার্কিন ও ৬ ইউক্রেনীয় — সীমান্তে ড্রোন প্রশিক্ষণের অভিযোগ

    ভারতে গ্রেপ্তার ১ মার্কিন ও ৬ ইউক্রেনীয় — সীমান্তে ড্রোন প্রশিক্ষণের অভিযোগ

    ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ড্রোন ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এ ঘটনা দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে।

    এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিকের নাম ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক। তাঁর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা প্রশিক্ষণ দেওয়ার, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ সংবাদদাতা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০১১ সালের লিবিয়ার অনুপ্রবেশকালীন ঘটনাকালে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রেক্ষিতে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হন এবং সেই সময়কার কাজের জন্য কারাবরণও করেছিলেন।

    লিবিয়ার ঘটনাগুলোতে আরেক পর্যায়ে ভ্যানডাইক ‘সনস অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ (এসওএলআই) নামের একটি সংগঠন গঠন করেন। সংবাদে বলা হয়, এই সংগঠনটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ম্যাথিউ ভ্যানডাইককে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দিকে ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের মধ্যে তিনজনকে লখনৌ থেকে এবং তিনজনকে দিল্লি থেকে আটক করা হয়েছে। এনআইএ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করে। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন; আগামী ২৭ মার্চ তাঁকে আবার আদালতে তোলা হবে।

    এনআইএ সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে জানা যায়, মোট ১৪ জন ইউক্রেনীয় বিভিন্ন সময়ে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তারা এয়ার পথে প্রথমে গুয়াহাটিতে পৌঁছান এবং পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মিজোরামে চলে যান। অভিযোগ আছে যে এরপর তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মিয়ানমারে ঢুকে সেখানে মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (ইএজি) ড্রোন-যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্য করেন।

    তদন্তকারীরা বলছেন, ইউরোপ থেকে একটি বড় পরিমাণ ড্রোন ভারতের মাধ্যমে মিয়ানমারে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মিয়ানমারে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর যোগাযোগ রয়েছে এবং এসব গোষ্ঠী ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ সরবরাহ করতে পারে—যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

    এনআইএ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, তারা সংগ্রহ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সামগ্রীর ডেটা বিশ্লেষণ করছে এবং বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের রুট, ষড়যন্ত্রের প্রমাণ ও সম্ভাব্য স্থানীয় সহযোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতে পারে তদন্তের অংশ হিসেবে।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা সতর্ক করে বলেছিলেন যে বিদেশি সাবেক স্পেশাল ফোর্স সদস্য ও ভাড়াটে যোদ্ধাদের মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করে স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন—এই বক্তব্যও এখন চলমান তদন্তের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে।

    এনআইএ এই ঘটনার বিস্তারিত রেলপথ, বিমানপথ ও স্থানীয় যোগাযোগ-রুটের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • কুয়েতেই ঈদে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করা হয়েছে

    কুয়েতেই ঈদে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করা হয়েছে

    কুয়েত সরকার আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে সব ধরনের জনসমাগমমূলক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাট্যঅনুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান বা কনসার্ট, বিবাহ অনুষ্ঠানসহ সব প্রকার জনসমাগম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

    দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের এসব নির্দেশনা কড়াভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে এবং বর্তমানে কুয়েত সরকারের আইন ও সময়োপযোগী নির্দেশনা অনুসরণ করে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।